খুঁজুন
, ,

বন্যায় ক্ষতি হয়েছে ৮ হাজার কি.মি. সড়কের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 30 August, 2024, 10:08 am
বন্যায় ক্ষতি হয়েছে ৮ হাজার কি.মি. সড়কের

সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যার রুদ্র রূপ দেখল দেশের মানুষ। বন্যার প্রকোপ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এখনো বন্যাক্রান্ত সব এলাকা থেকে পানি নামেনি। এরই মধ্যে যেসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে, সেখানে সড়কের ক্ষত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তবে এখনো পুরো ক্ষতি নির্ধারণ করতে পারেনি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে গত ২০ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত বন্যায় আট হাজার কিলোমিটারের বেশি সড়ক এবং এক হাজার ১০১টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় মহাসড়ক ১০৮ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ১২৪ কিলোমিটার, জেলা সড়ক ৫৩৪ কিলোমিটার এবং গ্রামীণ সড়ক সাত হাজার ৭২২ কিলোমিটার।

এ ছাড়া এক হাজার ১০১টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসব হিসাবের বাইরে আরো অনেক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র ক্ষতির পরিমাণের একটি ধারণা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই হিসাব এখনই চূড়ান্ত করা সম্ভব নয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে।

এখনো অনেক সড়কে পানি। পানি পুরোপুরি না সরলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ বোঝা যাবে না। আবার ক্ষয়ক্ষতি কতটা গভীর, তার ওপর নির্ভর করবে মেরামতের ধরন। সেই সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়াতে পারে।

জানতে চাইলে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব (কানেক্টিভিটি) মো. আব্দুল মোক্তাদের বলেন, ‘বন্যার পানি অনেক লম্বা সময় ছিল, যেটা ঝুঁকির বড় কারণ হতে পারে।

টেকনিক্যাল টিম (কারিগরি দল) পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিলে ক্ষতির প্রকৃত চিত্র বুঝতে পারব। মেরামত কোন পর্যায়ে করতে হবে, সেটিও ক্ষতির অবস্থার ওপর নির্ভর করছে। এখনো বন্যার পানি যায়নি। ফলে আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে।’

দেশের পূর্বাঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা দেখা দেয়। বন্যায় সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের সড়ক নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যায় গত বুধবার পর্যন্ত মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সড়ক বিভাগ থেকে অন্তত ১৫৭টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।

সওজের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৭৭৩.৪৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১০৭.০৫ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১২৩.৭৪ কিলোমিটার এবং জেলা মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ৫৪২.৬৬ কিলোমিটার।

বর্তমানে ২২টি সড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে। এর মধ্যে ১৯টি সড়ক পানির নিচে থাকায় যান চলাচল বন্ধ আছে, তিনটি সড়কে কালভার্ট ওয়াশ আউট হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ আছে। প্রবল বন্যায় বিভিন্ন সড়কে আংশিকভাবে ওয়াশ আউট হয়েছে, সড়ক বাঁধ ধসে পড়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অংশে সড়কের উপরিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, রক্ষাপ্রদ কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সওজ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান বলেন, কত টাকার ক্ষতি হলো সেটা পরিমাপ করতে আরো সময় লাগবে। একেক অংশে ক্ষতির ধরন একেক রকম। বন্যার পানি পুরো নেমে গেলে আর্থিক ক্ষতি নির্ণয় করা সম্ভব হবে। যেসব মেরামত আমরা নিজেরা করতে পারব, সেগুলো নিজেরাই করে ফেলব। বাকিটা প্রয়োজনে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে মেরামত করানো হবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশ এবং ফেনীর লালপোলে প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক পানিতে তলিয়ে ছিল। এখন পানি নেমে গেছে। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এ মহাসড়কে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ চলছে। যান চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।

এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ি সড়কে ভূমিধসের কারণে যোগাযোগ ব্যাহত হয়, যা বিভাগীয়ভাবে মেরামত করা হয়েছে। সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা সমুন্নত রাখতে সব সড়ক বিভাগ পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে বিভাগীয়ভাবে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে। পানি পুরোপুরিভাবে নেমে যাওয়ার পর মেরামতের চাহিদা পূর্ণাঙ্গভাবে নির্ণয় করা যাবে।

এদিকে এলজিইডির তথ্য বলছে, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় প্রাথমিকভাবে সাত হাজার ৭২২ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া এক হাজার ১০১টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার সড়ক এবং ৯৬টি সেতু ও কালভার্ট মেরামত করেছে এলজিইডি।

মেরামত প্রসঙ্গে যোগাযোগ ও অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক শামছুল হক বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে। এর পরও বন্যার ক্ষতিতে বোঝা যাবে কোন মানের সড়ক কেমন টিকে থাকে। সেটা বিবেচনা করে মেরামত করতে হবে। মেরামতে এখনই ভারি বিনিয়োগ না করে শুষ্ক মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করা দরকার। আপাতত অল্প খরচে মেরামত করা উচিত। কারণ নিচে পানি আছে। এই মেরামত দীর্ঘ মেয়াদে টিকবে না। আর গুরুত্বপূর্ণ এই করিডরে নামমাত্র মেরামত না করে পুনর্বাসনমূলক বিনিয়োগ করা দরকার।

Feb2

তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের ঐকমত্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 25 June, 2026, 1:13 pm
তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের ঐকমত্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং। বৈঠকে তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায়) বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানি সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে দেশে চলমান নদী খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীন সরকারের কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন। জবাবে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়ে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং গত বছর চীনের পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নদীভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে চীন সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। তিনি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ এবং এ খাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহতের সংখ্যা ছাড়াতে পারে ১ লাখ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 25 June, 2026, 10:32 am
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহতের সংখ্যা ছাড়াতে পারে ১ লাখ

ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আঘাত হেনেছে দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প। এই জোড়া ভূকম্পনের ফলে রাজধানী শহরের একাধিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়েছে এবং আতঙ্কে হাজার হাজার বাসিন্দা রাস্তায় নেমে এসেছেন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বা ইউএসজিএস জানিয়েছে যে প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার তীব্র ভূমিকম্পটির ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পরেই ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি তীব্র ভূকম্পন আঘাত হানে।

মার্কিন ভূবিজ্ঞানী বা ইউএসজিএস-এর প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে যে এই প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগে ভেনিজুয়েলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই দুর্যোগে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ এবং মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ।

এ ছাড়া ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে পার্বত্য অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিধস এবং সমতলে মাটির তারল্য বা লিকুইফেকশন হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। ঘটনার পরপরই ভেনিজুয়েলা উপকূল এবং নিকটবর্তী আরুবা ও বোনাইর দ্বীপপুঞ্জের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তী সময়ে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ভিটিভি-তে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের কারণে রাজধানী কারাকাসের বেশ কিছু বহুতল ভবন ভেঙে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে শহরের অসংখ্য বাড়িঘরে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হয়েছে এবং কিছু ভবন সম্পূর্ণ ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মন্ত্রী জানান যে কারাকাস ছাড়াও দেশের ত্রুহিলিও, ইয়ারাকুই, কারাবোবো, আরাগূয়া, মিরান্দা এবং লা গুয়াইরা রাজ্য এই ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কারাকাসের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লস পালোস গ্রান্দেস এবং আলতামিরা নামক দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। উল্লেখ্য যে ১৯৬৭ সালে ভেনিজুয়েলার রাজধানীতে আঘাত হানা সর্বশেষ বড় ভূমিকম্পেও এই দুটি এলাকা সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হয়েছিল এবং সে সময় প্রায় ২০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি-র একজন সাংবাদিকের পাঠানো ছবিতে কারাকাস শহরের একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যাংক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা গেছে। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে শত শত কিলোমিটার দূরে প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে এবং সতর্কতাস্বরূপ সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় সময় গত বুধবার বিকেল ৬টা ৪ মিনিটে প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটি ইয়ারাকুই রাজ্যে উৎপন্ন হয় যার গভীরতা ছিল মাটির নিচে ২১ দশমিক ৯ কিলোমিটার। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আঘাত হানা ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ইউমারে শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং এর গভীরতা ছিল ভূগর্ভের মাত্র ১০ কিলোমিটার।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিবিসি সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার জানান যে এটি তার জীবনের অনুভূত সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন ছিল এবং সাত তলার ফ্ল্যাটে থাকার সময় তীব্র ঝাঁকুনিতে তার মনে হয়েছিল পুরো ভবনটি বুঝি তার গায়ের ওপর ভেঙে পড়বে।

ভূমিকম্পের এই ঘটনাটি ভেনিজুয়েলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ছুটির দিনে ঘটেছে। দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতা সিমন বলিভার কর্তৃক স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ১৮২১ সালের কারাবোবো যুদ্ধের বিজয়ের স্মরণে গতকাল দেশটিতে সাধারণ ছুটি ছিল। ফলে অন্য যেকোনো কর্মদিবসের তুলনায় সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ সপরিবারে নিজেদের ঘরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

এই চরম সংকটের মুহূর্তে ভেনিজুয়েলার নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন যে এই চরম উদ্বেগের সময়ে তার অন্তর এবং প্রার্থনা ভেনিজুয়েলার প্রতিটি ব্যথিত পরিবারের সঙ্গে রয়েছে।

 

গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর তিনে তিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 25 June, 2026, 10:02 am
গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর তিনে তিন

চেক রিপাবলিককে উড়িয়ে দিলো মেক্সিকো। বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশটি গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে। তিন গোলের সবগুলো দ্বিতীয়ার্ধে দিয়েছে তারা। মেক্সিকো সিটিতে ৩-০ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা।

মাতেও শাভেজ, জুলিয়ান কুইনোনেস ও আলভারো ফিদালগোর গোলে মেক্সিকো তিন ম্যাচে তৃতীয় জয় পেয়েছে। তাতে এ গ্রুপ থেকে বিদায় নিতে হলো চেকদের।

চেকদের হয়ে একটি প্রচেষ্টা গোলবারের পাশ দিয়ে মারেন ডেনিস ভিসিনস্কি। তবে মেক্সিকো সিটিতে প্রথমার্ধে এমন সুযোগ খুব কমই এসেছে। আগেই গ্রুপের এক নম্বর জায়গা নিশ্চিত করা মেক্সিকো বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল। প্রথম শট নিতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৩৬ মিনিট। বক্সের প্রান্ত থেকে ইসরায়েল রেয়েসের ওভারহেড কিক গোলবারের পাশ দিয়ে যায়।

ডেভিড দোদেরা ও কুইনোনেস দূর পাল্লার শট বারের ওপর দিয়ে যায়। হোর্হে সানচেজের শটে প্রথম সেভ করেন চেক গোলকিপার মাতেজ কোভার।

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ায় মেক্সিকো। এক ঘণ্টার আগেই ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে তারা। দল ভালো অবস্থানে থাকার পর মেক্সিকো ৪০ বছর বয়সী কিপার গুইলেরমো ওচোয়াকে চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দেন। স্টপেজ টাইমে মেক্সিকো আরেকটি গোল করলে বড় জয় নিশ্চিত হয় তাদের। এ গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা আগামী ১ জুলাই শেষ ৩২ এর ম্যাচ খেলবে তৃতীয় সেরা একটি দলের সঙ্গে।