খুঁজুন
, ,

রিজভীর মিথ্যাচার নরকের কীটের চেয়েও জঘন্য : তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 21 December, 2023, 8:42 pm
রিজভীর মিথ্যাচার নরকের কীটের চেয়েও জঘন্য : তথ্যমন্ত্রী

ট্রেনে আগুন নিয়ে বিএনপি নেতা রিজভী সাহেবদের মিথ্যাচার হত্যাকাণ্ডের চেয়েও নারকীয় বীভৎস ও কুৎসিত কদাকার’ বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, তার (রিজভীর) মিথ্যাচার নরকের কীটের চেয়েও জঘন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীতে সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তর সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সবসময় দেশে শান্তি স্থিতি বজায় রাখতে চায়, সকল ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করতে চায়। আর সরকার ও দেশকে অস্থিতিশীল করার হীন উদ্দেশ্যে নির্বাচন বানচালের জন্য বিএনপি-জামায়াত ২০১৩, ১৪, ১৫ সালে যেভাবে অগ্নিসন্ত্রাস করেছিল এখনও একই কায়দায় সেটি করছে, এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট। গত পরশু তেজগাঁওয়ে ট্রেনের বগিতে আগুন দিয়ে যে নারকীয়ভাবে মা ও সন্তানসহ আরও দুজনকে এবং ইতোপূর্বে বহু মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, তার চেয়েও আরও বেশি জঘন্য কুৎসিত কদাকার এবং সেই সন্ত্রাসের চেয়েও নারকীয় বীভৎস হচ্ছে রিজভী সাহেবদের মিথ্যাচার।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘রিজভী সাহেব সম্পর্কে আমি এই শব্দগুলো ব্যবহার করতে চাই না। কিন্তু তার যে বক্তব্য, সে প্রেক্ষিতে আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, তার মিথ্যাচার নরকের কীটের চেয়েও জঘন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা এই সমস্ত ঘটনা ঘটিয়ে, ঘটনার নির্দেশ দিয়ে আবার সেগুলোকে আড়াল করার চেষ্টা করে, তারাও সমান অপরাধী। জনগণের দাবি উঠেছে, এই জঘন্য, কুৎসিত, কদাকার মিথ্যাচার যারা করছে, নরকের কীটের মতো আচরণ করছে, কথা বলছে, এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার। শুধু আগুনসন্ত্রাসী না, তাদের হুকুমদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।’


নির্বাচনে সংঘর্ষ করলে কঠোর আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে : হানিফ
নির্বাচনে বিএনপির অসহযোগ আন্দোলন ও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নে ড. হাছান বলেন, ‘ইতোমধ্যে জনগণের ভেতরে যেভাবে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে এবং গড়ে প্রতিটি আসনে ৭ জনের বেশি প্রতিদ্বন্দ্বী, সে কারণে নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। যে যতো কথাই বলুক, নির্বাচন বিরোধীরা যত চেষ্টাই করুক, ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি হবে এতে কোনো সন্দেহ নাই। ভোটার উপস্থিতির জন্য বাড়তি কোনো প্রচেষ্টার প্রয়োজন আমরা মনে করি না। আর বিএনপির অসহযোগ আন্দোলনে তাদের কর্মীরাই নেতাদের সহযোগিতা করছে না।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্নে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সর্বোচ্চভাবে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করছে। এখন সরকারের সমস্ত প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। আপনারা জানেন, কদিন আগে নির্বাচন কমিশন দেশের বেশির ভাগ ইউএনওদের এবং অর্ধেকের বেশি থানার ওসি বদলি করেছে, কয়েকজন ডিসিকে বদলি করেছে। নির্বাচনের আয়োজক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সুতরাং ভোট সুষ্ঠু করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সরকার এই ক্ষেত্রে সর্বতোভাবে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করছে।’

এর আগে দুবাইয়ে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৮ এ দেশের অর্জন নিয়ে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের সঙ্গে আলোচনায় মিলিত হন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। প্রধান তথ্য অফিসার মো. শাহেনুর মিয়া, ফোরামের সভাপতি কাউসার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

সেখানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কপ-২৮ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রিত ছিলেন, তিনি সেখানে যেতে পারেননি, তার পক্ষ থেকে আমাকে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে বাংলাদেশ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলায় যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছি সেগুলো সেখানে প্রশংসিত হয়েছে। সে কারণে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং গ্লোবাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট মোবিলিটি (জিসিসিএম) যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রীকে ‘ক্লাইমেট মোবিলিটি চ্যাম্পিয়ন লিডার অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত করেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও আইওএমের ডিরেক্টর জেনারেল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশকে স্থানীয় অভিযোজনে সাফল্যের জন্য ‘গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়েছে।’

ড. হাছান বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অসহায় শিকার হলেও যেভাবে এই জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করে এসেছে সেগুলো বিশ্বব্যাপী সবসময় প্রশংসিত হয়েছে। সে কারণে প্রধানমন্ত্রীকে ২০১৫ সালে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কপ-২৮ সম্মেলনের অন্যতম প্রধান অগ্রগতি হচ্ছে ‘লস এন্ড ড্যামেজ ফান্ড’ গঠন করা, যেটি আগে ছিল না এবং এই সম্মেলনে সবাই জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার বিষয়ে একযোগে একমত হয়েছে।’

এ সময় নগর পরিকল্পনায় প্রকৃতির সাথে মানুষের সংযোগ নিয়ে প্রশ্নে পরিবেশবিদ তথ্যমন্ত্রী হাছান বলেন, আমাদের দেশে বেশিরভাগ নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রকৃতির সাথে মানুষের সংযোগ ঘটিয়ে তোলা হয়নি। সে কারণে নগরগুলো ইট-পাথরের জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অনেকগুলো উদ্যোগ একা গ্রহণ করেছেন। সে উদ্যোগের প্রেক্ষিতে অনেকগুলো খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, খাল খননের সাথে যুক্তদের চেয়েও অনেক শক্তিশালী হচ্ছে খাল দখলকারীরা। এটি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। অবশ্যই প্রকৃতির সাথে মানুষের সংযোগ ঘটিয়েই নগর পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। শুধু নগর পরিকল্পনা নয়, যে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই প্রকৃতির সাথে মানুষের সংযোগ ঘটিয়ে করা প্রয়োজন।

Feb2
Feb2

এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাশ ৪৫৮৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 10 September, 2026, 11:56 am
এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাশ ৪৫৮৫

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাশ করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে ফল পরিবর্তন হয়েছে আরও অনেক শিক্ষার্থীর।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। আবেদনকারীদের মুঠোফোন নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট rescrutiny.eduboardresults.gov.bd থেকেও ফল জানা যাচ্ছে।

এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলো। আর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শেষ হয়েছিল ১৭ আগস্ট রাতে। আবেদন শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর ফল প্রকাশ করা হলো।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। ফলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় মোট আবেদনের সংখ্যা বেশি হয়েছে।

সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। অর্থাৎ মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন জমা পড়ে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এর আগে জানিয়েছিলেন, এবার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো আবেদন করা উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়নও করা হয়েছে।

আগের নিয়মে পুনঃনিরীক্ষণের সময় মূলত উত্তরপত্রে নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো। পুরো উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হতো না। তবে এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

বোর্ডভিত্তিক হিসাবে এবার সবচেয়ে বেশি পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূল ফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর বৃহস্পতিবার সেই ফল প্রকাশ করা হলো।

জালিয়াতির অভিযোগে ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়লেন হাসিনাকন্যা পুতুল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 10 September, 2026, 7:22 am
জালিয়াতির অভিযোগে ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়লেন হাসিনাকন্যা পুতুল

জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগের তদন্তের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের একটি বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে চীন ভ্রমণসংক্রান্ত আর্থিক জালিয়াতি, শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুল উপস্থাপন এবং বাংলাদেশে অবৈধভাবে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

গত বছরের শেষের দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করার পর তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়।

সায়মা ওয়াজেদ ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন।

রয়টার্সের হাতে আসা ২০২৬ সালের ৩ জুলাইয়ের এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানান, চীন ভ্রমণসংক্রান্ত আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগটি সঠিক নয়। তাদের দাবি, নিয়মিত ক্ষতিপূরণের আবেদন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি হয়েছে। ওই ঘটনায় ৯০১ ডলারের একটি অর্থের কথা উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষাগত যোগ্যতার অভিযোগের বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের জন্য তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুসকে তিনি স্পষ্ট তথ্য দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে সংস্থাটির নেতৃত্বের প্রতি তার বিশ্বাস ও আস্থা হারিয়েছে।

টেড্রোসকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, ‘আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্যই আমি আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম, যা আমি আন্তরিকভাবে করে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনে ক্রমাগত বাধা দেওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বের প্রতি তিনি ‘বিশ্বাস ও আস্থা’ হারিয়েছেন। বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তার আর্থিক অবস্থাও অসহনীয় হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গভীর সাগরে নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও ১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 9 September, 2026, 11:09 pm
গভীর সাগরে নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও ১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা

গভীর সমুদ্রে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদে জরুরি জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পের ধারাবাহিক উৎপাদন নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়ে গঠিত সরকারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মহিলা আসন-১৭ এর সদস্য সুলতানা আহমেদ এবং মেহেরপুর-১ আসনের সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের পৃথক দু’টি প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকার গৃহীত এসব স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের কথা জানান।

সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ তার প্রশ্নে জুলাই ২০২৬-এ একটি এলএনজি টার্মিনাল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্যাস সরবরাহে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি ও শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানতে চান, ভবিষ্যতে এই ধরনের আকস্মিক সংকটে শিল্পখাত যাতে বড় ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে জন্য গ্যাস সরবরাহের বিকল্প উৎস, এলএনজি রিজার্ভ সক্ষমতা, শিল্পাঞ্চলভিত্তিক অগ্রাধিকার সরবরাহ এবং জরুরি জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে কিনা।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, আকস্মিক বা সাময়িক সংকটকালে শিল্পখাত যাতে গ্যাস সংকটের সম্মুখীন না হয়, সেজন্য সরকার ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মোট ৪,৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বি-মাত্রিক (২ডি) এবং ৪,২০০ বর্গ কিলোমিটার ত্রি-মাত্রিক (৩ডি) সাইসমিক সার্ভে পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে, যার দরপত্র দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। পাশাপাশি স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে।

ভবিষ্যতের গ্যাস ঘাটতি পূরণ ও এলএনজি অবকাঠামো জোরদার করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে বিদ্যমান দুইটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে বর্তমানে গড়ে দৈনিক প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়। ভবিষ্যতে আকস্মিক সংকট সামাল দিতে মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কুতুবজোম ভাসমান টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং ল্যান্ড-বেইজড টার্মিনাল থেকে ডিসেম্বর ২০৩০ নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূল বিবেচনায় গভীর সমুদ্রে সুবিধাজনক স্থান নির্বাচন করে জরুরি ভিত্তিতে একটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। একই সঙ্গে ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মেইনল্যান্ডে এনে আগ্রহী শিল্পে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলগুলো অগ্রাধিকার পাবে।

অন্য এক প্রশ্নে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খান দেশের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিকল্প উৎসের সমন্বিত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।

জাতীয় সংসদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ও আগামী দিনের লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের বিশাল চাহিদা মেটাতে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সরকারের সবচেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জ্বালানি খাতের রূপান্তর নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণয়ন করেছে।

কৌশলপত্র অনুযায়ী, সার্বিক সম্ভাবনা ও বর্তমান বাস্তবতাকে মাথায় রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের সুনির্দিষ্ট জাতীয় লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। এই লক্ষ্যের অংশ হিসেবে ২০৩০ সাল নাগাদ বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে একক প্রযুক্তি হিসেবে সর্বাধিক জোর দেওয়া হয়েছে সৌরবিদ্যুতের ওপর। পরিকল্পনা অনুসারে, দেশের বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫,৫০০ মেগাওয়াট এবং বিশালাকার ভূমিভিত্তিক সৌরপ্রকল্প থেকে আরও ৪,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সংস্থান রাখা হয়েছে। বাকি ঘাটতি পূরণে বায়ু বিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সোলার ও কৃষিভিত্তিক অ্যাগ্রিভোলটেইক্সের মতো আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করা হবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করে তুলতে সরকার আমদানিনীতি ও শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো তৈরির জন্য অতীব জরুরি উপাদান যেমন– সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, বিশেষায়িত ব্যাটারি ও স্ট্রাকচার আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমুদয় কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং দুই শতাংশের অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগের গতি আরও ত্বরান্বিত করতে এবং সাধারণ গ্রাহকদের সম্পৃক্ত করতে সম্প্রতি একটি বিশেষ মূল্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ সরকারি প্রণোদনা হিসেবে এই উৎপাদন ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম হিসাব করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা স্থির করা হয়েছে। এই সুবিধার আওতায় নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুসরণ করে যেসব সাধারণ বা বাণিজ্যিক গ্রাহক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ তারিখের মধ্যে ছাদভিত্তিক ব্যবস্থা স্থাপন করবেন, তারা নিজস্ব প্রয়োজন মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে টানা ৩ বছর, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত ইউনিট প্রতি নির্ধারিত এই ১০ টাকা ৫০ পয়সা হার সুবিধা পাবেন।

সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগকে সুনির্দিষ্ট আইনি ও নীতিগত কাঠামোয় আনতে সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা কার্যকর করেছে। সরকারি মালিকানাধীন ভূমিতে পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্প তৈরির নির্দেশিকা ২০২৬, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিশেষ নীতিমালা ২০২৫, সার্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫ এবং হালনাগাদ নেট মিটারিং গাইডলাইন ২০২৫ এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গ্রহণ করা হয়েছে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ২০২৫, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমন্বিত সমন্বিত ব্যবসায়িক মডেল, অনশোর উইন্ড গাইডলাইন এবং কার্বন ক্রেডিট প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত পথনির্দেশিকা, যা দেশের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ নিরাপত্তায় মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।