খুঁজুন
, ,

এবারও জনগণ আ’লীগকে ভোট দিবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 28 October, 2022, 11:22 pm
এবারও জনগণ আ’লীগকে ভোট দিবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর দল গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হওয়ায় বিএনপি আন্দোলন করতে পারছে।

তিনি বলেন, তবে, বিএনপি’র যারা খুনের সঙ্গে জড়িত, অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত তাদের ধরতে হবে। তাদের কোনো ছাড় নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সভাপতিত্বকালে দেয়া প্রারম্ভিক ভাষণে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের ওপরে মানুষের আস্থা রয়েছে বলেই তিনবার ভোট দিয়ে দলকে নির্বাচিত করেছে, এবারও দিবে। কিন্তু যারা সন্ত্রাসী, খুনি, জনগণের অর্থ লুটপাটকারী, বোমা-গ্রেনেড হামলাকারী ও অর্থপাচারকারী জনগণ তাদের বিশ্বাস করে না, ভোটও দিবে না।

তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের কারণে ব্যয় কমাতে হবে ২২তম জাতীয় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতায়। তাই খরচ কমানোর জন্য আয়োজন হবে সাদামাটা। সম্মেলন প্রস্তত কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি এবং কাজ করে যাবো। আমাদের উন্নয়নের কথাগুলো যেমন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ঠিক তেমনি ভবিষ্যতের জন্য যে পরিকল্পনা করছি সেটাও মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির আমলে লুটপাট, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, গ্রেনেড হামলা, অত্যাচার, নির্যাতন, খুন-রাহাজানি এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করেনি। যে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে এসেছে সেই দেশকে তারা ভিখারির দেশে পরিণত করে, হাত পেতে চলার দেশে পরিণত করেছিল। সেখান থেকে বাংলাদেশকে তুলে এনে আজকে আমরা আত্মমর্যাদাশীল দেশে পরিণতি করেছি। এখন দেশকে বিশ্বের মানুষ সম্মানের চোখে দেখে।

সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আগামী ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২২তম ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। একদিনেই এই সম্মেলন শেষ হবে।

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের আগামী কাউন্সিল বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের কারণে ব্যয় কমাতে হবে সাদামাটা। তিনি বলেন, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ও কতগুলো উপ-কমিটি করতে হবে। যেহেতু বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা যাচ্ছে, তাই, এবারের সম্মেলন আমরা কোন সান-শওকত করে করবো না। খুব সীমিত পরিসরে, অল্প খরচে, সাদাসিধেভাবে আমাদের সম্মেলন করতে হবে।

সূচনা বক্তব্যে বিএনপি আমলের সন্ত্রাস ও বর্বরতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০১ সালের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের সভায় একের পর এক বোমা ও গ্রেনেড হামলা চালানো হলেও বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, কামরান ও শেখ হেলালের বৈঠকে গ্রেনেড ও বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। এছাড়া বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে এবং মঞ্জুরুল ইমাম ও মমতাজসহ অনেককে হত্যা করেছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সারাদেশে এমন কোনো উপজেলা ও জেলা নেই যেখানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়নি। তারা আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। তবে বাস্তবতা হলো আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে।

আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাবের হোসেন চৌধুরী ও মহিউদ্দিন খান আলমগীরসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের উপর বিএনপি-জামায়াতের অমানবিক নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর বিএনপির নির্মম নির্যাতনের কথা ভুলে গেলে চলবে না, বরং তারা বারবার প্রকাশ্যে এটি করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে ৬৪টির মধ্যে ৬৩টি জেলায় সুসংগঠিত উপায়ে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। বাংলাদেশে তাদের শাসনামলে পুলিশের প্রহরায় সন্ত্রাসী ও জঙ্গিরা মিছিল বের করেছিল।

সরকার প্রধান বলেন, বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি রাতে বোমা বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ও এরশাদ সরকার যতটা সময় ক্ষমতায় ছিল তারা নির্যাতন, হত্যা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতে লিপ্ত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা খুনের সঙ্গে জড়িত, অগ্নি সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, জঙ্গীবাদের সঙ্গে জড়িত, আমি জানি তারা অনেকে লুকিয়ে ছিল। এখন বিএনপি মাঠে নেমেছে, তারাও মাঠে নামবে। এই সমস্ত আসামীদের কিন্তু ধরতে হবে। তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। কারণ তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। জীবন্ত মানুষ হত্যা করেছে। চোখ-হাত কেটেছে, মানুষকে নির্যাতন করেছে। তাদের ছাড় নেই। আইন তার আপন গড়িতে চলবে। আইন সকলের জন্য সমান। এটা তাদের মাথায় রাখতে হবে। রাজনীতি করবে রাজনীতিক হিসেবে। কিন্তু

সন্ত্রাসী-জঙ্গীবাদি রাজনীতি এ দেশে চলবে না। এটা আমরা চলতে দেবো না। এটা মাথায় রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ এই উপমহাদেশের পুরোনা সংগঠন। এই সংগঠন আরও শক্তিশালী হোক। মানুষের জন্য কাজ করে তাদের হƒদয় জয় করে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। জনগণের ভোটে এসেছি, জনগণের আস্থা নিয়ে এসেছি। সেই আস্থা আমরা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। ১৪ বছর আমরা এদেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ধরে রেখেছি। আওয়ামী লীগ আরও বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এটা আমাদের মাথায় রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। আর যারা সন্ত্রাসী, খুনি, দশ ট্রাক অস্ত্র, গ্রেনেড হামলাকারী, বোমা হামলাকারী এদের দেশের জনগণ বিশ্বাস করে না। জনগণ এদের পাশে কোনো দিন থাকবে না। এদের ভোটও দেবে না। এটাই হলো বাস্তবতা।

বিএনপি-জামায়াতের সীমাহীন দুর্নীতি প্রসংগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের লাগামহীন দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

তিনি বলেন, ’৯৬ সালে ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি নিয়ে একুশ বছর পর ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশে পরিণত করে এবং ২০০১ সালে ক্ষমতা ছাড়ার সময় ২৬ লাখ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত খাদ্য শস্য দেশে রেখে যায়। সেখান থেকে বিএনপি দেশকে খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত করে।

সরকার প্রধান বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৬শ’ মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ২০০১ সালে ক্ষমতা ত্যাগের সময় ৪ হাজার ৩শ মেগাওয়াট করে যায় তাঁর সরকার। তা থেকে বিএনপি এক মেগাওয়াটও উৎপাদন না বাড়িয়ে উল্টো ৩ হাজার ২শ মেগাওয়াটে নামিয়ে আনে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যেখানে বর্তমান সরকারের সময়ে তা বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার সারা দেশে ১শ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করছে এবং কৃষি খাতকে যান্ত্রিকীকরণ করার জন্য কৃষি উপকরণ ক্রয় করছে, ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

Feb2
Feb2

কলকাতায় মারা গেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 8:35 pm
কলকাতায় মারা গেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মারা গেছেন। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭টায় ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সদস্য জয়নাল আবেদীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সকাল ৭টার কিছুক্ষণ পর রোটনের মৃত্যু হয়। তার লাশ দেশের আনার প্রস্তুতি চলছে।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বিষয়টি জানিয়েছেন। ‍তিনি লেখেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, আমাদের সবার অত্যন্ত প্রিয়, আমার ভাই, সহযোদ্ধা, সুখ-দুঃখের সাথী,পরম স্নেহের মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন আমাদের মাঝে আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহস্পদ ও রাজপথের সহযোদ্ধাকে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এত দ্রুত রোটন আমাদের মাঝে নেই ভাবতেই খুব কষ্ট হচ্ছে।

মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন।

ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষ করে পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। চট্টগ্রামের রাউজানের এই রাজনীতিবিদ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবেও মনোনীত হন তিনি।

চট্টগ্রামে প্রথমবার জেলা প্রশাসকের হাতে মহালয়ার উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 7:56 pm
চট্টগ্রামে প্রথমবার জেলা প্রশাসকের হাতে মহালয়ার উদ্বোধন

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো কোনো জেলা প্রশাসক মহালয়ার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছেন বলে জানিয়েছেন পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ আয়োজিত ‘শুভ মহালয়া ২০২৬’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তাঁর এই অংশগ্রহণকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন আয়োজকেরা।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করলেও এত বড় পরিসরে মহালয়ার আয়োজন দেখার সুযোগ তাঁর আগে হয়নি। চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের সঙ্গে এই আয়োজন তাঁকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি জেলা। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান এ অঞ্চলের ঐতিহ্য। এই বৈচিত্র্য বাংলাদেশের গর্ব, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধরে রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী নিখিল কুমার নাথ, যুগ্ম সম্পাদক আইনজীবী নটু চৌধুরীসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা এবং থানা পর্যায়ের নেতারা।

আয়োজকদের সঙ্গে পৃথক কথোপকথনে জানা যায়, তাঁদের জানামতে, এর আগে চট্টগ্রামের কোনো জেলা প্রশাসক মহালয়ার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেননি। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতি ও সহযোগিতার আশ্বাসে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা জানান, জেলা প্রশাসক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন এবং আসন্ন দুর্গাপূজায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর আন্তরিক আচরণ ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

তবে চট্টগ্রামে এর আগে কোনো জেলা প্রশাসক মহালয়ার অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেছেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করলেই উৎসব সফল হয় না। দর্শনার্থীরা কতটা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, সুশৃঙ্খল যাতায়াত ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের দৃশ্যমান ও সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। উৎসবে আসা প্রত্যেকে যেন সুন্দর অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করা আয়োজকদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, উৎসবের আনন্দময় স্মৃতি মানুষের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা বাড়ায়। তাই আয়োজনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে হবে।

আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি জানান, পূজার প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা হয়েছে। সরকার এবারের উৎসবের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়েছে। দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি হতে পারে, এমন বিবেচনায় নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, শনিবার তিনি হাটহাজারীর একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। অন্যান্য মণ্ডপের প্রস্তুতিও পর্যবেক্ষণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মিলেমিশে বসবাস বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

পরে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে শুভ মহালয়া অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 6:17 pm
জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, শহরকে নিজের শহর হিসেবে মনে করে এর সম্পদ, পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নাগরিকদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া জলাবদ্ধতাসহ নগরীর কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে শিক্ষার্থী-অভিভাবক উদ্বুদ্ধকরণ কমিটির কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপসচিব ড.কিসিঞ্জার চাকমা।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই শহর শুধু আমার শহর নয়। এই শহরে আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন, আমরা আছি এবং আমাদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখানে বসবাস করবে। আমরা যতদিন পর্যন্ত মনে করতে না পারব যে এই শহর আমার, ততদিন সত্যিকার অর্থে শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখা সম্ভব হবে না। শহরের প্রতি এই মালিকানাবোধ ও দায়িত্ববোধ প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু শুধু অবকাঠামোগত প্রকল্প দিয়ে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। খাল-নালা ও ড্রেন পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, নালা-নর্দমায় বর্জ্য না ফেলা এবং পানি চলাচলের পথ দখল বা বাধাগ্রস্ত না করার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। নাগরিক সচেতনতা ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনের কোনো উদ্যোগই পুরোপুরি সফল হবে না।

মেয়র আরও বলেন, আমরা অনেক সময় কোনো অনিয়ম দেখলে নিজের দায়িত্ব পালন না করে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করি। কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাও আমাদের দায়িত্ব। গতকাল বাংলাদেশের প্রথম ২ দশমিক ২ কিলোমিটার সাইকেল ট্র্যাক পরিদর্শন করেছি। আজ সেখানে একটি লরি রাখা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এটি কি আমাদের নাগরিক দায়িত্ববোধের পরিচয়? কেউ যদি সাইকেল ট্র্যাক দখল করে, ফুটপাত দখল করে বা নগরীর কোনো স্থাপনা নষ্ট করে, তাহলে শুধু মেয়র বা সিটি কর্পোরেশনকে দোষারোপ না করে নাগরিকদেরও প্রতিবাদ করতে হবে।

তিনি বলেন, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য, ব্যক্তিগত গাড়ি রাখার জন্য নয়। কিন্তু আমরা নিজেরাই ফুটপাত দখল করে গাড়ি রাখছি, আবার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সমালোচনা করছি। এভাবে একটি শহরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। অনিয়মকারীর বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নিতে হবে, তেমনি নাগরিকদেরও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।

মেয়র বলেন, শুধু সচেতনতার কথা বললেই হবে না, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ যখন দেখবে কোনো অনিয়মের জন্য জরিমানা বা শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তখন অন্যরাও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত হবে। গণসচেতনতা তখনই কার্যকর হয়, যখন তার সঙ্গে আইনের প্রয়োগ ও দৃশ্যমান জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক ডাস্টবিন স্থাপন করেছে। কিন্তু অনেক ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। নগরীর কোনো সম্পদ চুরি হতে দেখলে সেটিকে নিজের সম্পদ মনে করে নাগরিকদের প্রতিবাদ করতে হবে। একইভাবে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো গাছ, স্থাপনা কিংবা অন্যান্য অবকাঠামো কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করলে বা নিয়ে গেলে সেটিও প্রতিরোধ করা নাগরিকদের দায়িত্ব। কারণ এসব সম্পদ জনগণের টাকায় তৈরি; এগুলোর ওপর প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রয়েছে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে গ্রিন, ক্লিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দূত হিসেবে কাজ করতে পারে। একজন শিক্ষার্থী তার পরিবারকে সচেতন করতে পারে, পরিবার থেকে সেই সচেতনতা সমাজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এভাবেই একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি ধীরে ধীরে সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫২ হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ২ লাখ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়রের নির্দেশনায় গত ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ২০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে উপদেষ্টাদের পরামর্শে ১০৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে।

এ কার্যক্রমের আওতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ, প্রচার অভিযান, বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং গ্রিন অ্যাম্বাসেডর ঘোষণাসহ সাত দফা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি শ্রেণিকে পাঁচ ভাগে ভাগ করে সপ্তাহের পাঁচ দিন পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পালন, শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতার শপথ পাঠ, প্রতি মাসে দুইবার প্রাতিষ্ঠানিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং প্রতি দুই মাসে অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাধ্যমে তার পরিবারে পরিচ্ছন্নতা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

মেয়র বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবক, অভিভাবকের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজকে সম্পৃক্ত করে জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নগরীর খাল, নালা, ড্রেন ও জলপ্রবাহের পথ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। শুধু সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের ওপর নির্ভর করলে হবে না; নাগরিকদের নিজেদের দায়িত্বও পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু সমালোচনা নয়, ইতিবাচক কাজে অংশগ্রহণ করতে হবে। অনিয়ম দেখলে প্রতিবাদ করতে হবে, নিজেরাও আইন মেনে চলতে হবে এবং অন্যদের আইন মানতে উৎসাহিত করতে হবে। তাহলেই আমরা সম্মিলিতভাবে একটি সুন্দর চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে পারব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা,চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল আলম কচি এবং থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের পরিচালক ওভিক ওসমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল হক। সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম সিকদারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রোমিলা বড়ুয়া।