খুঁজুন
, ,

বিশ্বব্যাপী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 July, 2023, 10:59 pm
বিশ্বব্যাপী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

বিশ্বব্যাপী টেকসই, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের খাদ্য সম্মেলনে পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আধুনিক কৃষিতে বিনিয়োগের জন্য বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

সোমবার (২৪ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকেলে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদর দপ্তরে জাতিসংঘের খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

টেকসই, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিতে ৫ দফা প্রস্তাবে আর্থিক প্রণোদনা, খাদ্য ও সার রপ্তানির বিধি-নিষেধগুলো তুলে নেওয়া, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ফুড ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তি বিনিময়, খাদ্য অপচয় রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সারা বিশ্বে ক্ষুধা-দারিদ্র্য-অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বৈশ্বিকভাবে ৬৯০ মিলিয়ন মানুষ এখনও অপুষ্টিতে ভুগছে, প্রায় ২ বিলিয়ন মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নেই এবং প্রায় ৩ বিলিয়ন মানুষ সুষম খাবার থেকে বঞ্চিত।

তিনি বলেন, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট খাদ্য, সার, জ্বালানি ও আর্থিক সংকট বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা ও অপুষ্টির সমস্যাকে ঘনীভূত করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদর দপ্তরের প্লেনারি হল রুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্লেনারি হল ছাড়াও জাতিসংঘের সদরদপ্তরে গ্রিন রুম, রেড রুম, ইরান রুমসহ বেশ কয়েকটি হল রুমে বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হয়। এসব রুমে বিপুল সংখ্যক শ্রোতা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন এবং করতালির মাধ্যমে তার বক্তব্যকে সমর্থন জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কামাল দহল, সামাও এর প্রধানমন্ত্রী ফিয়ামি নাওমি মাতাফা, ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যান্তেনিও তাজানি, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

জাতিসংঘের খাদ্য সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা প্রস্তাব

প্রথমত- আধুনিক কৃষিতে বিনিয়োগের জন্য বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আর্থিক প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত- জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ডিল’-কে চালু রাখার পাশাপাশি খাদ্য ও সার রপ্তানির বিধি-নিষেধগুলো তুলে নেওয়াসহ যেকোনো বাণিজ্য বাধা অপসারণের লক্ষ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত দরকার।

তৃতীয়ত- জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক ‘ফুড ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার রূপান্তরের লক্ষ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে।

চতুর্থত- কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে তাল রেখে ন্যানো-প্রযুক্তি, বায়ো-ইনফরমেটিক্স ও অত্যাধুনিক কৃষি প্রযুক্তিগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া বাঞ্ছনীয়।

পঞ্চমত- প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের অপচয় রোধে তরুণ সমাজকে অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আয়োজনে খাদ্য সম্মেলনে যোগ দিতে রোববার (২৩ জুলাই) স্থানীয় সময় ১টা ৪০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৫টা ৪০ মিনিট) ইতালি পৌঁঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারপ্রধানের রোম সফরে দেশটির সঙ্গে দুটি সমঝোতা স্মারক সই করবে বাংলাদেশ।

২৬ জুলাই স্থানীয় সময় সকালে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

Feb2
Feb2

নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 22 August, 2026, 8:20 am
নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন

শপথ নেওয়া নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর সরকারি গেজেট জারি করা হয়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন আবদুল মঈন খান। মির্জা ফখরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পদটি শূন্য হয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত পদোন্নতি পেয়ে এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন।

আর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানমকে (রিতা) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।

বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ।

আর মোহাম্মদ শামীম কায়সার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 18 August, 2026, 10:06 am
দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা এক প্রজ্ঞাপন সূত্র এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১)-এর বিধান অনুযায়ী নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং কমিশনার হিসেবে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান এবং ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হলো।

এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১)-এর বিধান অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আর দুদক আইন, ২০০৪-এর ধারা ১৩-এর বিধান অনুযায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের এবং কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে আজ বিকেলে সার্চ কমিটি তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি দীর্ঘকাল হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ থেকে অবসরে যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আসাদুজ্জামান হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি থেকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।

১৯৫৯ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন বিচারপতি আসাদুজ্জামান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ১৯৮৩ সালে তিনি জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগের এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।

এছাড়া কমিশনার হিসেবে নাম চূড়ান্ত হওয়া ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

অপর কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সচিব। তিনি ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন বলে জানা গেছে।

গত ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার পদত্যাগ করার পর নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এরপর নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। সার্চ কমিটি ছয় দফা বৈঠক করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই ও যোগ্যতা পর্যালোচনা করে। পরে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার হিসেবে এ কে আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার নাম চূড়ান্ত করে।

২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন দুদকের প্রথম চেয়ারম্যান বিচারপতি সুলতান হোসেন খান থেকে সর্বশেষ মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন পর্যন্ত মোট সাতটি কমিশন দায়িত্ব পালন করে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা জটিলতায় মাত্র তিনটি কমিশন পুরো মেয়াদ পূর্ণ করতে পেরেছিল। বাকি চার কমিশন মেয়াদ পূর্ণ করার আগে বিদায় নিতে হয়। সর্বশেষ মোমেন কমিশন মেয়াদ পূরণ না করেই বিদায় নিয়েছে।

চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদ শূন্য থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুদকের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়। কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন এমন অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আটকে আছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নিলে এসব কার্যক্রমে গতি ফেরার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে স্থায়ী হন তিনি।

বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব, বদল হচ্ছে অর্থবছরের সময়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 18 August, 2026, 10:02 am
বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব, বদল হচ্ছে অর্থবছরের সময়

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

খসড়া আইনে বিদ্যমান র‍্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর আওতায় এসআরবি প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। নতুন এই ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনগত কাঠামোও নির্ধারণ করা হবে। নতুন আইনে নাগরিকদের অভিযোগ এবং এসআরবির সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া, র‍্যাবের বর্তমান জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্পদ এসআরবির কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত র‍্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালাগুলো প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল থাকবে। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর র‍্যাবের বর্তমান কাঠামো বিলুপ্ত হয়ে তার জনবল ও সংশ্লিষ্ট সম্পদ নতুন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) কাঠামোর অধীনে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন

বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাত্ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে; এতে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণমান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এজন্য ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত। এক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এছাড়া, অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে। আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং অতঃপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কাঁচা মরিচ ও টম্যাটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব অনুমোদন

দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। কাঁচা মরিচ ও টম্যাটো দেশের অন্যতম বহুল ব্যবহূত নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য। তবে মৌসুমি উত্পাদন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিকূল আবহাওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং উত্পাদন ঘাটতির কারণে অনেক সময় এ সব পণ্যের বাজারমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। জনস্বার্থে এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাঁচা মরিচ ও টম্যাটো আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান মোট করভার ৬১ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রথম মাসে ২০.৫ শতাংশ এবং পরের মাসে ৩১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন প্রস্তাব

মন্ত্রিসভার সভায় গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, গত ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলকে ৯ উইকেটে পরাজিত করেছে। বাংলাদেশ দলের এ সাফল্য কেবল একটি ম্যাচের জয় নয়; বরং আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, দলগত সংহতি ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার একটি উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল, দলের অধিনায়ক, খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে মন্ত্রিসভা আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছে।