খুঁজুন
, ,

এশিয়ার ‘আয়রন লেডি’ শেখ হাসিনা : দ্য ইকোনমিস্ট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 25 May, 2023, 8:45 pm
এশিয়ার ‘আয়রন লেডি’ শেখ হাসিনা : দ্য ইকোনমিস্ট

বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকা নারী সরকারপ্রধান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমনকি নারী ও পুরুষ সরকারপ্রধানদের মধ্যেও তিনি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যদের একজন। দুই দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা বাংলাদেশের এই সরকারপ্রধান ১৭ কোটি মানুষের দেশের দারিদ্র্য বিমোচনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার ক্ষমতার মেয়াদের বেশিরভাগ সময়ে দেশের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ রয়েছে।

৭৫ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী তার দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সবমিলিয়ে মোট চারবার ক্ষমতাসীন হয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে তার নেতৃত্বেই পরপর তিনটি নির্বাচনে জয়লাভ করেছে দলটি। যা ইন্দিরা গান্ধী বা মার্গারেট থ্যাচারের ক্ষমতার চেয়েও বেশি।

আগামী বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনেও তিনি জয়ী হবেন বলে আশা করছেন। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার হোটেল স্যুটে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে ব্রিটেনের বিখ্যাত সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ নিয়ে তার স্বপ্ন ও উচ্চাশার বিষয়ে জানতে চেয়েছিল ব্রিটিশ এই সাময়িকী। বুধবার (২৪ মে) ‘এশিয়ার লৌহ মানবী শেখ হাসিনা’ শিরোনামে সেই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে দ্য ইকোনমিস্ট।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি এই দেশকে একটি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ করতে চাই।’ তারপর ভয়াবহ ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কী ভাবতে পারেন, তারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে?’

ইকোনমিস্ট বলছে, তার বাবা ও বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কাছ থেকে দেশটির রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা লাভের চার বছর পর ১৯৭৫ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন। তার ১৭ জন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় খুন হয়েছিলেন। সেই সময় শেখ হাসিনা ইউরোপে থাকায় বেঁচে যান।

‘তারা আমার ভাইকে, আমার মাকে, আরেক ভাইকে হত্যা করেছে— মাত্র দশ বছর বয়সী! আমার দুই বোন জামাই, আমার একমাত্র চাচা একজন প্রতিবন্ধী তাকেও হত্যা করেছে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী। এসব কথা বলার সময় তার চোখ অশ্রুতে ভিজে যায়।

তার উপদেষ্টারা এই সাক্ষাৎকারগ্রহণকারী ইকোনমিস্টের প্রতিবেদককে সেই দীর্ঘকাল আগের ট্র্যাজেডি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করতে বলেছিলেন। প্রতিবেদক সেটি না করলেও শেখ হাসিনা তা তুলে ধরেন।

কোনও রাজনীতিকই সমালোচনা পছন্দ করেন না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের অন্যান্য সব সরকারের চেয়ে ব্যতিক্রম বলে ইঙ্গিত দেন। দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তার বাবার স্থলাভিষিক্ত হওয়া সামরিক সরকারকে দায়ী করেন। একই সঙ্গে তার সরকারের সদস্যদের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি প্রকল্পের অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার ঘটনায় বিশ্বব্যাংককে অভিযুক্ত করেন। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির যে অভিযোগ তুলেছিল, সেটির কোনও অস্তিত্ব নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

দুর্নীতির বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, হয়তো নিচের স্তরে আছে। তবে আজকাল তেমন নাই। তারা দুর্নীতির সাহস করলে আমি ব্যবস্থা নেব!

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় আফগানিস্তানের পরই আছে বাংলাদেশ। তালেবানের উত্থানে এই অঞ্চলে এখন সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ আফগানিস্তান। শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার আগে আওয়ামী লীগ এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মধ্যে বারবার ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। বর্তমানে খালেদা জিয়া গৃহবন্দী রয়েছেন। তার দলের কর্মী-সমর্থকরাও ভীত।

আগামী নির্বাচন বিএনপিকে ফেরার পথ দেখাবে কি না, সেটি পরিষ্কার নয়। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সুষ্ঠু ভোটের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে কেবল ‘প্রকৃত রাজনৈতিক দলকেই’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি দেওয়া উচিত এবং তার বিরোধীরা নির্বাচনী মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না।

তিনি অর্ধশতাব্দী আগে সেনাশাসনের অধীনে গঠিত বিএনপিকে ‘একজন সামরিক শাসক কর্তৃক অবৈধভাবে গঠিত’ রাজনৈতিক দল বলে অভিযোগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, পাকিস্তানের সাবেক মিত্র দেশের সবচেয়ে বড় একটি ইসলামি দল; যাদের প্রায় সবাই যুদ্ধাপরাধী। আমাদের বক্তব্য হল, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ছাড়া এমন কোনও দল নেই, যারা সত্যিই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।

ইকোনমিস্ট লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর কব্জায় থাকার কারণে বাংলাদেশ সম্ভবত কিছুক্ষেত্রে উপকৃতও হচ্ছে। তবে তা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার স্পষ্টতই খুব বেশি বাড়ায়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আসার আগেই এই প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পেয়েছিল। পূর্বের বিদ্যমান বিভিন্ন অবকাঠামো ও অন্যান্য উপাদানের কল্যাণে তা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো পণ্য: যেমন দেশের পোশাক শিল্প এবং অভিজাত এনজিওগুলোর সরবরাহ করা সেবা। তারপরও তিনি দেশের অবকাঠামো বিনিয়োগসহ বিভিন্ন নীতিমালা তৈরি করেছেন; যা প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।

তবে বাংলাদেশের আয় কমে গেছে। পোশাকের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল বাংলাদেশকে নতুন রপ্তানির বিকাশ ঘটানো দরকার। আর এর আগে এই বাস্তবতা দেশটির সরকার খুব কমই মোকাবিলা করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ হস্তশিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের বিকাশের দিকে নজর দিচ্ছে। তবে এটি এক অপর্যাপ্ত সমাধান বলে লিখেছে ইকোনমিস্ট।

ব্রিটিশ এই সাময়িকী বলছে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র হয়তো একসময় শেখ হাসিনাকে সতর্ক করেছিল। এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ বাংলাদেশে চীনের স্থান করে নেওয়া। বাংলাদেশের সরকার বিনিয়োগের জন্য চীনকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে শেখ হাসিনার। তারাও একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই তিন শক্তির সাথে সম্পর্ক ঢেলে সাজাতে পারদর্শী বলে মনে হয়। বাস্তববাদী হওয়ায় এটি তার একটি সফলতা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমেরিকা এবং চীনের সম্পর্ক তাদের নিজেদের ব্যাপার। আমি কেন সেখানে নাক গলাবো?’ এরপর আমেরিকার সমালোচনা করেন তিনি। কারণ এই দেশটি এক সময় খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা বলে, তারা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র… কিন্তু আমাদের দেশে তারা এর চর্চা করে না। কেন তারা আমাকে সমর্থন করে না?’

ইকোনমিস্ট লিখেছে, শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এক সাহসিকতার গল্প। এর মধ্যে কিছু তার নীতিগত সাফল্য, যা তিনি দাবি করতে পারেন।

ব্রিটিশ এই সাময়িকী বলছে, শেখ হাসিনার সরকারের সর্বশেষ পরিকল্পনার শিরোনাম হল ভিশন-২০৪১। তবে তিনি এটি দেখতে পারবেন না বলে স্বীকার করেছেন। ক্ষমতায় তৃতীয় দশক পেরিয়ে গেলেও উত্তরাধিকার পরিকল্পনা তার অ্যাজেন্ডায় নেই বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘কারণ আমি যদি না থাকি… তাহলে কে ক্ষমতায় আসবে, তা আমি জানি না।’

Feb2
Feb2

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকের সচেতনতাই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার মূল শক্তি: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 5:26 pm
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকের সচেতনতাই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার মূল শক্তি: মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণই একটি পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত, সবুজ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার মূল শক্তি। পরিচ্ছন্নতা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়, এটি একটি জীবনাচরণ| তাই প্রতি শনিবার নিজের বাসা, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি পরিবার ও বিদ্যালয় থেকেই শুরু করতে হবে।

আজ ২৫ জুলাই শনিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম, পরিচ্ছন্ন শহর, সবুজ নগর, প্রফুল্ল মন, সুস্থ জীবন’-এ প্রতিপাদ্যে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ চট্টগ্রাম গড়ার প্রত্যয়ে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালির উদ্বোধন পরবর্তী প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এরপর জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিন্ন ব্যানার, টি-শার্ট ও টুপি পরিধান করে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে শুরু হয়ে কাজির দেউরী, নেভির মোড়, অফিসার্স ক্লাব, র‌্যাডিসন ব্লু মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনঃরায় সার্কিট হাউসে এসে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয় ব্যক্তি ও পরিবার থেকে। তাই প্রতিটি নাগরিক যদি সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজের বাসা, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তোলেন, তাহলে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা অনেক সহজ হবে| তিনি বলেন, সরকারি সংস্থার একার পক্ষে নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়; এ জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ বর্তমানে জন স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ রোগ প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে সাধারণ জনগণের সচেতনতা সৃষ্টি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি| আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে| কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে, কারণ জমে থাকা পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| এ ধরনের কর্মসূচি শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে| সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে এ ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান বিভাগীয় কমিশনার|

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলী, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ।

বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল সার্জনের কার্যালয়সহ সকল সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকতা-কর্মচারীগণ র‌্যালিতে অংশ নেন।

কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সকল প্রতিষ্ঠান একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন| ভবনের ছাদ, ড্রেন, বাগান, জলাধার, অব্যবহৃত স্থান ও সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার করার পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এদিকে সকাল ১১টায় কোর্ট হিলস্থ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উদ্যোগে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পৃথকভাবে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এসময় বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আঙ্গিনা ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভবনের ছাদে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারগণ, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এডিএম, সকল এডিসি, সিনিয়র সহকারী কমিশনার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণসহ কর্মচারীরা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।

এছাড়া পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে চলমান ও টেকসই করতে প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত একদিন সকল সরকারি দপ্তর, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানানো হয়।

চট্টগ্রাম জেলা, মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বায়েজিদে নালায় মিললো বিপুল সংখ্যক ‘বুলেট’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 5:07 pm
বায়েজিদে নালায় মিললো বিপুল সংখ্যক ‘বুলেট’

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ বাংলা বাজার এলাকায় একটি নালা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় প্রায় দেড় হাজার বুলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১২০টি বড় আকারের এবং ১ হাজার ২০০টির বেশি ছোট আকারের বুলেট রয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে বাংলা বাজার এলাকায় বিএসআরএম কারখানার ৫ নম্বর গেটসংলগ্ন নালা থেকে এসব বুলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া বড় বুলেটগুলো একে-৪৭সহ ভারী অস্ত্রে ব্যবহৃত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বুলেটগুলোর ধরন ও উৎস নিশ্চিত হতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নালা পরিষ্কারের সময় একটি বস্তা দেখতে পান। পরে বস্তাটি খুলে বিপুল পরিমাণ বুলেট দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি বুলেটগুলো জব্দ করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘শেরশাহ বাংলা বাজার এলাকায় বিএসআরএম কারখানার পাশের একটি নালা থেকে বস্তাবন্দি বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২০টি বড় এবং ১ হাজার ২০০টির বেশি ছোট বুলেট রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে এসব বুলেট সেখানে রেখে গেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পটিয়ায় দুর্গম পাহাড়ে ডিবির অভিযান, ৪ আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক ২

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 4:55 pm
পটিয়ায় দুর্গম পাহাড়ে ডিবির অভিযান, ৪ আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক ২

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পটিয়া থানার কেলিশহর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান চালানো হয়।

যারা আটক হয়েছেন তারা হলেন— পটিয়ার কেলিশহর ইউনিয়নের ইন্নারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন (৫৪) ও মো. মহসিন (৩৩)।

শনিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, জেলা ডিবির একটি দল প্রথমে কেলিশহর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইন্নারপাড়ায় দেলোয়ার হোসেনের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ছয়টি কিরিচ, পাঁচটি রামদা, একটি দামাদা, একটি লোহা কাটার এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

এরপর একই এলাকার ছাতিভাঙা আফছারের গাছবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুকিয়ে রাখা দুইটি একনলা বন্দুক ও দুইটি দেশীয় এলজি উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল জানান, উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রগুলো বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগী, অস্ত্রের উৎস এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসী চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।