প্রশাসন নির্বিকার-দখলে প্রভাবশালীরা
রাউজানে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জলমহল-বালুমহলের ইজারা নেই
ছবির ক্যাপশন: রাউজানের নোয়াজিশপুর এলাকায় সর্তার খালের পাড় কেটে বালু উত্তোলন করার দৃশ্য।
চট্টগ্রামের রাউজানে দীর্ঘদিন ধরে ইজারা নেই সরকারি জলমহল ও বালুমহল। এ সুযোগে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালু উত্তোলন ও জল মহাল গুলো প্রভাবশালী মহলের দখলে রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার কর্ণফুলী নদী, হালদা নদীর রাউজান অংশ, সর্তা খাল, ডাবুয়া খালসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নদী ও খালপাড়ের বিভিন্ন অংশে, ছোট বড় ছড়া খাল থেকে অবৈধভাবে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব।
উপজেলার অর্ধশতাধিক সরকারি দিঘি ও পুকুরে সরকারি ইজারা ছাড়াই চলছে মাছের চাষাবাদ। উপজেলা প্রশাসনের নিরবতায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। উপজেলার বিভিন্নস্থানে এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযানে জরিমানা আদায় হলেও কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ফের প্রভাবশালীরা সক্রিয় হয়ে উঠে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায়।
উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের চোখকে ফাকি দিয়ে এসব অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দেখতে চান স্থানীয় সচেতন মহল।

জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন হালদা নদীর মা-মাছসহ জৈববৈচিত্র রক্ষায় নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালুমহাল ইজারা বন্ধ রাখলেও বিভিন্নস্থানে বালু উত্তোলনের ড্রেজার বসিয়ে নৌযানে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে প্রভাবশালী মহল।
এতে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হ্যারিটেজ খ্যাত প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর মা-মাছসহ জৈববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়ছে। যার কারণে হালদা নদীতে ৪০টির অধিক ডলফিনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মাছের প্রজননও হুমকির মুখে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের ঈশা খা দিঘি, চিকদাইর ইউনিয়নের ছুট্টু খাঁ দিঘি, হলদিয়া ইউনিয়নের বৃক্ষভানুপুর দিঘি, কদলপুর ইউনিয়নের লস্কর উজির দিঘি, পাহাড়তলী ইউনিয়নের মহামুনি দিঘী, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই জলপাইন্যা দিঘি, পূর্বগুজরা ইউনিয়নের মহাজন দিঘি,
রাউজান উপজেলা সদরের নল পুকুর, রাউজান উপজেলা পরিষদের সামনে উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পুকুর সহ সরকারি মালিকানাধীন পুকুর জলাশয় গুলো একসময় নিয়মিতভাবে ইজারা দেওয়া হতো। সরকারি জলমহল দিঘি ও পুকুর ইজারা বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা হতো কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত আট বছর ধরে সরকারি মালিকানাধীন দিঘি ও জলাশয় ইজারা বিহীন রয়েছে। এ সুযোগে ইজারা না নিয়ে সরকারি দিঘি ও পুকুরের মধ্যে মাছ চাষ করে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিপুল পরিমাণ টাকা অবৈধভাবে আয় করলেও সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়। অপরদিকে রাউজানের হালদা নদী, সর্তার খাল, ডাবুয়া খাল, বেরুলিয়া খাল, কাঁশখালী খাল, কলমপতি খাল, মুখছড়ি খাল, রাউজান খাল, ভোমর ঢালা খাল, মঙ্গলছড়ি খাল, হরানাথ ছড়া খাল, ফটিকছড়ি খাল, ত্রিপুরা সুুন্দরী ছড়া, কর্ণফুলী নদীতে বিপুল পরিমাণ বালু মহল ইজারা দেওয়া হতো। বালু মহল ইজারা দিয়ে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতো। কর্ণফুলী নদীতে রাউজানের নোয়াপাড়া অংশে একটি বালু মহল ইজারা দেওয়া হলেও রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের পাচঁখাইন, লাম্বুর হাট, খেলার ঘাট এলাকায় বালু মহল ইজারা না নিয়ে প্রতিদিন ড্রেজার দিয়ে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করছে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি সিন্ডিকেট। বিগত কয়েক বছর ধরে হালদা নদীতে বালু মহল ইজারা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও হালদা নদীর রাউজান উপজেলা, হাটহাজারী, নগরীর মোহরা অংশের বিভিন্ন স্পটে প্রতিদিন ড্রেজার ও পাওয়ার পাম্প বসিয়ে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী মহল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুস সামাদ শিকদার সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আমি যোগদানের পূর্ব থেকেই সরকারি দিঘি ও পুকুর, বালু মহল গত কয়েক বছর ধরে ইজারা দেওয়া হয়নি। রাউজানে শুধুমাত্র কর্ণফুলী নদীর রাউজান নোয়াপাড়া অংশে একটি বালু মহল ইজারা দেওয়া হয়েছে। আর কোন বালু মহলের ইজারা নে দেওয়া হয়নি।
তিনি আরো বলেন, সরকারি দিঘি ও পুকুর গুলোর কোন ইজারা নেই। সরকারি দিঘি, পুকুর ও বালু মহল ইজারার আওতায় আনার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে আসছি। ইজারা না নিয়ে নদী ও খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব সরকারি দিঘি ও পুকুর ও বালু মহল ইজারার আওতায় আনা হলে সরকারি কোষাগারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব জমা হবে।


আপনার মতামত লিখুন