খুঁজুন
, ,

প্রশাসন নির্বিকার-দখলে প্রভাবশালীরা

রাউজানে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জলমহল-বালুমহলের ইজারা নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 November, 2022, 4:45 pm
রাউজানে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জলমহল-বালুমহলের ইজারা নেই

ছবির ক্যাপশন: রাউজানের নোয়াজিশপুর এলাকায় সর্তার খালের পাড় কেটে বালু উত্তোলন করার দৃশ্য।

চট্টগ্রামের রাউজানে দীর্ঘদিন ধরে ইজারা নেই সরকারি জলমহল ও বালুমহল। এ সুযোগে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালু উত্তোলন ও জল মহাল গুলো প্রভাবশালী মহলের দখলে রয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার কর্ণফুলী নদী, হালদা নদীর রাউজান অংশ, সর্তা খাল, ডাবুয়া খালসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নদী ও খালপাড়ের বিভিন্ন অংশে, ছোট বড় ছড়া খাল থেকে অবৈধভাবে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব।

উপজেলার অর্ধশতাধিক সরকারি দিঘি ও পুকুরে সরকারি ইজারা ছাড়াই চলছে মাছের চাষাবাদ। উপজেলা প্রশাসনের নিরবতায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। উপজেলার বিভিন্নস্থানে এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযানে জরিমানা আদায় হলেও কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ফের প্রভাবশালীরা সক্রিয় হয়ে উঠে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায়।

উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের চোখকে ফাকি দিয়ে এসব অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দেখতে চান স্থানীয় সচেতন মহল।

জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন হালদা নদীর মা-মাছসহ জৈববৈচিত্র রক্ষায় নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালুমহাল ইজারা বন্ধ রাখলেও বিভিন্নস্থানে বালু উত্তোলনের ড্রেজার বসিয়ে নৌযানে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে প্রভাবশালী মহল।

এতে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হ্যারিটেজ খ্যাত প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর মা-মাছসহ জৈববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়ছে। যার কারণে হালদা নদীতে ৪০টির অধিক ডলফিনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মাছের প্রজননও হুমকির মুখে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের ঈশা খা দিঘি, চিকদাইর ইউনিয়নের ছুট্টু খাঁ দিঘি, হলদিয়া ইউনিয়নের বৃক্ষভানুপুর দিঘি, কদলপুর ইউনিয়নের লস্কর উজির দিঘি, পাহাড়তলী ইউনিয়নের মহামুনি দিঘী, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই জলপাইন্যা দিঘি, পূর্বগুজরা ইউনিয়নের মহাজন দিঘি,

রাউজান উপজেলা সদরের নল পুকুর, রাউজান উপজেলা পরিষদের সামনে উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পুকুর সহ সরকারি মালিকানাধীন পুকুর জলাশয় গুলো একসময় নিয়মিতভাবে ইজারা দেওয়া হতো। সরকারি জলমহল দিঘি ও পুকুর ইজারা বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা হতো কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত আট বছর ধরে সরকারি মালিকানাধীন দিঘি ও জলাশয় ইজারা বিহীন রয়েছে। এ সুযোগে ইজারা না নিয়ে সরকারি দিঘি ও পুকুরের মধ্যে মাছ চাষ করে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিপুল পরিমাণ টাকা অবৈধভাবে আয় করলেও সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়। অপরদিকে রাউজানের হালদা নদী, সর্তার খাল, ডাবুয়া খাল, বেরুলিয়া খাল, কাঁশখালী খাল, কলমপতি খাল, মুখছড়ি খাল, রাউজান খাল, ভোমর ঢালা খাল, মঙ্গলছড়ি খাল, হরানাথ ছড়া খাল, ফটিকছড়ি খাল, ত্রিপুরা সুুন্দরী ছড়া, কর্ণফুলী নদীতে বিপুল পরিমাণ বালু মহল ইজারা দেওয়া হতো। বালু মহল ইজারা দিয়ে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতো। কর্ণফুলী নদীতে রাউজানের নোয়াপাড়া অংশে একটি বালু মহল ইজারা দেওয়া হলেও রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের পাচঁখাইন, লাম্বুর হাট, খেলার ঘাট এলাকায় বালু মহল ইজারা না নিয়ে প্রতিদিন ড্রেজার দিয়ে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করছে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি সিন্ডিকেট। বিগত কয়েক বছর ধরে হালদা নদীতে বালু মহল ইজারা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও হালদা নদীর রাউজান উপজেলা, হাটহাজারী, নগরীর মোহরা অংশের বিভিন্ন স্পটে প্রতিদিন ড্রেজার ও পাওয়ার পাম্প বসিয়ে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী মহল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুস সামাদ শিকদার সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আমি যোগদানের পূর্ব থেকেই সরকারি দিঘি ও পুকুর, বালু মহল গত কয়েক বছর ধরে ইজারা দেওয়া হয়নি। রাউজানে শুধুমাত্র কর্ণফুলী নদীর রাউজান নোয়াপাড়া অংশে একটি বালু মহল ইজারা দেওয়া হয়েছে। আর কোন বালু মহলের ইজারা নে দেওয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, সরকারি দিঘি ও পুকুর গুলোর কোন ইজারা নেই। সরকারি দিঘি, পুকুর ও বালু মহল ইজারার আওতায় আনার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে আসছি। ইজারা না নিয়ে নদী ও খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব সরকারি দিঘি ও পুকুর ও বালু মহল ইজারার আওতায় আনা হলে সরকারি কোষাগারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব জমা হবে।

Feb2

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 27 June, 2026, 11:14 pm
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড করেছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানের টাকা। গণনা শেষে এবার পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় খোলা হয় মসজিদের ১৩টি দানবাক্স। এতে মিলে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা। ৯টার পর শুরু হয় গণনা। চলে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত।

জেলা প্রশাসন ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি গণনা শেষে মোট টাকা পাওয়ার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হলেও এবার ছয় মাস পর খোলা হয়েছে। এতে রেকর্ড সংখ্যক টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়াও স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রাসহ নানা সামগ্রী পাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ ৫৯০জন এবার টাকা গণনায় অংশ নেন।

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর সর্বশেষ পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। ১৩টি সিন্দুকে সেসময় ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গিয়েছিল। গণনা শেষে মোট টাকার সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছিল।

শনিবার দানবাক্স খোলা শেষে এক ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, পাগলা মসজিদের দানের ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২টাকা রূপালী ব্যাংক লিমিটেডে জমা রয়েছে। (সর্বশেষ দানবাক্স খোলার আগ পর্যন্ত)। এছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা সিলগালাকৃত অবস্থায় জেলা ট্রেজারিতে জমা রয়েছে। পাগলা মসজিদে দানবাক্সের পাশাপাশি অনলাইনেও দান-খয়রত গ্রহণ করা হয়। এ পর্যন্ত অনলাইনে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২টাকা জমা হয়েছে।

তুরাগে ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন : পুলিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 27 June, 2026, 7:51 pm
তুরাগে ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন : পুলিশ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তুরাগ নদীতে ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসছে’ শিরোনামে প্রচারিত তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, তুরাগ নদীতে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসছে- এমন শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাই এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যারা এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। অপপ্রচারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’, যা কিছু অর্জন তা দেশের মানুষের : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 27 June, 2026, 3:25 pm
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’, যা কিছু অর্জন তা দেশের মানুষের : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান দেশের স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের স্বার্থ দেখার জন্যই সরকার ও সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব দিয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তাদের দল সবসময় ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’ স্লোগানটি ব্যবহার করে। তিনি নিজের অবস্থান থেকে সবসময় দেশের এবং দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার এবং তা রক্ষা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

সংসদ নেতা বলেন, এখানে কোনো ব্যক্তিগত বিষয় বা স্বার্থ জড়িত নেই। যেকোনো ভালো অর্জন বা সফল সফরের মাধ্যমে যদি ইতিবাচক কিছু অর্জিত হয়ে থাকে, তবে তা একান্তই বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের অর্জন।

সংসদে তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন ও উৎসাহ জোগানোর জন্য তিনি বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংসদের সব সদস্যকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করার এই যাত্রায় সবার এই ইতিবাচক মনোভাবকে তিনি আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানান।