খুঁটি রেখে সড়ক সংস্কার
১৮ ফিট সড়কে ‘বৈদ্যুতিক খুঁটি’ বাঁধা
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ধুমখালী বিশু মিয়া সড়কটিতে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সড়কের উপর কিংবা সড়ক ঘেঁষে আঠারটি ‘বৈদ্যুতিক খুঁটি’। যদিও সড়কটি গত ৬—থেকে ৭ মাস ধরে আঠার ফিট উন্নীতকররণের লক্ষ্যে সংস্কার কাজ চলছে। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন চলাচলের এ সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোর জন্য দুর্ঘটনায় আশঙ্খা করছেন স্থানীয়রা।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি—৩ এর বারইয়ারহাট জোনাল অফিসের জিএম রফিকুল ইসলামের দাবি, সড়কটি সংস্কারের পূর্বেই খুঁটি গুলো লাগানো হয়েছে। ইতিমধ্যে সেগুলো অপসারণের জন্য এলজিইডি একটি চিঠি দিয়েছেন তবে প্রায়োজনীয় টাকা জমা না দেওয়ায় সময় লাগছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কোরবান আলীর অভিযোগ, বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো সরানো জন্য অনেকবার বলা হয়েছে তারপর তারা এখনও সরানো হয়নি। এ রাস্তা দিয়ে হাজি চাঁন মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং
একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং চলাচল করে বিভিন্ন যানবাহন। খুঁটিগুলো অপসারণ করা না হলে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রণী সাহা বলেন, সড়কটি বাড়িয়ে ১৮ ফিট করা হয়েছে এতে কিছু খুঁটি সড়কে পড়েছে। ইতিপূর্বে আমরা বারইয়ারহাট জোনাল অফিসে সেগুলো অপসারণের জন্য চিঠি দিয়েছি।
সারেজমিনে দেখা গেছে, ধুমঘাট ব্রিজ থেকে শান্তিরহাট পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটারের বেশি ধুমখালী বিশু মিয়া সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে ৬ থেকে ৭ মাস পূর্বে।
সড়কের কাজ চলেছে দ্রুত গতিতে তাই বাকি আছে শুধু কার্পেট ঢালাই। সড়কের কাজ হলেও সড়কের উপর এবং সড়ক ঘেঁষে প্রায় ১৭/১৮ টি পল্লী বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে।
তবে এ খুঁটিগুলো অপসারণ না করেই সড়কের কাজ চলায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রতিনিয়ত সিএনজি, অটোরিকশা, বাস, ট্রাক সহ অনেক যানবাহন চলাচল করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন জানান, সড়কটির কাজ শুরু করার সময় আমি এলজিইডি কর্মকর্তাদের বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর বিষয়ে বলেছি। তারা অপসারণের আশ্বাস দিয়েছে কিন্তু সড়কের প্রায় কাজ শেষের দিকে হলেও এখনও অপসারণ করা হয়নি।
চালকেরা জানান, ব্যস্ততম চলাচলের সড়কের ওপর বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো অত্যন্ত ঝুঁকি। গাড়ির গতি বেশি, ওভারটেকের সময় খুঁটিগুলোর কারণে বিপদ হতে পারে। সামনে শীত, এসময় কুয়াশায় আচ্ছন্ন চারপাশে কি আছে আন্দাজ করা যায় না।
তাছাড়া সামনের গাড়িগুলো হেডলাইট জ্বালালে বুঝা যায় অপরদিক থেকে গাড়ি আসতেছে। সেখানে বিদ্যুতের খুঁটিগুলোতো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। দুর্ঘটনায় খুঁটি ভেঙে সড়কে পড়লেতো আরও বিপদ। মুহুর্তের মধ্যে কারেন্ট ছড়িয়ে পড়বে।
মাইক্রবাস চালক আশরাফ জানান, সড়কটি পুরোপুরিভাবে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার আগে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়ার দরকার। না হয় প্রত্যেককে প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে থাকতে হবে।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন