খুঁজুন
, ,

সারা দেশে এসএসসি পরীক্ষা শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 30 April, 2023, 10:18 am
সারা দেশে এসএসসি পরীক্ষা শুরু

পুনর্বিন্যাসকৃত সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পূর্ণ নম্বর ও পূর্ণ সময়ে সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। রোববার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ৩ হাজার ৮১০টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

এ বছর সব শিক্ষা বোর্ডে অধীনে ২০ লাখ ৭২ হাজার ১৬৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ১০ লাখ ২১ হাজার ১৯৭ এবং ১০ লাখ ৫০ হাজার ৯৬৬ জন ছাত্রী। এ বছর মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৯ হাজার ৭৯৮টি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে কেন্দ্র ২ হাজার ২৪৪টি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৭ হাজার ৭৮৬টি।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে মোট কেন্দ্র ৭১৬টি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ৮৫টি। কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে মোট কেন্দ্র ৮৫০টি এবং মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২ হাজার ৯২৭টি। এবার মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ২০৭ টি এবং কেন্দ্র বেড়েছে ২০ টি।

এ বছর পুনর্বিন্যাসকৃত সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পূর্ণ নম্বর ও পূর্ণ সময়ে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার সময় সকাল ১০টা এবং শেষ হওয়ার সময় দুপুর ১টা। পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার হলে অবশ্যই প্রবেশ করতে হবে।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের গ্রুপভিত্তিক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৪ জন, মানবিকে ৮ লাখ ২৩ হাজার ৮৮৫ জন ও ব্যবসায় শিক্ষায় ২ লাখ ৮০ হাজার ৮১৬ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।

Feb2
Feb2

মন্ত্রিসভায় রদবদল: এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 August, 2026, 3:59 pm
মন্ত্রিসভায় রদবদল: এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের পরপরই নতুন সরকার ও মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তরে জরুরি রদবদল আনা হয়েছে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে নীতি-নির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকের পর এসব দপ্তর পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে। অন্যদিকে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের সংসদীয় ও প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তার ছেড়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই দ্রুততম সময়ে নতুন এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 August, 2026, 2:56 pm
মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায়। তাদের সফলতার জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে দেশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি আশা করেন, তাদের সফর বাংলাদেশে বিদ্যমান সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা দেবে।

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনিও ব্যবসা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ব্যবসা বিকশিত হওয়ার জন্য সঠিক নীতি ও পরিবেশ প্রয়োজন—এটা তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছয় মাস বয়সী, ভবিষ্যৎমুখী সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাই। আপনাদের সাফল্য নিশ্চিত করতে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং এটি আপনাদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।’

বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য কিছু শক্তিও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বড় ও ক্রমবর্ধমান বাজার, তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান।

তিনি বলেন, সরকার নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, ব্যবসাবান্ধব বাজেট এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিধিনির্ভর ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা, যার মূল চালিকাশক্তি হবে বেসরকারি খাত। এই রূপান্তরের অংশীদার হিসেবে মার্কিন ব্যবসাগুলোকে দেখতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থায়ন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সুযোগ রয়েছে।

মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা এরই মধ্যে বাংলাদেশের অনেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনা বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের আরও ভালো ধারণা দিয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দয়া করে আমাদের পুরো সরকারকে আপনাদের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করুন। আমরা শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে এখানে আছি।’

বিনিয়োগের জন্য আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছে, বিধিবিধান সহজ করছে, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নতি করছে, মুনাফা দেশে-বিদেশে স্থানান্তরের সুযোগ সহজ করছে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাচ্ছে এবং সরকারি সেবাকে ডিজিটাল করছে।

তিনি বলেন, সরকার অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়ন করছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরাসরি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কিংবা পরামর্শক সেবা—যে কোনো উপায়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের কাজে মার্কিন ব্যবসায়ীদের অবদানকে স্বাগত জানানো হবে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই দেশের রপ্তানি-আমদানি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার ব্যাপারে তার সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি অগ্রাধিকার খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা দেওয়া এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ করা নয়; বরং দীর্ঘস্থায়ী ও উভয়ের জন্য লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি মার্কিন ব্যবসায়ীদের আস্থার সঙ্গে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াই এবং আপনাদের কোম্পানিগুলোর সমৃদ্ধ উপস্থিতি নিশ্চিত করি। আসুন, আমরা একসঙ্গে প্রবৃদ্ধি অর্জন করি এবং একটি সমৃদ্ধ, প্রতিযোগিতামূলক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফল সফর কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সহযোগিতার জন্য তার সরকার সম্ভাব্য সব উপায়ে সহায়

অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 August, 2026, 2:05 pm
অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও

চট্টগ্রামের লালদীঘি জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ব্যাংকের ভাষায়, বিপুল এই অর্থের ‘ঘাটতি’ পাওয়া গেছে। টাকা বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের বলে জানিয়েছে ব্যাংক। এ ঘটনায় করা মামলায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন মো. জাফরুল্লাহ তানভীর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এদিকে প্রশ্ন উঠেছে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা যদি সত্যিই ভল্ট থেকে সরানো হয়ে থাকে, তাহলে এত বিপুল অর্থের ঘাটতি এক বছরের বেশি সময় ধরে ধরা পড়ল না কেন? প্রতিদিনের ক্যাশ ও ভোল্টের হিসাব কে যাচাই করতেন? শাখা ব্যবস্থাপনার তদারকি কোথায় ছিল?

কোতোয়ালি থানায় করা মামলার নম্বর ২২/৪৩৮। এতে দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ (৫৮)। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন। কামরুল হোসেন ওই শাখার ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন।

গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে সংরক্ষিত নগদ অর্থের হিসাব মেলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে। পরবর্তী হিসাব-নিকাশ, ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায় বলে এজাহারে
উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, কামরুল হোসেনকে ঘাটতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। পরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় তিনি ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।

মামলার দ্বিতীয় আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ ব্যাংকের এজাহারে থাকা বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, আমার ছেলে কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নয়। সে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসা করে। অথচ তাকে ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমার ছেলের কাছে এত টাকা দেওয়ার কোনো ব্যাংক রেকর্ড বা প্রমাণও দেখানো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে আমার স্ত্রীর মোবাইলে ব্যাংক থেকে ফোন করে বলা হয়, আমার ছেলে লালদীঘি ব্যাংকে আটক আছে। টাকা নিয়ে যেতে বলা হলেও কীসের টাকা, কত টাকা— কিছুই পরিষ্কার করে বলা হয়নি। আমার ছেলেকেও ফোনে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এর আগে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনই অন্যদিনের মতো আমার ছেলেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যান। রাতেই আমরা সাত-আটজন আত্মীয়স্বজন নিয়ে ব্যাংকে যাই। কিন্তু ব্যাংকের লোকজন আমাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। পরে আমরা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে ওসিকে বিষয়টি জানাই। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাত আনুমানিক ২টার দিকে আবার ব্যাংকে গেলে প্রথমে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে পুলিশ কৌশলে ব্যাংকে প্রবেশ করে আমার ছেলেসহ কামরুল হোসেনকে থানায় নিয়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার। ব্যাংকের ভল্টে যদি ১ জুন ২০২৫ থেকে ৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন বিষয়টি ব্যাংকের নিয়মিত হিসাব ও তদারকিতে ধরা পড়েনি কেন? তাদের দাবি, একটি ব্যাংকের দৈনন্দিন লেনদেন শেষ হওয়ার পর ক্যাশ ও ভল্টের হিসাব মেলানোর নিয়ম রয়েছে। তাহলে এক বছরের বেশি সময় ধরে এত বড় অঙ্কের অর্থের ঘাটতি কীভাবে অজানা থাকল— এ প্রশ্নের উত্তরও তদন্তে বের করা প্রয়োজন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামি কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।