খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতৃত্বের পরিবর্তন ছাড়া বিএনপির রাজনীতি আর কখনো সচল হবেনা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
নেতৃত্বের পরিবর্তন ছাড়া বিএনপির রাজনীতি আর কখনো সচল হবেনা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বসে যাওয়া পুরাতন গাড়ির মতো বিএনপিকে দেশি-বিদেশি অনেকে ঠেলেও স্টার্ট দিতে পারেনি। বিএনপি’র এই পুরাতন গাড়ি স্টার্ট দিতে হলে ব্যাটারি চেঞ্জ করতে হবে। কিন্তু তাদের ডেম হয়ে যাওয়া ব্যাটারিও থাকে লন্ডনে। এই ব্যাটারি ফেলে না দিলে বিএনপির রাজনীতির গাড়ি আর কখনো স্টার্ট হবে না। বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো, নেতৃত্বের পরিবর্তন ছাড়া আপনাদের এই দল এবং রাজনীতি আর কখনো সচল হবে না।

তিনি বলেন, এই পর্যন্ত ৭০ টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে। জো বাইডেন চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে, বাংলাদেশ সরকারের সাথে তারা কাজ করতে চাই। তার ক’দিন পরে ঋষি সুনাক ও চিঠি দিয়েছেন অভিনন্দন জানিয়ে। জাতিসংঘের মহাসচিবও চিঠি লিখে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ইউরোপিয়ান কমিশনের সবাই অভিনন্দন জানিয়েছেন। এত অভিনন্দন বার্তা ইতিপূর্বে কখনো আসে নাই। সমস্ত পৃথিবী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে, এবং এই সরকারের সাথে কাজ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে। আর এগুলো দেখে মাথা খারাপ হয়ে বিএনপি কয়দিন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসেছিল, কি করবে বুঝতে পারে নাই।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বোয়ালখালীর সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রয়াত মোছলেম উদ্দিন আহমদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই স্মরণসভার আয়োজন করে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এবার নির্বাচন নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছিল। প্রথমে ষড়যন্ত্র ছিল নির্বাচন যাতে না হয়, যখন সেটি ঠেকাতে পারেনি, তারপর ষড়যন্ত্র ছিল নির্বাচনের মধ্যে নাশকতা সৃষ্টি করে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা। সেটি যখন করতে পারেনি তারপর পরিকল্পনা ছিল নির্বাচন যাতে দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য না হয়। সমস্ত পৃথিবী যখন অভিনন্দন জানাচ্ছে, তারপর বিএনপি বলল এখন আমরা লিফলেট বিতরণ করব। আপনারা লিফলেট বিতরণ করেন, পেট্রোল বোমা বিতরণ করতে যাবেন না। সেটা যদি করেন উচিত শিক্ষা আপনাদেরকে দেয়া হবে। দলের তরুণ কর্মীদের বলবো, বিএনপির কারা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করার পরিকল্পনা করে, সেটা খুঁজে বের করুন। আমরা তাদেরকে এই কাজ করতে দিব না।

প্রয়াত মোছলেম উদ্দিন আহমেদ একজন কর্মী থেকে নেতা হয়ে উঠা মানুষ উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মিছিলের পেছনের সারির কর্মী থেকে তিনি নেতৃত্বের আসনে আসীন হয়েছিলেন। একজন কর্মী কিভাবে নেতা হতে পারেন সেটির উদাহরণ তিনি। আজকের নতুন প্রজন্ম যারা ৩০ বছর বয়স, তারা জানেনা বিরোধী দল কি, বিরোধী দলে থাকলে যন্ত্রণা কি, সেটি অনেকে বুঝতে পারে না। সমস্ত প্রতিকূলতাকে উপড়ে ফেলে মোছলেম উদ্দিনের মতো যারা জননেত্রী শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ডকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন আজকে ধীরে ধীরে তাদের অনেকে প্রয়াত হয়েছেন। পঁচাত্তরের পরে দম্ভ করে অনেকেই বলতো আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতায় যাবে না। সেই সময় বুকে পাথর বেঁধে জিয়া এরশাদের সমস্ত দমন-নিপীড়ন ও রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে, নিজের জীবনকে বিপন্ন করে যারা এই সংগঠনকে গড়ে তুলেছেন এই চট্টগ্রামে তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মোছলেম উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, মোছলেম উদ্দিন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের সময় যেই সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেন না। তিনি এবং আমাদের প্রয়াত আরেক নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী একসাথে যুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানীদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। গ্রেপ্তার হবার পর তারা পাগলের অভিনয় করা শুরু করলেন। তখন পাকিস্তানিরা মনে করলো এরা পাগল। সেজন্য তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছিল। এবং ছাড়া পাওয়ার পর আবার মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান বলেন, এখন অনেকেই রেডিমেইড নেতা হতে চাই, অনেকে টাকা দিয়ে রাজনীতি কিনতে চাই, অনেকে রাতারাতি নেতা বনে যেতে চান, সেজন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নয়, টাকা দিয়ে রাজনীতি কেনা যায় বিএনপি-জাতীয় পার্টিতে, আওয়ামী লীগে নয়। অর্থ আর বৃত্তকে আমাদের দল মূল্যায়ন করে না, কর্মীর মূল্যায়ন করে।

কর্ণফুলি নদীর উপর কালুরঘাট সেতুর ডিজাইন এপ্রুভ হয়েছে উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি, ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী এই ডিজাইনে সম্মতি দিয়েছেন। এটি একনেকে গিয়ে এপ্রুভ হলে কাজ শুরু হবে ইনশাল্লাহ। প্রয়াত মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ও মাইনুদ্দিন খান বাদল কর্ণফুলী সেতুর জন্য অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছেন। আমিও তাদেরকে একাজে সব সময় সহযোগিতা করেছি। সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে আমি বেশ কয়েক দফা কথা বলেছি। একটু অপেক্ষা করুন এটি হয়ে যাবে।

বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজা’র সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুস ছালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ দাশ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুল কাদের সুজন প্রমুখ।

Feb2

চট্টগ্রামের ক্রীড়া উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ইসরাফিল খসরুর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের ক্রীড়া উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ইসরাফিল খসরুর

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নবনির্বাচিত পরিচালক ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরুকে সংবর্ধনা দিয়েছে চট্টগ্রাম ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ। এ সময় চট্টগ্রামের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন ও খেলাধুলার প্রসারে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম চত্বরে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে খেলার মাঠের সংকট দূর করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়াম ও অনুশীলন মাঠের উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু বলেন, আমি কোনো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য নই। তারপরও আপনারা আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, তা আমি চিরদিন মনে রাখব। স্থানীয় জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সংগঠকদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ করে যাব।অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া খেলাধুলার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ সময় তিনি এ খাতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চট্টগ্রাম ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের আহ্বায়ক হাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এইচ এম রাশেদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব মসিউল আলম স্বপন, সিজেকেএস ক্লাব উপদেষ্টা হাফিজুর রহমান, সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহীন আফতাব রেজা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দীন শামীম। আরও উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক মাহাবুবুর রহমান, বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সভাপতি শাহাজাদা আলম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, মোহাম্মদ আজিজ, শফিকুর রহমান স্বপন, কাজী বেলাল ও মঞ্জুর আলম মঞ্জু প্রমুখ।

বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। তাই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মতো বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন কাজ করা হবে। একইসঙ্গে গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে সরকার তা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।

আজ (বুধবার) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সংসদে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের এলাকার উন্নয়ন ও কর্মপরিধি নিয়ে কথা বলেন। সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট আসন থাকলেও নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্ট কোনো আসন নেই। তবে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে দলীয় অবস্থান থেকে তাদের কাজের জন্য কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

এলাকার উন্নয়নে সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং নারী সংসদ সদস্য—উভয়েরই কাজ করার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের বিষয়ে সরকারি নিয়মানুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকলে জানাবেন, আমি সরাসরি সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।’

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য আনিছুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের সুষম উন্নয়ন এবং বিরোধী দলের প্রতি সরকারের সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

স্পিকারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে সংসদ কীভাবে চলবে সে বিষয়ে কমিটির একটি বৈঠক ছিল। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতাও ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ঈদের আগে সরকারের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু সহযোগিতা হয়তো বিরোধীদলীয় অনেক সংসদ সদস্য পাননি। আমি ওই বৈঠক থেকে বেরিয়েই এলজিইডি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়কেই সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, বিরোধীদলীয় কোনো সংসদ সদস্য যদি না পেয়ে থাকেন, তবে যাতে দ্রুত সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সম-উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে বিরোধীদলীয় সদস্যবৃন্দ যারা আছেন, তাদের এলাকাতেও। আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।’

সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার পরও সরকারি দলের বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার হয়, সেগুলো বন্ধে বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে কি না—সাংসদ আনিসুর রহমান এমনটি জানতে চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার মনে হয় এ বিষয়ে আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। সবেমাত্র শুরু হলো, লেট আস ওয়েট অ্যান্ড সি।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার। কাজেই যদি গঠনমূলক কোনও সমালোচনা থাকে, অবশ্যই সেটি আমরা গ্রহণ করব এবং সেভাবে আমরা পদক্ষেপ নেব।’

সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। দেহাবশেষ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ আবেদন করেন।

বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) দেহাবশেষ (লাশ) কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে রয়েছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর আরও উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।