খুঁজুন
, ,

ভোটার উপস্থিতির দায়িত্ব প্রার্থীদের, নির্বাচন কমিশনের না

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 July, 2023, 8:21 pm
ভোটার উপস্থিতির দায়িত্ব প্রার্থীদের, নির্বাচন কমিশনের না

নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেছেন, ভোটারদের উপস্থিতির দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের না। উপস্থিতি বাড়ানোর দায়িত্ব প্রার্থীদের। তাদের প্রচার-প্রচারণা এবং তৎপরতা থাকতে হবে। আরেকটি বিষয়, জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকমাস বাকি। এর মধ্যে উপনির্বাচন হচ্ছে। এ কারণে হয়তো ভোটারদের উপস্থিতি একটু কম হচ্ছে। ঢাকা-১৭ আসনে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার উপস্থিত হয়েছেন। তবে ভোটারের উপস্থিতি যাই হোক আমরা তার ভিত্তিতে ফল ঘোষণা করব। অতীতেও করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।

রোববার (২৩ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনে প্রার্থীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গে আনিছুর রহমান বলেন, এটি নিন্দনীয় কাজ। ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন শেষ হওয়ার একটু আগে প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে, যেটি অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। এতে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বরিশাল সিটি নির্বাচনেও এরকম ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা যারা করে তারা কারও উদ্দেশ্য সফল করার জন্য করে নাকি দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য করে তাও প্রশ্নসাপেক্ষ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে প্রার্থী ছোট-বড় বলে কিছু নেই। প্রার্থী যেই হোক তার নিরাপত্তা বিধান আমাদের দায়িত্ব। এখন প্রার্থীদের সঙ্গে সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন এবং প্রার্থীদেরকে বলেছি তারা যেখানে যাবে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকে যাতে অবহিত করে। প্রার্থীদের নিরাপত্তা ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কিন্তু এখনো কোনো দলকে নিবন্ধন দেইনি। মাঠ পর্যায় থেকে তথ্যউপাত্ত নিয়ে আমরা বলেছি, দুটি দল নিবন্ধনের জন্য সব যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাদের বিষয়ে যদি কোনো আপত্তি থাকে তাহলে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে জানাতে বলেছি। এখন এর মধ্যে কেউ অভিযোগ দিলে সেটি ২৬ তারিখের পর যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর নিবন্ধনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাচনের আগে প্রশাসনে রদবদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বদলি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এখনো প্রশাসন আমাদের আওতার বাইরে। যখন তফসিল ঘোষণা করা হবে, তখন বদলি নিয়োগ সব আমরা করতে পারব। তখন অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একজনের ভোট আরেকজন দিচ্ছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচনে ভোটার কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেননি, এরকম অভিযোগ আমরা পাইনি। ইভিএম পদ্ধতিতে একজনের ভোট আরেকজনের দেওয়ার তো সুযোগ নেই। এখন কেউ কেন্দ্রে না এসে বাড়িতে বসে অভিযোগ দিলে তো আমাদের করার কিছু নেই। এখন প্রত্যেক কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকে, শুধুমাত্র গোপন কক্ষ ছাড়া। ওই কক্ষে কেউ ঢুকতে পারে না। আবার বাইরের সব দৃশ্য কিন্তু আমরা সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখতে পারি।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপনির্বাচনে বিষয়ে ইসি আনিছুর বলেন, এই আসনে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ। এক্ষেত্রে সবাইকে সতর্কভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সব প্রার্থী নির্বিঘ্নে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে এক প্রার্থীর প্রধান কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিন্তু মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার হয়েছে। এছাড়া বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা বলেছি, কোনো ঘটনাকে ছোট করে দেখলে হবে না। একটি কারণে কিন্তু আরেকটি ঘটনা ঘটে।

এর আগে গত ২ জুন চট্টগ্রাম-১০ আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমীনের মৃত্যু হয়। ৪ জুন আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ জুলাই এই আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Feb2
Feb2

৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:47 am
৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জেলার সাতটি উপজেলায় মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা বন্যাদুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার প্রায় ৪ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং পানিবন্দি হয়ে আছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত দুর্গত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:37 am
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার কোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করতে দেশের সব গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন মেনে চলার স্বার্থে শুক্রবার (১০ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্যবিবরণীতে এ আহ্বান জানানো হয়।

তথ্যবিবরণীতে দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত কোনো পলাতক অপরাধীর বক্তব্য, সাক্ষাৎকার কিংবা অডিও-ভিডিও ভাষণ গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তাই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে পলাতক শেখ হাসিনার যেকোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য (সরাসরি কিংবা ধারণকৃত) টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

সরকার প্রত্যাশা করে, দেশের সব গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং নাগরিকবৃন্দ প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন এবং তা প্রতিপালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবেন।

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:28 am
বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সারা দেশে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রায় সারাদিনই তিনি বন্যাকবলিত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার তিনি, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে যাবেন।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পরিস্থিতি এখনো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশু, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু চক্র চুরি-ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।