খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকার মিরপুরে বিএসপি’র প্রতিনিধি সম্মেলনে

শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, বাক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলে গণতন্ত্র বিনষ্ট হয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, বাক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলে গণতন্ত্র বিনষ্ট হয়

ক্যাপশন ঢাকা মিরপুর-১ সিটি মহল রেস্টুরেন্টে ১৭ সেপ্টেম্বর শনিবার, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান শাহ্জাদা সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী। মঞ্চে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেছেন, জোর জবরদস্তি, স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মানুষের নাগরিক অধিকার ও বাক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বিনষ্ট হয়। আর তখনই সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধের অভাবে দেশ ও সমাজে অসহিষ্ণু বৈরী পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শনিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির জেলা, উপজেলা ও থানা প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্ম ও মতের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক, সম্প্রীতি না থাকলে কখনই দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না, দেশে সমৃদ্ধি আসবে না। ইসলাম সকল ধর্মের মানুষের জন্য কল্যাণকর। তা নিশ্চিত করবে বাংলদেশ সুপ্রিম পার্টি।

আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সুপ্রিম পাার্টি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে সুদৃঢ় করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমসমূহ পরিচালনায় দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছি।

সারা দেশে বিএসপি’র ৩০টি জেলায় ২০০টি উপজেলা ও থানা পর্যায়ে কমিটি গঠন হয়েছে। বাকি জেলা-উপজেলায় কমিটি গঠনের কার্যক্রম চলমান আছে।

সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, আমরা কখনই চাইনা, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল সংঘাতময় পরিবেশ সৃষ্টি হোক। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে নিরাপদ এবং সকল দলের অংশ গ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে ভূমিকা রাখবে নির্বাচন কমিশন।

সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সুসংগঠিত একাধিক রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম থাকা আবশ্যক। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম অনুষঙ্গ ভিন্নপথ ও মতের একাধিক রাজনৈতিক দল বা সংগঠন।

এরই আলোকে আমরা বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। যে চেতনায় আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, সেটিই হবে আমাদের পথ চলার প্রেরণা। বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সুদৃঢ় এবং সঠিক পথে পরিচালনার জন্য আমাদের এ আয়োজন।

রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, উন্ননের ধারাবাহিকতায় দেশ এগিয়ে চলছে। তবে উন্নয়ণের সুফল পেতে প্রয়োজন সুশাসন, সম্প্রীতি-সহাবস্থান।একমাত্র সুফিবাদী দর্শনই শান্তি ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারায় শান্তি ও মৈত্রির মানবিক সুফিবাদী দর্শন সম্প্রসারণ করতে পারলে বাংলাদেশসহ বিশ্বময় শান্তি, সুশাসন ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে।

বন্ধ হবে দুর্নীতিসহ অনৈতিক কাজ ঘুষ লেনদেন, কালোবাজারি, মজুদধারী, অর্থপাচার চোরা-চালানি, সিন্ডিকেট ও দুর্বলের ওপর অত্যাচার নিপীড়িন। অহিষ্ণুতা, একগোঁয়ামী ও স্বেচ্ছাচারিতা কখনো রাষ্ট্র ও সমাজের কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।

আন্দোলনের নামে হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও, পোড়াও এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের সম্পদহানি, জনগণের নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। তেমনি বিরোধী দলের টুঁটি চেপে ধরে প্রতিবাদের ভাষা হরণ করে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করে বাক স্বাধীনতা হরণ কাম্য নয়। বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহ্জাদা সৈয়দ মেহবুব-এ-মইনুদ্দীন, শাহ্জাদা সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন।

বিএসপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য পীরে ত্বরীক্বত মুফতী বাকী বিল্লাহ আল-আযহারীর সঞ্চালনায় প্রতিনিধি সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আবুল কালাম আজাদ।

অতিথি ও আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. রফিকুল আলম, হযরত মাওলানা মুফতী মাসুদ হোসাইন আল্-কাদেরী, মাওলানা আহমদ রেজা ফারুকী, বিএসপি’র ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. আল্হাজ্ব কাজী মহসীন চৌধুরী,

পীরে ত্বরীক্বত মুফতী কাজী গোলাম মহিউদ্দিন লতিফী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ঢালী কামরুজ্জামান হারুন, এইচএম মঞ্জুরুল আনোয়ার চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক মো: ইব্রাহিম মিয়া, মো: আব্দুল মতিন, কুমিল্লা জেলা সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান পায়েল,

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি ইস্রাফিল আলম রনি, ফেনী জেলা প্রতিনিধি এমআর রহমান দুলাল ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা ও থানার নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

জে-আর

Feb2

সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলীয় আসন সংখ্যার অনুপাতে জোটটি মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ তালিকাটি প্রকাশ করেন।

জামায়াতের আট নারী যাচ্ছেন সংসদে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যাচ্ছেন দুজন। এ ছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন এবং জুলাই শহীদ পরিবারের একজনকে নারী আসনের সংসদ সদস্য করা হচ্ছে এই জোট থেকে।

প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন— নুরুন্নিসা সিদ্দীকা (সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), মারজিয়া বেগম (সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী (আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি), নাজমুন নাহার নীলু (প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি), অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান (কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি, সিলেট মহানগরী), সাজেদা সামাদ (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা), শামছুন্নাহার বেগম (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা), ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ (কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, নারী অধিকার আন্দোলন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মনিরা শারমিন (কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক) ও ডা. মাহমুদা আলম মিতু (কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব) এনসিপি। ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (সভাপতি, জাগপা) ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং রোকেয়া বেগম (জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে। সেই অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াত জোট ১৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি জোট ৩৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। দলের পক্ষ থেকে মনোনীত প্রার্থীদের এরই মধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো জুলাই বিপ্লবে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৬ বছর বয়সী শিশু জাবির। তার মায়ের এই মনোনয়নকে জোটের পক্ষ থেকে একটি সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় হওয়ায় আজ রাতেই সব শরিক দল চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। খাল খনন করতে পারলে বন্যার সময় মানুষ, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল রক্ষা করা যাবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে চৌকিদহ খালটা কাটলাম। এখানে যদি কোনো মুরুব্বি থাকেন- যাদের বয়স ৬০-৭০ এর বেশি, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, এই খালটা আমার আব্বা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে কেটেছিলেন। এই খালটা আমরা কাটলাম, প্রায় এক কিলোমিটার মতো লম্বা। এই খালটা কাটার ফলে বর্ষার সময় অতিবৃষ্টিতে আশেপাশে যে পানি উঠে, তা এখানে জমা হবে। আবার শুকনা মৌসুমে যখন পানি পাওয়া যায় না, তখন এই খালে পানি থাকলে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদের জন্য পানি পাবে। অর্থাৎ এলাকার মানুষের উপকার হবে।

স্থানীয়দের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলুন আমরা এই খালটা পুনঃখনন করি, পানি ফিরিয়ে আনি। খালের দুই পাশে গাছ লাগাই। খালের মধ্যে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটাও দেখা হবে- যাতে এলাকার বেকার তরুণরা কাজ পায়। মা-বোনেরাও পাশে শাকসবজি চাষ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ যেমন পানির কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। তাই খাল খনন জরুরি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। এই খাল কাটাসহ যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা যেন সফল হয়-সেজন্য দোয়া করবেন। এটা তো নিজের বাড়ি, ঘরের লোকজন। কয়েকদিন পর আবার আসবো ইনশাআল্লাহ।

এর আগে দুপুর ২টায় নিজ জন্মভূমি বাগবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বিকেল ৩টায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে পৌঁছালে খালের দুই পাড়ে অবস্থান নেওয়া হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

খাল খনন কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তাই সিরিজ হার ঠেকাতে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না স্বাগতিকদের। মিরপুরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কোনো ভুল করলেন না মেহেদী হাসান মিরাজরা। নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৯৮ রানে থেমে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। জবাবে ৮৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

১৯৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই চার হাঁকান বাংলাদেশের ওপেনার সাইফ হাসান। একই ওভারে আরও একটি চার মারেন তিনি। কিন্তু ৬ বলের বেশি খেলতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার। প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলেই সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৮ রান।

এরপর ক্রিজে আসেন সৌম্য সরকার। নিজের খেলা প্রথম বলেই দুই রান নেন সৌম্য। এরপর দেখে-শুনে খেলার ইঙ্গিত দিচ্ছিলো সৌম্যর ব্যাট। কিন্তু ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলেই হাঁকান এক দুর্দান্ত ছক্কা। একই ওভারের শেষ বলে ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন সৌম্য। তার ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ৮ রান।

তৃতীয় উইকেটে ব্যাট করতে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে নিয়েই দলীয় স্কোর বড় করতে থাকেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দুজন মিলে গড়েন ১২০ রানের জুটি। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। এই দুই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পান। তবে জয় নিয়ে ফিরতে পারেননি দুজনের কেউই।

জেইডেন লেনক্সের করা বলে কটবিহাইন্ড হওয়ার আগে ৭৬ রান করেন তিনি। মাত্র ৫৮ বলে খেলা ইনিংসটি ১০টি চার ও চারটি ছয়ে সাজানো। শান্ত অবশ্য আউট হননি। রিটায়ার্ট হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৭১ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৫০ রান করেন তিনি।

এর আগে মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয় বাংলাদেশ। দুটি উইকেটই নেন নাহিদ। অষ্টম ওভারে হেনরি নিকোলসকে ১৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশি পেসার। পরের ওভারেও প্রথম বলে তিনি উইল ইয়াংকে (৭) সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানান তিনি। পরে সৌম্য সরকার তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম লাথামের উইকেট। ৩৫ বলে ১৪ রান করেন তিনি।

৫২ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস ৫৬ রানের জুটি গড়েন। ২৭তম ওভারের শেষ বলে ফিফটি করেন কেলি। আব্বাসকে ১৯ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ। উড়ন্ত ক্যাচে তাকে ফেরান লিটন। কেলি সেঞ্চুরির বেশ কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন। শরিফুল ইসলাম তাকে ৮৩ রানে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান। কিউই ওপেনারের ১০২ বলের ইনিংসে ছিল ১৪ চার।

সেট ব্যাটার আউট হওয়ার পর ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন। জশ ক্লার্কসনকে আউট করেন রিশাদ হোসেন। আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ডিন ফক্সক্রফট ১৫ রান করে নাহিদের শিকার হন। ব্লেয়ার টিকনারকে বদলি ফিল্ডার আফিফ হোসেনের ক্যাচ বানান শরিফুল।

নিজের শেষ ওভারে নাহিদ পঞ্চম উইকেট তুলে নেন। জেইডেন লেনক্স খালি হাতে ফেরেন বাংলাদেশি পেসারের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে। ১৮৩ রানে ৯ উইকেট তোলার পর নিউজিল্যান্ডকে দুইশর মধ্যে আটকানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কাভারে নাথান স্মিথের কঠিন ক্যাচ নিতে না পারার প্রায়শ্চিত্ত কিছুক্ষণ পরই করেন তাওহীদ হৃদয়। তাসকিন আহমেদের বলে উইলিয়াম ও’রোর্কের ক্যাচ নেন তিনি। ৪৮.৪ ওভারে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।