খুঁজুন
বুধবার, ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নৌকা বনাম আওয়ামীলীগের উদ্বেগ-উৎকন্ঠার ভোট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৪, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
নৌকা বনাম আওয়ামীলীগের উদ্বেগ-উৎকন্ঠার ভোট

একদিকে শঙ্কা-উৎকণ্ঠা-উদ্বেগ, অন্যদিকে উৎসবের আমেজ। অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রবিবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ‘ভোটখেলায়’ আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নন। তাই এবার ভোটারদের মনে উৎসবের সঙ্গে জোরেশোরে শঙ্কাও ভর করেছে। তবে, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

ইতোমধ্যে আসনগুলোতে পৌঁছে গেছে ব্যালট পেপারসহ ভোটের সব উপকরণ। এবারই প্রথম ব্যালট পেপার পৌঁছানো হয়নি ভোটের আগের দিন। রবিবার সকালে ৭টার মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এসব ব্যালট তুলে দেবেন।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে নৌবাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি।

এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১২৫ জন প্রার্থী। তবে সবার দৃষ্টি আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঘিরে। চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে অন্তত ১০টি আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভোটযুদ্ধে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের কারণে নৌকা প্রতীক পেলেও সহজ জয়ের পথে ‘চ্যালেঞ্জ’-এ পড়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, সুপ্রিম পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট, কল্যাণ পার্টিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থী রয়েছেন ভোটের মাঠে।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) : মিরসরাইয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মাহবুব উর রহমান রুহেল। তবে তাঁর জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন। ভোটে ছোট-বড় আরও ৫ প্রার্থী থাকলেও নৌকার রুহেলকে কঠিন লড়াই করতে হবে শক্তিশালী গিয়াসের সঙ্গে। মানুষ ভোট দিতে পারলে এ আসনে গিয়াসের জয় ‘অপ্রতিরোধ্য’ বলে মনে করছেন ভোটাররা। ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভা মিলে এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫২৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৪১ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮২ জন। স্থায়ী ১০৬টি কেন্দ্রে ৭১৭টি বুথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন তারা।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) : আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনির ‘বাধা’ স্বতন্ত্র প্রার্থী পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মো. আবু তৈয়ব। শেষ মুহূর্তে এসে সনিকে ‘সমর্থনের’ কথা বলে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে গেছেন চার বারের এমপি তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। মাঠে আছেন তাঁর ভাতিজা সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ। চাচা-ভাতিজার লড়াই থামলেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে নৌকা ও স্বতন্ত্রে। এ আসনে আওয়ামী লীগের আরেক স্বতন্ত্রসহ প্রার্থী রয়েছেন আরও তিনজন।

ফটিকছড়িতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৯০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯০৪ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ১৬,৫৮৩ জন। তিনজন হিজড়া ভোটার। কেন্দ্র আছে ১৪২টি।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) : চট্টগ্রামের একমাত্র দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে তিনবারের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তবে এবার তাকে মাড়িয়ে যেতে হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর পথ। বিভিন্ন দলের আরও ৫ প্রার্থী থাকলেও লড়াইটা জমবে মিতা-জামালের মধ্যে— বলছেন ভোটাররা।

সন্দ্বীপে ২ লাখ ৪১ হাজার ৯১৪ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৯ জন পুরুষ, মহিলা ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৪৩ জন। ১টি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নে কেন্দ্র আছে ৮৪টি।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) : আওয়ামী লীগের প্রার্থী এস এম আল মামুনের পথ থেকে দুই বারের সংসদ সদস্য দিদারুল আলম চৌধুরী সরে দাঁড়ালেও ‘কাঁটা’ হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী লায়ন মো. ইমরান। ফলে অন্য দলের ৫ প্রার্থীর মতো স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরানের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। তবে, এ আসনে স্বতন্ত্রকে খুব একটা ‘মাথায়’ নেয়নি স্থানীয় আওয়ামী লীগ। মামুনের সঙ্গে অনেকটা ‘নিশ্চিন্ত’ সময় পার করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। কিন্তু, স্বতন্ত্রের ইমরানও ‘নাছোড়বান্দা’ শেষ মুর্হূর্ত পর্যন্ত ‘দৌড়ে’ গেছেন।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) : উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি এম এ সালামকে নৌকার বহর থেকে নামিয়ে জোটের ‘ভাগ’ নিয়েছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। ভোটের মাঠে লাঙল নামালেও বাধা হয়েছে আওয়ামী স্বতন্ত্র। জোটসঙ্গীরা পাশে না থাকায় তাকে লড়তে হচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ শাহজাহানের সঙ্গে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর ‘সঙ্গ’ দেয়ায় খুব একটা সহজ হচ্ছে না আনিসুলের নির্বাচনীযাত্রা। তাদেরও ডিঙাতে হবে বিএনএফ, সুপ্রীম পার্টি, গণতান্ত্রিক ফোরাম, ইসলামী ফ্রন্ট ও ইসলামীক ফ্রন্টের মতো দলের ৫ প্রার্থীকে।

চট্টগ্রাম-৬ ( রাউজানে) : এখানে ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফজলে করিম চৌধুরী। এবার সংসদে পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে মন্ত্রীর ‘চেয়ারে’ দেখতে চান ভোটাররা। আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিউল আজম থাকলেও ভোটারদের সব হিসাব-নিকাশ ফজলে করিম চৌধুরীকে ঘিরেই। প্রার্থী আছে জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, ইসলামিক ফ্রন্টেরও।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) : এই আসনে ‘অপ্রতিরোধ্য’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। দলের কেউ তাঁর বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হননি, নেই অন্য দলের হেভিওয়েট কোনো প্রার্থীও।

চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) : নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদকে ‘বিসর্জন’ দিয়ে এই আসনটি ‘জোটবন্ধু’ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আসন ভাগে পেলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ‘কাবু’ করতে পারেনি ‘ভাগীদার’ সোলায়মান আলম শেঠ। ‘তকদির’ খারাপ তাঁর। আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম ও বিজয় কুমার চৌধুরীর ‘শক্তিশালী’ অবস্থানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন শেঠ। আরও ৮ প্রার্থী থাকলেও মূলত তাদের ঘিরেই ভোটারদের যত হিসেব নিকেশ।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) : এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। আরো ৬ প্রার্থী থাকলেও মহিউদ্দিনপুত্রেরই জয় হবে— এমনটাই হিসাব কষে ফেলেছেন ভোটাররা। তবে প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রতিদ্বন্দ্বীই ধরে নিয়েছেন তিনি। গেছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং- পাহাড়তলী-হালিশহর) : এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর সঙ্গে জমবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সিটি মেয়র মঞ্জুর আলমের সঙ্গে। ‘তালে’ আছেন আওয়ামী স্বতন্ত্র ফরিদ মাহমুদও।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) : আওয়ামী লীগের প্রার্থী তিনবারের এমপি এম এ লতিফকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চাপের মুখে ফেলেছেন চসিক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। নগর আওয়ামী লীগকে সাঙ্গ করে প্রচারণার চালিয়ে গেছেন তিনি। জয়ের ব্যাপারে শুরু থেকে ‘কনফিডেন্ট’ লতিফ, সুমনও শতভাগ আশাবাদী। অন্যান্য আসনের মতো এ আসনেও ‘খেলা হবে’ লতিফ বনাম সুমনের।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) : শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশে আলোচনার আসন পটিয়া। ভোটের মাঠে চলছে, বর্তমান সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরীকে হটাতে নাকি পর্দার অন্তরালে ‘কলকাঠি’ নাড়ছে দেশের বৃহৎ একটি শিল্পগ্রুপ। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলামের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছেন হুইপ সামশুল। ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এম এ মতিনসহ এ আসনে প্রার্থী আছেন ৬ জন। তবে লড়াইটা সামশুল হক চৌধুরীর সঙ্গে আওয়ামী প্রার্থী মোতাহেরের সঙ্গে। তাদের ঘিরে আশঙ্কা রয়েছে সংঘাতেরও।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) : আওয়ামী লীগের প্রার্থী ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। আছে জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, ইসলামী ফ্রন্ট, সুপ্রীম পার্টির মতো কয়েকটি দলের ৬ প্রার্থী। এই আসনেও জাবেদের জয় অনিবারণীয়।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) : বীরমুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে আওয়ামী লীগ। তবে মানতে পারেন নি উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার চৌধুরী। উপজেলা চেয়ারম্যানের চেয়ার ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তিনি। দুই চৌধুরীতেই জমবে এ আসনের ভোটখেলা।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) : সবাইকে অবাক করে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী। দলীয় ‘বলয়ে’ শক্ত অবস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেব। ‘ভোটখেলা’ হবে তাঁদের দুজনের সঙ্গে। মোতালেবের ‘জয়জয়কার’ হলেও নদভীর কি ‘খেল’ শেষ পর্যন্ত দেখতে ‘উন্মুখ’ ভোটাররা।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) : ভোটের শুরু থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত ‘বিতর্কিত’ কর্মকাণ্ডে শীর্ষ অবস্থানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। সাংবাদিকদের মারধর, পুলিশের হাত কেটে নেওয়ার হুমকি— কিছুই বাদ রাখেন নি ভোটের মাঠে। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মুজিবুর রহমান সিআইপিকে কিভাবে ‘ট্যাগেল’ দেন দেখার বিষয়। মোস্তাফিজ-মুজিবুর ‘খেলায়’ সুবিধা করতে চান আবদুল্লাহ কবির লিটন। এ আসনেও প্রার্থীর ছড়াছড়ি। আওয়ামী ও আওয়ামী স্বতন্ত্র বাদে প্রার্থী আছেন আরও ৭ জন।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে এবার মোট ভোটার ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৯০ জন, নারী ভোটার ৩০ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫৬ জন।

চট্টগ্রামের সব আসন মিলিয়ে মোট ভোটকেন্দ্র ২০২৩টি এবং ভোট গ্রহণ কক্ষ ১৩ হাজার ৭৩২টি। প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ৪৩ হাজার ২১৯। ১০ শতাংশ অতিরিক্তসহ ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকবে মোট ৪৭ হাজার ৫৪৪ জন।

চট্টগ্রামের ১০টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান জানান, রবিবার সকাল ৭টার মধ্যে প্রত্যেক নির্বাচনী আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে ব্যালট বিতরণ শেষ করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় আলাদা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ করা হবে এবং নগরীর চারটি আসনের জন্য আলাদা তিনটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরে আলম মিনা বলেন, ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে বিজিবি, আনসার কোস্টগার্ড দায়িত্ব পালন করবে। কোনো ভোটারকে যদি কেউ বাধা দেয়, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

Feb2

তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান ও মুসলমানদের ঐক্যের জন্য দোয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান ও মুসলমানদের ঐক্যের জন্য দোয়া

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সর্ব কর্তৃত্বময়, নিষ্কলুষ, নিরাপত্তা ও শান্তি দানকারী, ‍যিনি মুসলমানদের ওপর তার সম্মানিত ঘরের হজ ফরজ করেছেন, হজকে দ্বীনের অন্যতম স্তম্ভ বানিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি সর্বময় জ্ঞান ও ক্ষমতার অধিকারী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, যিনি সব সৃষ্টির সেরা। তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সঙ্গী-সাথী এবং অনুসারীদের ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম।

আম্মা বা’দ

হে মানবসকল! আপনারা তাকওয়া অবলম্বন করুন। কারণ তাকওয়ার মাধ্যমেই পরকালে বান্দার মুক্তি লাভ সম্ভব। আল্লাহ তাআলা সুরা হজের শুরুতে এরশাদ করেছেন, ‘হে মানবসকল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো; নিশ্চয়ই কেয়ামতের ভূকম্পন এক ভয়ানক ব্যাপার। যে দিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী মা তার দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত হয়ে যাবে। মানুষকে তুমি দেখবে মাতালসদৃশ অথচ তারা মাতাল নয়; বস্তুত আল্লাহর আজাব বড়ই কঠিন।’

তাকওয়ার পথ হলো, নেক আমল করা এবং সব ধরনের পাপাচার ও মন্দ কাজ বর্জনের মাধ্যমে কেয়ামত দিবসের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তা এই জন্য যে, আল্লাহই সত্য এবং তিনিই মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। আর এজন্য যে, কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং কবরে যারা আছে আল্লাহ তাদের পুনরুত্থিত করবেন।’

পরকালের জন্য সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হলো, তাওহিদের অনুসারী হওয়া, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করা। মানুষ কীভাবে আল্লাহকে ছেড়ে এমন কিছুর ইবাদত করে বা তাকে ডাকে, যা তার কোনো ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না? এটাই তো চরম পথভ্রষ্টতা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সে এমন কিছুকে ডাকে যার ক্ষতি তার উপকার অপেক্ষা নিকটতর। কতই না নিকৃষ্ট এই অভিভাবক এবং কতই না নিকৃষ্ট এই সঙ্গী!’

আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরিক করে, সে যেন আকাশ থেকে আছড়ে পড়ল, অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোনো দূরবর্তী নির্জন স্থানে নিক্ষেপ করল।’

ইমানদারদের আসল স্লোগান হলো আল্লাহর তাওহিদ। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের ইলাহ তো একমাত্র ইলাহ, কাজেই তোমরা তাঁরই অনুগত হও এবং সুসংবাদ দাও বিনীতদের; যাদের অন্তর আল্লাহর নাম স্মরণ করা হলে কম্পিত হয়, যারা তাদের বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।’ এগুলোই দ্বীনে ইসলামের মূল রোকন—তাওহিদ তথা আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল—এই সাক্ষ্য দেওয়া, নামাজ কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, রমজানের রোজা রাখা এবং আল্লাহর পবিত্র ঘরের হজ করা।

এর সাথে রয়েছে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করার উপদেশ; আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত।’ এবং আল্লাহর আনুগত্যের ওপর ও কষ্টদায়ক তাকদিরের ওপর ধৈর্য ধারণ করার উপদেশ; ইরশাদ হয়েছে, ‘ধৈর্যশীলদের তো তাদের পুরস্কার পুরোপুরি দেওয়া হবে বিনা হিসাবে।’ একইসাথে আল্লাহর নেয়ামতের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করা; ইরশাদ হয়েছে, ‘এভাবে আমি সেগুলোকে (কোরবানির পশু) তোমাদের অনুগত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’

সৃষ্টিজগতে আল্লাহর কিছু চিরন্তন নিয়ম রয়েছে, বান্দার উচিত সেগুলোর ওপর ঈমান আনা এবং তা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের রক্ষা করেন; আল্লাহ কোনো বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যে আল্লাহকে সাহায্য (আল্লাহর দ্বীনকে) করবে, আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম শক্তিমান, পরাক্রমশালী।’ আল্লাহর নিয়মের মধ্যে আরও রয়েছে তাঁর এই বাণী: ‘কত জনপদ আমি ধ্বংস করেছি যেগুলোর বাসিন্দারা ছিল জালেম, তাই এসব জনপদ তাদের ঘরের ছাদসহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, কত কূপ পরিত্যক্ত হয়েছে এবং কত সুদৃঢ় প্রাসাদ ধ্বংস হয়েছে!’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘কত জনপদকে আমি অবকাশ দিয়েছি এই অবস্থায় যে তা ছিল জালেম, অতঃপর আমি তাকে পাকড়াও করেছি এবং আমার কাছেই তো ফিরে আসতে হবে।’

মহান আল্লাহ তাঁর খলিল ইবরাহিমকে (আ.) হজের আজান বা ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেছেন, ‘এবং মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে আরোহণ করে, দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে। যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানসমূহে উপস্থিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে—তিনি তাদের যে চতুষ্পদ জন্তু রিজিক হিসেবে দিয়েছেন তার ওপর।’

হজের দিনগুলোতে যে ব্যক্তি তাড়াহুড়ো করে দুদিনে চলে যাবে তার কোনো পাপ নেই এবং যে বিলম্ব করবে তারও কোনো পাপ নেই। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো, তোমাদের তাঁর কাছেই সমবেত করা হবে। হজের সফর শেষ করে ফেরার পূর্বে রয়েছে বিদায়ী তাওয়াফ।

আল্লাহ তাআলা আপনাদের মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে আপনাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা বা কঠিন নিয়ম চাপিয়ে দেননি; এটা আপনাদের পিতা ইবরাহিমের মিল্লাত। তিনি পূর্বে আপনাদের নাম ‘মুসলিম’ রেখেছেন; যাতে রাসুল আপনাদের জন্য সাক্ষী হন এবং আপনারা সাক্ষী হন মানবজাতির জন্য। অতএব আপনারা নামাজ কায়েম করুন, জাকাত আদায় করুন এবং আল্লাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরুন; তিনিই আপনাদের অভিভাবক, কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী!

আল্লাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার অন্যতম উপায় হলো, বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা, বিশেষ করে হজের আমলসমূহ পালন করার সময়। কারণ এগুলো দোয়া কবুলের উপযুক্ত সময় ও জায়গা। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফা দিবসের দোয়া। আর আরাফার দিন আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যে সর্বোত্তম বাক্যটি বলেছি, তা হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর (অর্থাৎ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই, আর তিনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান)।’

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা অবশ্যই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন। তাদেরই জন্য রয়েছে তাদের আমলের প্রতিদান এবং আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।’

হে আল্লাহ! আপনি হাজিদের দোয়া ও ইবাদত কবুল করুন, তাদের জন্য হজের সব আমল সহজ করে দিন, তাদের গুনাহ ও ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন এবং তাদের নিরাপদে সওয়াব ও সফলতার সাথে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার তওফিক দিন।

হে আল্লাহ! আপনি মুসলমানদের সংকট ও দুরবস্থা দূর করে দিন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করুন। হে আল্লাহ! আপনি মুসলমানদের সংকট ও দুরবস্থা দূর করে দিন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করুন। হে আল্লাহ! আপনি মুসলমানদের সংকট ও দুরবস্থা দূর করে দিন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করুন। আপনি তাদের সব বিষয়ের দায়িত্ব নিন এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার সার্বিক অবস্থা কল্যাণময় করে দিন।

হে রাব্বুল আলামীন! হে আল্লাহ! আপনি খাদেমুল হারামাইন ওয়াশ-শরিফাইন বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে তাদের যাবতীয় কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করার তওফিক দান করুন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের উত্তম প্রতিদান দিন। নিশ্চয়ই তারা আপনার বান্দাদের প্রতি ইহসান করেছেন, হাজিদের জন্য হজের সব ইবাদত সহজ করে দিয়েছেন এবং হারামাইন শরিফাইনের খেদমতে ও আগত মেহমানদের সেবায় অকাতরে ব্যয় করেছেন। আপনি তাদের মাধ্যমে আপনার দ্বীনকে বিজয়ী করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের মাধ্যমে আপনার দ্বীনকে সাহায্য করুন। আমাদের নেতা ও নবি মুহাম্মাদের (সা.) ওপর, তাঁর পরিবার ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

হজের খুতবা (২০২৬) দিয়েছেন: শায়খ আলী আল হুজাইফি, মসজিদে নববির খতিব ও বিশ্বখ্যাত প্রবীণ আলেম।

জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিন বাহিনীর অতর্কিত হামলার ঘটনায় আগে থেকে যথাযথ নজরদারি করতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব এবং পুলিশের চৌকি ছিল। ঠিকভাবেই কাজ করা হচ্ছিল। তবে আমাদের কিছু দুর্বলতা ছিল। সেভাবে মনিটর করতে পারিনি।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘কোনোভাবেই ইয়াসিন বাহিনী বা অবৈধ দখলদার কেউ জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশ করতে পারবে না, টিকতেও পারবে না। আমরা তাদেরকে যেভাবেই হোক উচ্ছেদ করবই। এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন কোনো শক্তি নেই যে, সেখানে নতুন করে ঢুকতে পারবে।’

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও জানান র‍্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ঈদের জামাত ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, রাতের টহল ও নিরাপত্তা চৌকি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক জোরপূর্বক কোনো হাটে নিতে না পারে, সে বিষয়েও র‍্যাব সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ফাঁকা ঢাকায় চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে দিন-রাত বাড়তি পেট্রোল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

পবিত্র হজ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র হজ আজ

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’… ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।

আজ ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত ২০ লক্ষাধিক মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

আজ ৯ জিলহজ মূল হজের দিন তারা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরো প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত। মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে পুনরায় মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত।

মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু আল্লাহর জন্য কোরবানি করেন। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সবচেয়ে প্রিয়। মিনার এই স্থানে তিনি আল্লাহকে খুশি করতে যখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুত্রকে নিয়ে যান, তখন সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। যেটি নবি ইব্রাহিমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছিল। ঐ সময় ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। এখন হাজিরা এ স্থানে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারেন।

মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ি তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ি তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরিফে পুনরায় সাত বার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

এদিকে গতকাল সারা দিন ও রাতে হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করেন। সেখানেই শুরু হয় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছর হজের সময় মুসলিমদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো রাখা হয়েছে লাখ লাখ তাঁবু। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার অদূরের মিনা যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। মোতায়েন আছে ১ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

এদিকে সৌদিতে গতকাল গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।