মৃত্তিকা ও পানি ছাড়া জীবন কল্পনা করা যায়না: বিভাগীয় কমিশনার
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোঃ তোফায়েল ইসলাম বলেছেন, মৃত্তিকা একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। মৃত্তিকা ও পানি উভয়েই হলো জীবনের ভিত্তি। এ দুটি ছাড়া জীবন কল্পনা করা যায়না। পৃথিবীর সব প্রাণি ও উদ্ভিদের জীবনে মাটি ও পানির গুরুত্ব অপরিসীম। এই মাটি ও পানি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। মানুষের কৃষি গঠনে মাটির অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। মৃত্তিকা, ভুমি সম্পদ, ফসল উৎপাদন, কলাকৌশল. মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, মানসম্মত সার ও উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমুহ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হবে।
আজ ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস’-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
আলোচনা সভার পূর্বে দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য ‘মাটি ও পানি জীবনের উৎস’ এ শ্লোগানকে ধারণ করে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসআরডিআই চট্টগ্রামের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এন এম জাহাঙ্গীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন এসআরডিআই’র সিএসও ড. মোঃ আফছার আলী ও চট্টগ্রাম ডিএই’র ডিডি মোহাম্মদ আবদুচ ছোবহান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান সভায় মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন। বিভিন্ন দফতরের প্রধানগণ আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করে মূল্যবান মতামত পেশ করেন।
সভায় জানানো হয়, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ৫ ডিসেম্বর ‘বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। স্বাস্থ্যকর মাটির গুরুত্বের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা ও মৃত্তিকা সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার পক্ষে সমর্থন করার জন্য প্রতি বছর ৫ ডিসেম্বর বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস পালিত হয়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ‘বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ২০১৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ‘বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস’ পালন করেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ২০১৫ সাল থেকে ‘বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস’ পালন করে আসছে। ২০১৭ সাল থেকে ‘বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস’ উদযাপনে ‘সয়েল কেয়ার এ্যাওয়ার্ড’ প্রবর্তন করা হয়।
জাতীয়ভাবে মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক অবদানের জন্য ৩ জনের মাঝে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে ১ জন শিক্ষাবিদ, ১ জন মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ও ১ জন কৃষক। এছাড়া সয়েল সায়েন্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এসএসএসবি) এর ব্যবস্থাপনায় ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ছাত্রদের সংগঠন ‘সয়েল ক্লাব’র সহযোগিতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীগণের মধ্যে মৃত্তিকা বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ‘সয়েল অলিম্পিয়াড’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ২০২১ সালে ‘বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস’ উদযাপনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করতে কৃষি মন্ত্রণালয় ‘সয়েল কেয়ার এ্যাওয়ার্ড’ ও ‘সয়েল অলিম্পিয়াড’-এর পাশাপাশি জাতীয়ভাবে মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক অবদানের জন্য ১ জন উপজেলা কৃষি অফিসার, এসআরডিআই-এ কর্মরত ১ জন মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ও ১ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ‘বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস পুরস্কার’-এ সম্মানিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ‘বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস-২০২৩’ উদযাপনেও জাতীয়ভাবে উল্লিখিত কার্যক্রমসমূহ গ্রহণ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন