খুঁজুন
, ,

জুলাই-আগস্টের শহীদরা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 5 August, 2026, 7:37 pm
জুলাই-আগস্টের শহীদরা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে: মেয়র

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, জুলাই-আগস্টের শহীদরা জাতির গৌরব ও প্রেরণার প্রতীক। তাঁদের আত্মত্যাগের ইতিহাস চিরকাল জাতিকে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় মেয়রের সাথে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ চসিকের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জুলাই-আগস্টের শহীদরা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে চেতনা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা আগামী প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তাঁদের আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করা সম্ভব। আমাদের শপথ হতে হবে, জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নের পথে শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দেয়। একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

মেয়র আরো বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল ছাত্র, শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মী, সুশীল সমাজ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফল। তাই এ আন্দোলনকে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন না করে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন মাত্রা লাভ করে। বিএনপিসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে ছিলেন। চট্টগ্রামেও বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, জাসাস এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নেন। অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ত্যাগের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি নানা প্রতিকূলতা, মামলা ও জেলের মুখোমুখি হয়েও দেশের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকে সরে আসেননি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু থেকেই আন্দোলনের পক্ষে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ভূমিকা রেখেছেন।

মেয়র জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহত চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য শহীদ ওয়াসিম আকরাম, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, রাব্বি, ফারুক, তানভীরসহ সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আসুন, আমরা সবাই মিলে এই আন্দোলনকে ‘আমার আন্দোলন’ নয়, ‘আমাদের আন্দোলন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি। জাতীয় ঐক্য অটুট রেখে বিভেদ নয়, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগকে সার্থক করে তুলি।

Feb2
Feb2

হাসিনাকে এবং হা‌দির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 10 August, 2026, 3:21 pm
হাসিনাকে এবং হা‌দির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে অবস্থান করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্প‌ন ত্বরা‌ন্বিত করতে দি‌ল্লিকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণেরও অনুরোধ করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স‌ঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতে এ অনু‌রোধ করা হ‌য়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় দূতের সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খ‌লিলুর রহমা‌ন পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ে সাংবা‌দিকদের ব্রিফ করে এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশ-ভারতের গণতান্ত্রিক ইস্যু থাকবে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 10 August, 2026, 3:10 pm
বাংলাদেশ-ভারতের গণতান্ত্রিক ইস্যু থাকবে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গণতান্ত্রিক বিভিন্ন ইস্যু থাকবে এবং সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে বিভিন্ন ধরনের ইস্যু থাকবে, ইস্যু আসবে। সেগুলো সমাধান করতে হবে। ভারতের জনগণ চায় দুই দেশের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীও সুন্দর সম্পর্ক চান। ভবিষ্যতে ভালো কিছু হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার খুব ভালো লেগেছে। তাদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট ইস্যু রয়েছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ইস্যু না থাকলে তো গণতন্ত্র থাকবে না। ইস্যু তো বাড়িতেও থাকে। আমি যখন বাড়ি যাই, বাড়িতেও ইস্যু থাকে। কিন্তু কোনো ইস্যু আমরা সমাধান করতে পারি এটা আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো ইস্যু নেই, যা বসে আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশই প্রাণবন্ত গণতন্ত্র। দুই দেশের সাধারণ মানুষই ভালো সম্পর্ক চায়। ভারতের সাধারণ মানুষ এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার মধ্যেও মিল রয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আমাদের ইতিহাস তো আপনি বদলাতে পারবেন না। আমাদের প্রতিবেশীকেও বদলাতে পারবেন না। আমরা শুধু সীমান্ত ভাগ করি না, স্বপ্নও ভাগ করি।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তিনি গত দুই মাসে বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে অনেক সম্মান, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা পেয়েছেন। এতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম সাক্ষাতে তার মনেই হয়নি যে এটি প্রথমবারের সাক্ষাৎ। অত্যন্ত আন্তরিক ও বিনয়ী পরিবেশে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা আরও বাড়বে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘পিপল টু পিপল’ যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। দুই দেশের নেতারা একসঙ্গে বসলে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে এবং সেগুলোর সমাধানের পথও বের হবে। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ভালো রাখার বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীও আগ্রহী।

দুই দেশের সরকার কবে বৈঠকে বসবে এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দুই দেশের নেতৃত্বের বৈঠক হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবই ভালো হবে।

তিনি আরও বলেন, ইস্যু থাকবে, বাংলাদেশের ইস্যু থাকবে, ভারতের ইস্যু থাকবে। কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই ভালো সম্পর্ক। আর ভালো সম্পর্ক হলে বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হবে।

দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ইস্যুগুলো সমাধান করতেই হবে। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী, আগামী দিনগুলো ভালোই হবে।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ৫৯.৪৮ শতাংশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 10 August, 2026, 2:53 pm
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ৫৯.৪৮ শতাংশ

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় কমেছে পাসের সংখ্যা। এবার পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

যা গতবছর ছিল ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন, গতবছর পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন।

এবার পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ হাজার শিক্ষার্থী, যা গত বছর ছিল ১ লাখ ১ হাজার ১৮১ জন। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ।

যা গত বছর ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষায় ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ যা গত বছর ছিল ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ যা গত বছর ছিল ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে এসব তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় এবছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন।

চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৭৪ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। চট্টগ্রাম জেলায় এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত বছর ছিল ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ। কক্সবাজারে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ, গত বছর ছিল ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। রাঙামাটিতে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, গত বছর ছিল ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। খাগড়াছড়িতে পাসের হার ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ, গত বছর ছিল ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বান্দরবানে পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ, গত বছর ছিল ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ।

বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে পাসের হার ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এবার ২১টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে ৮টি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।