খুঁজুন
, ,

সরকার রিজার্ভের টাকা নিয়ে অলস বসে থাকবে না বরং জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যবহার করবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 14 November, 2022, 6:28 pm
সরকার রিজার্ভের টাকা নিয়ে অলস বসে থাকবে না বরং জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যবহার করবে : প্রধানমন্ত্রী

রিজার্ভ নিয়ে সমালোচকদের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রিজার্ভের টাকা দিয়ে অলস বসে থাকবেন না বরং তা জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করবেন।

তিনি বলেন, ‘রিজার্ভের টাকা নিয়ে অলস বসে থাকা ঠিক হবে না। আমাদের জনগণের ভোগান্তি কমাতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) নবনির্বাচিত ৫৯ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের শপথবাক্য পাঠ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অথিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের মোট ৬২৩ জন সদস্যও শপথ নেন।

প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের তাদের এলাকাকে খাদ্য উৎপাদনে স্বাবলম্বী করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন, যাতে প্রতি ইঞ্চি জমি চাষাবাদের আওতায় আনা যায়।
সারাদেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি নবনির্বাচিত জন প্রতিনিধিদেরকে তাদের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জনকল্যাণমূলক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং তার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন যেন নিশ্চিত হয় সেটাই আমাদের লক্ষ্য। এখানে আপনাদের একটা বিরাট দায়িত্ব রয়েছে। এলাকায় কিধরনের অসুবিধা আছে,মানুষের জন্য কি কল্যাণকর কাজ করা যেতে পারে, উন্নয়নের জন্য কি কাজ করতে পারেন-সেটা আপনাদের ভাবতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের এখানে বহুদলীয় গণতন্ত্র রয়েছে, অনেক দল রয়েছে। কেউ দল থেকে বা কেউ আলাদা ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে যখন আপনি ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন তখন আপনার দায়িত্ব সকলের জন্য।

শেখ হাসিনা নিজের উদাহারণ টেনে বলেন, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে কে তাকে ভোট দিল আর কোন এলাকার ভোটার সেটা দেখেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি সার্বিকভাবে উন্নয়নের ব্যবস্থা নিয়েছি, প্রতিটি মানুষ যাতে উন্নয়নের ছোঁয়া পায় সেই ব্যবস্থাই আমরা নিয়েছি’।

তিনি বলেন, আমরা ৬১টি জেলা পরিষদে ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা এবং এডিপি’র আওতায় ৫৪০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিচার প্রাপ্তি সহজ করতে ২৭টি জেলার ১৩৫টি উপজেলার ১ হাজার ৮০টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত সক্রিয়করন (২য় পর্যায়) বাস্তবায়ন করেছে। মানুষ যাতে ন্যয় বিচার পায় সেজন্য আলাদা ফান্ড দিয়ে লিগ্যাল এইড কমিটি করে দিয়েছি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন যতভাবে করা যায় তা করেছি।

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম জেলা পরিষদের নির্বাচিত এবং সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিক মুহাম্মদ ইবরাহিম অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ একটা কথা এসেছে রিজার্ভের টাকা নাকি নাই, চুরি হয়ে গেছে। এই চুরি কিভাবে সম্ভব উল্লেখ করে বিএনপি আমল এবং বর্তমানের রিজার্ভের তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, রিজার্ভের টাকা খরচ হয়েছে মানুষের কল্যাণে, তাদের প্রয়োজন মেটাতে।

সরকার প্রধান বলেন, একুশ বছর পর ক্ষমতায় এসে তাঁর সরকার রিজার্ভ পেয়েছিল প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের মত, যেটাকে বাড়িয়ে তার সরকার প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে। আর ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে রিজার্ভ যেটা ৫ বিলিয়ন ডলার পেয়েছিল সেটাকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে।

তিনি বলেন, রিজার্ভের টাকা সবসময় খরচ হতে থাকে, এটা রোলিং করে। কিন্তু করোনার সময় আমদানী, রপ্তানী, যোগাযোগ, যাতায়াত সবকিছু একরকম বন্ধ ছিল বলেই রিজার্ভ এতটা জমা পড়েছিল। কিন্তু করোনা শেষ হয়ে গেলে আমদানী-রপ্তানী এমনকি চাষবাষের জন্য মেশিনারিজ ক্রয়ে টাকা ব্যয় করতে হয়। করোনার ভ্যাকসিন ক্রয় এবং বিনামূল্যে টেস্ট করাসহ আনুসাঙ্গিক খাতেও অর্থ ব্যয় করতে হয়। এভাবেই এ টাকা ব্যবহার হয়েছে মানুষের কল্যাণে।

তিনি বলেন, করোনা যেতে পারেনি, শুরু হলো ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, স্যাংশন এবং পাল্টা স্যাংশন। প্রতিটি পণ্যের দাম সারাবিশ্বে বেড়ে গেছে। চাল, গম, ভোজ্য ও জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে এর পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত দামে ক্রয় করতে হলেও আমরাতো দেশের মানুষকে কষ্ট দিতে পারিনা, যেখানে যত দামই লাগুক আমরা কিন্তু কিনে নিয়ে আসছি। মানুষকে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, টিসিবি কার্ডের মাধ্যমে এক কোটি মানুষকে আমরা স্বল্পমূল্যে খাদ্য সরবরাহ করছি। ৫০ লাখ মানুষকে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ করছি। যারা একেবারে অপারগ তাদেরকে বিনা পয়সায় খাবার দিচ্ছি। বিনামূল্যে ঘর তৈরী করে দিচ্ছি। সাথে সাথে তাদের জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করছি। সেই সাথে ৮ বিলিয়ন ডলার আমরা আলাদাভাবে বিনিয়োগ করেছি। আধুনিক বিমান ক্রয় করেছি। এটা আমাদের রিজার্ভের টাকা দিয়েই করেছি, অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার নেইনি। কারণ সেখানে ধার নিলেও সেটাকা সুদসহ শোধ দিতে হত। সেই টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিমান নিয়েছে এবং ২ শতাংশ সুদে সেই টাকা আবার ফেরত দিচ্ছে। ফলে দেশের ঠাকা দেশের থাকছে। রপ্তানী ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেয়ায় টাকা খরচ হচ্ছে যাতে আমাদের লোকই লাভবান হচ্ছে। কাজেই টাকা নিয়ে বসে থাকলে হবেনা। আমার দেশের মানুষের জন্য খরচ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির অনেক নেতা মানিলন্ডারিংয়ের কথা বলেন, তারেক জিয়ার শাস্তি হয়েছে মানিলন্ডারিং কেসে। তার বিরুদ্ধে আমেরিকা থেকে এফবিআই এর লোক এসে বাংলাদেশের সাক্ষী দিয়ে গেছে। মানি লন্ডারিং কেসে সাত বছর সাজা, বিশ কোটি টাকা জরিমানা আর গ্রেনেড হামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত, দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি তার জন্যও সে সাজাপ্রাপ্ত। যাদের নেতাই হচ্ছে খুন, মানিলন্ডারিং ও অবৈধ অস্ত্র চোরাকারবারি মামলার আসামি। আর খালেদা জিয়া এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে সাজা প্রাপ্ত।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির গঠনতন্ত্রে সাজাপ্রাপ্তদের নেতা হওয়ার বিধান না থাকলেও সাজাপ্রাপ্ত আসামিকেই দলটির মূল পদে বসিয়ে রাখা হয়েছে।’

বিএনপির অপপ্রচারে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপপ্রচার চালানোই বিএনপির চরিত্র।’

জাতির পিতা যখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলছিলেন তখন বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন তাঁর কিছু না থাকলেও যে ‘মাটি ও মানুষ’ রয়েছে তা দিয়েই তিনি দেশ গড়বেন। এই বিষয়টিও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাথায় থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি আমাদের নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভেতরে ওটাই থাকতে হবে যে মাটি মানুষ দিয়েই আমরা উন্নতি করতে পারি। কাজেই সেই আদর্শ নিয়েই আপনারা চলবেন।’

তাঁর সরকারের সকল পদক্ষেপ মানুষের কল্যাণে বলেই আজ এত উন্নয়ন করতে পেরেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়েছেন ভোগ দখলের জন্য নয়, জনগণের সেবা দেয়ার জন্য। আপনারা জনগণকে সেবা দিয়ে তাদের মন জয় করতে পারেন অথবা জনগণের অর্থ-সম্পদ লুট করে চিরদিনের জন্য বিদায় নিতে পারেন, এটা হলো বাস্তবতা। আমি চাই যেহেতু জনগণ আপনাদের ভোট দিয়েছে তাই জনগণকে সেবা দিয়ে তাদের মন জয় করে দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করুন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার এই নিয়ে ৪র্থ বার ক্ষমতায়। আমরা মানুষের কল্যাণেই কাজ করে কাজ করে যাচ্ছি। আর এদেশের মানুষকে আমি চাই একটা উন্নত জীবন দিতে। একটি লোকও দরিদ্র, গৃহহীন বা ভূমিহীন থাকবেনা, কেউ অশিক্ষার অন্ধকারে থাকবেনা, প্রতিটি মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে।

তিনি সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের দিকেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান।

২৪ঘণ্টা/এনআর

Feb2

ঘানাকে হারিয়েই নকআউট পর্বে মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 28 June, 2026, 5:42 am
ঘানাকে হারিয়েই নকআউট পর্বে মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া। তবে সেই ধাক্কা দারুণভাবে সামলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ৩২ বা নক-আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ক্রোয়াটরা। ঘানার বিপক্ষে এই রোমাঞ্চকর জয়ে রানারআপ হিসেবেই পরের রাউন্ডের টিকিট কাটলো তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে লড়তে থাকে দুই দল। তবে ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার পিটার সুচিচ। ৩১তম মিনিটে ভিএআর চেকের মাধ্যমে রেফারি গোলটির চূড়ান্ত বৈধতা দেন। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ঘানা। অবশেষে ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে আসে সমতাসূচক গোলটি। আর্নেস্ট নুয়ামাহর নেওয়া ফ্রি কিকে বক্সের ভেতর দূরের পোস্টে থাকা ডেরিক লুকাসেন ভলিতে বলটি জালে পাঠান। সহকারী অফসাইডের পতাকা তুললেও ভিএআরের মাধ্যমে গোলের বৈধতা দেন রেফারি।

তবে বেশিক্ষণ সমতায় থাকতে পারেনি ঘানা। ১০ মিনিট পরেই আবারও লিড নেয় ক্রোয়েশিয়া। দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন নিকোলা ভ্লাসিচ। এরপর আর কোনো গোল না হলে ২-১ ব্যবধানে শেষ হয় ম্যাচটি।

পানামাকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ইংল্যান্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 28 June, 2026, 5:32 am
পানামাকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ইংল্যান্ড

England's Harry Kane (9) scores his side's second goal past Panama goalkeeper Orlando Mosquera (22) during the World Cup Group L soccer match between Panama and England in East Rutherford, N.J., near New York, Saturday, June 27, 2026. (AP Photo/Yuki Iwamura)

দিন তিনেক আগে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিল ইকুয়েডর। সেই নিউজার্সি স্টেডিয়ামে এরকম কিছুর আভাসই দিচ্ছিল পানামা। কিন্তু সেটা আর হয়নি। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড ২-০ গোলে সহজেই ম্যাচটি নিজেদের করে নেয়।

হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড প্রথমার্ধে পানামা বক্সে নিয়মিত ব্যতিব্যস্ত রেখেছিল। একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পায়নি টুখেলের শিষ্যরা। পানামা রক্ষণ ঠিক রেখে মাঝে-মধ্যে আক্রমণ করে ইংল্যান্ডের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল।

পানামার এই ম্যাচে হারানোর কিছু ছিল না। টুর্নামেন্টে আগেভাগে বিদায় নেয়া দলের মধ্যে পানামা অন্যতম। ইংল্যান্ডের পরের রাউন্ড নিশ্চিত হয়েছে। এই ম্যাচটি শুধু গ্রুপসেরা হওয়ার। এরপরও পানামার বিপক্ষে পয়েন্ট হারালে ইংল্যান্ডের প্রভাব প্রতিপত্তির উপর বড় চাপের শঙ্কা ছিল। গোল না হওয়া পর্যন্ত তাই ইংলিশ সমর্থকরা ছিলেন তুমুল চাপে।

ইংল্যান্ডকে চাপমুক্ত করেন বেলিংহাম। ৬২ মিনিটে কর্নার থেকে বক্সের মধ্যে জটলায় বা পায়ে নিখুঁত প্লেসিংয়ে বল জালে পাঠান। গোললাইন অতিক্রম করার পর ইংলিশ সমর্থকরা হাফ ছেড়ে বাঁচেন। তখন নিউজার্সি স্টেডিয়াম ইংলিশ গানে মুখরিত হয়।

ম্যাচ জুড়ে পানামা বক্সে থেকে গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের ব্যতিব্যস্ত রাখা হ্যারি কেইন মিনিট পাঁচেক পর ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত হয়৷ কর্নার থেকে এবারও ম্যান মার্কিংয়ে ভুল পানামার ডিফেন্ডারদের ৷ হ্যারি কেইন দারুণ দক্ষতায় লাফিয়ে হেডে পরাস্ত করেন গোলরক্ষককে। আবার নিউজার্সি স্টেডিয়াম ইংলিশ সমর্থকদের উল্লাস।

৬০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় সমানতালে খেলা পানামা ৫ মিনিটের মধ্যে দুই গোল হজম করে খেলা থেকে ছিটকে যায়। ম্যাচের বাকি সময় অনেকটা পরিকল্পনাহীন ফুটবলই খেলেছে মধ্য আমেরিকার দেশটি। জয় সুনিশ্চিত হওয়ায় ইংলিশ কোচ টুখেল ফুটবলার পরিবর্তন করে খানিকটা পরখ করেন। ম্যাচটি শেষ হয় ২-০ ব্যবধানেই।

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 27 June, 2026, 11:14 pm
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড করেছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানের টাকা। গণনা শেষে এবার পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় খোলা হয় মসজিদের ১৩টি দানবাক্স। এতে মিলে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা। ৯টার পর শুরু হয় গণনা। চলে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত।

জেলা প্রশাসন ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি গণনা শেষে মোট টাকা পাওয়ার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হলেও এবার ছয় মাস পর খোলা হয়েছে। এতে রেকর্ড সংখ্যক টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়াও স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রাসহ নানা সামগ্রী পাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ ৫৯০জন এবার টাকা গণনায় অংশ নেন।

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর সর্বশেষ পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। ১৩টি সিন্দুকে সেসময় ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গিয়েছিল। গণনা শেষে মোট টাকার সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছিল।

শনিবার দানবাক্স খোলা শেষে এক ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, পাগলা মসজিদের দানের ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২টাকা রূপালী ব্যাংক লিমিটেডে জমা রয়েছে। (সর্বশেষ দানবাক্স খোলার আগ পর্যন্ত)। এছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা সিলগালাকৃত অবস্থায় জেলা ট্রেজারিতে জমা রয়েছে। পাগলা মসজিদে দানবাক্সের পাশাপাশি অনলাইনেও দান-খয়রত গ্রহণ করা হয়। এ পর্যন্ত অনলাইনে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২টাকা জমা হয়েছে।