খুঁজুন
, ,

‘পিজিআর প্রতিষ্ঠা বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী চিন্তার বহিঃপ্রকাশ’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 4 July, 2023, 5:47 pm
‘পিজিআর প্রতিষ্ঠা বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী চিন্তার বহিঃপ্রকাশ’

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, দায়িত্বের পরিধি বৃদ্ধি, সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড সদস্যদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় রেজিমেন্ট একটি সুশৃঙ্খল, পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। পিজিআর প্রতিষ্ঠা বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী চিন্তা-চেতনা একটি বহিঃপ্রকাশ।

মঙ্গলবার (৪ জুলাই) প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এই ঐতিহ্যবাহী রেজিমেন্টের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন গ্রহণ করুন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগের বিনিময় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট বর্তমান পর্যায়ে এসেছে, তাদের প্রতিও রইল আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা।’

তিনি বলেন, ‘গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বিনম্র চিত্তে স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকদের বুলেটের আঘাতে নির্মমভাবে নিহত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলতুন্নেসা মুজিবসহ পরিবারের শহীদ সদস্যদের। সশস্ত্র চিত্তে স্মরণ করছি, মুক্তিযুদ্ধে আত্ম উৎসর্গকারী বীর শহীদদের, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করছি, জাতীয় চার নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন ও বিদেশি বন্ধুসহ সব স্তরের জনগণকে। যারা আমাদের অধিকার আদায় ও মুক্তি সংগ্রামে অসামান্য অবদান রেখেছে। সহযোগিতা জানিয়ে আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সব খাতের উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ও গুরুত্ব আরোপ করেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ন রাখতে বঙ্গবন্ধু দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বাহিনীর উন্নয়ন ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষায়িত রেজিমেন্ট হিসেবে ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন।

‘বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে দেশের মতো আমাদের দেশেও জীবনযাত্রা এবং জীবনব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিব শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানেও নিষ্ঠার দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। গৌরবময় দুটি অনুষ্ঠানে আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশের অনেক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা যোগ দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণ জয় মুজিব শতবর্ষের উদযাপনকে মহিমান্বিত করেছেন। বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বলতার অনন্য আসনে উন্নীত করেছেন আপনারা। এসব অনুষ্ঠান আয়োজনে অন্যান্য সংগঠনের পাশাপাশি আপনাদেরও রয়েছে প্রশংসনীয় অবদান। করোনা মহামারিকালে বিদেশি অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আপনাদের প্রচেষ্টা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও প্রশংসিত হয়েছে।’

‘আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব একদিকে যেমন গৌরবময়, তেমনি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। আপনাদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে ভিআইপিদের অর্থাৎ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সর্বাত্মক সমন্বিত নিশ্চিত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে নিরাপত্তার সঙ্গে সঙ্গে এই ভিআইপিদের জনসংযোগের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। মনে রাখতে হবে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নয়, বরং জনসম্পৃক্ততার অব্যাহত রেখে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা আপনাদের কৃতিত্ব।’

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘বিশ্বায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান যুগে এই ভিআইপিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে, আপনাদের ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুগ উপযোগী প্রশিক্ষণ ও কৌশল মতো উৎকর্ষ অর্জন করতে হবে। পিজিআরের প্রতিটি সদস্যকে হতে হবে আরও চৌকস ও দক্ষ। পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারেন। দায়িত্বের গুরুত্ব ও পরিধি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সাংগঠনিক কাঠামো বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাহিত্যের ব্যাপকতা বিবেচনা করে এই রেজিমেন্টকে আরও সুসংহত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমি আশা করব, আপনারা চেইন অব কমান্ডের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল থেকে আপনাদের ওপর অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করবেন। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের মান ও সক্রিয়তা বজায় রেখে রেজিমেন্টের অর্জিত গৌরব সমন্বিত রাখবেন।’

‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেওয়াই গার্ডসের লক্ষ্য। এ মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে আপনাদের দায়িত্ববোধ পেশাগত উৎকর্ষ, দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার জন্য প্রশংসিত। একাগ্রতা, শৃঙ্খলা বোধ এবং সর্বোপরি কর্তব্যের প্রতি সচেতনতা ও দক্ষতা আপনাদের অন্যদের থেকে স্বাতন্ত্র্য করে তুলবে। আমি আশা করি, আপনাদের দীপ্ত ও কর্তব্য নিষ্ঠা এবং সার্বক্ষণিক সতর্কতা বাহিনীর ভবিষ্যৎ পথ চলাকে আরও গৌরবময় করে তুলবে।’

‘প্রেসিডেন্ট গার্ডস অব রেজিমেন্ট আমাদের গর্বের সেনাবাহিনী নিয়ে গঠিত একটি বিশেষায়িত অংশ। যেখানে আমি আমাদের চৌকস সেনাবাহিনীর প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনীর সুনাম আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুবিধিত। আমাদের সেনাবাহিনী জাতীয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিষ্ঠা ও সফলতার সঙ্গে পালন করতে সক্ষম হবে, এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনারা মনে রাখবেন- দেশ ও জাতি আপনাদের ওপর যে মহান দায়িত্ব অর্পণ করেছে, সে দায়িত্ব পালনে যেকোনো আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে আপনাদের চিরস্মরণীয় করে রাখবে। আমি এই রেজিমেন্টের সব শহীদ ও প্রয়াত সৈনিকদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সুযোগ্য নেতৃত্ব, সঠিক দিকনির্দেশনা পেশাগত দক্ষতা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা আপনাদের প্রিয় রেজিমেন্টকে উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যাবে। ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এ কামনা করি, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আমার এই প্রার্থনা মহান আল্লাহ যেন আপনাদের সহায় হন।’

Feb2
Feb2

নেপালে শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ নিখোঁজ ৪০০, নিহত ৫৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 7:59 pm
নেপালে শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ নিখোঁজ ৪০০, নিহত ৫৫

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ৪০০ জন পর্যটক নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ট্যুরিজম বোর্ডের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জনই বিদেশি নাগরিক। ১০৫ জন ভারতীয় এবং ১১১ জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনাক্ত হওয়া বাকিদের মধ্যে নেপালের স্থানীয়, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের নাগরিক আছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রাত সাড়ে ৭টার পর বার্তা সংস্থা রয়টার্স ৫৫ জন নিহতের তথ্য দিয়েছে। নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত বাড়ছে। এই বন্যায় প্রতিবেশী তিব্বতেও ‘ব্যাপক হতাহতের’ খবর দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি। দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতে কৈলাস মানসসরোবরে যাওয়া প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

বুধবার ভোরে আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুওয়া জেলায় চীন সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, হিমালয় ঘেঁষা চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় সকালে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর শুরু হয় তুষারধস। সেখান থেকে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। শিশির খানাল জানান, তাঁর দেশ চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ২৬ পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সামরিক সদস্য নিখোঁজ আছেন।

এদিকে দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজন ভক্ত কায়স্থ জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, তুষারধস লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দিলে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। একই সময় ভূমিকম্পও অনুভূত হয়।

নেপাল পুলিশ ও এএফপির প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, নদীর প্রবল স্রোত আশপাশের বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কাদামাটির মধ্যে একটি বাড়ির শুধু ওপরের তলা বেরিয়ে আছে। নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তারা হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্যদের পাঠিয়েছে।

জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। বেশ কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ হয়ে গেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, নেপালের অংশে বন্যার কারণে তিব্বতের গিরং বন্দরে ব্যাপক হতাহত ও বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এসব প্রতিবেদনে তিব্বতে আহত বা নিহতের সংখ্যা জানানো হয়নি।

বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 6:24 pm
বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব পণ্যের অনুকূলে দেওয়া বিএসটিআই লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য না কেনার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

আজ বুধবার বিএসটিআই জানিয়েছে, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে বেশ কিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হয়।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি। পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে তা ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারি পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান অনুযায়ী অকৃতকার্য হয়েছে। এসব মসলায় মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েলের তালিকায় রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।

পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন মহাপরিচালক।

জুলুসে জনসমুদ্র চট্টগ্রাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 2:35 pm
জুলুসে জনসমুদ্র চট্টগ্রাম

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে জশনে জুলুস। ৫৫তম জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দিয়েঠেন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। সঙ্গে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ)।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঐতিহ্যের জশনে জুলুস শুরু হয়।

ভিড় পেরিয়ে সেই জুলুস অপরপ্রান্ত টাইগারপাসে পৌঁছে দুপুর সাড়ে ১২টায়। এ সময় আকাশ মেঘে ছেয়ে যায়, ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি শুরু হয়।

বৃষ্টিতে ভিজেই হুজুর কেবলার গাড়ি অনুসরণ করে জুলুস। আবার একই পথে ফিরে যায় জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে।

জুলুস অংশগ্রহণকারী ও পথচারীদের পানি, শরবত, খেজুর, কলা, বিরিয়ানি বিতরণ করছেন বিভিন্ন সংগঠন ও আগ্রহী মানুষেরা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাইরে প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক জলুসের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলুস চলাকালে লালখান বাজার-মুরাদপুর ফ্লাইওভার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ছিল।

জুলুসের কারণে বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে বাস, ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেলে আশেকরা আসেন নগরে। স্বাভাবিকভাবেই কিছু সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম নগরে এ জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

পীর আল্লামা সাবির শাহ বলেন, প্রিয় নবীর আগমনে খুশি উদযাপন করা কোরআন, হাদিস দ্বারা স্বীকৃত। আল্লাহ নেয়ামত প্রাপ্তিতে আনন্দ তথা ঈদ উদযাপন করতে বলেছেন। তাই সর্বকালের, সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (দ) প্রত্যেক সৃষ্টির জন্য নেয়ামত। জশনে জুলুস এমন একটা কর্মসূচি যেখানে শরীয়ত বিরোধী কোনো কাজ হয় না। কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসুল (দ) পাঠ, রাসুলের সীরাত আলোচনা হয় এখানে। তাই ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার।

জুলুসে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এডিশনাল সেক্রেটারি আলহাজ শামসুদ্দিন, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীন, ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মাহমুদ নেওয়াজ, মহিউদ্দিন খোকনসহ গাউসিয়া কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।