খুঁজুন
বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজপথে কাকে কীভাবে মোকাবিলা করতে হয় আমরা জানি: তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৩, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
রাজপথে কাকে কীভাবে মোকাবিলা করতে হয় আমরা জানি: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, রাজপথে কাকে কীভাবে মোকাবিলা করতে হয় আমরা আওয়ামী লীগ সেটি জানি। দেশে কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। দেশে কেউ সহিংসতা করুক সেটি কখনো বরদাস্ত করবো না। রাজনৈতিকভাবে আন্দোলন করতে পারে যে কেউ, তবে নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবে কখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

‘বিএনপি বলেছে অক্টোবরে এই সরকারের পতন হবে এবং নতুন সরকার গঠন হবে’- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের পতনের ঘোষণা বহু আগে থেকে দিচ্ছে। ঘোষণা দিয়েছিল গত ডিসেম্বরে পতন হবে। তারেক রহমান দেশে আসবে, বেগম খালেদা জিয়া গুলশান থেকে সমাবেশে চলে আসবেন- এ ঘোষণা দিয়েছিল। এরকম ঘোষণা প্রতি মাসে দেয়, এটি নতুন কোনো ঘোষণা নয়। তবে কয়েকদিন আগে বলেছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খালেদা জিয়াকে যদি বিদেশ পাঠানো না হয় তাহলে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেবে না। ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে এখন ১২০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে, কিছু তো হয়নি।

তিনি বলেন, দেশে কেউ সহিংসতা করুক সেটি কখনো বরদাস্ত করবো না। রাজনৈতিকভাবে আন্দোলন করতে পারে যে কেউ। সরকারেরও পদত্যাগ যে কেউ চাইতে পারে। একজন ব্যক্তিও চাইতে পারে বা রাজনৈতিক দলও চাইতে পারে। সেই চাওয়ার অধিকার সবার আছে। কিন্তু দিনক্ষণ ঠিক করে সরকারকে টেনে নামিয়ে ফেলবে সেটি বলা সমীচীন নয়। সেটি রাজনৈতিক ভাষা নয়। অর্থাৎ যে ভাষায় তারা কথা বলছে, সে ভাষা ইঙ্গিত দেয় দেশে একটি রাজনৈতিক সহিংসতা তারা করতে চায়। সেটি কাউকে করতে দেওয়া হবে না।

আমি আওয়ামী লীগের একজন নেতা হিসেবে বলছি, আমরা আওয়ামী লীগ রাজপথে কীভাবে কাকে মোকাবিলা করতে হয় সেটি জানি। দেশে কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবে কখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কখন নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা হবে এটি এ মাসের শেষে হবে, নাকি আগামী মাসের প্রথম দিকে হবে সেটি নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করবে। আমরা সবসময় প্রস্তুত নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য। অনেক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। বিএনপিও আশা করি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

জাপানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে- জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন। আমরা সাংস্কৃতিক বিষয়সহ দুই দেশের সাংস্কৃতিক গ্রুপের মধ্যে আদান প্রদান যাতে আরও বেশি হয় সে বিষয়ে আলোচনা করেছি। জাপানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। জাপান আমাদের কাছে সবসময় উন্নয়নের একটি মডেল। গত ৫২ বছর জাপান যেভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিকভাবে অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করেছে, সেজন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। ভবিষ্যতে আমরা আরও ঘনিষ্ঠভাবে যাতে কাজ করতে পারি সে কথা জানিয়েছি।

তিনি বলেন, মীরেরসরাই এবং বঙ্গবন্ধু ইপিজেড বা জাপানিজ ইপিজেড স্থাপন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া মাতারবাড়ি পোর্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জাপানের রাষ্ট্রদূত আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গ টানলে আমি তাকে জানিয়েছি ফ্রি, ফেয়ার এবং ট্রান্সপারেন্ট নির্বাচন হবে। যদিও নির্বাচন করা, স্থগিত করা সেটি হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। কিন্তু সরকারের ফ্যাসিলিটেটরের ভূমিকা থাকে। সেক্ষেত্রে আমরা সর্বাত্মভাবে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবো বলে তাকে বলেছি।

এছাড়া রাজনীতিকে স্থিতিশীল করতে হলে সব রাজনৈতিক দলের কাজ বা দায়িত্ব। ক্রমাগতভাবে নির্বাচন বর্জন করা সেটি কখনো কারও জন্য সমীচীন নয়। সেই কথা আমি তাকে বলেছি এবং একই সঙ্গে দেশে যাতে কোনো রাজনৈতিক সহিংসতা না হয়, যেটা ২০১৩, ১৪, ১৫ সালে হয়েছে। সময় সময় বিএনপি করে এবং এখনো করার অপচেষ্টা করছে, উসকানি দিচ্ছে, এ বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের অংশগ্রহণে, অনেক রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও সুন্দর এবং সর্বমহলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে বলে আমি তার সঙ্গে আলোচনায় বলেছি।

Feb2

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে’ পরিণত হয়েছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে’ পরিণত হয়েছে

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগ্নভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে দখল করা হয়েছে। বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এটা নাই। এটা হয়ে গেছে হচ্ছে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে’ পরিণত হয়েছে।

বুধবার (৮এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১১ দিনের বিকেলের সেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬ উত্থাপনের পর সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে যে বিলটা আনা হয়েছে। সেই বিলে যদি আমরা দেখি এখানে কমিশন বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বুঝানো হয়েছে। এখানে দুই এর ‘ঘ’তে সংজ্ঞার মধ্যে আমরা যদি দেখি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার এটার ব্যাখ্যাটা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে সংকীর্ণ ও ব্যক্তি স্বার্থে সংঘঠিত যে হত্যাকাণ্ডগুলো হয়েছে। এটাকে একভাবে দেখা হবে। আর আরেকটা হচ্ছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্য যেই কার্যাবলীগুলো সংগঠিত হয়েছে। সেটাকে একভাবে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রবলেমের জায়গাটা যেটা সেটা হচ্ছে, সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে যে ধরনের সংগঠিত হত্যাকাণ্ড হয়েছে সেটাকে কে ডিফাইন করবে? সেটাকে কিন্তু ডিফাইন করবে এই আইন অনুযায়ী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। অর্থাৎ এই ইনডেমনিটিটা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপরে নির্ভর করবে। এবার এই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের যে অধ্যাদেশ সেটা কিন্তু ইতোমধ্যে ল্যাপস করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন এই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনটা এটা যদি ২০০৯ সালের অনুযায়ী যদি চলে তাহলে সেটা কিন্তু পুরোপুরি সরকার নিয়ন্ত্রিত একটা মানবাধিকার কমিশন। যেই মানবাধিকার কমিশন বিরোধী দল ও মতকে দমনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। ভিকটিম ব্লেমিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। যেই মানবাধিকার কমিশন গুম খুনের বৈধতা উৎপাদন করা হয়েছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই মানবাধিকার কমিশনকে যদি আমরা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি এবং ওই মানবাধিকার কমিশনের মধ্য দিয়েই যদি আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই কার্যক্রমগুলোকে বিচারের এবং নিরীক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে এই নিরীক্ষণ কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

তিনি বলেন, আমরা এই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যদি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে একটা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি তাদের মাধ্যমে আমরা নিরপেক্ষ ধরনের অনুসন্ধান আমরা কতটা পাব, সেটা নিয়ে কিন্তু আমরা সন্ধিহান, সেই জায়গা থেকে এই বিলটিকে যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই, এটাকে যদি আমরা ফাংশনাল করতে চাই তাহলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে অবশ্যই-অবশ্যই সেটাকে স্বায়িত্বশাসিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে, নিপীড়িত হয়েছে, তারাই এটাকে একটা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখতে চাচ্ছে। এই অজুহাতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যদি অটোনমাস হয়ে যায় তাহলে সেটাকে এটার জবাবদিহিতা কিভাবে নিশ্চিত হবে?

‘যেভাবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো নগ্য করা হচ্ছে সেজন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে দলীয়করণ করা হবে না, আবার বাপের দোয়া একটা মানবাধিকার কমিশন বা বিরোধীদল দমন কমিশন করা হবে না, এটার প্রতি কিন্তু আমাদের আস্থা নাই।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিলটা পাস হওয়ার আগে আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই বিল হচ্ছে হওয়া নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। না হয় বিসিবির মতো আমরা আবার বাপের দোয়া কমিশন দেখতে পাব। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো আবার দলীয়করণ দেখতে পাব। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যেভাবে এক ধরনের দলীয়করণ করা হয়েছে, আমরা সেটি দেখতে পাব।

হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য টোল নেবে ইরান ও ওমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ
হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য টোল নেবে ইরান ও ওমান

অবশেষে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।

যুদ্ধবিরতি চলাকালীন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে ট্রানজিট ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরান ও ওমান। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির সূত্র দিয়ে এ খবর দিয়েছে সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই সপ্তাহের জন্য ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতি চলাকালে এই নৌপথ ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর নির্দিষ্ট হারে ফি আরোপের বিষয়ে দেশ দুটি একমত হয়েছে।

তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, জাহাজ চলাচল থেকে সংগৃহীত এই অর্থ পুনর্গঠন কাজের জন্য বরাদ্দ করা হবে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় বর্তমানে এই রুট দিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ জাহাজ চলাচল করছে। তবে কিছু তেলবাহী ট্যাঙ্কার এই পথ ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে; উদাহরণস্বরূপ, পাকিস্তান ও ভারত তাদের পতাকাবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের জন্য ইরানের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বিশেষ নিশ্চয়তা আদায় করে নিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারাপারের জন্য প্রতিটি জাহাজ থেকে ইরান ২০ লাখ ডলার (প্রায় ২৪ কোটি টাকা) পর্যন্ত ফি দাবি করছে বলে তথ্য রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি এই বিশাল অংকের অর্থ পরিশোধ করেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় : ইসরায়েল
এদিকে যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়।

বুধবার নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল সমর্থন করে। তবে শর্ত হলো— ইরানকে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলসহ ওই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, ঘোষিত এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

ইসরায়েলের এই অবস্থান পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আগে জানিয়েছিলেন যে, এই চুক্তির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিবৃতিতে লেবানন নিয়ে কিছু উল্লেখ করেননি।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েলি নেতার পক্ষ থেকে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।

নিজেদের বিজয়ী দাবি করছে হোয়াইট হাউস
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর হোয়াইট হাউস নিজেদের বিজয়ের দাবি করেছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিজয়, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের সামরিক বাহিনী বাস্তবে রূপান্তর করেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের উদ্যোগেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট উল্লেখ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই বলেছিলেন যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের একটি অভিযান হবে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ৩৮ দিনেই তাদের মূল সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন এবং এর চেয়েও বেশি সফলতা অর্জন করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি আরও লেখেন, আমাদের সামরিক বাহিনীর এই সাফল্য একটি শক্তিশালী অবস্থান (লেভারেজ) তৈরি করেছে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দল কঠিন দরকষাকষির সুযোগ পেয়েছেন, যা এখন একটি কূটনৈতিক সমাধান এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ প্রশস্ত করেছে।

ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকির পর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকির পর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ট্রাম্প

ইরানি ‘সভ্যতা ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকির পর টানটান উত্তেজনার মধ্যে অবশেষে হামলা থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে হামলার হুমকি স্থগিত করেছেন।

নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কিছু সময় আগে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমাবর্ষণ এবং হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছি। এটি হবে একটি দ্বিমুখী যুদ্ধবিরতি!

তবে তিনি এক শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত করে দেয়, তবেই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ইরানের কাছ থেকে ১০ দফার একটি প্রস্তাব পেয়েছি এবং আমরা মনে করি এটি আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি।

ট্রাম্পের মতে, চুক্তির পথে বড় বাধাগুলো প্রায় কেটে গেছে। তিনি বলেন, অতীতের বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রায় সবকটিতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একমত হয়েছে। এই দুই সপ্তাহের সময়কাল চুক্তিটিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে এবং সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে ট্রাম্প এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছানো আমার জন্য সম্মানের। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ!