থমকে আছে তৃণমূলের কমিটি গঠন !
চট্টগ্রামে বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের কর্তৃত্বের বিরোধ !
চট্টগ্রামে বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের কর্তৃত্বের বিরোধ।
চট্টগ্রামে বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধের কারণে থমকে আছে তৃণমূলের কমিটি গঠন। দফায় দফায় কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের পরও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির তৃণমূল পুনর্গঠনে গতি আসছে না। তৃণমূল পুনর্গঠনকে কেন্দ্রের করে দেওয়া ৫টি সাংগঠনি টিমের মধ্যে সক্রিয় মাত্র ২টি। বাকী ৩টি এখনো মাঠে নামেনি। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। স¤প্রতি বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিতে নেতকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেলেও সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন থমকে আছে।
ডা. শাহাদাত হোসেনকে আহŸায়ক ও আবুল হাশেম বক্করকে সদস্য সচিব করে নগর বিএনপির ৩৯ সদস্যের আহŸায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর। এ কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করতে নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্র।
তারা এ কাজে ব্যর্থ হলে চলতি বছরের মার্চে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৃণমূল পুনর্গঠনে ৫টি সাংগঠনিক টিম গঠন করে দেন। এসব টিমও তিন মাসের মধ্যে ইউনিট কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হলে কেন্দ্র থেকে এ নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহাগররের প্রথম সারির নেতারা একই মঞ্চে বসে সভা-সমাবেশ ও আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ নিলেও তৃণমূল পর্যায়ের কমিটি গঠনের বিষয় এলেই হয়ে পড়ছেন বিভক্ত।
এক পক্ষ আরেক পক্ষকে মানতে চাইছেন না। দল গোছানোর কাজে ঐক্যবদ্ধ হতে পারছেন না কোনোভাবেই। কয়েক দফায় হাইকমান্ডের হুঁশিয়ারির পর ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের ১২৯টি ইউনিট কমিটি গঠন সম্পন্ন করতে পারেনি।
একমাস সময় নিয়ে গঠিত হয়েছে মাত্র ২০টি ইউনিট কমিটি। তৃণমূল পুনর্গঠনে কেন্দ্রের করে দেওয়া ৫টি সাংগঠনিক টিমের মধ্যে দুটি টিম গত মাস থেকে সম্মেলনের মাধ্যমে ইউনিট কমিটি গঠন শুরু করেছে। বাকি তিনটি টিম এখনো পর্যন্ত কাজে হাতই দিতে পারেনি।
সাংগঠনিক টিমগুলোর মধ্যে এমএ আজিজ ও এসএম সাইফুল আলমের নেতৃত্বাধীন কমিটি কাজ শুরু করেছে। নাজিমুর রহমান, কাজী বেলাল ও এরশাদ উল্লাহর টিম এখনো কোনো কমিটি গঠন করতে পারেনি। এর মধ্যে এরশাদ উল্লাহ দেশের বাইরে থাকায় তার দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজম উদ্দিন।
নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তৃণমূল গোছানোর প্রক্রিয়ায় নগর বিএনপির আহŸায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের সঙ্গে তিনটি টিমের প্রধানদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এ কারণে পুনর্গঠন কাজে বিলম্ব হচ্ছে।
ইউনিট কমিটি গঠনে থানা ও ওয়ার্ড কমিটির নেতারা প্রভাব বিস্তার করতে পারেন-এমন আশঙ্কা থেকে পুরনো কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়ার দাবি উঠেছিল। কিন্তু শাহাদাত ও বক্কর কমিটিগুলো ভাঙতে রাজি হননি। এ নিয়ে সাংগঠনিক টিমের দায়িত্ব প্রাপ্তদের মধ্যে এখনো অসন্তোষ রয়েছে।
সাংগঠনিক টিমগুলো নিজেরাই ইউনিট পুনর্গঠন কাজ করতে চেয়েছিল। কিন্তু শাহাদাত-বক্করকেও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করে দলীয় হাইকমান্ড। এতে সাংগঠনিক টিমের দায়িত প্রাপ্তরা হতাশ হয়ে পড়েন।
নগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহŸায়ক এমএ আজিজ বলেন, ইউনিট কমিটিগুলো করতে কেন্দ্র থেকে এক মাস অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। আমি চকবাজার, কোতোয়ালি ও বাকলিয়া এই তিন থানার ৩৯টি ইউনিটে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দায়িত্বে আছি।
এ পর্যন্ত ১৮টি ইউনিটে সম্মেলন করেছি। গত ২২ আগস্ট থেকে টানা প্রায় ১০ দিন দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি থাকায় মাঝে এই তৎপরতা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।
নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, দলীয় কর্মসূচির কারণে মাঝে তৃণমূল পুনর্গঠনের কাজে কিছুটা ছন্দপতন হয়েছে। এখন আবার শুরু হচ্ছে। যারা এখনো ইউনিট কমিটি গঠন শুরু করতে পারেনি, আশা করছি তারা শিগগিরই তা করতে সক্ষম হবে।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন