খুঁজুন
, ,

পটিয়ায় ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ নিয়েই এলাকার জনসাধারণের বসবাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 20 September, 2022, 7:53 pm
পটিয়ায় ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ নিয়েই এলাকার জনসাধারণের বসবাস

চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভা ৭ নং ওয়ার্ডের মানুষ (বাহুলী গ্রাম) এখন বড় দুর্গন্ধের সমস্যার সম্মুখীনে পড়েছে। পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় থেকে সংগৃহীত নিত্যদিনের ময়লা আবর্জনা ফেলে আসছে, পৌরসভা শ্রীমাই ব্রিজ থেকে গিরি চৌধুরী বাজার পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। তবে নতুন ভাবে সেই দুর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত ময়লা আবর্জনা দৈনন্দিন ফেলা হয় পটিয়া পৌরসভা ৭ নং ওয়ার্ডের একটি সড়কের পাশে। এলাকাটি দেখলে মনে হবে চট্টগ্রাম—কক্সবাজার মহাসড়ক নয়। এটি যেন পটিয়া পৌরসভা ময়লা ফেলার বড় স্থান।

এখানে ট্রাক যোগে প্রতিদিন ফেলা হয় পটিয়া পৌরসভার ময়লা ও আবর্জনা। গত কয়েকদিনে টানা বৃষ্টিতে এ ময়লা আবর্জনাগুলি মহাসড়কের উপর চলে আসে। ফলে এ ময়লা ও বর্জ্যরে চলাচল করতে কষ্ট ও অতিষ্ট মহাসড়কের পূর্ব পাশে বাহুলী গ্রাম।আর দক্ষিণপার্শ্বে কচুয়াই ইউনিয়ন।

নেই কোনো সীমানা প্রাচীর এবং দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বাতাসে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। ফলে দুর্গন্ধের কারণে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভূগছে সাধারণ জনগন।

পটিয়া পৌর এলাকার বাসিন্দারা বলেন, হাজার হাজার শিশু, বৃদ্ধসহ চলাচলকারী সাধারণ জনগণ। ময়লা—আবর্জনা দুর্গন্ধে দুর্বিসহ জীবন পার করছে ওই এলাকার মানুষ। দিন দিন দুষিত হয়ে পড়ছে এলাকার পরিবেশ ও নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি, মরে যাচ্ছে পুকুরের মাছ। এলাকাবাসী বার বার পৌর মেয়র ও কাউন্সিলর কে বিষয়টি জানালে ও কোনো সুরাহা পাইনি ভুক্তভোগীরা।

আরো জানা যায়, চট্টগ্রাম—কক্সবাজার মহাসড়কে শ্রীমাই ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় পৌরসভার ময়লা আবর্জনা ও বর্জ্য ফেলে আসছে দীঘদিন ধরে। মহাসড়কের উত্তর পাশে পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড আর দক্ষিণ পাশে কচুয়াই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে। কিন্তু সম্প্রতি কোরবানি পশুর বর্জ্য মনসা পূজা ছাগলের নারীভুড়ি খোলা আকাশের নিচে মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

এ ময়লা আবর্জনা ও পশুর বর্জ্যগুলির পঁচা দুর্গন্ধ যুক্ত বাতাস চট্টগ্রাম—কক্সবাজার মহাসড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে কচুয়াই ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ডের এলাকার প্রায় ৭’শ পরিবার ও চট্টগ্রাম—কক্সবাজার মহাসড়কের যানবাহন করে চলাচলকারী হাজার হাজার যাএী প্রতিদিন চলাফেরা করছে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে।

ইতিমধ্যে এই বর্জ্যরে গন্ধে এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে শ্বাসকষ্ট ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন বায়ু এবং পানিবাহীত রোগে। আর ৬’শ গজের মধ্যে রয়েছে একটি কামিল মাদ্রাসা ও একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

কচুয়াই ইউনিয়নের এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যা হলে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ময়লা স্তপের উপর পরে থাকা পলিথিনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এ পলিথিনের আগুন দেওয়ায় পুড়ে এলাকায় অন্ধকার হয়ে যায়।

এ ধোঁয়াযুক্ত বর্জ্যরে গন্ধে এলাকার কোমলমতি শিশুসহ সাধারণ লোকজনের বসবাস করা কষ্টসাধ্য হয়ে যায় । এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলে দীর্ঘদিন এ বর্জ্য ফেলে রাখলে পটিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনো প্রতিকার পায়নি।

পটিয়া পৌরসভার মেয়র আইয়ুব বাবুল দৈনিক সময়ের কাগজকে জানান, পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগ থেকে বিসিক শিল্প এলাকার মহাসড়কের পাশে ময়লা গুলো পেলে আসছে, এবং গত একটা মিটিং এ সিন্ধান্ত হয়েছে যার যার ওয়ার্ডের ময়লা গুলো তারা তাদের ওয়ার্ডে ফেলবে। সরকারি ভাবে কোনো জায়গা ঠিক করা হলে তখন সেখানে ময়লা গুলো ফেলা হবে। এসময় পৌর মেয়র আরো বলেন, আমি সংগঠন করতে আসিনি, আমি উন্নয়ন করতে এসেছি।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দারা জানান, শুধু ঘুমের সময় ছাড়া এই দুর্গন্ধ থেকে কোনোভাবেই মুক্তি মেলে না এলাকাবাসীর। বায়ুদুষণের কারণে এলাকার মানুষ বমি, পেটের পিড়া, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগসহ নানা রোগে ভূগছে।

এই দুর্ভোগ থেকে প্রতিকার পেতে এলাকার মানুষ প্রায় প্রতিবাদ করলেও মেলে না কোনো সুফল।
এলাকার রমেশ দে নামের এক বৃদ্ধ জানান, ময়লার গন্ধে ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। ঘর থেকে কাজের প্রয়োজনে বের হলে শারীরিকভাবে অসুস্থবোধ করি। অতিদ্রুত এ ময়লা আবর্জনা ও বর্জ্য এ স্থান থেকে সরিয়ে ফেলা না হলে এলাকার মানুষরা বসবাস করা দায় হয়ে পড়বে।

দৈনিক সময়ের কাগজের প্রতিবেদক সরেজমিনে গিয়ে দেখে, চট্টগ্রাম—কক্সবাজার মহাসড়কের শ্রীমাই ব্রিজ এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সড়কের উত্তর পাশে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে ময়লা আবর্জনার স্তপ ফেলছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ । ময়লা স্তপগুলো বৃষ্টির পানিতে ভিজে মহাসড়কের উপরে ময়লা আবর্জনা ও বর্জ্য চলে আসছে রাস্তার উপর। দুর্গন্ধের জন্য ঐ রাস্তা দিয়ে চলাচলা করা যাচ্ছে না।

রিকশা চালক জামাল উদ্দিন জানান, প্রতিদিন এ মহাসড়ক দিয়ে কমলমুন্সির হাট থেকে পটিয়া পৌর সদরের মুন্সেফ বাজার, কামাল বাজার ও থানার হাটের বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন আসা যাওয়া করলে নাকে হাত বা কাপড় দিয়ে রিকশা চালাতে হয়।

অন্যদিকে পটিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেখছি প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে ময়লা আবর্জনার স্তপ এ জায়গায় ফেলছে পৌরসভা। তবে এই ময়লার দুর্গন্ধের জন্য রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে এলাকাবাসীর কষ্টসাধ্য হয়ে যায়।

জে-আর

Feb2
Feb2

সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস, আজ থেকে কার্যকর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 8:27 am
সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস, আজ থেকে কার্যকর

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন আজ ১ জুলাই থেকে এ বাজেট কার্যকর হচ্ছে। তিন সপ্তাহের আলোচনা, সমালোচনা ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর পর কণ্ঠভোটে গতকাল মঙ্গলবার বাজেট পাস হয়। তার আগে সোমবার অর্থবিলে মোট ৬৮টি সংশোধনী আনা হয়েছে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট এবং চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন। এরপর সংসদ সদস্যরা টানা তিন সপ্তাহ বাজেটের ওপর আলোচনা করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা করনীতি, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ নিয়ে সমালোচনা করেন।

বাজেটে মানবিক অর্থনীতি গড়ে তোলার একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী বাজেটে তিন বছর মেয়াদি রোড ম্যাপ দিয়েছেন। এর আওতায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা এবং গতিশীলতার জন্য পুনর্গঠনের কাজ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিএনপি সরকার। ধাপে ধাপে এ কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে। বাজেট পাসের আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সমাপনী বক্তব্যে বলেন, সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাজেট আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, স্বতন্ত্র ও বিরোধী দলের সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

সোমবার সংসদে অর্থ বিল-২০২৬ পাস হয়। এর মাধ্যমে শুল্ক-করের পরিবর্তনগুলো কার্যকর করা হয়। এ বিলে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করা। অন্যদিকে ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন দাখিলের শর্ত থেকেও ফিরে এসেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ, যাদের করযোগ্য আয় নেই, তারা বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পাবেন। বহুল আলোচিত আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসেছে সরকার। এসব পরিবর্তনসহ বেশকিছু পরিবর্তন এনে সোমবার সংসদে অর্থবিল পাস করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেও বেশকিছু ছাড় দেওয়া কিংবা নতুন আরোপিত কর বা শুল্ক বাতিল করেছেন অর্থমন্ত্রী, যা সংসদে পাস হয়েছে। অবশ্য বিস্তর ছাড় দেওয়ার পরও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিশাল রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। ক্ষুদ্র মুদি দোকানদারদের প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন তিনি। তবে অপেক্ষাকৃত বড়দের ওপর এই প্যাকেজ ভ্যাট থাকবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বাজেট পাস হয়। বাজেট পাসের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। দাবিগুলো কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা মোট ১ হাজার ৩৪২টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে কণ্ঠভোটে সব প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। পরে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

পাস হওয়া বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট ৮ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার চেয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এবারের বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এবারের বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এমবাপের জোড়া গোলে শেষ ষোলোতে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 8:11 am
এমবাপের জোড়া গোলে শেষ ষোলোতে ফ্রান্স

ফুটবল মাঠে দাপট ধরে রেখেছে গত দুই বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলা ফ্রান্স। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফাইনালের ভেন্যু নিউজার্সি স্টেডিয়ামে তারা সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারাল। চলতি আসরে দ্বিতীয়বার জোড়া গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে। ছয় গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসির পাশে বসলেন তিনি। তার সঙ্গে মাইকেল অলিসের দুরন্ত পারফরম্যান্সে শেষ ষোলোতে পৌঁছে গেল ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধে মনে হচ্ছিল সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্স হয়তো বিরতিতে যাওয়ার আগে গোল করতে পারবে না। অফসাইডের কারণে এমবাপের গোল বাতিল হওয়ার পর দুইবার গোলপোস্টে আঘাত। আর কয়েকটি শট গোলবারের পাশ দিয়ে গেছে কয়েকবার।

ফ্রান্সের মুহুর্মুহু আক্রমণের পরও গোল না হওয়ার হতাশা শেষ পর্যন্ত কেটে যায়। একাধিক সুযোগ নষ্ট করার পর ৪৫ মিনিটে এমবাপে গোলমুখ খোলেন। বক্সের বাম প্রান্তে বল পেয়ে চমৎকার পায়ের কাজে তার মার্কারকে পরাস্ত করেন, তারপর বেশ কাছ থেকে দূরের পোস্ট দিয়ে জাল কাঁপান। তারপরই দৌড়ে যান মা হারিয়ে কঠিন সময় পার করা কোচ দিদিয়ের দেশমকে সান্ত্বনা দিতে। প্রথমার্ধ শেষে ফ্রান্স ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। সুইডেন কয়েকটি সুযোগ পেলেও ফরাসি গোলকিপার মাইক মাইগনানের সত্যিকারের পরীক্ষা নিতে পারেনি।

১৭ মিনিটে এমবাপে প্রথম আক্রমণে যান। তার দুর্বল শট সহজেই সুইডিশ কিপার হাতে নেন। তিন মিনিট পর বারকোলার শক্তিশালী শট গোলবারের ওপর দিয়ে যায়। ২১তম মিনিটে অলিসের বাড়ানো বলে মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে জালে বল ঠেলে দেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

হাইড্রেশন ব্রেকের পর ফিরে রাবিওর একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন সুইডেন কিপার জেটারস্ট্রম। ৩৩ মিনিটে অলিসের পাস থেকে দূরের পোস্টে দাঁড়ানো এমবাপের দারুণ একটি শট গোলপোস্টে আঘাত করে। পরের মিনিটে রাবিও আবার বল গোলবারের ওপর দিয়ে মারেন।

৩৭ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে চোখ ধাঁধানো এক গোলের খুব কাছে ছিলেন। কিন্তু তার ওভারহেড কিক গোলপোস্টে লাগে। ফিরতি বলে শট নিতে পারেননি উসমান দেম্বেলে। বিরতির দুই মিনিট আগে অলিসের একটি শট গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। তারপরই হতাশা দূর করা এক গোল করেন এমবাপে। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৭তম এবং এই আসরে পঞ্চম গোল করে নরওয়ের আর্লিং হালান্ডের পাশে বসেন।

বিরতির পরও মাঠে ফিরে আক্রমণ অব্যাহত রাখে ফ্রান্স। ৫৩ মিনিটে বারকোলা গোলদাতার খাতায় নাম লিখেন। এবারও গোল বানিয়ে দেন অলিস। তারই অ্যাসিস্টে ৭৪ মিনিটে এমবাপে নিজের জোড়া গোলের দেখা পান। প্রথম গোলের মতো এবারও বক্সের একই প্রান্ত থেকে জালে বল আছড়ে ফেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। এমবাপে তার ১৮তম গোলের দেখা পান, সর্বকালের শীর্ষ বিশ্বকাপ গোলদাতা মেসির (১৯) চেয়ে এক গোল পেছনে তিনি।

এমবাপের দ্বিতীয় গোলের আগে তাকে ও অলিসকে রুখে দিয়েছিলেন জেটারস্ট্রম। দুজনই ৮৬ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন। পুরো ম্যাচে ফ্রান্স ২৫টি শট নিয়েছে, বিপরীতে সুইডিশদের শট ছিল ৮টি। ১২টি শট টার্গেটে রেখেছিল ফরাসিরা, ৯টি সেভে ব্যবধান আরও বাড়তে দেননি সুইডেন কিপার।

শেষ ষোলোতে ফ্রান্স মুখোমুখি হবে জার্মানিকে বিদায় করা প্যারাগুয়ের। ১৯৯৮ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পথে ফরাসিরা শেষ ষোলোতে এই দক্ষিণ আমেরিকানদের ১-০ গোলে হারিয়েছিল। আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। ফ্রান্স যেভাবে খেলছে, তাতে করে প্যারাগুয়ের সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

আইভরি কোস্টকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে নরওয়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 8:00 am
আইভরি কোস্টকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে নরওয়ে

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ের রূপকথা শেষ ৩২ এ ফুরিয়ে যায়নি। ডালাস স্টেডিয়ামে তারা আইভরি কোস্টকে হারিয়েছে। আর্লিং হালান্ডের গোলে ২-১ ব্যবধানে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে ব্রাজিলের সামনে তাদের কঠিন পরীক্ষা।

প্রথমার্ধে আর্লিং হালান্ডের কপাল খারাপই বলতে হয়। তৃতীয় মিনিটে বক্সের সেন্টার থেকে তার একটি হেড ব্লকড। বিরতির তিন মিনিট আগে পা বাড়িয়ে দিয়ে তার নিশ্চিত গোল ঠেকালেন আইভরি কোস্টের এক ডিফেন্ডার। মাঝে তার একটি ট্রেডমার্ক হেড সেভ করেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার।

নরওয়ের গোলমেশিন গোল না পেলেও শেষ ৩২ এর ম্যাচে আইভরি কোস্ট পেছনে পড়েছে। মার্টিন ওডেগার্ডের অ্যাসিস্টে ৩৯ মিনিটে আন্তোনিও নুসা বক্সের বাম দিকে বল পেয়ে পায়ের কাজ দেখিয়ে কিছু জায়গা বের করেন। তারপর ডান পায়ের কোণাকুনি শটে ফোফানাকে পরাস্ত করে বিশ্বকাপে নরওয়ের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হলেন তিনি। নুসার একমাত্র গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে ফেরা দলটি।

আর ওডেগার্ড বিশ্বকাপ ইতিহাসের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজের প্রথম তিন ম্যাচেই অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়লেন। তার আগে ১৯৮৬ ও ২০০২ সালে যথাক্রমে এই রেকর্ড গড়েন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইগোর বেলানোভ ও জার্মানির মাইকেল বালাক।

আইভরি কোস্টও নরওয়ের বক্সে আক্রমণ করেছিল। কিন্তু লক্ষ্যে ছিল না বল। ২১ মিনিটে ঘিসলাইন কোনানের ডানপায়ের শট কাছের পোস্ট দিয়ে বাইরের জালে জড়ায়। সাত মিনিট পর নিকোলাস পেপের ডান পায়ের শট বাঁ দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৩৫ মিনিটে এমানুয়েল আগবাদুর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট রুখে দেন নরওয়েজিয়ান কিপার ওরহান নাইলান্ড। শেষ মুহূর্তে তার একটি হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়।

৫৫তম মিনিটে পেপে বক্সের মাঝখান থেকে বাম পায়ে শট নেন। নাইলান্ড সেটি ডানদিকের নিচু কোণা দিয়ে চমৎকারভাবে বাঁচিয়ে দেন। আইভরি কোস্টের এটিই ছিল ততক্ষণ পর্যন্ত ম্যাচের সেরা সুযোগ। নরওয়ের বক্সে হেগেম একটি শট ব্লক করার পর বলটি ফাঁকায় পেপের কাছে চলে আসে, কিন্তু নাইলান্ড কাছের পোস্টে দুর্দান্তভাবে বলটি আটকে দেন।

দুই মিনিট পর ফ্রাঙ্ক কেসির বক্সের মাঝখান থেকে নেওয়া ডান পায়ের শট নাইলান্ড ডানদিকের নিচু কোণায় রুখে দেন। এই শটটিতে অ্যাসিস্ট করেছিলেন পেপে।

৬৭তম মিনিটে একেবারে গোলমুখ থেকে নরওয়ের সুযোগ ফিরে আসে। হেগেমের বক্সের মাঝখান থেকে নেওয়া ডান পায়ের শটটি প্রতিহত হয়। গোলটা না হওয়া ছিল বিস্ময়কর। কর্নার থেকে সরলথ বলটি ফ্লিক করে হেগেমের দিকে বাড়িয়ে দেন এবং হেগেম মাত্র চার গজ দূর থেকে একটি নিচু ভলি মারেন। কিন্তু গোল লাইনের ওপর থাকা আমাদ দিয়ালো বলটি আটকে দেন এবং শেষ মুহূর্তে বিপদমুক্ত করে আইভরি কোস্ট।

৭৪তম মিনিটে নরওয়েকে ধাক্কা দেয় আফ্রিকানরা। দিয়ালো ডানপ্রান্ত থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পেপের সাথে ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢোকেন। কিছুক্ষণ আগে গোললাইনে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচানো ম্যানইউ তারকা একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কোণাকুণি শটে গোলরক্ষক নাইলান্ডকে পরাস্ত করে ম্যাচে সমতা ফেরান।

তবে সমতা বেশিক্ষণ থাকেনি। ৮৬তম মিনিটে হালান্ড ঠিক সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় হাজির হয়ে যান। অস্কার ববের ডিফেন্স-চেরা পাসের পর প্যাট্রিক বার্গের কাট-ব্যাক থেকে একদম কাছ থেকে আলতো টোকায় বল জালে জড়ান তিনি। নরওয়ের হয়ে এটি তার ৫৩ ম্যাচে ৬০তম গোল এবং এই বিশ্বকাপের পঞ্চম গোল।

একেবারে শেষ মুহূর্তে নরওয়ের রক্ষাকর্তা হন নাইলান্ড। ৯৬তম মিনিটে দিয়ালো ফ্রি কিকে বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ে শট নেন। ডানদিকে দুই কদম সরে উড়ে গিয়ে বাম হাতে বল বাম কোণার ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দিয়ালোর নেওয়া শটে বল নিশ্চিতভাবেই উঁচু কোণা দিয়ে জালে জড়াতো। কিন্তু নাইলান্ড ত্রাতা হয়ে এসে রুখে দিলেন।

নরওয়ে জিতলেও আইভরি কোস্ট মোট শট নিয়েছিল ১৪টি, বিপরীতে প্রতিপক্ষের শট ছিল ৯টি। মূলত গোলকিপার নাইলান্ড চার সেভে দ্য এলিফ্যান্টদের রুখে দিয়েছেন। আগামী ৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে ইউরোপিয়ান দেশটি।

এর আগে নিজেদের শেষ বিশ্বকাপেও শেষ ষোলোতে উঠেছিল নরওয়ে। ১৯৯৮ সালে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলোতে তারা ইতালির কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। ওই আসরেই ব্রাজিলকে গ্রুপ ম্যাচে পরাজিত করেছিল তারা।