খুঁজুন
, ,

নৌকা বনাম আওয়ামীলীগের উদ্বেগ-উৎকন্ঠার ভোট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 6 January, 2024, 10:56 pm
নৌকা বনাম আওয়ামীলীগের উদ্বেগ-উৎকন্ঠার ভোট

একদিকে শঙ্কা-উৎকণ্ঠা-উদ্বেগ, অন্যদিকে উৎসবের আমেজ। অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রবিবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ‘ভোটখেলায়’ আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নন। তাই এবার ভোটারদের মনে উৎসবের সঙ্গে জোরেশোরে শঙ্কাও ভর করেছে। তবে, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

ইতোমধ্যে আসনগুলোতে পৌঁছে গেছে ব্যালট পেপারসহ ভোটের সব উপকরণ। এবারই প্রথম ব্যালট পেপার পৌঁছানো হয়নি ভোটের আগের দিন। রবিবার সকালে ৭টার মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এসব ব্যালট তুলে দেবেন।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে নৌবাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি।

এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১২৫ জন প্রার্থী। তবে সবার দৃষ্টি আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঘিরে। চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে অন্তত ১০টি আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভোটযুদ্ধে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের কারণে নৌকা প্রতীক পেলেও সহজ জয়ের পথে ‘চ্যালেঞ্জ’-এ পড়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, সুপ্রিম পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট, কল্যাণ পার্টিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থী রয়েছেন ভোটের মাঠে।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) : মিরসরাইয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মাহবুব উর রহমান রুহেল। তবে তাঁর জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন। ভোটে ছোট-বড় আরও ৫ প্রার্থী থাকলেও নৌকার রুহেলকে কঠিন লড়াই করতে হবে শক্তিশালী গিয়াসের সঙ্গে। মানুষ ভোট দিতে পারলে এ আসনে গিয়াসের জয় ‘অপ্রতিরোধ্য’ বলে মনে করছেন ভোটাররা। ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভা মিলে এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫২৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৪১ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮২ জন। স্থায়ী ১০৬টি কেন্দ্রে ৭১৭টি বুথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন তারা।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) : আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনির ‘বাধা’ স্বতন্ত্র প্রার্থী পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মো. আবু তৈয়ব। শেষ মুহূর্তে এসে সনিকে ‘সমর্থনের’ কথা বলে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে গেছেন চার বারের এমপি তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। মাঠে আছেন তাঁর ভাতিজা সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ। চাচা-ভাতিজার লড়াই থামলেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে নৌকা ও স্বতন্ত্রে। এ আসনে আওয়ামী লীগের আরেক স্বতন্ত্রসহ প্রার্থী রয়েছেন আরও তিনজন।

ফটিকছড়িতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৯০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯০৪ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ১৬,৫৮৩ জন। তিনজন হিজড়া ভোটার। কেন্দ্র আছে ১৪২টি।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) : চট্টগ্রামের একমাত্র দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে তিনবারের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তবে এবার তাকে মাড়িয়ে যেতে হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর পথ। বিভিন্ন দলের আরও ৫ প্রার্থী থাকলেও লড়াইটা জমবে মিতা-জামালের মধ্যে— বলছেন ভোটাররা।

সন্দ্বীপে ২ লাখ ৪১ হাজার ৯১৪ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৯ জন পুরুষ, মহিলা ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৪৩ জন। ১টি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নে কেন্দ্র আছে ৮৪টি।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) : আওয়ামী লীগের প্রার্থী এস এম আল মামুনের পথ থেকে দুই বারের সংসদ সদস্য দিদারুল আলম চৌধুরী সরে দাঁড়ালেও ‘কাঁটা’ হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী লায়ন মো. ইমরান। ফলে অন্য দলের ৫ প্রার্থীর মতো স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরানের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। তবে, এ আসনে স্বতন্ত্রকে খুব একটা ‘মাথায়’ নেয়নি স্থানীয় আওয়ামী লীগ। মামুনের সঙ্গে অনেকটা ‘নিশ্চিন্ত’ সময় পার করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। কিন্তু, স্বতন্ত্রের ইমরানও ‘নাছোড়বান্দা’ শেষ মুর্হূর্ত পর্যন্ত ‘দৌড়ে’ গেছেন।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) : উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি এম এ সালামকে নৌকার বহর থেকে নামিয়ে জোটের ‘ভাগ’ নিয়েছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। ভোটের মাঠে লাঙল নামালেও বাধা হয়েছে আওয়ামী স্বতন্ত্র। জোটসঙ্গীরা পাশে না থাকায় তাকে লড়তে হচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ শাহজাহানের সঙ্গে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর ‘সঙ্গ’ দেয়ায় খুব একটা সহজ হচ্ছে না আনিসুলের নির্বাচনীযাত্রা। তাদেরও ডিঙাতে হবে বিএনএফ, সুপ্রীম পার্টি, গণতান্ত্রিক ফোরাম, ইসলামী ফ্রন্ট ও ইসলামীক ফ্রন্টের মতো দলের ৫ প্রার্থীকে।

চট্টগ্রাম-৬ ( রাউজানে) : এখানে ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফজলে করিম চৌধুরী। এবার সংসদে পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে মন্ত্রীর ‘চেয়ারে’ দেখতে চান ভোটাররা। আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিউল আজম থাকলেও ভোটারদের সব হিসাব-নিকাশ ফজলে করিম চৌধুরীকে ঘিরেই। প্রার্থী আছে জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, ইসলামিক ফ্রন্টেরও।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) : এই আসনে ‘অপ্রতিরোধ্য’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। দলের কেউ তাঁর বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হননি, নেই অন্য দলের হেভিওয়েট কোনো প্রার্থীও।

চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) : নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদকে ‘বিসর্জন’ দিয়ে এই আসনটি ‘জোটবন্ধু’ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আসন ভাগে পেলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ‘কাবু’ করতে পারেনি ‘ভাগীদার’ সোলায়মান আলম শেঠ। ‘তকদির’ খারাপ তাঁর। আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম ও বিজয় কুমার চৌধুরীর ‘শক্তিশালী’ অবস্থানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন শেঠ। আরও ৮ প্রার্থী থাকলেও মূলত তাদের ঘিরেই ভোটারদের যত হিসেব নিকেশ।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) : এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। আরো ৬ প্রার্থী থাকলেও মহিউদ্দিনপুত্রেরই জয় হবে— এমনটাই হিসাব কষে ফেলেছেন ভোটাররা। তবে প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রতিদ্বন্দ্বীই ধরে নিয়েছেন তিনি। গেছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং- পাহাড়তলী-হালিশহর) : এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর সঙ্গে জমবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সিটি মেয়র মঞ্জুর আলমের সঙ্গে। ‘তালে’ আছেন আওয়ামী স্বতন্ত্র ফরিদ মাহমুদও।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) : আওয়ামী লীগের প্রার্থী তিনবারের এমপি এম এ লতিফকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চাপের মুখে ফেলেছেন চসিক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। নগর আওয়ামী লীগকে সাঙ্গ করে প্রচারণার চালিয়ে গেছেন তিনি। জয়ের ব্যাপারে শুরু থেকে ‘কনফিডেন্ট’ লতিফ, সুমনও শতভাগ আশাবাদী। অন্যান্য আসনের মতো এ আসনেও ‘খেলা হবে’ লতিফ বনাম সুমনের।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) : শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশে আলোচনার আসন পটিয়া। ভোটের মাঠে চলছে, বর্তমান সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরীকে হটাতে নাকি পর্দার অন্তরালে ‘কলকাঠি’ নাড়ছে দেশের বৃহৎ একটি শিল্পগ্রুপ। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলামের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছেন হুইপ সামশুল। ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এম এ মতিনসহ এ আসনে প্রার্থী আছেন ৬ জন। তবে লড়াইটা সামশুল হক চৌধুরীর সঙ্গে আওয়ামী প্রার্থী মোতাহেরের সঙ্গে। তাদের ঘিরে আশঙ্কা রয়েছে সংঘাতেরও।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) : আওয়ামী লীগের প্রার্থী ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। আছে জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, ইসলামী ফ্রন্ট, সুপ্রীম পার্টির মতো কয়েকটি দলের ৬ প্রার্থী। এই আসনেও জাবেদের জয় অনিবারণীয়।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) : বীরমুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে আওয়ামী লীগ। তবে মানতে পারেন নি উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার চৌধুরী। উপজেলা চেয়ারম্যানের চেয়ার ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তিনি। দুই চৌধুরীতেই জমবে এ আসনের ভোটখেলা।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) : সবাইকে অবাক করে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী। দলীয় ‘বলয়ে’ শক্ত অবস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেব। ‘ভোটখেলা’ হবে তাঁদের দুজনের সঙ্গে। মোতালেবের ‘জয়জয়কার’ হলেও নদভীর কি ‘খেল’ শেষ পর্যন্ত দেখতে ‘উন্মুখ’ ভোটাররা।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) : ভোটের শুরু থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত ‘বিতর্কিত’ কর্মকাণ্ডে শীর্ষ অবস্থানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। সাংবাদিকদের মারধর, পুলিশের হাত কেটে নেওয়ার হুমকি— কিছুই বাদ রাখেন নি ভোটের মাঠে। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মুজিবুর রহমান সিআইপিকে কিভাবে ‘ট্যাগেল’ দেন দেখার বিষয়। মোস্তাফিজ-মুজিবুর ‘খেলায়’ সুবিধা করতে চান আবদুল্লাহ কবির লিটন। এ আসনেও প্রার্থীর ছড়াছড়ি। আওয়ামী ও আওয়ামী স্বতন্ত্র বাদে প্রার্থী আছেন আরও ৭ জন।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে এবার মোট ভোটার ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৯০ জন, নারী ভোটার ৩০ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫৬ জন।

চট্টগ্রামের সব আসন মিলিয়ে মোট ভোটকেন্দ্র ২০২৩টি এবং ভোট গ্রহণ কক্ষ ১৩ হাজার ৭৩২টি। প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ৪৩ হাজার ২১৯। ১০ শতাংশ অতিরিক্তসহ ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকবে মোট ৪৭ হাজার ৫৪৪ জন।

চট্টগ্রামের ১০টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান জানান, রবিবার সকাল ৭টার মধ্যে প্রত্যেক নির্বাচনী আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে ব্যালট বিতরণ শেষ করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় আলাদা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ করা হবে এবং নগরীর চারটি আসনের জন্য আলাদা তিনটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরে আলম মিনা বলেন, ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে বিজিবি, আনসার কোস্টগার্ড দায়িত্ব পালন করবে। কোনো ভোটারকে যদি কেউ বাধা দেয়, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

Feb2
Feb2

ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে জিতল ক্যারিবীয়রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 7:04 am
ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে জিতল ক্যারিবীয়রা

লক্ষ্য ২৫০ রান। ১৮ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৪০। ভারতের বিপক্ষে রাঁচিতে দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে জয় পেতে শেষ দুই ওভারে ক্যারিবীয়দের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০ রান। একই ব্যবধান ছিল সেঞ্চুরি থেকেও দূরত্বে থাকা অধিনায়ক শাই হোপের। অক্ষর প্যাটেলের করা ১৯তম ওভারের প্রথম ও তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জেতানোর পাশাপাশি শতকও পূর্ণ করেন তিনি।

অক্ষরের ওভারের প্রথম বলটি ডিপ মিডউইকেট দিয়ে সীমানাছাড়া করেন হোপ। পরের বলটি এক্সট্রা কাভারে ঠেলে দিলেও রান নেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। তৃতীয় বলে ওয়াইড লং অন দিয়ে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি ও জয়—দুটিই একসঙ্গে উদ্‌যাপন করেন তিনি। মাত্র ৪৫ বলে শতক পূর্ণ করা হোপের দুর্দান্ত ইনিংসে ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে ক্যারিবীয়রা। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়া করে জয়ের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহের লক্ষ্য অতিক্রম করার ঘটনা।

আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়ার বিশ্ব রেকর্ডের ম্যাচেও ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়ানে সেই রেকর্ড গড়েছিল তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৫৯ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ম্যাচটি জিতেছিল স্বাগতিকেরা।

রাঁচিতে আজকের ম্যাচের শুরুতে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের এমন দাপুটে জয়ের আভাস পাওয়া যায়নি। ভারতের পেসার মায়াঙ্ক যাদব প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ক্যারিবীয়দের স্কোর ৫ রানে ২ উইকেটে নামিয়ে দেন। এরপর রোভম্যান পাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ২৭ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন হোপ। পাওয়েল ১৩ বলে ২৪ রান করে ফিরলে ক্রিজে আসেন শেরফান রাদারফোর্ড।

রাদারফোর্ডকে নিয়ে পরের ৯ ওভারে ১২০ রান যোগ করেন হোপ। ৩৭ বলে ৭টি ছক্কায় ৮৪ রান করে রাদারফোর্ড যখন আউট হন, তখনও জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ৩৫ বলে ৭২ রান।

সেই চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন হোপ। রোমারিও শেফার্ডের সঙ্গে তাঁর জুটিতে মাত্র ২৬ বলে আসে ৭৪ রান। শেফার্ডও ছিলেন আক্রমণাত্মক; ১৩ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এটি হোপের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাঁর ৪৫ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬টি চার ও ৯টি ছক্কায়। এর আগে গত বছর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন এই ক্যারিবীয় অধিনায়ক।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন ওপেনার সঞ্জু স্যামসন। ৪১ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন তিনি।

এ ছাড়া তিলক বর্মা ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪, ঈশান কিষান ২২ বলে ৪৩ এবং অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ১৮ বলে ৪০ রান করেন। ভারতের বড় সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি হোপের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সামনে।

 

জলাবদ্ধতা নিরসনে সামষ্টিক সমাধান নিশ্চিত করা হবে: অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 7:24 pm
জলাবদ্ধতা নিরসনে সামষ্টিক সমাধান নিশ্চিত করা হবে: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর সমন্বিত বাস্তবায়ন, খালের দুই পাড়ে হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিয়মিত সমন্বয় ও পর্যালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সামষ্টিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

শুক্রবার বিকেলে টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় নির্ধারণে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের বিগ্রেড কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম শামস, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত কাজগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি যেসব কাজ এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হলেও সামগ্রিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একটি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই অন্য এলাকায় নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, নগরীর বড় খালগুলোর উন্নয়নের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে মানুষের হাঁটাচলার উপযোগী পথ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের বিষয়টিও চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটাচলা, সাইকেল চালানো, শরীরচর্চা ও অবসর কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। খালকেন্দ্রিক উন্নয়নকে শুধু পানি নিষ্কাশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

নগরীর পরিবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে গাছ লাগাতে হবে। বৃক্ষরোপণ নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বায়ুদূষণ কমাতে সহায়ক হবে। জলাবদ্ধতা নিরসন, সবুজায়ন, হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক, সবকিছুকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রামকে আরও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম ওয়াসা, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত সমন্বয় ও পর্যালোচনার মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের অপচয় কমবে, কাজের গতি বাড়বে এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর নালা খাল পরিষ্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। বর্ষার আগে নালা ও খালের উন্নয়ন ও পরিষ্কার কার্যক্রমের জন্য ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় তিনি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যেসব খালের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তরের পর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে মোট ১৩০টি খাল চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি খালের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ৪১টি খাল উন্নয়নের জন্য প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অবশিষ্ট খালগুলোর উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হবে। জলাবদ্ধতামুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে খালগুলোর উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেয়র জানান, বিমানবন্দর এলাকায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হয়েছে, যা দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতে খালকেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের চলাচলের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার কিছু স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের পর দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার পেছনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা ও পানি নিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল এবং পানি সংরক্ষণের স্থানগুলোকে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সভায় চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। সিডিএ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই চলমান প্রকল্পগুলোর সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত ও সামষ্টিক সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি। চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৩০টি খালের মধ্যে ৩৭টি সংস্কার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে অবশিষ্ট খালগুলোতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কারকাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, নগরীতে স্থাপিত স্লুইসগেট ও রেগুলেটরগুলোর কার্যকর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দক্ষ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

আউটার রিং রোড প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, কালুরঘাট পর্যন্ত প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীর তীরবর্তী এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের বিগ্রেড কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামছুল আলম শামস বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্প প্রায় শেষের পথে। প্রকল্পটি শেষ হলে নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। তবে, প্রকল্পের বাহিরে থাকা খালগুলোও খনন করতে হবে এবং সংস্কারের পর রক্ষণাবেক্ষণে জোর দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পাম্প ও স্লুইসগেট স্থাপন করলেই হবে না, এগুলোর কার্যকর পরিচালনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রতিক বন্যায় সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে মানুষ ও যানবাহনের আশ্রয়ের উপযোগী উঁচু জায়গার সংকট দেখা গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত এক কিলোমিটার রাস্তা তুলনামূলক উঁচু করে নির্মাণের প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের অবকাঠামো বন্যার সময় মানুষ ও গবাদিপশুর আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী হেলিকপ্টার অবতরণ এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুযোগও রাখা যেতে পারে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে স্লুইসগেট ও রেগুলেটর পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর দুপাশে অন্তত দুটি সংযোগকারী ‘ক্রস খাল’ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, মহেশখাল সম্প্রসারণসহ এ ধরনের খাল নির্মাণ ও সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি নৌচলাচলের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া রোধে ভবিষ্যতে সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে আর্চ ব্রিজের নকশা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নগরীর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, হালিশহরে সুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ আগামী বছর শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গৃহস্থালি বর্জ্যপানি সরাসরি ড্রেনে যাওয়ার প্রবণতা কমবে এবং নগরীর পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘমেয়াদি পানি সরবরাহ পরিকল্পনার বিষয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আগামী ১০০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পানি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক এলাকার জন্য সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে দৈনিক ১০০ কোটি লিটার পানি শোধনের একটি প্রকল্প গ্রহণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী, অতি: বিভাগীয় কমিশনার মনোয়ারা বেগম, জলাবদ্ধতার মেগা প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মহসিন, সিএমপির অতি: কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, বন্দর কর্তৃপক্ষের চীফ হাইড্রোগ্রাপার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান, পানি উন্নয়ন বিভাগের প্রকল্প পরিচালক কর্নেল তারিকুল আলম, চসিকের খাল ও জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞ শাহরিয়ার খালেদ, সিটি রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক গোলাম বাকি মাসুদ সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন ।

দুর্গাপূজা সার্বজনীন উৎসব, সবাই মিলে বাংলাদেশ গড়তে চাই: আমীর খসরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 7:14 pm
দুর্গাপূজা সার্বজনীন উৎসব, সবাই মিলে বাংলাদেশ গড়তে চাই: আমীর খসরু

দুর্গাপূজা এখন আর শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, আমরা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সব মানুষের সমান অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাতে হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নগরের জেএমসেন হলে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা একটি ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি বাংলাদেশের জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই তিনি পূজার আনন্দ ও উৎসবে অংশ নিয়েছেন। আমরা সবাই মিলে একটি দেশ গড়তে চাই। সেই দেশে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী নয়, সবাই সমান সুযোগ পাবে। সবার অংশগ্রহণে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আমরা সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।

সামাজিক সম্প্রীতি প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিটি সমাজেই কিছু দুষ্ট লোক থাকে। তারা যেন মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও ঐক্য নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ জন্য সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এবার দুর্গাপূজার বেশ আগেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। মানুষের মধ্যে স্বস্তি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির পরিবেশ থাকলে এমন আনন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চায়। ছোটখাটো অসুবিধা থাকতে পারে। তবে সেগুলোকে বড় করে না দেখে দেশের সামনে থাকা সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সভাপতি বক্তব্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক
মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, চট্টগ্রামে যখন বন্যা হয়েছিল, তখন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে থাকা যেমন আমাদের দায়িত্ব, তেমনি বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবেও মানুষের পাশে থাকা আমাদের অঙ্গীকার। আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসবের আয়োজনেও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ আপনাদের পাশে রয়েছে। আমরা চাই, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ থাকুক। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণভাবে এবং আনন্দঘন উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হয়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সবার সহযোগিতায় এবারের দুর্গাপূজা সম্প্রীতি ও আনন্দের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীমের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা.শাহাদাত হোসেন। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী রওশন ইসলাম, চট্টগ্রাম ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন শ্রী হরিশ কুমার, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, আশীর্বাদক শংকর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ তপনানন্দ গিরি মহারাজ, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর কে দাশ রুপু, বেসরকারি কারা পরিদর্শক উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস,হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি শ্রী রাজীব ধর তমাল ও চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রমুখ।