খুঁজুন
, ,

ক্ষমতায় থেকে নিজেদের ভাগ্য গড়েছে বিএনপি-জামায়াত: শেখ হাসিনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 29 December, 2023, 9:30 pm
ক্ষমতায় থেকে নিজেদের ভাগ্য গড়েছে বিএনপি-জামায়াত: শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতায় থেকে মানুষের ভাগ্য না গড়ে নিজেদের ভাগ্য গড়েছিল বিএনপি-জামায়াত। তারা (বিএনপি-জামায়াত) সন্ত্রাসী দল, তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। কারণ তারা মানুষ পোড়ায়, মানুষ হত্যা করে। আমাদের রাজনীতি মানুষের কল্যাণে আর তাদের রাজনীতি মানুষ পোড়ানোতে। শুক্রবার বিকাল ৪টায় বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পর শুধু যে একজন রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করেছে তা নয়, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছিল, স্বাধীনতার মূল্যবোধকে ধ্বংস করেছিল। শুধু তাই নয়, জয় বাংলা স্লোগান, ৭ মার্চের ভাষণ এমনকি জাতির পিতার ছবিও নিষিদ্ধ করেছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যখন জনগণের জন্য উন্নয়ন করি, তখন ওই বিএনপি-জামায়াত করে অগ্নিসন্ত্রাস। রেললাইনের ফিস প্লেট ফেলে দিয়ে, বগি ফেলে দিয়ে মানুষ হত্যার ফাঁদ পাতে। রেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। মা-সন্তানকে বুকে জড়িয়ে রেখেছে- এই অবস্থায় আগুনে পুড়ে কাঠ হয়ে গেছে। এই দৃশ্য পুরো বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। আসে আগুন, গাড়িতে আগুন, ঠিক ২০০১ সালে শুরু করেছিল। এরপর ১৩-১৪ একই ঘটনা ঘটায়। এখন আবার অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করেছে। আমি ধিক্কার জানাই বিএনপি-জামায়াতকে।

তিনি বলেন, আজকে আমি বরিশালে উপস্থিত হয়েছি। ৭ জানুয়ারি নির্বাচন, সেই লক্ষ্যে এখানে উপস্থিত হয়েছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শূন্য হাতে বাংলাদেশ বিনির্মাণের যাত্রা শুরু করেছিলেন। তিনি যখন দায়িত্ব নেন তখন মাথাপিছু আয় ছিল ৯১ ডলার। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার তিন বছরের মধ্যে তা ২৭৭ ডলারে উন্নীত করেন। তিনি অসহায়দের জন্য অকাতরে সব বিলিয়ে দেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে হত্যা নয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করেছিল।

‘এরপর অবৈধভাবে জিয়া, এরশাদ ক্ষমতায় আসে। তারা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। একমাত্র আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ উন্নয়নে দেশের সোনালী সময় ছিল। দুর্ভাগ্য চক্রান্ত করে ২০০১ সালে আমাকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। বরিশালে নেতাকর্মীদের যে নির্যাতন করা হয়েছিল তা অবর্ণনীয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ ছিল মানুষের সবচেয়ে বড় অন্ধকার যুগ। বরিশাল থেকে ২৫ হাজার লোক গোপালগঞ্জে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল।’

আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। বিএনপির দুঃশাসনে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করে আমাদের ক্ষমতায় রেখেছে। আজ ২০২৩ সাল, আমরা বদলে যাওয়া বাংলাদেশে। আজকে দুর্ভিক্ষ নেই, মঙ্গা নেই। যে মানুষ একবেলা খেতে পারতো না। তারা তিন বেলা খেতে পারছে। বই বিনামূল্যে বিতরণ করছি। অসহায়দের ভাতা দিচ্ছি। আজকে ১০ কোটি মানুষ উপকারভোগী। আমরা বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে শিল্প কলকারখানা চালিয়ে আসছি। ১০ টাকায় কৃষকরা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। ১ কোটি ২ লাখ কৃষক অ্যাকাউন্ট খুলে ভর্তুকির টাকা পাচ্ছে।

সরকারপ্রধান বলেন, বরিশাল এক সময় ছিল শস্যভান্ডার। আবার আমরা সেই ভান্ডারের সুনাম ফেরাতে সাইলো নির্মাণ করছি। শস্যভান্ডার হিসেবে বরিশালের সুনাম ফিরিয়ে আনতে চাই। বরিশালে মেডিকেল খুলে দিয়েছি, এছাড়া মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হবে।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বরিশালে পৌঁছে সার্কিট হাউসে যান। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে বিকেল ৩টা ৫মিনিটে জনসভায় যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ছোট বোন শেখ রেহানাও আছেন।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু উদ্যানেই জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের এক জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশের কয়েকটি জেলায় জনসভা করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বরিশালের এ সফর।

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০ ডিসেম্বর সিলেটে হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহ পরানের মাজার জিয়ারত এবং এরপর আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে নির্বাচনী জনসভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন শেখ হাসিনা।

Feb2
Feb2

অটোরিকশার জন্য আসছে কিউআর কোড-ডিজিটাল ট্র্যাকিং

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 8:22 pm
অটোরিকশার জন্য আসছে কিউআর কোড-ডিজিটাল ট্র্যাকিং

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে একটি ডিজিটাল, নিবন্ধিত ও শৃঙ্খলিত ব্যবস্থার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এক নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, অটোরিকশাচালকদের কর্মসংস্থান অক্ষুণ্ন রেখে ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুতই নতুন নীতিমালা ও বিধিমালা কার্যকর করা হচ্ছে। এই নীতিমালার অধীনে প্রতিটি অটোরিকশায় কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম যুক্ত করা হবে, যাতে একটি নম্বরের অধীনে অবৈধভাবে একাধিক রিকশা চালানোর সুযোগ না থাকে। একইসঙ্গে লেড-এসিড ব্যাটারি তুলে দিয়ে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক রিকশা চলাচলের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু ৭১ বিধিতে মনোযোগ আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে চালু থাকা ৫০টি এআই নির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরার সুফল ও অটোরিকশার কারণে তৈরি হওয়া সমস্যার কথা তুলে ধরে নোটিশ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা চালুর পর সড়কে লাল বাতি অমান্য করা, লাইন পরিবর্তন কিংবা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর মতো অনিয়ম অনেকাংশেই কমে এসেছে। কিন্তু হতাশাজনক বিষয় হলো, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গতিতে চলছে। এসব যানের কোনো নম্বর প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরায় অনিয়ম শনাক্ত হলেও জরিমানা করা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রেহানা আক্তার রানু বলেন, ঢাকা শহরে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা প্রধান সড়কগুলোতেও ঢুকে পড়ছে। সঠিক কাঠামোগত নকশা না থাকায় প্রায়ই এসব বাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। তবে কম ভাড়া ও সহজলভ্যতার কারণে এটি সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই অটোরিকশা পুরো বন্ধ না করে তাদের কাঠামোগত পরিবর্তন, নম্বর প্লেট সংযোজন, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও প্রশিক্ষণের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

নোটিশের বিপরীতে দেওয়া সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজি বাইক ও তিন চাকার বৈদ্যুতিক যানগুলো গ্রামীণ ও নগর পরিবহন ব্যবস্থার একটি প্রধান অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কম খরচ ও সহজ যাতায়াতের কারণে যেমন সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে, তেমনি চালক, গ্যারেজ শ্রমিক, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী ও চার্জিং সেবা দাতাসহ একটি বিশাল অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এর দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও রাজস্ব ক্ষতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। বিপরীতে বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই প্রায় ৪৮ হাজার অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে প্রতি বছর সরকারের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব রিকশায় যে ক্ষতিকারক লেড-এসিড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় এবং এর অনিরাপদ রিসাইক্লিংয়ের কারণে যে ধোঁয়া ও সিসা নির্গত হয়, তা বাতাস, মাটি ও পানি মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এমনকি আশেপাশে গড়ে ওঠা পোল্ট্রি শিল্পগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে দেশে মোট ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১ জন নিহত হন। এসব দুর্ঘটনার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশেই যুক্ত ছিল অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।

বর্তমান আইনি পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ডিএমপি নিয়মিত অভিযান ও ডাম্পিং পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে ডিএমপি, ডেসকো ও ডিপিডিসির যৌথ অভিযানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। সড়ক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে ঢাকা শহরের ১৭টি সিগন্যালে ৫০টি এআই ক্যামেরা থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়ায় তেজগাঁও ও রমনা বিভাগে আরও ২০০টি এআই ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে, যা পর্যায়ক্রমে পুরো রাজধানীতে সম্প্রসারণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ পেয়ে সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, তিনি রিকশা নিষিদ্ধ করার কথা বলেননি, বরং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন কেবল ঢাকাতেই অন্তত ৩০০টি নতুন অটোরিকশা যুক্ত হচ্ছে এবং প্রতিদিন ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এদের পেছনে খরচ হচ্ছে, যা বর্তমান লোডশেডিংয়ের একটি প্রধান কারণ। তিনি বাহন জব্দ করা, ডাম্পিং কিংবা পুলিশের হয়রানি বন্ধ করে এগুলোকে ভেতরের গলির রাস্তায় চালানোর নির্দেশ দেওয়া, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা, বিআরটিএ নিবন্ধন এবং এলাকাভিত্তিক জোনিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেন। শেষ পর্যায়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এই সমন্বিত ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ঠিক কবে নাগাদ তৈরি ও বাস্তবায়িত করা হবে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া আলোচনার সূত্রে সংসদকে নিশ্চিত করেন যে, সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান ও নীতিমালা এরইমধ্যে প্রণীত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক চূড়ান্ত হওয়া এই নীতিমালায় রূপরেখা নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে কোনো চালকের কর্মসংস্থান ব্যাহত না হয়।

মন্ত্রী জানান, নীতিমালার অধীনে একটি ডিজিটাল নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মধ্যে কিউআর কোড এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু থাকবে, যাতে একটি নম্বরের অধীনে অবৈধভাবে একাধিক রিকশা চালানোর সুযোগ না থাকে। একইসঙ্গে লেড-এসিড ব্যাটারি তুলে দিয়ে ডিজিটাল পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারে কঠোর শর্ত দেওয়া হবে।

শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও সিটি কর্পোরেশনের অসাধু কর্মচারীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঈমানদারিতার সঙ্গে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার জাতীয় স্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে অতি দ্রুত এই নীতিমালার পূর্ণ প্রয়োগ ঘটাবে।

ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামে ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 5:08 pm
ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামে ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ডিসি জাহিদ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাবে জেলা প্রশাসন। আগামী শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।

আজ সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুরক্ষা এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও ইউনিসেফের আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি, ঢাকার পরিচালক সরকার সারোয়ার আলম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রাণঘাতী রোগ। এর বিস্তার ঠেকাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ২৫ জুলাই থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতি শনিবার জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। সরকারি কার্যালয়ের প্রাঙ্গণ ও ছাদ, পুকুর, জলাশয়সহ ডেঙ্গুর ঝুঁকি রয়েছে—এমন স্থানগুলো এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে।

এর ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ একযোগে পরিষ্কার করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ শুধু ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য নয়; পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার একটি সামাজিক আন্দোলন। পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।’

মসজিদ ও এর আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ যেন মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নির্মল প্রার্থনার স্থান হয়। সবার সামর্থ্য এক নয়, কিন্তু এ কাজে আন্তরিকতার ঘাটতি থাকা উচিত নয়।’

সমাজে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষক ও ইমামদের মানুষ সম্মানের জায়গায় রাখেন। মানুষের ওপর তাঁদের প্রভাবও রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কাজে ব্যবহার করা প্রয়োজন।

ইমাম-খতিবদের ধর্মীয় আলোচনায় সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক, সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতির মতো বিষয় নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। ধর্মীয় নেতাদের আচরণ ও বক্তব্য এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে মানুষ তাঁদের অনুসরণ করে এবং রোল মডেল হিসেবে দেখতে পারে।

নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্য কেমন সমাজ রেখে যাওয়া হচ্ছে, তা সবাইকে ভাবতে হবে। সন্তানদের মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং বাবা-মা ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলার দায়িত্ব পরিবার ও সমাজের।

তিনি বলেন, ‘শুধু অন্যকে দোষ দিয়ে সমাজের পরিবর্তন হবে না। আমি নিজে সমাজের জন্য কী করছি, সেটিও ভাবতে হবে। নিজের দায়িত্ব উপলব্ধি না করলে বড় বড় কথা বলেও বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।’

সময়ের যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, অর্থ দিয়ে অনেক কিছু কেনা গেলেও সময় কেনা যায় না। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের সময় ও সামর্থ্য সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানো।

দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণ উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষকে মূল্যবোধসম্পন্ন, মানবিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার। তিনি বলেন, ‘এই দেশটা আমাদের। আমাদেরকেই সাজাতে হবে।’

কর্মশালায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির কর্মকর্তা, ইউনিসেফের প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন।

গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 4:46 pm
গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট

চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকার গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে মার্কেটটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অপারেটর জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ধারণা, মার্কেটের ভেতরে কয়েকজন মানুষ আটকা পড়েছেন। অনেকে সিঁড়ি দিয়ে মার্কেটের ছাদে উঠে নিরাপদে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন।