খুঁজুন
, ,

সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন আনোয়ারায়

স্বপ্ন বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু টানেল

আর মাত্র আট শতাংশ বাকি, সবচেয়ে বেশি সুবিধা পর্যটকদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 25 October, 2022, 5:29 pm
স্বপ্ন বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু টানেল

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রামের উন্নয়নে মোট তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ২০২৪ সালে কক্সবাজারে ট্রেন, ২০২৩ সালে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আর চলতি ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃর্পক্ষের(চউক) প্রথম দুটি ও বাংলাদেশ ব্রিজ অথোরেটি(বিবিএ)’র বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্প। বঙ্গবন্ধু টানেলের এ পর্যন্ত ৯২ ভাগ কাজ শেষ হওয়ায় আগামী ডিসেম্বরে চালু হয়ে যাবে বঙ্গবন্ধু টানেল ও এপ্রোচ সড়ক এমন ধারনা প্রকৌশলীদের।

বাংলাদেশ সেতু বিভাগের(বিবিএ) সূত্রে জানা গেছে, সেতু বিভাগের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান টানেল’ দেশের প্রথম ও একামাত্র টানেল। চায়না কমিউনিক্যাশন কন্সট্রাকশন কোম্পানী (সিসিসিসি) নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এই টানেলের কাজ করছে। কনস্যালটেন্ট হিসেবে কাজ করছে এসএমইসি — সিওডব্লিওআই।

বঙ্গবন্ধু টানেলের কারনে আনোয়ারার উন্নয়ন অর্শ্বের গতিতে ছুটে চলা উন্নয়নের স্বপ্ন। যা বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও আনোয়ারা পর্যটন এলাকার পরিপূর্ণতা পাবে। এদিকে, আনোয়ারায় ৪ হাজার ৯৫২ মিটার এপ্রোচ সড়কের উন্নয়নে মহা খুশি এলাকার সাধারন মানুষ।

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান টানেল’ এর অ্যালাইনমেন্ট হয়েছে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট থেকে কর্ণফুলী নদীর দুই কিলোমিটার ভাটির দিকে। বঙ্গবন্ধু টানেলের দুটি টিউব চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে আনোয়ারা উপজেলাকে সংযুক্ত করেছে।

টানেলের প্রবেশপথ নেভি কলেজের কাছে আর বহির্গমন পথ কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ের সিইউএফএল সার কারখানা সংলগ্ন ঘাট দিয়ে। প্রকল্প সাইটের উভয়দিকে বগুড়ার আরডিএ কর্তক চারটি গভীর নলকূপ স্থাপন করে প্রকল্পের পানির চাহিদা মেটানো হয়েছে।

এছাড়াও পতেঙ্গা ও আনোয়ারা উভয়দিকে ২ মেগাওয়াট বিদ্যুত সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আবার পতেঙ্গা প্রান্তে ১৫ মেগাওয়াট স্থায়ী বিদ্যুত সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আবার আনোয়ারা প্রান্তে বিদ্যুত সাবস্টেশন নিমার্ণ করেছে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড।

বিবিএ’র ইস্টিমিটেড কস্ট এনালাইসিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান টানেল’ মানেই ‘মাল্টি-ল্যান্ড রোড টানেল আন্ডার দ্যা রিভার কর্ণফুলী’। এই টানেলে থাকছে দুটি টিউবের ন্যায় চারলেনের সড়ক নিমার্ণ পরিকল্পনা।

উভয়দিকে টানেলের মুখ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নিমার্ণ হচ্ছে। এই টানেলের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার বা ১০৫৫ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন।

এরমধ্যে সরকারী অথার্য়ন থেকে আসছে ২ হাজার ৮০০ কোটি ২৩ লাখ ৭৮ হাজার বা ৩৫০ দশমিক শূণ্য তিন মিলিয়ন।

প্রজেক্ট এসিসট্যান্স থেকে বিনিয়োগ করা হচ্ছে ৫ হাজার ৬৪৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ৭৫০ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন।

সেতু বিভাগের হিসেব অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে বহুলেন বিশিষ্ট সড়ক নিমার্ণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী দেখা গেছে, ৪ লেন বিশিষ্ট এপ্রোচ সড়কের মধ্যে রয়েছে পতেঙ্গা অংশে ৫৫০ মিটার আর আনোয়ারা অংশে ৪ হাজার ৯৫২ মিটার। প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ২৬৫ দশমিক ৯৭ মিটার।

টানেলের দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার। টানেলের বাহিরে পতেঙ্গা এলাকায় কাটা হবে ২০০ মিটার আর আনোয়ারায় কাটা হবে ১৯০ মিটার। কার্যপরিধি ২৫ মিটার। আনোয়ারা অংশে ফ্লাই-ওভারের দৈর্ঘ্য ৬৩৭ মিটার। মোট ৫ বছর সময়ের মধ্যে প্রায় ৪ বছর অতিক্রান্ত হল।

তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই এই টানেলের কাজ শেষ হবে বলে সেতু বিভাগের কয়েক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ১২ মিটার বৃত্তাকার এই টানেল আচ্ছাদিত অংশ পতেঙ্গা অংশে ১৯৫ মিটার আর আনোয়ারা অংশে ২৩০ মিটার।

বর্তমান সরকারের বৃহদায়তন প্রকল্পের উন্নয়ন টার্গেট অনুযায়ী, ২০২২ সালে পতেঙ্গাকে টার্নিং পয়েন্ট করতে এখন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃর্পক্ষের (চউক) দুটি ও বাংলাদেশ ব্রিজ অথোরেটি (বিবিএ)’র একটি প্রকল্প।

২০১৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমূদ্র উপকূলে গড়া এপ্রোচ সড়কে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান টানেল’ এর বোরিং কার্যক্রম আর চউকের ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে’র উদ্বোধন করেছেন।

২০২২ সালের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল বাংলাদেশ ব্রীজ অথরিটি (বিবিএ)’র তত্বাবধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান টানেল ও চউকের অথার্য়নে এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে।

বঙ্গবন্ধু টানেলের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের কাছে টানেলের অগ্রগতি জানতে চাওয়া হলে তিনি জরুরী বৈঠকে থাকায় তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে প্রকল্পের সাইটে কর্মরত এক প্রকৌশলী বলেন,প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সংযোগ স্থাপন হবে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে।

নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে। বদলে যাবে চট্টগ্রামের চিত্রও। বৃদ্ধি পাবে চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতা।

২৪ ঘণ্টা / জেআর

Feb2
Feb2

জুলাই সনদ শতভাগ বাস্তবায়ন করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর: ব্যারিস্টার মীর হেলাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 5 August, 2026, 8:23 pm
জুলাই সনদ শতভাগ বাস্তবায়ন করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর: ব্যারিস্টার মীর হেলাল

ভুমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জনসম্মুখে যে জুলাই সনদ সাক্ষরিত হয়ছে সেটা শতভাগ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট এর বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে ছাত্রদলের ভুমিকা ও জুলাই – আগষ্ট আন্দোলনে অবদান কে তুলে ধরে প্রশংসা করেন।আজ ৫ই আগষ্ট চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও বলেন, ৫ই আগষ্ঠ এর মুল চেতনা হল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মান করা এবং গত ফ্যাসিস্ট এর করা অপশাসন হতে বাংলাদেশকে মুক্ত করা। জুলাই আগষ্ট আন্দোলনে ছাত্রদল মুখ্য ভুমিকা পালন করেন এবং ছাত্রদলে ১৪২ নেতাকর্মী শহিদ হন। ১৬ জুলাই ২০২৪ সালে মুরাদপুরে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য ওয়াসিম আকরাম ছাত্রদল পরিচয় ধারন করে শহীদ হোন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক এরশাদ উল্লাহ্ বলেন জুলাই আন্দোলনে আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে চট্টগ্রামে ছাত্রদল কে দিয়ে আন্দোলন চলমান রাখতে সার্বক্ষনিক তদারকিতে ছিলাম এবং সব সময় ছাত্রদল মাঠে ছিল।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন,শহীদ ওয়াসিম সহ যারা বিগত আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে যথাযথ সম্মানের সহিত প্রতিটি রাষ্ট্রীয় পোগ্রাম গুলোতে ছবি সহকারে নাল উল্লেখ করে উপস্থাপন করার জোর দাবি জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসরাফিল খসরু বলেন,যে বৈষম্য দুর করার জন্য জুলাই – আগষ্ট ছাত্র জনতার সমন্বয়ে যে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে ৫ আগষ্ট পরিবর্তী সময়ে ছাত্রদলই সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হয়ছে।সে বৈষম্য দুর করার জন্য ছাত্রদলকে সজাগ থাকার পাশাপাশি ভুমিকা পালন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, জুলাই আগষ্ট আন্দোলনে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ছাত্রদল ভুমিকা রাখার কারণে আন্দোলন দিন দিন তীব্র হয় এবং ৫ ই আগষ্ট হাসিনার পতনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম এর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন এর সঞ্চালনায় আর ও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আসিফ চৌধুরী লিমন, যুগ্ম আহবায়ক তরিকুল ইসলাম তানভীর, শহিদুল ইসলাম সুমন, খন্দকার রাজিবুল হক বাপ্পী, মোহাম্মদ আনাছ, নুর জাফর নাঈম রাহুল, সদস্য ইমরান হোসেন বাপ্পী, আল মামুন সাদ্দাম, কামরুল হাসান আকাশ, আব্বাস উদ্দিন সহ অসংখ্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই-আগস্টের শহীদরা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 5 August, 2026, 7:37 pm
জুলাই-আগস্টের শহীদরা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে: মেয়র

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, জুলাই-আগস্টের শহীদরা জাতির গৌরব ও প্রেরণার প্রতীক। তাঁদের আত্মত্যাগের ইতিহাস চিরকাল জাতিকে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় মেয়রের সাথে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ চসিকের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জুলাই-আগস্টের শহীদরা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে চেতনা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা আগামী প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তাঁদের আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করা সম্ভব। আমাদের শপথ হতে হবে, জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নের পথে শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দেয়। একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

মেয়র আরো বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল ছাত্র, শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মী, সুশীল সমাজ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফল। তাই এ আন্দোলনকে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন না করে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন মাত্রা লাভ করে। বিএনপিসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে ছিলেন। চট্টগ্রামেও বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, জাসাস এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নেন। অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ত্যাগের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি নানা প্রতিকূলতা, মামলা ও জেলের মুখোমুখি হয়েও দেশের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকে সরে আসেননি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু থেকেই আন্দোলনের পক্ষে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ভূমিকা রেখেছেন।

মেয়র জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহত চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য শহীদ ওয়াসিম আকরাম, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, রাব্বি, ফারুক, তানভীরসহ সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আসুন, আমরা সবাই মিলে এই আন্দোলনকে ‘আমার আন্দোলন’ নয়, ‘আমাদের আন্দোলন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি। জাতীয় ঐক্য অটুট রেখে বিভেদ নয়, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগকে সার্থক করে তুলি।

প্রত্যেক অপরাধীর বিচার এ দেশেই হবে, সে যত শক্তিশালীই হোক না কেন: মীর হেলাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 5 August, 2026, 7:33 pm
প্রত্যেক অপরাধীর বিচার এ দেশেই হবে, সে যত শক্তিশালীই হোক না কেন: মীর হেলাল

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি বলেছেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধের সাথে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীর বিচার এই দেশেই নিশ্চিত করা হবে, ইনশাআল্লাহ—সে যেই হোক না কেন। এটাই আমাদের সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা।”

আজ বুধবার চট্টগ্রামে জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা এবং জুলাই শহীদ পরিবার ও বীর জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল তাঁর বক্তব্যের সূচনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, শহীদদের মহান আত্মত্যাগ কোনো অর্থ বা বস্তুতাত্ত্বিক প্রাপ্তি দিয়ে শোধ করা সম্ভব নয়। তাদের রক্তের প্রকৃত মূল্যায়ন তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মীর হেলাল জোর দিয়ে বলেন, এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দল বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়; বরং এটি দীর্ঘ বছরের জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ দেশের আবালবৃদ্ধবনিতার এক অভূতপূর্ব ঐক্যবদ্ধ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। জনগণের জন্য উৎসর্গীকৃত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই হবে এই আন্দোলনের মূল সার্থকতা।

গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, রাজনৈতিক বা আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আমাদের সবাইকে একসূত্রে গাঁথা থাকতে হবে। যেকোনো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা সময়ের দাবি।

রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতিমধ্যে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি কাজ শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের সকল দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল ও অংশীজন গঠনমূলক মতামত প্রদানের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।

অনুষ্ঠানে যুবসমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ইসরাফিল খসরু, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আহত ও বীর জুলাই যোদ্ধাগণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্ব শেষে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন এবং দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।