খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাফতরিক কাজের পদ বিলুপ্ত, কর্ম গতিতে ব্যাঘাতের আশঙ্কা

রেলের সরঞ্জাম বিভাগে কুচক্রীদের থাবা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০২২, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
রেলের সরঞ্জাম বিভাগে কুচক্রীদের থাবা

বিশেষ প্রতিবেদক: রেলে খালাসি পদের লোক দিয়ে যেমন দাফতারিক কর্ম সম্পাদন করা হয় তেমনি ওয়েম্যান দিয়ে স্টেশনে সিগন্যালের কাজ সম্পাদন করার মত ঘটনাও ঘটছে। ফলে রেল দুর্ঘটনায় যাত্রী নিহতসহ কোচ ও ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্তের ঘটনা বিরল নয়। সম্প্রতি ডিস্ট্রিক কন্ট্রোলার অব ষ্টোরস(ডিসিওএস/জি) এর আওতায় থাকা প্রিন্টিং প্রেস এর সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট ডিপোর কে, এল এবং এম ওয়ার্ডকে (ডিসিওএস/পাহাড়তলীর) আওতায় নিয়ে যাওয়ার কু—পরিকল্পনা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরঞ্জাম বিভাগের আওতায় থাকা প্রিন্টিং শাখায় মোট ২৭৯ জন কর্মরত থাকার কথা। নতুন করে এ শাখায় ৯টি পদ সৃজনের প্রস্তাবনা দেয়া হলেও সুপারিশ করা হয়েছে ৭টি।

তবে বিলুপ্ত করা হচ্ছে ১৮২ টি পদ। রেলের নতুন জনবল কাঠামো কার্যকর হলে এ বিভাগে কর্মরত থাকবে মাত্র ১০৪ জন।

বিলুপ্ত পদগুলোর মধ্যে সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক এর দুটি পদ বিলুপ্তসহ প্রিন্টার গ্রেড—১ এর ৫টি পদ, কম্পোজিটর গ্রেড—২ এর ১৪টি পদ, প্রিন্টার গ্রেড—২ এর ১৩টি পদ, সহকারী মেশিনম্যান ৭টি পদ, খালাসি ১২টি পদসহ ১৮২টি পদ বিলুপ্ত হবার কথা রয়েছে। এদিকে, ইনভেন্ট্রি কন্ট্রোল শাখায় ২২ জন কর্মরত থাকার কথা থাকলেও তা কমিয়ে ২০ জনে আনা হচ্ছে।

সিনিয়র সহকারী পরিচালকের একটি ক্যাডার পদ নতুনভাবে সৃজন করা হচ্ছে। এ শাখায় স্টোর কিপার ১টি ও পরিদর্শক ২টি পদ বিলুপ্ত করার কথা রয়েছে। তিনটি পদ বিলুপ্তির পর এ শাখায় কর্মরত থাকবে ২০ জন।

এ ব্যপারে সরঞ্জাম বিভাগের এক কর্মকতা ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন, অর্গাণোগ্রাম বাতিল করে একটি চক্র এ ধরনের নীল নকশা্ তৈরী করে প্রিন্টিং প্রেসের কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।

এছাড়াও এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সরকারী আদেশনামা অমান্য করা হচ্ছে। চক্রটি প্রিন্টিং প্রেসের অবক্ষয়ে উঠে পড়ে লেগেছে।

এদিকে, পাহাড়তলীস্থ প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রণ দফতরের লোকবল সংখ্যা ১৮৬ জন উর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী/সরঞ্জাম দুটি পদ সৃষ্টি করার প্রস্তাবনা থাকলেও বিলুপ্ত করা হচ্ছে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ২ জন, প্রধান সহকারী ৪ জন, উচ্চমান সহকারী ৫৫ জন, কম্পিউটার অপারেটর ২ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ৪ জন, অফিস সহায়ক ১৮ জন, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ১ জনসহ মোট ৮৬টি পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে। ফলে এ দফতরের জনবল কাঠামো হবে ১০২ জন।

অপরদিকে, পাহাড়তলীস্থ ইন্সপেকশন শাখায় জনবল কাঠামো ছিল ১৫৬ জন। লিস্টার ট্রাক ড্রাইভারের একটি পদ নতুন সৃজন করে ৯৪টি পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে। বিলুপ্তকৃত পদের মধ্যে রয়েছে স্টোর কিপার ২ জন,

সহকারী স্টোর কিপার ২ জন, উপসহকারী প্রকৌশলী (সরঞ্জাম) ১ জন, প্রধান সহকারী ১ জন, উচ্চমান সহকারী ১৭ জন, মেটেরিয়াল চেকার ৪ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ৪ জন, একজন করে টিনস্মিথ, কার্পেন্টার, গ্রিজার, পেকার, লেটারম্যান, লেবেলম্যান, দফতরি, ক্লিনার।

এছাড়াও ২ জন লেবার সর্দার, ২ জন রেকর্ড সাপ্লাইয়ার, ৪৫ জন খালাসি, ৫ জন অফিস সহায়কসহ ৯৪টি পদ বিলুপ্ত করে ১৫৬ জনবল থেকে কমিয়ে ৬৩ জনে নামিয়ে আনা হচ্ছে।

আরো জানা গেছে, পাহাড়তলীস্থ সরঞ্জাম বিভাগের শিপিং শাখায় মোট জনবল কাঠামো ছিল ৪শ জন। এরমধ্যে থেকে বিলুপ্ত করা হচ্ছে ২৯৮ জনকে। নতুন করে সিনিয়র সহকারী নিয়ন্ত্রক একটি ক্যাডার পদ সৃজন করা হচ্ছে।

অপরদিকে, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ক্যাডার পদটি বিলুপ্ত করার পাশাপাশি সহকারী স্টোর কিপার ৩টি, ওয়ার্ড কিপার ১৫টি, সহকারী পরিদর্শক ৪টি, উচ্চমান সহকারী ৬৩টি, মেটেরিয়াল চেকার ৪৬টি, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ১৭টি, খালাসি ৯০টি, অফিস সহায়ক ১৪টিসহ বিভিন্ন পদে ২৯৮ জনবল কাঠামোর পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে। এ শাখায় মাত্র ১০৩ জন জনবল কাঠামো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

২৪ঘণ্টা/জেআর

Feb2

চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

মাসুদ আলম বিসিএস পুলিশের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তার বাড়ি বগুড়া জেলায়। রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা কারণে আলোচনায় আসেন এবং কর্মদক্ষতার জন্য সুনাম অর্জন করেন।

বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যমুনা, সচিবালয়, হাইকোর্ট ও টিএসসি এলাকায় বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে হওয়া আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়।

রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে যোগদানের আগে মাসুদ আলম পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৬) ঝিনাইদহ ক্যাম্পেও কর্মরত ছিলেন।

স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ‘স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তাবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অনেক মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। তিনি উল্লেখ করেন, মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে দিতে হয়। ফলে অসুস্থতা এখনো দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

ঢাকা-১৭ এলাকার মানুষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, কড়াইল, ভাষানটেক, সাততলার মানুষ এই শহরকে সচল রাখে। পোশাকশিল্প, নির্মাণ… সবখানে তাদের শ্রম। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের লক্ষ্য এসব এলাকার মানুষ যাতে আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।

তিনি আরও বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের বড় একটি অংশ প্রায় ৪২.৬ শতাংশ মানুষ প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খুঁজতে স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তারা অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পায় না কারণ অসুস্থতা মানেই আয় বন্ধ।

ডা. জুবাইদা বলেন, আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা সবাইকে অবহিত করবেন এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাচাঁতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান আশা প্রকাশ করেন, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘মতিঝিলের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।’

মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি জানান, নিহতদের পরিবারের বক্তব্য এবং সকল হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। হেফাজতে ইসলামের যে প্রোগ্রামটা তারা আগে থেকেই প্রতিবাদ করে জানিয়ে আসছিলেন এবং তারা ঢাকায় এসে সেখানে অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল- সেই প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিল, কোনোভাবে তাদের সেখানে অবস্থান নিলে মোকাবিলা করতে হবে। তা না পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল- এটিকে তিনি সিস্টেমেটিক, ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক এবং টার্গেটেড কিলিং হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, প্রত্যেক নিহতের পরিবারের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন এবং যেসব হেফাজতে ইসলামের সদস্য নিহত হয়েছেন, প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অতএব প্রত্যেক নিহত হওয়ার পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।