খুঁজুন
, ,

যেসব সেবা গ্রহণে রিটার্নের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 27 November, 2023, 4:57 pm
যেসব সেবা গ্রহণে রিটার্নের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক

এখন শুধু ট্যাক্সপেয়ার আইডেনটিফিকেশন নাম্বার বা টিআইএন থাকলে হবে না, সরকারি বিভিন্ন সেবা নিতে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র লাগবে। তাই যাদের টিআইএন আছে, তারা এখনই রিটার্ন জমার প্রস্তুতি নিন। কারণ, গত ১ জুলাই ২০২৩ থেকে ৪৩টি সেবার ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রিটার্নের প্রমাণপত্র বলতে যা বোঝায়

ক. এনবিআরের পক্ষ থেকে রিটার্নপ্রাপ্তি স্বীকারপত্র; বা

খ. করদাতার নাম, টিআইএন বা করবর্ষ–সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড সার্টিফিকেট বা সনদ বা

গ. করদাতার নাম, টিআইএন বা করবর্ষ–সংবলিত উপ–কর কমিশনারের ইস্যু করা প্রত্যয়নপত্র গত ১ জুলাই ২০২৩ থেকে ৪৩টি সেবার ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, রিটার্নের প্রমাণপত্র বানিয়ে জমা দেবেন। কিন্তু সেটা এখন আর সম্ভব হবে না। কারণ, রিটার্ন জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়কর বিভাগ রিটার্ন জমার তথ্য অনলাইনে হালনাগাদ করে। আর সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা অনলাইনে রিটার্ন জমার তথ্য যাচাই করবে। যদি কোনো কারণে যাচাই না করেন, তবে উপ–কর কমিশনার ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড করতে পারবেন। তাই এখন রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র নিয়ে কারসাজির সুযোগ নেই।

যে ৪৩টি সেবা গ্রহণে রিটার্নের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক

১. করারোপযোগ্য আয় না থাকার পরও ২০ লাখ টাকার বেশি ঋণ গ্রহণে;
২. কোনো কোম্পানির পরিচালক বা উদ্যোক্তা শেয়ারধারী হতে গেলে;
৩. আমদানি বা রপ্তানি নিবন্ধন সনদপ্রাপ্তি ও বহাল রাখতে;
৪. সিটি করপোরেশন বা পৌর এলাকায় ট্রেড লাইসেন্সপ্রাপ্তি ও নবায়নে;
৫. সমবায় সমিতির নিবন্ধন নিতে;
৬. সাধারণ বিমার তালিকাভুক্ত সার্ভেয়ার হতে এবং লাইসেন্সপ্রাপ্তি ও নবায়নে;
৭. সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় ১০ লাখ টাকার জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি বা লিজ বা হস্তান্তর বা বায়নানামা বা আমমোক্তারনামা নিবন্ধনে;
৮. ক্রেডিট কার্ডপ্রাপ্তি ও বহালে;
৯. চিকিৎসক, দন্তচিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি অথবা সার্ভেয়ার বা সমজাতীয় পেশাজীবী হিসেবে স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার সদস্যপদপ্রাপ্তি ও বহাল রাখতে;
১০. মুসলিম বিবাহ–সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে নিকাহ রেজিস্ট্রার, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইনের অধীনে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক ও বিশেষ বিবাহ আইনের অধীনে রেজিস্ট্রার হিসেবে সনদপ্রাপ্তি বা নিয়োগ বহাল রাখতে;
১১. ট্রেড বডি বা পেশাজীবী সংস্থার সদস্যপদপ্রাপ্তি ও বহালে;
১২. ওষুধ বা ড্রাগ সনদ, ফায়ার সনদ, পরিবেশ ছাড়পত্র, বিএসটিআইয়ের সনদ ও ছাড়পত্রপ্রাপ্তি ও নবায়নে;
১৩. গ্যাসের বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগপ্রাপ্তি ও বহাল এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় আবাসিক গ্যাস সংযোগ প্রাপ্তি ও বহাল রাখতে;
১৪. লঞ্চ, স্টিমার, মাছ ধরার ট্রলার, কার্গো, কোস্টারসহ যেকোনো প্রকারের ভাড়ায় চালিত নৌযানের সার্ভে সনদপ্রাপ্তি ও বহালে;
১৫. পরিবেশ অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইট উৎপাদনের অনুমতিপ্রাপ্তি ও নবায়নে;
১৬. সিটি করপোরেশন, জেলা সদর বা পৌরসভায় ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিশু বা পোষ্য ভর্তিতে;
১৭. সিটি করপোরেশন বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় বিদ্যুৎ–সংযোগপ্রাপ্তি বা বহালে;
১৮. কোম্পানির এজেন্সি বা ডিস্ট্রিবিউটর শিপ প্রাপ্তি ও বহালে;
১৯. আগ্নেয়াস্ত্রের সনদপ্রাপ্তি ও বহাল রাখতে;
২০. আমদানির উদ্দেশ্যে ঋণপত্র খোলায়;
২১. ডাকঘরে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে;
২২. ১০ লাখ টাকার বেশি মেয়াদি আমানত খোলা ও বহাল রাখতে;
২৩. ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে;
২৪. পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে;
২৫. মোটরযান, স্পেস বা স্থান, বাসস্থান অথবা অন্যান্য সম্পদ সরবরাহের মাধ্যমে অংশীদারি অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে;
২৬. ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনিক বা উৎপাদন কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানকারী পদমর্যাদায় কর্মরত ব্যক্তির বেতন-ভাতা প্রাপ্তিতে;
২৭. সরকারি কর্মচারীর বেতন-ভাতাপ্রাপ্তিতে;
২৮. মোবাইল ব্যাংকিয়ে টাকা স্থানান্তর এবং মোবাইল ফোনের রিচার্জে কমিশন, ফি বা অন্য কোনো অর্থপ্রাপ্তিতে;
২৯. উপদেষ্টা বা পরামর্শক সেবা, ক্যাটারিং সেবা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সেবা, জনবল সরবরাহ, নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহ সেবা বাবদ কোনো কোম্পানি হতে অর্থপ্রাপ্তিতে ;
৩০. এমপিওভুক্তির মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে মাসে ১৬ হাজার টাকার বেশি অর্থপ্রাপ্তিতে;
৩১. বিমা কোম্পানির এজেন্সি নিবন্ধন বা নবায়নে;
৩২. দ্বিচক্র বা ত্রিচক্র মোটরযান ছাড়া অন্যান্য মোটরযানের নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়নে;
৩৩. এনজিওবিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধিত এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার অনুকূলে বিদেশি অনুদানের অর্থ ছাড়ে;
৩৪. ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশে বসবাসকারী ভোক্তাদের কাছে পণ্য বা সেবা বিক্রয়ে;
৩৫. কোম্পানি ও সোসাইটি আইনে নিবন্ধিত কোনো ক্লাবের সদস্যপদের আবেদনে;
৩৬. পণ্য সরবরাহ, চুক্তি সম্পাদন বা সেবা সরবরাহের জন্য দরপত্র দাখিলকালে;
৩৭. কোনো কোম্পানি বা ফার্ম থেকে পণ্য বা সেবা গ্রহণে;
৩৮. পণ্য আমদানি বা রপ্তানির উদ্দেশ্যে বিল অব এন্ট্রি দাখিলে;
৩৯. রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ), রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ), গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য ভবন তৈরির নকশা দাখিলে;
৪০. স্ট্যাম্প, কোর্ট ফি ও কার্ট্রিজ পেপারের ভেন্ডর বা দলিল লেখক হিসেবে নিবন্ধন ও সনদ বহাল রাখতে;
৪১. ট্রাস্ট, তহবিল, ফাউন্ডেশন, এনজিও, ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা, সোসাইটি এবং সমবায় সমিতির ব্যাংক হিসাব খোলা ও চালু রাখতে;
৪২. সিটি করপোরেশন এলাকায় কোনো ব্যক্তির বাড়িভাড়া বা লিজ গ্রহণকালে বাড়ির মালিকের ক্ষেত্রে;
৪৩. কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে পণ্য বা সেবা সরবরাহে ওই সরবরাহকারী বা সেবা প্রদানকারীরক্ষেত্রে।

তাই যাঁদের টিআইএন আছে, তাঁরা আর দেরি না করে এখনই রিটার্ন জমার প্রস্তুতি নিন।

Feb2
Feb2

ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামে ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 5:08 pm
ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামে ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ডিসি জাহিদ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাবে জেলা প্রশাসন। আগামী শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।

আজ সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুরক্ষা এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও ইউনিসেফের আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি, ঢাকার পরিচালক সরকার সারোয়ার আলম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রাণঘাতী রোগ। এর বিস্তার ঠেকাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ২৫ জুলাই থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতি শনিবার জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। সরকারি কার্যালয়ের প্রাঙ্গণ ও ছাদ, পুকুর, জলাশয়সহ ডেঙ্গুর ঝুঁকি রয়েছে—এমন স্থানগুলো এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে।

এর ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ একযোগে পরিষ্কার করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ শুধু ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য নয়; পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার একটি সামাজিক আন্দোলন। পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।’

মসজিদ ও এর আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ যেন মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নির্মল প্রার্থনার স্থান হয়। সবার সামর্থ্য এক নয়, কিন্তু এ কাজে আন্তরিকতার ঘাটতি থাকা উচিত নয়।’

সমাজে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষক ও ইমামদের মানুষ সম্মানের জায়গায় রাখেন। মানুষের ওপর তাঁদের প্রভাবও রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কাজে ব্যবহার করা প্রয়োজন।

ইমাম-খতিবদের ধর্মীয় আলোচনায় সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক, সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতির মতো বিষয় নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। ধর্মীয় নেতাদের আচরণ ও বক্তব্য এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে মানুষ তাঁদের অনুসরণ করে এবং রোল মডেল হিসেবে দেখতে পারে।

নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্য কেমন সমাজ রেখে যাওয়া হচ্ছে, তা সবাইকে ভাবতে হবে। সন্তানদের মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং বাবা-মা ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলার দায়িত্ব পরিবার ও সমাজের।

তিনি বলেন, ‘শুধু অন্যকে দোষ দিয়ে সমাজের পরিবর্তন হবে না। আমি নিজে সমাজের জন্য কী করছি, সেটিও ভাবতে হবে। নিজের দায়িত্ব উপলব্ধি না করলে বড় বড় কথা বলেও বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।’

সময়ের যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, অর্থ দিয়ে অনেক কিছু কেনা গেলেও সময় কেনা যায় না। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের সময় ও সামর্থ্য সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানো।

দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণ উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষকে মূল্যবোধসম্পন্ন, মানবিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার। তিনি বলেন, ‘এই দেশটা আমাদের। আমাদেরকেই সাজাতে হবে।’

কর্মশালায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির কর্মকর্তা, ইউনিসেফের প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন।

গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 4:46 pm
গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট

চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকার গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে মার্কেটটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অপারেটর জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ধারণা, মার্কেটের ভেতরে কয়েকজন মানুষ আটকা পড়েছেন। অনেকে সিঁড়ি দিয়ে মার্কেটের ছাদে উঠে নিরাপদে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন।

বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন আবার চালুর উদ্যোগ, বৈঠক ৮ সেপ্টেম্বর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 4:42 pm
বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন আবার চালুর উদ্যোগ, বৈঠক ৮ সেপ্টেম্বর

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বার্ষিক বৈঠকে আলোচনা হবে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী বৈঠকে তিনটি ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্র বলছে, দুই দেশ সম্মত হলে আগামী মাস থেকেই বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় ট্রেনগুলোর চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই বৈঠকে রাজশাহী থেকে কলকাতা রুটে নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাবও দেবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার আগ্রহের কথা জানাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের এ বৈঠকটি আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক (ইন্টার-গভর্নমেন্টাল রেলওয়ে মিটিং— আইজিআরএম) নামে পরিচিত। এবার ঢাকার রেলভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলো ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়েরও আগ্রহ রয়েছে। তবে ট্রেন তিনটির চলাচল শুরুর ক্ষেত্রে শুধু দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের সম্মতি যথেষ্ট নয়। এ বিষয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের মতামত প্রয়োজন হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকে এসব মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

তবে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পর্যায় থেকেই আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আইজিআরএম বৈঠকটি প্রতিবছর বাংলাদেশ ও ভারতে পালাক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল গত বছরের ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি ভারতের নয়াদিল্লিতে। কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর এবার ঢাকায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়ে। ১৬ জুলাই মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল স্থগিত করা হয়। পরে ১৯ জুলাই থেকে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী— তিনটি ট্রেনের চলাচলই বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোর চলাচল আর স্বাভাবিক হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আইজিআরএম বৈঠকের মাধ্যমে ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হতে যাচ্ছে।

মৈত্রী এক্সপ্রেস বর্তমানে ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চলাচল করে। বন্ধন এক্সপ্রেসের রুট খুলনা-কলকাতা এবং মিতালী এক্সপ্রেস ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি। এসব ট্রেন পুনরায় চালুর পাশাপাশি রাজশাহী-কলকাতা রুটে নতুন ট্রেন চালুর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।