খুঁজুন
রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১১ দফা দাবিতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মবিরতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ আগস্ট, ২০২৪, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
১১ দফা দাবিতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মবিরতি

সিলেটের ভোলাগঞ্জ স্টেশনের ফাঁড়িতে হামলা-লুটপাট, বাহিনী হিসেবে সুযোগ-সুবিধা না পাওয়া, বন্ধ নিয়োগ-পদোন্নতি চালুসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, গত সোমবার ভোলাগঞ্জ স্টেশনে নিরাপত্তা বাহিনীর ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে অস্ত্র ও গুলি লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে বেশ কয়েক সদস্য আহত হন। এ ঘটনা জানাজানি হলে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার বিকাল থেকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জড়ো হতে থাকেন। সেখান থেকে তাদের এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা বাহিনীর সিপাহি হেলাল উদ্দিন বলেন, ভোলাগঞ্জে হামলার ঘটনায় সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ছাড়া আমরা বাহিনী নাকি কর্মচারী সেটি এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। বাহিনী হলে সে হিসেবে সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। এসব দাবিতে আমরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ভোলাগঞ্জ স্টেশনে লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আরএনবি সদস্যদের যেসব দাবি আছে সেগুলো আমাকে জানিয়েছে। তিনি বলেন, পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। ঝুঁকিভাতা ও রেশনভাতা নিয়ে আদালতে রিট করা হয়েছে; ফলে সেটি আদালতে নিষ্পত্তি হবে।

যেসব দাবি নিয়ে তারা দেশের বিভিন্ন স্টেশনে অবস্থান করে তা হচ্ছেঃ

১। স্থায়ীভাবে ভোলাগঞ্জ সার্কেল অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং দপ্তরাদেশ জারী করতে হবে।

২। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী আইন- ২০১৬ অনুযায়ী কর্মচারী না বাহিনী তা সুনিশ্চিত করতে হবে এবং যদি বাহিনী হলে তাহলে বাহিনীর সকল সুযোগসুবিধা (রেশন, ঝুঁকি ভাতা, যাতায়াত ভাতা) সহ অন্যান্য সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

৩। নিয়োগ নীতিমালা সংশোধন করে প্রতিবছর নিয়োগ কার্যক্রম অব্যহত রাখতে হবে এবং তিন বছর পর পর পদোন্নতি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে এবং বাহিনীর নীতিমালা অনুযায়ী নিজস্ব তত্তাবধানে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

৪। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গগণ, বাংলাদেশ রেলওয়ে মহাপরিচালক, মহাব্যবস্থাপক এবং সকল সরকারী বাহিনী ও নিজস্ব উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ব্যাতিত অন্য কোন সিভিল প্রশাসনের নিয়ন্ত্রনে কোন আদেশ বা প্রটোকল ডিউটিতে নিয়াজিত থাকবে না।

৫। হেডকোয়ার্টার ব্যাতিত বিশেষ ডিউটিতে বাহিনী নিজস্ব যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৬। রেলওয়ে সম্পত্তি (অবৈধ দখল উদ্ধার) আইন, ২০১৬ মোতাবেক। পূর্বের ন্যায় মামল রুজু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৭। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রত্যেক সার্কেলের ব্যারাক সমূহ সংস্কার এবং সকল মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হবে।

৮। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যের আট কর্মঘন্টা নির্ধারণ করতে হবে। আট ঘন্টার যদি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয় তাহলে তার পরিবর্তে অতিরিক্ত কর্মঘন্টার ভাতা প্রদান করতে হবে।

৯। অন্যান্য বাহিনীর ন্যায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বেতন বৈষম্য দূর করতে হবে।

১০। বংলাদেশ রেলওয়ে সকল সম্পত্তি রক্ষাণাবেক্ষন এবং রেলওয়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল বাহিনীতে রুপান্তর করতে হবে।

১১। সিজিপিওয়াই, পাহাড়তলী কারখানা, পাহাড়তলী স্টোর, সিজিএমওয়াই ইত্যাদি কেপিআইভুক্ত এলাকা সমূহের ক্যারেজ ফিটিং এর কোন মালামালের চার্জ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী বুঝে নিবে না। কারণ তারা এই সমস্থ মালামাল সম্পর্কে অবগত নয়।

১২। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সকল সদস্যের কর্মবিরতি ও দাবী আদায় প্রসঙ্গ নিয়ে কোন প্রকার বিভাগীয় বদলী ও হয়রানী করা যাবে না।

এদিকে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সকল সার্কেলের আরএনবির সদস্যরা চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। কোনো স্থাপনায় গতকাল তারা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেননি। রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ কোনো স্টেশনে আরএনবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন না করায় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরে রেলের সকল স্থাপনাসহ সকল ট্রেন।

সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আরএনবি প্রধানসহ বাহিনীর অন্যান্য শীর্ষ কমকর্তাদের নিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে ভিআইপি রেস্ট হাউজে বৈঠকে বসেন।

বৈঠক শেষে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের (আরএনবি সদস্যদের ) কিছু দাবি–দাওয়া ছিল। আমরা তাদের আশ্বাস দিয়েছি। দাবি গুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে। দাবি গুলো আমরা ঢাকায় পাঠিয়ে দেবো। তাদেরকে যার যার স্থানে দায়িত্ব পালনে চলে যেতে বলেছি। তারা আশ্বস্ত হয়েছেন। তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করছেন। তারা তাদের স্থানে (যে যার দায়িত্ব পালনের স্থানে) চলে যাবেন।

বৈঠকে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) প্রধান জহুরুল ইসলাম, কমান্ড্যান্ট মো. রেজওয়ান–উর–রহমানসহ অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমান্ড্যান্ট মো. রেজওয়ান–উর–রহমান বলেন, আমাদের আরএনবির সদস্যরা তাদের কিছু দাবি নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেছেন। তাদের দাবি গুলো নিয়ে রাতে ডিআরএমসহ আমাদের পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) প্রধান জহুরুল ইসলাম স্যারসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উনারা আরএনবি সদস্যদের দাবি গুলোর ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ–আলোচনা করে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। তারা তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। তাদেরকে নিজ নিজ স্থানে দায়িত্ব পালনের জন্য চলে যেতে বলেছেন।

Feb2

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে পয়েন্ট টেবিলে ব্রাজিলকে টপকাল স্কটল্যান্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ
২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে পয়েন্ট টেবিলে ব্রাজিলকে টপকাল স্কটল্যান্ড

১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছিল স্কটল্যান্ড। বিপরীতে তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের টিকিট কাটে। যেখানে ২৮ বছর পর খেলতে নামা স্কটিশরা ৩৬ বছর পর মেগা ইভেন্টে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছে। এমনকি ‘সি’ গ্রুপের শক্তিশালী দুই দল ব্রাজিল-মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে এখন স্কটল্যান্ড।

আজ (রোববার) ফক্সবোরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে জন ম্যাকগিনের গোলে হাইতিকে ১-০ গোলে হারাল ইউরোপীয় দেশটি। যদিও ২৮তম মিনিটে ম্যাকগিনের শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিডকে পরাস্ত করে আসে স্কটল্যান্ডের জয়সূচক গোলটি।

১৯৯০ সালের পর স্কটিশরা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছে। অবশ্য মাঝে তারা বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি ২৮ বছর। শেষবার তারা সুইডেনকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল। অন্যদিকে, ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশগ্রহণের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে হাইতি। তবে এখনও বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্টের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

স্কটল্যান্ডের হয়ে ম্যাকগিনের গোলটি আসে বক্সের ভেতরে চে অ্যাডামসের মিস করা শট থেকে। বলটি হাইতির গোলরক্ষক প্লাসিডের গায়ে লেগে ফাঁকা জায়গায় চলে যায়। ১৩ গজ দূর থেকে ম্যাকগিনের নেওয়া শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে। এর আগে অবশ্য ম্যাচের ১৭তম মিনিটেও গোলের খুব কাছে ছিল স্কটল্যান্ড। অধিনায়ক স্কট ম্যাকটমিনে ফাঁকা জায়গা পেয়ে শট নেন, তবে সেটি পোস্টের উপরের অংশ ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়।

হাইতি কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে দ্বিতীয়ার্ধে। ৭৪তম মিনিটে রুবেন প্রভিডেন্সের ক্রস থেকে উইলসন ইসিডর বল জালে পাঠানোর চেষ্টায় সফল হতে পারেননি। এরপর ৮৪তম মিনিটে ফ্রান্টজডি পিয়েরোর হেড অল্পের জন্য বাম পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

আগামী ২০ জুন পরবর্তী ম্যাচে স্কটল্যান্ড জিলেট স্টেডিয়ামে মরক্কোর মুখোমুখি হবে। একইদিন ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির প্রতিপক্ষ হবে ব্রাজিল।

প্রথম ম্যাচেই হোঁচট, ড্রয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
প্রথম ম্যাচেই হোঁচট, ড্রয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের

বিশ্বকাপের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সেলেসাওদের।

নেইমারকে ছাড়া মরক্কোর বিপক্ষে খেলতে নামা ব্রাজিল শুরুতে ছিল ছন্নছাড়া। অন্যদিকে শুরু থেকেই গোছানো ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো। আর ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোল পেতে পারত আফ্রিকার দেশটি। বাম প্রান্ত থেকে ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে আক্রমণে উঠে তারা।

ব্রাজিলের ডি-বক্সে বল পেয়েও যান মরক্কোর তরুণ মিডফিল্ডার বেনজামিন এল আইনুই। বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পোস্ট লক্ষ্য করে শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দেয়াল হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে যান সেলেসাও ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস।

মরক্কোর শুরুর দাপট সামলে ক্রমেই ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ব্রাজিল। সেলেসাওদের এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মরক্কোর ডি-বক্সে দারুণ এক সুযোগও তৈরি হয়েছিল। সতীর্থের দেওয়া লফটেড পাসে দারুণ পজিশনে বল পেয়ে যান ইগর থিয়াগো। সময়মতো লাফিয়েও উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু বলের সঙ্গে ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি এই স্ট্রাইকার।

এদিকে ব্রাজিল কেবল গুছিয়ে উঠছিল, ঠিক এমন সময় ম্যাচের ২১তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত লিড পেয়ে এগিয়ে যায় মরক্কো। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের দেওয়া চমৎকার এক পাসে বল পেয়ে ব্রাজিলের জাল কাঁপান মরক্কোর ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি।

অবশ্য গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ব্রাজিলের। ঠিক ১১ মিনিট পর দুর্দান্ত এক একক নৈপুণ্যে দলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে মরক্কোর এক ডিফেন্ডারকে দারুণ ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে গোলটি করেন তিনি। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো ঝাঁপিয়েও সেই শট রুখতে পারেননি। ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে এটি ভিনিসিয়ুসের ৫০তম আন্তর্জাতিক গোল।

১-১ গোলে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল রক্ষণ আগলে বেশ কিছু আক্রমণ চালায়। তবে প্রথমার্ধের তুলনায় কিছুটা ম্লান ছিল মরক্কো। এ সময় ব্রাজিলই বেশি ভালো খেলার চেষ্টা করে। যদিও ৯৯ মিনিটে তাদের রক্ষণে কিছুটা ভয় ছড়ায় হাকিমির দল। যোগ করা সময়ে (৯৯ মিনিট) মরক্কো মিডফিল্ডার এল আয়নাউয়ির দুরপাল্লার শট ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার না ঠেকালে ফল ভিন্ন হতে পারত।

কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকেও হয়তো বিশ্বকাপের যাত্রায় পয়েন্ট হারাতে হতো। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় ‘সি’ গ্রুপের দুই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও ‘আফ্রিকান ব্রাজিল’ মরক্কোকে।

শেষ মুহূর্তের গোলে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কাতারের ঐতিহাসিক ড্র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ
শেষ মুহূর্তের গোলে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কাতারের ঐতিহাসিক ড্র

ম্যাচের ঘড়িতে তখন চলছে যোগ করা সময়ের খেলা। ডাগআউটে সুইসরা যখন ৩ পয়েন্ট পাওয়ার আনন্দে উৎসব শুরুর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই ঘটল সেই নাটকীয়তা। সুইজারল্যান্ডের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে ১-১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক ড্র আদায় করে নিল এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতার।

আর এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট পেল কাতার। এর আগে যতবার খেলেছে, প্রতিটি ম্যাচেই হেরেছে কাতার।

ম্যাচের শুরু থেকেই কাতারকে চেপে ধরা সুইজারল্যান্ড কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়েছিল প্রথমার্ধের ১৬ মিনিটের মাথায়। ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করায় ভিএআর চেকের মাধ্যমে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদাকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো। এই গোলের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম পেনাল্টি গোলের ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছিল সুইজারল্যান্ড।

১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে অল-আউট ফুটবলের চেষ্টা করে কাতার। সুইজারল্যান্ডের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকাঞ্জিদের কড়া রক্ষণভাগের সামনে বারবার তাদের আক্রমণগুলো থমকে যাচ্ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষেও যখন স্কোরলাইন ১-০, তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।

ইনজুরি টাইমে সুইজারল্যান্ডের ডি-বক্সের ভেতর এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সুইস রক্ষণভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবিশ্বাস্য এক গোল করে কাতারকে সমতায় ফেরায় তাদের স্ট্রাইকার। গ্যালারিতে থাকা হাজারো কাতার সমর্থককে উল্লাসে ভাসিয়ে রেফারির শেষ বাঁশির সাথে সাথেই ১-১ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।