খুঁজুন
, ,

সরকার ফায়ার সার্ভিসকে সর্বোচ্চ সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 November, 2022, 8:57 pm
সরকার ফায়ার সার্ভিসকে সর্বোচ্চ সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী

অগ্নিনির্বাপণকারীদের ‘দুঃসময়ের বন্ধু’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে পূর্ণ সক্ষমতার সর্বোচ্চ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সকে সম্পূর্ণ সক্ষমতার সাথে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২২’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে মিরপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত মুল আয়োজনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা, সেবার ক্ষেত্র এবং কর্তব্যরতদের মর্যাদাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। কারণ আগুন লাগলে বা কোন দুর্ঘটনা বা ভূমিকম্প বা কোন কিছু ঘটলে অথবা কোন ভবন ধসে গেলে ফায়ার সার্ভিসই সকলের আগে ছুটে যায়। এমনকি কোন জাহাজ বা লঞ্চ যখন দুর্ঘটনায় পড়ে তখনও এই ফায়ার সার্ভিসকেই আমরা পাই। তাই তাদেরকে আরো যুগোপযোগী করা একান্ত প্রয়োজন। আর সেই পদক্ষেপই আমরা নিয়েছি। এর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেবার ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারণে বিভিন্ন পদক্ষেপও আমরা গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস সম্পূর্ণ সক্ষমতার উচ্চ ক্ষমতার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে যাতে রূপান্তরিত হয় সেই ব্যবস্থাই আমরা গ্রহণ করেছি। প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠার যে ঘোষণা আমরা দিয়েছিলাম তা এখন শেষ পর্যায়ে। যারা এই কাজে সম্পৃক্ত তারা যেন উন্নত মানের প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রপাতি পান সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বঙ্গবন্ধু ফায়ার একাডেমী প্রতিষ্ঠারও উদ্যোগ নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী সীতাকুন্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে সাম্প্রতিক বিধ্বংসী অগ্নিকান্ডে কর্তব্যপালনকালে নিহত ৩০ জন অগ্নিনির্বাপণ কর্মীকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও নিরাপত্তা সেবা বিভাগের সচিব আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীতাকুন্ডে সাম্প্রতিক বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকান্ডে নিহত ১৩ জন অগ্নি বীরের পরিবার সহ ৪৫ জন দমকল কর্মীর হাতে ৪টি কাটাগরিতে
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স পদক-২০২২ তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী বাহিনীর কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন এবং রাষ্ট্রীয় সালাম গ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সেবার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিপুল পরিমাণ উন্নত, আধুনিক, প্রযুক্তি সুবিধা সম্বলিত বিশ্বমানের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছি। সর্বশেষ আমরা বিশ্বের সর্বাধিক উচ্চতার ৬৮ মিটারের লেডার সম্বলিত টিটিএল গাড়ি ফায়ার সার্ভিসের বহরে যোগ করেছি। ৬৮ মিটারের ৫টি গাড়ি ক্রয় করা হয়েছে। এছাড়া এ অর্থবছরেই ১১টি টার্নটেবল লেডার (টিটিএল) ক্রয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ২টি রিমোট কন্ট্রোল ফায়ার ফাইটিং ভেহিক্যাল দেয়া হয়েছে। নদী পথে সক্ষমতা বাড়াতে ২৪টি রেসকিউ বোট ও ১০টি ফায়ার ফ্লোট কেনা হয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, লিঙ্গ সমতা দূর করতে ‘ফায়ারম্যান’ পদের নাম ‘ফায়ার ফাইটার’ করা হয়েছে। পরিদর্শকের সংখ্যা ৫০ থেকে ২৬৮, ডুবুরির সংখ্যা ২৫ থেকে ৮৫, অ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা ৫০ থেকে ১৯২, আগুন নেভানোর পানিবাহী গাড়ি ২২৭ থেকে ৬১৭ এবং ফায়ার পাম্প ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৫৪৬টিতে উন্নীত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগে ফায়ার সার্ভিসের কেমিক্যাল টেন্ডার, ব্রিদিং টেন্ডার, ফোম টেন্ডার, হ্যাজমেট টেন্ডারের মত বিশেষ ধরণের কোনো গাড়ি ছিল না। আমরা এ ধরণের ৩৫টি বিশেষায়িত গাড়ি প্রদান করেছি। যুগের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে একসময়ের অবহেলিত এই প্রতিষ্ঠানটিকে আমরা একটি সম্মানজনক স্থানে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (ফায়ার ফাইটার) নিজেদের জীবনবাজি রেখে মানুষের কল্যাণ করে মানুষকে উদ্ধার করে। একটি মহৎ কাজে তারা নিয়োজিত রয়েছেন। কাজেই ফায়ার সার্ভিসের প্রতিটি সদস্যই দু:সময়ের বন্ধু হিসেবে মানুষের কাছে প্রতীয়মান। তাই ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমরা বিদেশী সহায়তাও কাজে লাগিয়েছি।
‘আরবান বিল্ডিং সেফটি’ প্রকল্পের আওতায় জাইকার অর্থায়নে ফায়ার সার্ভিসের জন্য বহুতলবিশিষ্ট সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ, বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন পুনর্র্নিমাণ ও রেট্রোফিটিং এবং উঁচু মইয়ের গাড়ি ও বিশেষ পানিবাহী গাড়ি সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া কোরিয়ান কো-অপারেশন এজেন্সির সহায়তায় সদর দপ্তরে একটি ইমাজেন্সি রেসপন্স কন্ট্রোল সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি তাঁর সরকার এ সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা বৃদ্ধির জন্যও কাজ করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পূর্ণাঙ্গ রেশন ও ঝুঁঁকিভাতা দেয়া হয়েছে। অপারেশনাল কর্মীদের জন্য ৩ রঙের মর্যাদাপূর্ণ কমব্যাট পোশাক প্রবর্তন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পদকের সংখ্যা ও সম্মানী বৃদ্ধি করা হয়েছে। উদ্ধার কাজের সুবিধার্থে জার্মানির তৈরি ৩টি জাম্বু কুশন হস্তান্তর করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টে আমরা ২০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছি। আরো ২০ কোটি টাকা এই ট্রাস্ট ফান্ডে অনুদান দেবেন বলেও অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, গত ১০ বছরে এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যগণ ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৭টি অগ্নি দুর্ঘটনায় অংশ নিয়ে ১৬ হাজার ৩০৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার সম্পদ রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। একই সময়ে এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীগণ ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৯টি অ্যাম্বুলেন্স কলের মাধ্যমে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৩৯ জন রোগী হাসপাতালে স্থানান্তর করেছেন। ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তারা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ লাখ ১৩ হাজার ৬১ জন শিক্ষার্থীকে অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৯ লাখ ২৫ হাজার ২৪০ জন কর্মীকে ২ দিনব্যাপী অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এছাড়া ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগ প্রতিরোধে হেলপিং ফোর্স হিসেবে তারা ৬২ হাজার ভলান্টিয়ার তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৯ হাজার ৪৪৯ জনকে ৩ দিনব্যাপী স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি, সারা জীবন আগুন ও ধোঁয়ায় কাজ করতে হয় বিধায় এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অনেকেই অবসর বয়সে নানা রকম রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। এ কারণে আমরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আজীবন রেশন দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের জনবল ৩০ হাজারে উন্নীত করার কাজও হাতে নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করেছি। আর এই সময়ই আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাই। এই মর্যাদাকে ধরে রেখেই আমরা ২০৪১ সালে সোনার বাংলা গড়ে তুলবো। এটাই আমাদের প্রত্যয় এবং লক্ষ্য।

তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় যেকোন ঝুঁকি হ্রাস করা, মানুষের নিরাপত্তা দেয়া সেই সাথে উন্নয়নের কাজগুলো দ্রুত এবং ত্বরান্বিত করা এবং মানসম্মত করাই আমাদের সকলের প্রচেষ্টা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এদেশের প্রতিটি ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে বিনা পয়সায় ঘর তৈরী ও জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

সরকারের লক্ষ্য একটি মানুষও ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবেনা,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সকল ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়টা হলো আমাদের উন্নয়নের গতি কিছুটা হলেও শ্লথ হয়ে গিয়েছে। করোনা ভাইরাসের অভিঘাত, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ এবং স্যাংশন, কাউন্টার স্যাংশনের ফলে বিশ^ব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। এই মন্দা মোকাবেলায় এখন থেকেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তাঁর দেশের প্রতিটি মানুষ সুন্দর ভাবে বাঁচবে, উন্নত জীবন পাবে, শিক্ষা-দীক্ষায় উন্নত হবে- সেই লক্ষ্য ইনশাল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করবো।

২৪ঘণ্টা/এনআর

Feb2
Feb2

নরসিংদীতে ইয়াবাসহ আরএমও আটক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 12:22 pm
নরসিংদীতে ইয়াবাসহ আরএমও আটক

নরসিংদীর রায়পুরায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইসমাঈল আল রাজিবকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার তুলাতুলি মোড় এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ডা. ইসমাঈল আল রাজিব রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় ৯ মাস আগে তিনি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) হিসেবে দায়িত্ব পান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জান্নাতুল নাঈম বলেন, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ইসমাঈল আল রাজিব ইয়াবাসহ আটক হয়েছেন। পুলিশের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা জানা যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একজন ডাক্তার হয়ে মাদকের সঙ্গে জড়িত এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদকসেবন করলে তিনি কখনোই চিকিৎসা দিতে পারবেন না। তিনি শুধু আইনের দিক থেকে অপরাধী নন, আমাদের চিকিৎসার দিক থেকেও নিয়ম ভঙ্গ করেছেন।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে ডা. ইসমাঈল আল রাজিবকে আটক করে। পরে তার শরীর তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি থানা হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনে নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি: আইনমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 12:02 pm
সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনে নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি: আইনমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ জন্য সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি হয়নি বলেও মত তার।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগের রাষ্ট্রপতি মামলা নিয়ে এখনই মন্তব্য নয়।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকবেন। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

মো. সাহাবুদ্দিনের প্রায় তিন বছরের দায়িত্বকাল ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল সময়। তার মেয়াদকালেই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতন ঘটে।

এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল শেষ হলে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই সময়ের মধ্যে তিনি তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান, যা দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।

গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি, সংকট কাটছে না দ্রুত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 11:25 am
গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি, সংকট কাটছে না দ্রুত

দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক গ্যাস সংকটে পড়েছেন।

গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে কেউ বৈদ্যুতিক চুলা, কেউ এলপিজি সিলিন্ডার আবার কেউ মাটির চুলা বা অন্যান্য বিকল্প ব্যবস্থায় রান্না করছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার গৃহিণীরা জানান, দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় গ্যাস থাকছে না। ফলে সময়মতো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় চুলায় সামান্য আগুন জ্বললেও তা দিয়ে রান্না করা যাচ্ছে না। এতে পরিবারের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

মিরপুরের গৃহিণী আসমা বলেন, সকাল থেকে চুলায় গ্যাসের চাপ নেই। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও রান্না করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হয়েছে।

যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা মিতু বলেন, বাসায় গ্যাস থাকলেও এত কম চাপ যে রান্না করা যায় না। এখন বিকল্পভাবে রান্না করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ হচ্ছে।

এদিকে গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দেখা দিয়েছে দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে যাত্রী নিয়ে রাস্তায় বের হতে না পেরে অনেকেই আয়-রোজগার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গ্যাস সংকটে সিএনজি চালকদের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবরোধ
রাজধানীর শাহবাগে সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা গাড়িচালক আমিনুর বলেন, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। কয়েক ঘণ্টা হয়ে গেছে, এখনো গ্যাস পাইনি। এভাবে সারাদিন চলে গেলে আজ কোনো আয় হবে না।’

আরেক চালক ইকরাম বলেন, ‘গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। গ্যাস না পেয়ে গাড়ি চালাতে পারছি না। এতে আমাদের দৈনিক আয় কমে যাচ্ছে।’

সিএনজিচালিত গাড়ি চালকদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে একদিকে যেমন দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে গ্যাস না পাওয়ায় যাত্রী পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। এতে তাদের দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ক্ষতির পাশাপাশি শ্রমিক ও কর্মীদের কাজেও প্রভাব পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহককে গ্যাস সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে একদিকে যেমন আবাসিক গ্রাহকদের রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সিএনজিচালক, শিল্প উদ্যোক্তা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সংশ্লিষ্টরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দ্রুত এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা সমাধান করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

যা বলছে সরকার
বুধবার বিকেলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ অন্যান্য গ্রাহকের ওপর পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস গ্রহণ করতে পারছে না। এতে কয়েকটি স্থানে সিএনজি সংগ্রহে দীর্ঘ সারি ও সাময়িক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা দ্রুত নিরসন করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত সরবরাহের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জরুরি ও অগ্রাধিকার খাতগুলোতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।

বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা হলেও দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা পরিস্থিতির প্রভাবকে আরও তীব্র করেছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেওয়ায় আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটি অংশে সমস্যা দেখা দিলে জাতীয় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি কূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের লক্ষ্যে অনশোর ও অফশোর মডেল পিএসসি আওতায় গ্যাস উৎপাদনের জন্য দরপত্র আহ্বানের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার কার্যক্রমও চলছে। একই সঙ্গে কূপ খনন, অবকাঠামো নির্মাণ ও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা বাড়াতে সরকার আরও কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান, মালয়েশিয়া থেকে আইওসিএল ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই, ভোলার গ্যাস স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের মূল ভূখণ্ডে আনার জন্য পাইপলাইনসহ বিভিন্ন পরিবহনব্যবস্থা পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার এবং জ্বালানি আমদানির উৎস ও সরবরাহ অবকাঠামো বহুমুখীকরণ।

সহসাই গ্যাস সংকট কাটছে না
তবে এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের পর সহসাই গ্যাস সংকট কাটছে না বলে জানিয়েছেন তিতাসের কর্মকর্তারা। তিতাসের অপারেশন ডিভিশনের মহাব্যস্থাপক প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা এখন এক হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস পাচ্ছি। আমাদের চাহিদা এক হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এফএসআরইউ ঠিক হলেই সংকট কেটে যাবে বিষয়টা এমন নয়। এফএসআরইউ নষ্ট হওয়ার আগে আমাদের দেওয়া হচ্ছিল এক হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে যাচ্ছে। সেখানে অন্যান্য সেক্টরের জন্য আমার থাকে এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে প্রয়োজন মিনিমাম এক হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এজন্য ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সংকট এমনিতেই থাকবে।’

প্রয়োজন ল্যান্ডবেজড এফএসআরইউ
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘প্রায়ই এই ধরনের সংকট তৈরি হয়। সংকট কাটাতে আমাদের মিনিমাম ১৫ দিনের স্টোরেজ ক্যাপাসিটি তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি আরেকটি এফএসআরইউ দরকার। যেটি হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাতিল করেছে। ওটা বাতিল করা উচিত হয়নি। একটা ল্যান্ডবেজড এফএসআরইউ আমাদের দরকার। সমুদ্রে ঝড় উঠলে দেখা যায় এফএসআরইউ বন্ধ থাকে। এজন্য ল্যান্ডবেজডটা দরকার। উদ্যোগটা এখনি নিতে হবে না হলে সামনে সংকট আরও বাড়বে।’