খুঁজুন
রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৮ মিলিয়ন রুপির বাণিজ্য প্রথম দিনে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ জুলাই, ২০২৩, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
২৮ মিলিয়ন রুপির বাণিজ্য প্রথম দিনে

বৈদেশিক বাণিজ্যের মুদ্রা বহুমুখীকরণের নতুন যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে রুপিতে বাণিজ্যিক লেনদেন।

মঙ্গলবার (১১ জুলাই) প্রথম দিন ২৮ মিলিয়ন রুপির আমদানি-রফতানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার মধ্য দিয়ে নতুন এ যাত্রার লেনদেন শুরু হয়েছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর বাংলাদেশ থেকে প্রথম রুপিতে রফতানি চালান পাঠায় বগুড়ার তামিম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। রফতানি চালানের মূল্য ছিল ১৬ মিলিয়ন রুপি। এই আমদানির ঋণপত্র খুলে ভারতের আইসিআইসিআই ব্যাংক। আর রফতানিকারকের ব্যাংক ছিল স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) বাংলাদেশ শাখা।

এদিকে রুপিতে দেশে প্রথম আমদানি করেছে নিটল-নিলয় গ্রুপ। আমদানি চালানের মূল্য ১২ মিলিয়ন রুপি। আমদানির ঋণপত্র খুলে এসবিআই এর ঢাকা অফিস।

আমদানি ও রফতানির চালানগুলো হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক এবং ভারতের স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও আইসিআইসিআই ব্যাংক।

মঙ্গলবার (১১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক রুপির বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন।

এর আগে সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বা আমদানি-রপ্তানিতে ভারতীয় রুপির লেনদেনের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাসহ দুই দেশের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেজবাউল হক জানান, এতদিন ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে টাকাকে ডলার এবং ডলার থেকে রুপিতে ট্রান্সফার করে কার্যক্রম চালানো হতো। ভারতের সঙ্গে রুপিতে আমদানি-রপ্তানি উদ্বোধনের ফলে এখন থেকে টাকা থেকে সরাসরি রুপিতে ট্রান্সফার করে লেনদেন হবে। ফলে টাকা থেকে ডলার আবার ডলার থেকে রুপিতে ট্রান্সফারে যে ট্রানজেকশন ফি দিতে হতো তা থেকে অব্যাহতি পাবেন ব্যবসায়ীরা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ২০২২ সালের ১১ জুলাই ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আহ্বানে ২২টি দেশ তাদের সঙ্গে রুপিতে লেনদেনে সম্মত হয়। লেনদেন শুরু করে ১৮টি দেশ। আমরা ১৯ তম দেশ হিসেবে তাদের সঙ্গে রুপিতে লেনদেন শুরু করলাম। ভারতের সঙ্গে আমদানি ও রপ্তানিতে বিপুল অঙ্কের পার্থক্য রয়েছে। ফলে এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার সম্ভবনা কম। তবে দুই দেশের মধ্যে যেহেতু রুপির মাধ্যমে পারস্পরিক লেনদেন শুরু হয়েছে, ধীরে ধীরে বাংলাদেশের রপ্তানিও বৃদ্ধি পাবে। তখন ভারতের মতো বাংলাদেশও লাভবান হতে পারবে।

টাকা ও রুপির মধ্যে বিনিময় হার নির্ধারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, দুই দেশের ডলারের বিনিময় হারের গড়কে ভিত্তি ধরে রুপির বিনিময় হার নির্ধারণ করা হবে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি আরও জানান, ভারতের সঙ্গে আমাদের ১৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। এর মধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বাংলাদেশ রপ্তানি করে এবং ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বাংলাদেশ আমদানি করে। এখন থেকে রুপিতে ২ বিলিয়ন ডলারের মূল্য পরিশোধ করা যাবে। বাকি ১২ বিলিয়ন ডলারের পণ্যমূল্য মার্কিন ডলারেই পরিশোধ করতে হবে। রুপিতে লেনদেনের চাহিদা বাড়লে পর্যায়ক্রমে অন্য ব্যাংককেও অনুমতি দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মেজবাউল হক আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে রুপিতে আমদানি-রপ্তানি করা শুরু হলে ট্রানজেকশন ফি বাবদ বাড়তি টাকা দিতে হবে না; বাড়তি সময় ব্যয় হবে না। টাকা থেকে সরাসরি রুপিতে ট্রান্সফার হবে। এর ফলে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে খরচ কমবে ও সময় বাঁচবে।

আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে রুপি-টাকার ডেবিট কার্ড চালু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ সফর করে থাকে। রুপিতে লেনদেন করার ফলে এসব সফরকারী মানুষ সুবিধা পাবেন। লেনদেনের জন্য টাকা থেকে ডলার, ডলার থেকে রুপিতে ট্রান্সফার করতে বাড়তি খরচ গুনতে হবে না। রুপির বিনিময় হার নির্ধারণে দুই দেশের ডলারের বিনিময় হারের গড়কে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হবে।

ভারত ও বাংলাদেশের দুটি করে চারটি ব্যাংকের মধ্যে রুপির মাধ্যমে বাণিজ্য সম্পাদন হবে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের সোনালী ও ইস্টার্ন ব্যাংক এবং ভারতের স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও আইসিআইসিআই ব্যাংক।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র সারোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারাও।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় হোটেল লা মেরিডিয়ানে দুই দেশের মধ্যে রুপিতে লেনদেন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠান যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন। ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, আজ থেকে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা চালু হলো। তার আশা, এই পদ্ধতি থেকে উভয় দেশই লাভবান হবে।

এদিকে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে টাকা-রুপির ডুয়েল কারেন্সি কার্ড চালু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। তিনি বলেন, ডুয়েল কারেন্সি কার্ড চালু হলে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনের খরচ কমবে।

গভর্নর বলেন, ডুয়েল কারেন্সি কার্ড প্রায় প্রস্তুত। সেপ্টেম্বর থেকে এটি চালু হবে। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক) গভর্নর শক্তিকান্ত দাসের সঙ্গে আমি বেঙ্গালুরুতে দেখা করে দুটি প্রস্তাব দেই। এর একটি ছিল রুপিতে বাণিজ্য। এই বাণিজ্যের একটি মনস্তাত্ত্বিক দিকও আছে। কারণ ভারতীয়রা যখন তাদের নিজেদের মুদ্রায় (বাংলাদেশের) পণ্য কিনবে, তখন সেটা তাদের নিজ দেশের পণ্য বলেই মনে করবে। এতে আমাদের বাণিজ্য বাড়বে।

আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার। বাংলাদেশ সেখান থেকে বছরে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে। আর ভারতে রফতানি করে ২০০ কোটি ডলারের পণ্য। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে এই আলোচনা চলছিল। ব্যবসায়ীরাও এর দাবি করে আসছেন অনেকদিন ধরে। এবার তা বাস্তব রূপ পেলো। এখন ডলারের পাশাপাশি রুপিতে বাণিজ্য হবে।

Feb2

বাড়লো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম, মধ্যরাত থেকে কার্যকর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
বাড়লো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম, মধ্যরাত থেকে কার্যকর

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অস্থির গোটা বিশ্বের জ্বালানির বাজার। বাংলাদেশেও গত দেড় মাস ধরে জ্বালানি তেল নিয়ে চলছে সংকট। এতদিন জেট ফুয়েল ছাড়া অন্য জ্বালানির দাম না বাড়ালেও শেষ পর্যন্ত সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে শনিবার (১৮ এপ্রিল) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এপ্রিল মাসে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে প্রতি লিটার ডিজেল ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বেড়েছে।

জ্বালানি তেলের নতুন দাম মধ্যরাত (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

সর্বশেষ গত ১ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমানো হয়েছিল। সেই দাম মার্চ মাসেও বহাল থাকে। এপ্রিল মাসেও আগের দাম বহাল রাখা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে‌ হামলা চালানোর পর অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে মধ্যপ্রাচ্য। এ উত্তেজনার বড় প্রভাব পড়ে হরমুজ প্রণালিতে। এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল এখান দিয়ে পরিবাহিত হয়।

বাংলাদেশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে গত কিছুদিন ধরেই যানবাহনের ভিড়। মানুষের অভিযোগ চাহিদা মত তারা জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ করা হচ্ছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরিস্থিতির সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু মানুষ জ্বালানি তেল মজুত করছে। জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সারাদেশে অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে যতক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব, সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াবে না।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা-বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার (সংশোধিত)’ আলোকে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা।

সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার পৃথক হাওরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২৪) ও রহমত উল্লাহ (১৩) এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কৃষকরা হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়। একই সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত।

তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে বজ্রপাত ঘটলে আবুল কালাম নামে এক কৃষক গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম।

একই সময়ে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন নামে এক কৃষক নিহত হন। তিনি চানপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী।

ধর্মপাশা উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় হাবিবুর রহমান ও রহমত উল্লাহ নামে দুই কৃষক নিহত হন। হাবিবুর রহমান পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা (আতরার) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষক লিটন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার।

 

প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপে ‘অবিস্মরণীয়’ সাফল্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপে ‘অবিস্মরণীয়’ সাফল্য

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্ণ করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। গতকাল ১৭ এপ্রিল এই দুই মাস পূর্ণ হয়েছে। সরকারের এই ৬০ দিনের পথচলাকে ‘অবিস্মরণীয় অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য ৬০টি উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এসব সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন।

লিখিত বক্তব্যে মাহাদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার পাইলট প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এরইমধ্যে ৩৭,৫৬৭টি পরিবারকে এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে একে নারীর অর্থনৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের একটি ‘আন্তর্জাতিক রোল মডেল’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষা দিতে সরকারের বড় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

বেকারত্ব নিরসন ও প্রশাসনের গতিশীলতা বাড়াতে সরকারি শূন্য পদ পূরণের বিশাল কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। মাহাদী আমিন জানান, দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে বর্তমানে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি শূন্য পদ রয়েছে। এসব শূন্য পদ পূরণের জন্য ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।