খুঁজুন
, ,

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রভূত উন্নতি করেছে: মহাপরিচালক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 18 June, 2023, 5:39 pm
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রভূত উন্নতি করেছে: মহাপরিচালক

সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান বলেছেন, ভূমিকম্প ও দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জন করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। বাংলাদেশের দুর্যোগ সহনশীল সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমন্বিত উদ্যোগে কাজ শুরু করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশকে দুর্যোগ সহনশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রভূত উন্নতি করেছে। তবে এখানে থেমে থাকলে হবে না। এটা চলমান প্রক্রিয়া। দুর্যোগ প্রতিরোধের বিষয়ে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। কখন কোথায় কিভাবে দুর্যোগ আসবে, তা অনেক ক্ষেত্রেই জানার উপায় নেই। ভূমিকম্প থেকে জানমাল রক্ষায় ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড মেনে পাকা বিল্ডিং ও মার্কেট নির্মাণ করতে হবে এবং পাকা স্থাপনার চর্তুদিকে চলাচলের জায়গা, অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে ওয়াটার হাইড্রেন্ট ও ফায়ার ইস্টিংগুইসার রাখতে হবে।

আজ রোববার (১৮ জুন) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সভার আয়োজন করেন।

মহাপরিচালক বলেন, সরকারের যে কয়টি মন্ত্রণালয়কে গুরুত্বের দিক থেকে ওপরের দিকে রাখা হয়, এর মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অন্যতম। দুর্যোগের সঙ্গে মানুষের প্রাণ ও সম্পদসহ অনেক কিছু জড়িত। তাই এ বিষয়ে মানুষের বেশি বেশি জানার প্রয়োজন আছে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও ডেল্টাপ্ল্যান ২১০০ ঘোষণা করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ একসময় দুর্যোগের দুর্নামমুক্ত হবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট কাজ করছেন ও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছেন। দুর্যোগ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের মাঝে জানান দিতে পারলে তারা এ বিষয়ে আরও সচেতন হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ আমিনুর রহমান এনডিসি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ হাসান সরওয়ার, প্রকল্প পরিচালক (ইউআরপি-ডিডিএম পার্ট) ড. এটিএম মাহবুব-উল করিম (যুগ্ম সচিব) ও পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) প্রবীর কুমার রায়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোঃ আনোয়ার পাশা।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক কাজী নাজিমুল ইসলাম, সিএমপি’র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদ, বাংলা সড়ক পরিবহন মালিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুল মান্নান, কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের প্রতিনিধি লেঃ তাকিউল আহসান, ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোঃ আবদুল হালিম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী কে.এম জুলফিকার তারেক, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শাহিনা সুলতানা প্রমূখ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান তিনি বলেন, বিশ্বের যে ক’টি দেশ জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকিতে রয়েছে, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ২০০ মিলিয়ন অর্থাৎ ২০ কোটি লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।জনসংখ্যা বৃদ্ধি, পরিবেশ দূষণ, জলবায়ুর পরিবর্তন, দরিদ্রতা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বর্তমানে বাংলাদেশের জনগণ আগের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও আত্মনির্ভরশীল। ইতোমধ্যে সরকার ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অগ্রাধিকার দিয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি বাস্তায়ন শুরু করেছে। পাশাপাশি দুর্যোগকালে ও দুর্যোগের পরে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যেমন, আহতদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা দেয়া, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং জরুরি খাদ্য-বস্ত্রের ব্যবস্থা করাসহ সফলভাবে দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আজ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন খারাপের দিকে যাচ্ছে। গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ বাড়ছে, এটা বাড়বে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন বাড়ছে। সময়ে বৃষ্টি না হয়ে অসময়ে হচ্ছে। খরা বাড়ছে। এসব কারণে ফসলের উৎপাদন কমছে। টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধুর দর্শন ধারণ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর দর্শন হচ্ছে-দারিদ্র্য দূরীকরণ। টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উন্নতি সবাইকে নিয়ে করতে হবে।

তারা বলেন, জেলেরা ওয়ার্নিং না বুঝার কারণে ঝুঁকির সময়ও নদীতে চলে যায়। দুর্যোগ প্রতিরোধে তাদেরকে সচেতন করতে হবে। দুর্যোগ প্রতিরোধে মানুষের সক্ষমতা, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে সরকার খুবই আন্তরিক।

সভায় জানানো হয়, তবে দুর্যোগ মোকাবিলায় বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশ বেশ সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশে ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের ‘গোর্কি’ নামের ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৫ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। ভেসে যায় লাখ লাখ গবাদি পশু ও আবাদি ফসল। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়টি প্রায় এক লাখ আটত্রিশ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। এছাড়া এক কোটি মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১০ লাখ ঘর-বাড়ি। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’-এ সাড়ে তিন হাজার মানুষ মারা যায়। ঝড়ের প্রভাবে প্রায় ৯ লাখ ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং ২১ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়। ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝয় ‘আইলা’ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ ও ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাংশে আঘাত হানে। আইলায় কমপক্ষে তিন লাখ পরিবার ঘর-বাড়ি হারান। প্রায় দু’শ মানুষ মারা যায়। এ ঝড়ে দক্ষিণাঞ্চলে লবণ পানি প্রবেশ করায় পানীয় জলের তীব্র সংকট তৈরি হয়, যে সংকট এখনও কাটেনি। এছাড়া, ২০১৩ সালের ১৪ মে ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আঘাতে কমপক্ষে ৫০ জন, ২০১৬ সালের ২১ মে’র ঘূর্ণিঝয় ‘রোয়ানু’র আঘাতে ২৪ জন, ২০১৭ সালের ৩০ মে’র ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র আঘাতে ৬ জন, ২০১৯ সালের ৩ মে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র আঘাতে ৯ জন, ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর ‘বুলবুল’র আঘাতে ২৪ জন প্রাণ হারায় এবং সাম্প্রতিক ২৫ মে আঘাত হানা ‘ইয়াস’র আঘাতে প্রাণহানি খুবই নগণ্য। তবে সবগুলো ঝড়েই ফসল এবং কাঁচা বাড়ি-ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

Feb2
Feb2

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মোচন করবে ফ্যাসিবাদের মুখোশ: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 5 August, 2026, 12:38 pm
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মোচন করবে ফ্যাসিবাদের মুখোশ: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মোচন করবে ফ্যাসিবাদের মুখোশ। আজকের দিন বাংলাদেশের যুগান্তকারী গণতান্ত্রিক ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। নতুন দেশ গড়তে নতুন যাত্রাপথ রচনা করবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সম্বলিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে গুম, খুন, অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। দেড় দশকের নৃশংসতা শুধুমাত্র স্বাধীনতা পরবর্তী দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা চলে।’

জুলাই জাদুঘরে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকা জরুরী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই জাদুঘর জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা সাহস, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।

এ সময় তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা তৈরি করছে। এতে নিজেদের অজান্তেই পরাজিত স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছে কিনা ভেবে দেখা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শহিদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস জুলাই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, ২৪ গণঅভ্যুত্থান দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। মুক্তিযুদ্ধের মতো চব্বিশের শহিদদের কখনো ভুলবে না দেশের জনগণ।’

বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপরাধীদের বিচার হবে। আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্যই প্রতিটি বিচার হওয়া জরুরি।’

জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আহতদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ৫০ জুলাইযোদ্ধাদের বিদেশে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ১৩ হাজারের বেশি জুলাইযোদ্ধাদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। জুলাইযোদ্ধাদের সহায়তার বিষয়ে সরকার আন্তরিক।’

দেশ আর কখনো তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৩১ দফার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে সরকার।’

এ সময় গণতন্ত্র ও জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 5 August, 2026, 12:00 pm
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাদুঘরের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ জাদুঘরটি বিশেষ অতিথি ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি, সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারক পরিদর্শন করেন।

জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকবে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এই জাদুঘর উদ্বোধনের কথা জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ জনগণের জন্য এটা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক জুলাই গণঅভ্যুত্থান-এর গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারকে ৮ লক্ষ টাকা দিলেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 4 August, 2026, 9:43 pm
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারকে ৮ লক্ষ টাকা দিলেন মেয়র

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রামের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম জিয়া স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রামের আহ্বায়ক দিলশাদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের যুগ্ম মহাসচিব, কবি ও অভিনেতা এবিএম সোহেল রশিদ, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক জাহিদুল করিম কচি এবং সদস্য সচিব ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস এম নছরুল কদির।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তার নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতি পরিবারকে এক লক্ষ টাকা করে আটটি পরিবারকে ৮ লক্ষ টাকা প্রদান করেন।

পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান, কবিতা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

মেয়র তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। যারা দেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের অবদান কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়। তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, আত্মত্যাগ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও চেতনা তুলে ধরতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান বক্তা তার বক্তব্যে বলেন, সাংস্কৃতিক ফ্যাসিস্টরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যেকোনো মূল্যে তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে

এসময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক খন্দকার বেলায়েত হোসেন, প্রিন্সিপাল মো. শাহ আলমগীর, বিএনপি নেতা গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, ডা. মোহাম্মদ ঈসা চৌধুরী, ডা. জুবায়ের আল মাহমুদ, ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান, তৌহিদুল ইসলাম রানা, ফৌজিয়া শারমিন সম্পা ,ডা. হারুন, নাদিয়া তাসনিম নিপা, সায়মন, শিহাব রিয়াদ, রিয়াদ মাহমুদ, আশরাফুল ইসলাম টিটু, ইলিয়াস ইলু, এস আই জুয়েল , মোহাম্মদ ফোরকান, ডা. রায়হান, অভি প্রমুখ।