রাউজানে জমিতে শোভা পাচ্ছে হলুদ রঙের দৃশ
রাউজানে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে শোভা পাচ্ছে
বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। সোনালি রোদ্দুরে হালকা মৃদু হাওয়ায় দোল খাচ্ছে হলদে বর্ণের রাশি রাশি ফুল। সরিষা ক্ষেতের নয়নজুড়ানো এ দৃশ্যই এখন চোখে পড়ছে চট্টগ্রামের রাউজানের প্রতিটি এলাকায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছর রাউজানের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখন হলুদ বর্ণে সয়লাভ। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে বিরাজ করছে চওড়া হাসি। অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম হওয়ার পাশাপাশি বাজারে সরিষা তেলের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে দিন দিন সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উপজেলার চিকদাইর, ডাবুয়া, নোয়াজিশপুর, বিনাজুরী, রাউজান, কদলপুর, পশ্চিম গুজরাসহ প্রতিটি ইউনিয়ন ও রাউজান পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের কৃষি জমিতে বেশ কয়েকটি জাতের সরিষা চাষাবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর রাউজানের ১’শ ৪৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষাবাদ হলেও চলতি বছর উপজেলায় ৩’শ ৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় তিনগুণ বেশি। কৃষি বিভাগের মতে,
উপজেলায় এবার ১৫ হাজার ২০০ মেট্রিকটন সরিষা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যা থেকে ৬ হাজার ৩০০ মেট্রিকটন সরিষা তেল উৎপাদন করা যাবে। উৎপাদিত তেলে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাইরে বিক্রি করে আর্থিক লাভবান হবে কৃষকরা ।
উপজেলা কৃষি কর্মকতা ইমরান হোসাইন জানান, প্রতি হেক্টর জমিতে আড়াই টন বা ২ হাজার ৫’শ কেজি সরিষা পাওয়া যায়। এক হেক্টর সরিষার আবাদ থেকে প্রায় এক টনের বেশি বা ১ হাজার লিটারের বেশি তেল উৎপন্ন হয়। প্রতি হেক্টর সরিষা চাষে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভালো হলে এক হেক্টর সরিষার ক্ষেত থেকে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকার উপার্জন সম্ভব। পাশাপাশি গো খাদ্য কিংবা মাছের খাদ্য হিসেবে খৈলের চাহিদা থাকায় খৈল বিক্রি থেকেও বাড়তি উপার্জনের একটা সুযোগ আছে। বাজারে প্রতি কেজি খৈল ৪৫ টাকার বেশী দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সরিষার খড় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, রাউজানের সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর নির্দেশনা মোতাবেক রাউজানে এক ইঞ্চি জমিও যাতে পতিত না থাকে সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। সরিষার আবাদ তারই একটি প্রচেষ্টা।
কৃষক মো. হানিফ মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে ছয় খানি জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। প্রতি খানিতে তার চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হলেও ফলন ভালো হওয়ায় এই মৌসুমে আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা মুনাফার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
কৃষক মো. রফিক জানান, চিকদাইর ইউনিয়নে নিজ সহোদরকে নিয়ে ১০/১২ কানি জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পরামর্শে যথাযথ পরিচর্যার কারণে এ বছর সরিষার প্রত্যাশিত ফলন হয়েছে। বাজারে দাম ভালো থাকায় অধিক মুনাফার স্বপ্ন দেখছেন তারা।
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাদী মোহাম্মদ এমরান জানান, সরিষার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে সরিষা চাষীদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করেছি। এবার সরিষার ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন