খুঁজুন
, ,

মিরসরাই প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নিজাম উদ্দিন আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 11 January, 2023, 9:03 pm
মিরসরাই প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নিজাম উদ্দিন আর নেই

মিরসরাই প্রতিনিধি:::চট্টগ্রামের মিরসরাই প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মাসিক মীরসরাই ও সাপ্তাহিক বন্দরনগরীর সম্পাদক ও প্রকাশক মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন (৬৫) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাইহি রাজিউন)।

বুধবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন।

তিনি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন মিরসরাই পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড নাজিরপাড়া গ্রামের মরহুম মোজফ্ফর আহম্মদের বড় ছেলে। উনার মৃত্যুতে মিরসরাইয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল আলম বলেন, নিজাম ভাই এভাবে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এতো তাড়াতাড়ি না ফেরার দেশে চলে যাবেন ভাবতে পারছিনা। মিরসরাইয়ের সাংবাদিকরা একজন অভিবাবক হারিয়েছে। তিনি আমাদের ছায়া দিয়ে আগলে রেখেছিলেন। উনার শুন্যতা পূরণ হওয়ার মতো না। তিনি আরো বলেন, ভারতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) উনার মরদেহ দেশে নিয়ে আসা হবে বলে পারিবারিকভাবে জানা গেছে।

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন মৃত্যুকালে মা, স্ত্রী, এক ছেলে এক মেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী, আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।

Feb2
Feb2

বিশ্ব বাঘ দিবস আজ, হুমকিতে বনের অতন্দ্র প্রহরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 7:17 am
বিশ্ব বাঘ দিবস আজ, হুমকিতে বনের অতন্দ্র প্রহরী

জীববৈচিত্র্যের আধার সুন্দরবন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ম্যানগ্রোভ বন রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। এই বাঘ বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু বন ধ্বংসের কারণে আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, খাদ্য সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, চোরা শিকারের কারণে অস্তিত্বের হুমকিতে পড়েছে বনের এই অতন্দ্র প্রহরী।

আজ ২৯ জুলাই, বিশ্ব বাঘ দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য—‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’। প্রতি বছর নানা কর্মসূচিতে দিবসটি পালন করা হলেও এবার তেমন কোনো আয়োজন নেই। সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের পক্ষ থেকে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, র‌্যালি ও আলোচনা সভা করা হবে।

বাঘ জরিপের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৪ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ২০১৮ সালে ১১৪টির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সবশেষ ২০২৪ সালের ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায় ১২৫টি। বন বিভাগের হিসাব বলছে, প্রতি ১০০ কিলোমিটারে বাঘের ঘনত্ব প্রায় ২ দশমিক ১৭টি।

সুন্দরবন রক্ষায় ‘আমরা’র সমন্বয়কারী নুর আলম শেখ জানান, ২০২১-২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্নভাবে ৯১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পিটিয়ে বা শিকার করে হত্যা করা হয়েছে ৫৮টি। ৩০টির মৃত্যু হয়েছে বার্ধক্যজনিত বা অসুস্থতাজনিত কারণে। আর তিনটির মৃত্যু হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগে। তিনি বলেন, একদিকে হরিণ শিকারিদের দাপট, অন্যদিকে বনদস্যুদের বনে অবাধ বিচরণ; দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে বাঘের আবাসস্থল। হরিণ শিকারের ফাঁদে কখনো কখনো বাঘ আটকা পড়ছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক সামিউল হক বলেন, সুন্দরবনে অবাধে বিচরণের জন্য একটি পুরুষ বাঘের টেরিটরি প্রয়োজন ৬০ থেকে ১৫০ বর্গকিলোমিটার। আর স্ত্রী বাঘের জন্য প্রয়োজন ২০ থেকে ৬০ বর্গকিলোমিটার। সুন্দরবনে হরিণ আর বুনো শূকরের মতো শিকার পর্যাপ্ত থাকলে ছোট এলাকায়ও বাঘ টিকে থাকতে পারে। তাই বাঘের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কমাতে হবে হরিণ শিকার।

তিনি আরও বলেন, বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শিকার বা পাচার রোধে আইনের সংশোধন করতে হবে। চোরা শিকারিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে হবে। একই সঙ্গে ক্যামেরা ট্র্যাকিং এবং রেডিও কলারের মাধ্যমে বাঘের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লা হারুন জানান, মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় বাঘের মৃত্যু না হলেও এটি বাঘের বংশ বৃদ্ধি কমার একটি বড় কারণ। এ ছাড়া বাঘ নিরাপদ আবাসস্থল নিয়ে বিপাকে পড়ে। তাই বাঘের বংশ বৃদ্ধি ও বিচরণ নিশ্চিতে সুন্দরবনে অবাধে মানুষের বিচরণ কমাতে হবে।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বাঘের সংখ্যা বাড়াতে হরিণ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ১৩৫ হরিণ পাচারকারীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।

সম্প্রতি বন রক্ষায় করণীয় শীর্ষক একটি নাগরিক সংলাপে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে কয়েকটি দস্যুদল আত্মসমর্পণ করেছে। হরিণ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে হরিণ শিকারির ফাঁদে আটকে আহত হওয়া একটি বাঘকে উদ্ধার করে ছয় মাস চিকিৎসা শেষে আবার পাঠানো হয়েছে সুন্দরবনে। তিনি বলেন, বাঘ হলো সুন্দরবনের প্রধান প্রাণী। তাই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাঘের অস্তিত্ব রক্ষা জরুরি।

টুথপেস্টের পর এবার সয়াবিন তেলে মিলল ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 28 July, 2026, 11:37 pm
টুথপেস্টের পর এবার সয়াবিন তেলে মিলল ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক

রাজধানী ঢাকার বাজার থেকে সংগ্রহ করা বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলে উদ্বেগজনক হারে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে। প্রতি লিটার তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি প্লাস্টিক কণার সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। বোতলজাত তেলের চেয়ে খোলা তেলে দূষণের এই মাত্রা আরও বেশি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এক যৌথ গবেষণায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই তথ্য উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এ সম্প্রতি এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়। গবেষণার জন্য ঢাকার তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বিভিন্ন সুপারশপ এবং খোলা বাজার থেকে সয়াবিন তেলের মোট ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে আধুনিক স্পেকট্রোস্কোপিক ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে এগুলো বিশ্লেষণ করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা সয়াবিন তেলে দূষণের পরিমাণ অন্তত ১.২৪ গুণ বেশি। খোলা তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তেজগাঁও এলাকা থেকে সংগৃহীত খোলা তেলের নমুনায় প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি ছিল সর্বোচ্চ। শিল্পকারখানার আধিক্য, টেক্সটাইল ও প্লাস্টিক কারখানার কাছাকাছি অবস্থান এবং খোলা তেল সংরক্ষণে পাত্রের বারবার ব্যবহারের কারণে এমন দূষণ ঘটছে বলে গবেষকরা মনে করছেন।

ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণে তেলের এসব নমুনায় ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত হয়। এগুলো হলো—লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই), হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই), পলিপ্রোপিলিন (পিপি), পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটিই), পলিইউরেথেন (পিইউ) ও নাইলন। গবেষকরা জানিয়েছেন, ভোজ্যতেলে পলিইউরেথেন ও নাইলনের উপস্থিতির বিষয়টি বিশ্বে এবারই প্রথম কোনো গবেষণায় উঠে এসেছে। শনাক্ত হওয়া কণাগুলোর ৮২.৫ শতাংশই আঁশ বা ফাইবারজাতীয়। পাশাপাশি ৫৬.২৯ শতাংশ কণা স্বচ্ছ প্রকৃতির এবং ৩৫.৮৪ শতাংশ কণার আকার ১০১ থেকে ৫০০ মাইক্রোমিটারের মধ্যে।

দৈনন্দিন খাদ্যগ্রহণের হিসাব অনুযায়ী মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের একটি প্রাক্কলনও তুলে ধরা হয়েছে এই গবেষণায়। এতে দেখা যায়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতিদিন গড়ে ১৭.৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে। তবে কম ওজনের কারণে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও ভয়াবহ। তারা প্রতিদিন গড়ে ৭৭.২১টি এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করছে। একটি শিশু তার জীবনদ্দশায় প্রায় ২০ লাখ ৯০ হাজার প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারে বলে গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এসব ক্ষুদ্র কণা মানুষের পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রদাহ ও কোষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে ১৩০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট কণাগুলো কোষের দেয়াল ভেদ করে সরাসরি রক্তে মিশে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

গবেষণা দলটির প্রধান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক জানান, মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে একটি উদীয়মান দূষক, যা মানবদেহে প্রজননতন্ত্র ও বিপাকীয় ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক পুরোপুরি বর্জন করা এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত নয়। তাই প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিংয়ের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।’

খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি, মানসম্মত ফিল্টারের ব্যবহার এবং খোলা তেল বিক্রির ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন গবেষকরা। দেশে খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভোজ্যতেলের এই দূষণের আগে দেশের বাজারে প্রচলিত টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)-এর এক বছরব্যাপী পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট নমুনার মধ্যে ২৬টিতেই (৭৬.৫ শতাংশ) প্লাস্টিক কণা রয়েছে।

ইএসডিওর ওই গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২০টি কণা ছিল মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে। এছাড়া ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেনথল ফ্রেশ-এ ১৬০টি করে, কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টি-তে ১২০টি এবং পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার-এ ১০০টি করে কণা শনাক্ত হয়। এমনকি শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেই এই দূষক পাওয়া যায়। তবে প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি ও কোদোমো অরেঞ্জ টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি।

শীঘ্রই উদ্বোধন করা হবে আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের আধুনিকায়নকৃত মাঠ: চসিক মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 28 July, 2026, 9:29 pm
শীঘ্রই উদ্বোধন করা হবে আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের আধুনিকায়নকৃত মাঠ: চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন কারণে আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের মাঠটি শিশু-কিশোরদের জন্য কার্যত অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে মাঠটি পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই মাঠটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্ক মাঠের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, একসময় এই মাঠে শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করতে পারত না। মাঠটি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা উদ্যোগ নিয়ে মাঠটি পুনরুদ্ধার করেছি এবং যেহেতু এটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন, তাই নগরবাসীর জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। এখানে শিশু, কিশোর, তরুণসহ সকল বয়সের মানুষ খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, মাঠটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সংরক্ষণের জন্য একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে। আমরা অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক মানের একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করেছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এর উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হবে এবং সেদিন নগরবাসীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে মাঠটি উদ্বোধন করা হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে খেলার মাঠের বিকল্প নেই, সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে নিরাপদ ও মানসম্মত খেলার মাঠ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২০ মাসে আমি প্রতিটি ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে ১১টি খেলার মাঠ উন্নয়ন ও প্রস্তুত করা হয়েছে। আমি নগরবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ৪১টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে। এখনো প্রায় ৩০টি মাঠের উন্নয়ন কাজ বাকি রয়েছে এবং সেগুলোও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।

মেয়র বলেন, একটি আধুনিক, সুস্থ ও মানবিক নগর গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, বিনোদন ও সামাজিক বিকাশের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম অগ্রাধিকার। নগরবাসীর জন্য আরও নতুন নতুন উন্মুক্ত স্থান ও ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, চসিকের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, মহানগর বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং স্থানীয় ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ।