খুঁজুন
সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর ১১৭তম ওরশ শরীফ

কনকনে শীত উপেক্ষা করে মাইজভান্ডারে আশেক-ভক্তের ঢল নেমেছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৩, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
কনকনে শীত উপেক্ষা করে মাইজভান্ডারে আশেক-ভক্তের ঢল নেমেছে

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: একতারা, দোতারা, হারমোনি, তবলার তালে তালে কনকনে শীত উপেক্ষা করে মাইজভান্ডারে আশেক-ভক্তের ঢল নেমেছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সবুজ পতাকা ও ব্যানারে তরিক্বতের বিভিন্ন বানী এবং আল্লাহ, রাসুল (দ.) এবং মাইজভান্ডারী তরিক্বতের শ্লোগাণের সাথে গাইছে- মাইজভান্ডারে উঠেছে ঐ তৌহিদের নিশাণা-ঘুমাইঘোনা মায়া ঘুমে আখেরী জমানা/কেন চিনলি নারে মন-গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী মাওলানা কেমন…./ চলরে মন ত্বরায় যায় বিলম্বের আর সময় নাই, গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী স্কুল খুলেছে, এ স্কুলের এমনি ধারা বিচার নাই জোয়ান বুড়া, সিনায় সিনায় লেখাপড়া শিক্ষা দিতেছে….।

পাক ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত অলি-এ-কামেল, মাইজভান্ডার দরবার শরীফের আধ্যাত্ম শরাফতের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশে মাইজভান্ডারী তরিকার প্রবর্তক গাউসুল আজম হযরত মওলানা শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.)-এর ১১৭তম বার্ষিক ওরশ শরীফ মহান ১০ মাঘ (২৪ জানুয়ারি) উপলক্ষ্যে তাই গতকাল রবিবার থেকে তিন দিনের কর্মসূচী শুরু হয়েছে। গত ২-৩দিন পূর্ব থেকে দেশ-বিদেশের লাখো ভক্তের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে মাইজভান্ডার শরীফে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় গাউছিয়া আহমদিয়া (শাহ এমদাদীয়া) মনজিলের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ এমদাদল হক মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ) এবং বিকাল ৩টায় দরবারে-গাউছিয়া আহমদিয়া মনজিলের সাজ্জাদানশীন ডা. সৈয়দ দিদারুল হক মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ), সাজ্জাদানশীন সৈয়দ শহিদুল হক মাইজঅবন্ডারী (ম.জিআ), মাইজভান্ডার গাউছিয়া হক মনজিলের সাজ্জাদানশীন সৈয়ম মোহাম্মদ হাসান মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ), ষৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী (র.) শাহজাদাদ্বয় মুন্তাজেম সাজ্জাদানশীন সৈয়দ আহমদ হোসাইন শাহরিয়ার মাইজভান্ডারী (মজি.আ) এবং সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইন সোহেল মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ), মাজার শরীফে গোসল শরীফ ও গিলাফ ছড়ানোর মাধ্যমে ওরশের মুল আনুষ্টানিকতা শুরু করবেন। আগামীকাল মঙ্গলবার বার রাত ১২টায় এবং রাত ০১টায় স্ব-স্ব মঞ্জিলের শাজ্জাদানশীনেদের আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে ওরশের আনুষ্টানিকতা শেষ হবে। এ উপলক্ষ্যে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

শতাদিক বৎসরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর এই মহান অলীর ওফাত (তিরোধান) দিবসের স্মরণে বংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বার্মা, ইরাক, ইরান, তুরষ্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বহু দেশ হতে আগত লক্ষ লক্ষ ভক্ত অনুরক্ত আশেকের সমাগমে মহা সমারোহে অনুষ্ঠিত হবে। গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী ট্রাষ্ট পরিচালনাধীন প্রতিষ্ঠান ও অছি-এ-গাউসুল আজম মাওলানা শাহসুফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী কর্তৃক মনোনীত মোন্তাজেম, সাজ্জাদানশীন ও জিম্মাদার আওলাদসহ মাইজভান্ডারের প্রতিটি মনজিল এবছর ১ মাঘ থেকে ১০ দিন ব্যাপী মাইজভান্ডারী তরিকার মানবিক শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা, সামাজিক কর্মকান্ড, এবাদতবন্দেগী, মাইজভান্ডারী সেমা মাহফিলসহ ব্যাপক আয়োজন করেছে।

গতকাল মাইজভান্ডার শরীফ ঘুরে দেখা গেছে প্রতি বছরের ন্যায় ১০মাঘ মাইজভান্ডার শরীফের ওরশ উপলক্ষ্য করে মাইজভান্ডারের ৩/৪ মাইল এলাকায় বিশাল মেলা বসেছে। এতে কৃষি ব্যবহার্য্য পণ্য, কুঁটির শিল্প উৎপাদিত পণ্য, গ্রামীণ গৃহস্থালী সামগ্রী, ডালা, কুলা দা, বটি, বেলুণ, কাঠের পিড়া, মোড়া, পিটা তৈরীর বিভিন্ন চাচ, চুড়ি, বাশি খেলনা, মোলা-ওড়া ইত্যাদিবেশ বিকিনিকি হচ্ছে।

এদিকে ১০মাঘ ওরশ উপলক্ষ্যে ফটিকছড়ি উপজেলা ও থানা প্রশাসন ব্যাপক আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির রহমান সানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক সমন্বয় সভায় গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর মাজার ও মাইজভান্ডার শরীফ এলাকায় ক্লোজ-সার্কিট ক্যামরার মাধ্যমে সার্বক্ষনিক নজরদারি করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন রাখা, নাজিরহাট নতুন রাস্তার মাতায়, ফটিকছড়ি সদরে ও নানুপুর লায়লা-কবির কলেজ মাঠে যানবাহন পার্কিং, স্ব স্ব মনজিলের ব্যবস্থাপনায় লাইটিং করা, মাইজভান্ডার পুকুর আবর্জনা মুক্ত রাখা, প্রয়োজনীয় পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, স্ব-স্ব মনজিলের পোষাক পরা সেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা, মহিলাদের চলাচলের স্থানে মহিলা সেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা, আযানের সময় সকল প্রকাল মাইকিং বন্ধ রাখা, নির্দিষ্ঠ সময়ের পরে গরু-মহিষ হাদিয়া প্রবেশ বন্ধ রাখা, পর্যাপ্ত পরিমানে ভ্রাম্যমান স্যানিটেশন ব্যবস্থা করা, গুরুত্বপূর্ণ সিধান্তের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাসহ সব সবস্থানে পুলিশি টহল জোরদারকরা, সকল প্রকার যোগাযোগের জন্য একটি তথ্য কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দরবারে গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের শাহজাদা সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইনন সোহেল মাইজভান্ডারী জানান, গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর ওরশে শরীফে বংলাদেশের প্রত্যন্ত
অঞ্চল ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বার্মা, ইরাক, ইরান, তুরষ্ক সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও ধর্মপ্রাণ মুসলমান সহ লাখো সুফী ভক্ত-আশেকগণের সমাগম ঘটে। আমরা ১০দিন ব্যাপী হযরতের মানবিক গুনাবলীর সমন্বয়ে মানবিক ও সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছি।

শাহ এমদাদীয়ার নায়েবে শাজ্জাদানশীন সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভান্ডারী জানান, গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর ওরশে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লাখো ভক্তের সুবিধাত্বে থাকা-খাওয়া, প্রাথমিক চিকিৎসা, নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য লাইটিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.)র জীবনী, শান-মান সম্ভলিত বিশেষ ক্রোড়পত্র বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশের ব্যবস্থা হয়েছে।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মাসুদ বলেন, ১০মাঘ ওরশ উপলক্ষে পূলিশ ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আইন- শৃংখলা রক্ষায় থানা পুলিশ-র‌্যাব-আনসার ও দুই সহস্রাদিক বিশেষ সেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।

ফটিকছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানি বলেন, গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর ওরশ উপলক্ষে ক্লোজ-সার্কিট ক্যামরা ও ভিডিও চিত্র ধারণের মাধ্যমে সার্বক্ষনিক নজরদারি করা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিধান্তের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সমন্বয়ে ভ্রাম্যমান আদালত সব সময় টহলরত থাকবে। সকল প্রকার যোগাযোগের জন্য একটি তথ্য কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

পটভূমি: সৈয়দ হামিদ উদ্দীন গৌড়ী ১৫৭৫ সালে ইসলাম প্রচার মানসে চট্টগ্রামে আগমন করে পটিয়া থানার কাঞ্চননগরে বসতি স্থাপন করেন। তারই বংশধর মাওলানা সৈয়দ মতিউলাহর সৈয়দ মতিউলাহর পবিত্র ঔরসে ১৮২৬ সালে, হিজরী ১২৪৪, ১২৩৩ বাংলা ১লা মাঘ, বুধবার জোহরের সময় হযরত শাহ সুফী সৈয়দ আহমদ উলাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) জন্ম গ্রহন করেন। ১২৬০ হিজরিতে তিনি উচ্চশিক্ষার্থে কলকাতা গমন, ১২৬৮ হিজরিতে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার শেষ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাস করেন এবং হাদিস, তাফসির, ফেকাহ ইত্যাদি শাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। ১২৬৯ হিজরিতে যশোর জেলায় কাজী (বিচারক) পদে যোগদান করেন। ১২৭০ হিজরিতে সেই কাজী পদ থেকে পদত্যাগ করে কলকাতার মুন্সি বু-আলী মাদ্রাসায় প্রধান মোদাররেস পদে যোগদান করেন। তার পীর গাউছুল আজম মহিউদ্দীন আবদুল কাদের জীলানীর (রহ.) বংশধর শেখ সৈয়দ আবু শাহমা মুহাম্মদ ছালেহ আল কাদেরী লাহোরী (রহ.) এর নিদের্শে ১৮৫৭ সালে নিজ গ্রাম মাইজভান্ডারে ফিরে আসেন।
কিছুদিনের মধ্যেই তার কামালিয়তের কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঐশী- প্রেম পিপাসু সাধক ও দোয়া প্রত্যাশীদের ভিড়ে এই সাধকের পবিত্র বাসগৃহ আধ্যাত্মিক দরবারে পরিণত হয়। লোকসমাজে পরিচিতি পায় মাইজভান্ডার দরবার শরিফ হিসেবে। তিনি একমাত্র বাঙ্গালী সূফী সাধক। যিনি বাংলার জমিনে স্বতন্ত্র এক তরিকা প্রতিষ্টা করেন। যার নাম মাইজভান্ডারী তরিকা। ৭৯ বছর বয়সে ১৯০৬ ক্রিস্টাব্দে ১০ মাঘ সোমবার রাতে ইহধাম ত্যাগ করেন এ মহান সুফি সাধক। তার ওফাত দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর ৮, ৯ ও ১০ মাঘ ৩ দিনব্যাপী ওরশ শরিফ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ- বিদেশের লাখ-লাখ আশেক-ভক্তের সমাগম ঘটে।

Feb2

কবিয়াল রমেশ শীলের ১৪৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আহ্বায়ক কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
কবিয়াল রমেশ শীলের ১৪৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আহ্বায়ক কমিটি গঠন

আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ, গণমুখী কবিয়াল জনক রমেশ শীলের ১৪৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আগামী ০৯ মে ২০২৬ ইং (২৬ শে বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা) এই মহান আধ্যাত্মিক সাধকের জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কবিয়াল রমেশ স্মৃতি ট্রাস্টের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংবাদিক মানস চৌধুরী।

সভা সঞ্চালনা করেন ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ বাবু কাজল শীল। সভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক/সাংবাদিক প্রলয় চৌধুরী মুক্তি। এছাড়াও বক্তব্য দেন সদস্য রমেশ পরিবারের সদস্য এডভোকেট প্রকৃতি চৌধুরী ছোটন এবং প্রকৌশলী রানা শীল মাইকেল।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রমেশ স্মৃতি ট্রাস্ট পরিবারের উত্তরাধিকারী পিকলু সরকার, রণধির শীল, সুব্রত সরকার টার্জেন, সমর শীল ওপেলসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কবিয়াল রমেশ শীলের ১৪৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ২১ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

এতে এডভোকেট প্রকৃতি চৌধুরী ছোটনকে আহ্বায়ক এবং ইঞ্জিনিয়ার রানা শীল মাইকেলকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন রমেশ পরিবারের চিত্ত রঞ্জন শীল, কল্পতরু শীল, দুলাল শীল, সুলাল শীল, নেপাল শীল, পিকলু সরকার, সুব্রত সরকার, রণধির শীল, রুপাল শীল, জুয়েল শীল, রাইনেল শীল, সমর শীল, প্রণব চৌধুরী রঞ্জন, তম্ময় শীল, লিংকন চৌধুরী, টিকলু সরকার, শিক্ষক/সাংবাদিক প্রলয় চৌধুরী মুক্তি ও রমেশ ভক্ত বিজয় শীল, জিকু শীল।

উল্লেখ্য : ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম রূপকার, ১৯৪৮ সালে “বঙ্গের শ্রেষ্ঠ কবিয়াল” উপাধিপ্রাপ্ত এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিয়াল রমেশ শীল বাংলা লোকসংস্কৃতি ও গণমানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে অনন্য অবদান রেখে গেছেন তার মহা কর্মযজ্ঞের কিছুটা প্রকাশিত হয়েছে বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত রমেশ রচনাবলী বইয়ের মধ্যে।

আসন্ন জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গঠিত এই আহ্বায়ক কমিটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কবিয়াল রমেশ শীলের জীবন ও কর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে কাজ করবে বলে সভায় প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

সরকার সিআরবিতে হাসপাতাল করবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি : রেলমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
সরকার সিআরবিতে হাসপাতাল করবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি : রেলমন্ত্রী

চট্টগ্রামের সিআরবিতে হাসপাতাল করার কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রীর শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেছেন, সরকার পরিবেশের ক্ষতি করে, চট্টগ্রামবাসীকে অস্থিরতার মধ্যে রেখে, ঝুঁকির মধ্যে রেখে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে না। তবে যেভাবে ক্ষতি ভাবা হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে তা না। তার চেয়ে আরও বেশি জনবান্ধব, আরও বেশি চট্টগ্রামের জন্য প্রয়োজন। সেগুলো বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান রেলমন্ত্রী।

শেখ রবিউল আলম বলেন, আমি যেটি জেনেছি, আগের সরকার সিআরবিতে একটি প্রকল্পের জন্য চুক্তি করেছিল। তাদের সঙ্গে সমাধানে যেতে হবে। সম্ভাব্য কি সমাধান হতে পারে, তা সবার সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। তবে কী সমাধান হচ্ছে বা সরকার এখানে হসপিটাল প্রতিষ্ঠিত করবে কি-না, করলে কী প্রক্রিয়ায় করবে সিটি নিয়ে বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই।

এসময় রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সিআরবির বিভিন্ন ভবন পরিদর্শন করেন।

কিলোমিটার প্রতি ৪ টাকা ৫ পয়সা ভাড়া চান বাস মালিকরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
কিলোমিটার প্রতি ৪ টাকা ৫ পয়সা ভাড়া চান বাস মালিকরা

প্রায় দেড় মাস ধরে দেশে চলছে জ্বালানি সংকট। এর মধ্যেই গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বাস-ট্রাকের জ্বালানি ‘ডিজেল’-এর মূল্য ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছে। এতে খরচ বেড়ে যাবে বিভিন্ন পরিবহনের। এ অবস্থায় বাস-ট্রাক মালিক সমিতির নেতারা আজ রোববারের (১৯ এপ্রিল) মধ্যেই ভাড়া সমন্বয় করতে সরকারকে অনুরোধ করেছেন।

বাংলাদেশে ২০২২ সালের ৫ আগস্ট ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৮০ টাকা থেকে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। যা আগের দামের তুলনায় প্রায় ৪২.৫ শতাংশ বেশি ছিল। পরে সেটি বেশ কয়েকবার সমন্বয় করা হয়। সর্বশেষ শনিবার পর্যন্ত লিটার প্রতি ডিজেলের দাম ছিল ১০০ টাকা।

ওই সময় সার্বিক বিবেচনায় তৎকালীন পরিবহন নেতারা দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়িয়ে ২ টাকা ৮০ পয়সা করার প্রস্তাব দেন। সরকার সেটি আমলে না নিয়ে দূরপাল্লার ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ২২ শতাংশ বাড়িয়ে ২ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ করে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৬ জুন তেলের দামের সঙ্গে ভাড়া সমন্বয় করে সেটি কমিয়ে কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা করা হয়।

বাস ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু জ্বালানি তেলের দামই একমাত্র বিষয় নয়। গাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক খরচ রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একটি গাড়ির নিজস্ব মূল্য, তার লাইফটাইম এক্সপেন্স, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, চাকা, ইঞ্জিন ওয়েল এবং বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টস— সব মিলিয়ে প্রতি মাসেই বড় অঙ্কের ব্যয় বহন করতে হয় মালিকদের

শনিবার রাতে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানোর পর পরিবহন নেতারা রোববারের মধ্যেই ভাড়া বাড়াতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা সরকারকে শুধু ডিজেলের দাম বিবেচনায় না নিয়ে সার্বিক বিষয় চিন্তা করে দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৫ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস মালিক বলেন, বাস ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু জ্বালানি তেলের দামই একমাত্র বিষয় নয়। গাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক খরচ রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একটি গাড়ির নিজস্ব মূল্য, তার লাইফটাইম এক্সপেন্স, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, চাকা, ইঞ্জিন ওয়েল এবং বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টস— সব মিলিয়ে প্রতি মাসেই বড় অঙ্কের ব্যয় বহন করতে হয় মালিকদের। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, দেশে শুধুমাত্র তেলের দাম বাড়লেই ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে, অন্য খরচগুলোর বৃদ্ধির সঙ্গে ভাড়ার সমন্বয় সাধারণত করা হয় না।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ২০২২ সালে যে চাকার জোড়া ৫০ হাজার টাকায় কেনা যেত, ২০২৬ সালে সেটির দাম বেড়ে ৭৪ থেকে ৮০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টসের দামও দ্বিগুণ বা তার বেশি হয়েছে। যেমন ১০ টাকার কোনো যন্ত্রাংশ এখন ২০-২৩ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আবার যেসব যন্ত্রাংশ আগে ১২০০ টাকায় পাওয়া যেত, সেগুলোর দাম বেড়ে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে সার্বিকভাবে গাড়ি পরিচালনার খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

আশা করছিলাম যে সরকার তেলের দাম যদি বৃদ্ধি করে, তবে সেই সঙ্গে গেজেটে উল্লেখ করে দেবে যে তেলের কারণে এত পয়সা করে প্রতি কিলোমিটার ইনক্লুড হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। আজ মালিকরা বেশি দামে তেল কিনছে কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে আগের রেটে। এভাবে তো মালিকরা লস দিয়ে বাস চালাবে না

মো. সাইফুল আলম, মহাসচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি

গাড়ির মূল্যের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে জানিয়ে এই বাস মালিক বলেন, ২০২২ সালে একটি বাসের চেসিসের দাম ছিল প্রায় ২৪ লাখ টাকা এবং বডি তৈরি করতে খরচ হতো প্রায় ১১ লাখ টাকা। বর্তমানে সেই একই চেসিসের দাম বেড়ে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা এবং বডি তৈরির খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ শুধু এই দুই খাতেই মোট খরচ বেড়েছে প্রায় ২০-২১ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ব্যাংক ঋণের সুদের হারও ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে, ফলে কিস্তির চাপ আরও বেড়েছে মালিকদের ওপর।

কত টাকা ভাড়া বাড়ানো যায়— এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ২০২২ সালে জ্বালানির দাম বাড়ার পর সরকার ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন প্রথমে প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও পরে তা সমন্বয় করে ২ টাকা ১২ পয়সায় স্থির করা হয়। সেই সময় মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ২ টাকা ৮০ পয়সা প্রস্তাব করা হলেও তা গৃহীত হয়নি। এরপর দীর্ঘ সময় ভাড়ার আর কোনো সমন্বয় হয়নি, যদিও খরচ ধারাবাহিকভাবে বেড়েই গেছে। এবার অন্তত কিলোমিটার প্রতি সাড়ে ৩ টাকা না হলে আর গাড়ি চালানো যাবে না।

তবে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছেন, আমরা দায়িত্বে আসার পর ও ডলারের দাম বাড়ার পর ৩ টাকা ৭৫ পয়সার প্রস্তাব কমিটির কাছে দিয়ে রেখেছি। সেটি তেলের জন্য দেওয়া হয়নি, স্পেয়ার্স পার্সে ডলার মূল্য সমন্বয়ের জন্য দেওয়া হয়েছে। সেটিসহ তেলের দাম বাড়ার জন্য আমরা ৪ টাকা ৫ পয়সা এবার প্রস্তাব করবো। আমরা মিনিস্ট্রিতে আজকে যোগাযোগ করে ফরমাল মিটিং হোক, ইনফরমাল মিটিং হোক করবো। কারণ আমাদের আজকে এখনো পর্যন্ত বাস ভাড়া বাড়ানোর কোনো নির্দেশনা দেইনি।

সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম রোববার দুপুরে বলেন, আশা করছিলাম যে সরকার তেলের দাম যদি বৃদ্ধি করে, তবে সেই সঙ্গে গেজেটে উল্লেখ করে দেবে যে তেলের কারণে এত পয়সা করে প্রতি কিলোমিটার ইনক্লুড হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। আজ মালিকরা বেশি দামে তেল কিনছে কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে আগের রেটে। এভাবে তো মালিকরা লস দিয়ে বাস চালাবে না। আমরা অলরেডি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি যে, আজকের মধ্যে এটা নিরসন করে দিতে।

জীবন মানেই তো আর শুধু ট্রান্সপোর্ট না, আমাদের আরও অনেক খাত রয়েছে। বিআরটিএ যেহেতু তাদের কমিটি আছে, মালিকদের দাবি যদি যৌক্তিক হয় তাহলে তারা অবশ্যই সেই যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু একইসঙ্গে যাত্রীদের সেবার দিকটাও তাদের মাথায় রাখতে হবে

মো. হাদিউজ্জামান, অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, বুয়েট

তিনি আরও বলেন, সরকার প্রতি বছর বাজেটের আগে একটা ক্যালকুলেশন করে, কস্টিং বডি দেখে বর্তমানে পরিস্থিতি অনুযায়ী জানিয়ে দিতে পারে যে এই বছরের জন্য এই ভাড়া নির্ধারণ করা হলো। এই হিসাবটা যদি ঠিকভাবে করা হয়, তাহলে সেটাই পুরো বছর চলতে পারে। এর মাঝে যদি কোনো বড় পরিবর্তন হয়, যেমন ডলারের দাম হঠাৎ বাড়ে বা কমে, তখন সেগুলোর প্রভাব নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করা যেতে পারে। না হলে সাধারণভাবে ওই নির্ধারিত ভাড়াই কার্যকর থাকতে পারে। আমরা এই প্রস্তাবটাই দিয়েছিলাম স্থায়ী সমাধানের জন্য, কিন্তু সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, তারা প্রস্তাব করেছে ঠিক আছে। প্রস্তাব করা মানেই এটা চূড়ান্ত না। বিআরটিএর ভাড়া নির্ধারণের কমিটি আছে। আমি বলবো, এই কমিটিতে প্রস্তাবের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা উচিত। প্রতিটি খাত ধরে ধরে বিশ্লেষণ করতে হবে।

তিনি বলেন, একইসঙ্গে মনে রাখতে হবে, তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় যাত্রীদেরও অনেকগুলো খাতে চাপের মধ্যে পড়তে হবে। জীবন মানেই তো আর শুধু ট্রান্সপোর্ট না, আমাদের আরও অনেক খাত রয়েছে। বিআরটিএ যেহেতু তাদের কমিটি আছে, মালিকদের দাবি যদি যৌক্তিক হয় তাহলে তারা অবশ্যই সেই যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু একইসঙ্গে যাত্রীদের সেবার দিকটাও তাদের মাথায় রাখতে হবে। আমি বললাম, প্রস্তাবটা চুলচেরা বিশ্লেষণ করা উচিত। আলোচনা করে সেখানে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়া কতটা চাপ সৃষ্টি করবে, সেই বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে। আর যেসব খাতের সঙ্গে তেলের দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই, সেসব ক্ষেত্রে তো আসলে বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।