খুঁজুন
বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণঅভ্যুত্থানের ১ মাস

জয় শ্রাবণ বিপ্লবের, জয় বাংলাদেশপন্থার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
জয় শ্রাবণ বিপ্লবের, জয় বাংলাদেশপন্থার

শহীদ আবু সাঈদ থেকে যে রক্ত গড়াতে শুরু করেছে, তা আর পেছনে ফিরবে না। শহীদ মুগ্ধের দরদের পানি মিশে গেছে তারই বুকের তাজা রক্তে। এই এক আরম্ভ, যা শেষ হয় না। এখনও মৃত্যু হচ্ছে ফ্যাসিস্টের গুলিতে আহতদের।

এমনকি আনসারদের প্রহারে আহত ছেলেটিও মারা গেছে। রুদ্ধশ্বাসে সহযোদ্ধার জানাজা পড়তে দাঁড়াচ্ছে বন্ধুরা। গাল ভিজছে অশ্রুতে, ঘাস ভিজছে, রাস্তা ভিজছে। অশ্রুর সেই নহর সারা বাংলাদেশের হাজারো পরিবারের ভেতর বয়ে যাচ্ছে। হাজারো আহত কিশোর-তরুণ হাসপাতালের বিছানায়। গণকবর আবিষ্কৃত হচ্ছে, লাশের স্তূপ জ্বালিয়ে দেওয়ার ভিডিও সহ্য করা যাচ্ছে না। এই শহীদদের আমরা ভুলতে পারি না, ভুলতে দেব না। যে বিপুল বিদ্রোহে বাংলাদেশ জেগেছে, তেমন বিপুল ভালোবাসায় আগলে রাখতে হবে সব শহীদের স্মৃতি। তাদের জন্য বুকের মধ্যে যেন কবরের মতো পবিত্র একটা জায়গা ধরে রাখি। বাংলাদেশ যা ঘটায়, তা ঘটে দক্ষিণ এশীয় স্তরে। ১৯৭১ সালেও তা সত্য, ২০২৪-এও তা সত্য।

এশিয়ার ঊরুসন্ধির এই দেশের ভেতরের ঘটনা একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ঘটনাও। বাংলাদেশ সেই দেশ, যেখানে দশক চলে যায় কিছুই ঘটে না। আবার এটা সেই দেশ, যেখানে কয়েক সপ্তাহে আস্ত দশকই ফুরিয়ে যায়। দেড় দশকের দুঃশাসন শেষ হয়েছে জুলাই-আগস্টের শেষ তিন সপ্তাহে। কিন্তু এই রাজনৈতিক ভূমিকম্পের ধাক্কা অনুভূত হবে আগামী দশকেও।

এটা সেই দেশ, যেখানে কখন কোথায় জনবিস্ফোরণ ঘটবে, তা জানতে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক যন্ত্রপাতিগুলোর এখনও বাকি আছে।

অনেকে হয়তো এখনও বুঝতেই পারছেন না যে, ১৯৫২ সালের মতো একটা বিরাট জাগরণ শুরু হয়ে গেছে। রাষ্ট্র বা রাজনীতি তা ধারণ না করতে পারলেও জাতীয় মানসে এই পরিবর্তন বহুদিন কাজ করে যাবে। হয়তো পাঁচ কিংবা সাত বছরে এর পূর্ণ চেহারাটা আমরা বুঝতে পারব। সে সময়ের পাকিস্তান সরকার ভাষা আন্দোলনকে কমিউনিস্টদের ষড়যন্ত্র ভেবেছিল। এই সময়ের জনবিচ্ছিন্ন শক্তিগুলো ভাবছে, বাংলাদেশের শ্রাবণ বিপ্লব বোধ হয় ইসলামপন্থি আর আমেরিকার ষড়যন্ত্র। পৃথিবীর কোনো পরাশক্তির ক্ষমতা নাই, রাজনীতি থেকে সবচেয়ে দূরের সবচেয়ে মাসুমের সবচেয়ে তাজা প্রাণকে এ রকম অলৌকিক অবিশ্বাস্য আত্মদানে উজ্জীবিত করতে পারে। সমাজের ভেতর দানবীয় শক্তির ভয়াবহ নির্যাতন ও হত্যালীলার বিরুদ্ধে তিলে তিলে যে ঘৃণা ও সাহস সঞ্চিত হয়েছে, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়া লাগে না; মানুষ হওয়া লাগে।

ভয়াবহ রকমের রক্তাক্ত ও দীর্ঘ সেই জুলাই, সেই শ্রাবণ এখনও শেষ হয় নাই। ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যে এক দফা দিয়েছিল, মাত্র এক দিন পরেই তা পূরণ হয়। শেখ হাসিনার পলায়ন, বাকিরা আদাড়ে-বাদাড়ে। এই পর্বটি বরং সহজ। কঠিন ও জটিল পথটি এখন সামনে। ঐক্যের নিশান ধরে রেখে রাষ্ট্র ও রাজনীতি সংস্কারের কঠিন পুলসিরাত পার হতে হবে বাংলাদেশকে। এক দফার জায়গায় সারাদেশে এখন শত শত দফা। সবকিছু বদলাতে হবে ঠিক; কিন্তু কোথায় শুরু করে কোথায় গিয়ে থিতু হবো– সেই প্রশ্নের মীমাংসা জরুরি। একসঙ্গে সব চাইলেও হবে না, একসঙ্গে সব জায়গায় হাতও দেওয়া যাবে না।

একটা দেশ শুধু রাষ্ট্রের খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। তা দাঁড়িয়ে থাকে তার সেরা কর্মনায়ক, ভাবুক ও দেশদরদিদেরও ওপর। রাষ্ট্রের উচিত নিজের স্বার্থেই এদের চিনে নেওয়া। এদের কাজের মঞ্চ এগিয়ে দেওয়া। খারাপ সময়ে খারাপ মানুষরা ভেসে ওঠে; ভালো সময় সেটাই যখন নাকি ভালো মানুষরা সামনে চলে আসে। এই মুহূর্তে জরুরি হলো মানুষকে ধৈর্য ধরতে বলা। সংস্কারের রোডম্যাপ, অর্থনীতি পুনর্গঠনের নকশা, সংবিধান পুনর্লিখন অথবা সংস্কারের টাইমলাইন যখন মানুষের জানা থাকবে, তখন অনিশ্চয়তাও কমে যাবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত স্বার্থের কোনো দোহাই নাই, জাতীয় স্বার্থেই তাঁকে আমাদের দরকার হয়েছিল। তেমনি দীর্ঘদিন ধরে যারা নির্যাতিত হয়েও গণতন্ত্রের লড়াই জারি রেখেছিলেন, ফ্যাসিবাদকে অস্বস্তিতে রেখেছিলেন, তিলে তিলে কায়েমি শক্তিগুলোকে দুর্বল করছিলেন, তাদেরও দরকার হবে প্রধান উপদেষ্টার। এটা তো সেই দেশ, যেখানে সংকটকালে ১০ জন মিলে একজনকে রাজা নির্বাচিত করেছিল। আমাদের প্রধান উপদেষ্টা না হয় সেই রাজা গোপালের ভূমিকাই পালন করলেন, দেশকে সত্যিকার জনপ্রতিনিধিদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যস্থতা করলেন!

গণঅভ্যুত্থান সব মানুষকে একাকার করে ফেলেছিল। অধিকাংশ ‘আমরা’র থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিল মুষ্টিমেয় ‘তোমরা’রা। কিন্তু এখন আবার যাতে সেই ঐক্য খণ্ড খণ্ড না হয়। হুঁশিয়ার, কারণ চক্রান্ত জারি আছে। বিদ্রোহের সংহতিকে এখন আমাদের সংস্কারের সংহতিতে পরিণত করতে হবে।

বিপ্লব বলুন বা সংস্কার– কাজটা তো দক্ষতার সঙ্গেই করতে হবে। প্রথম কাজ হলো, প্রতিবিপ্লবের পাওয়ার হাউসগুলো ভেঙে দেওয়া। তা করতে গিয়ে উৎপাদনশীল ব্যবসা, কারখানা, প্রতিষ্ঠানকে নড়বড়ে করে দেওয়া ভুল হবে। তার খেসারত দেবে দেশ। আবার মামলা-তদন্ত-বিচারে যেন কোনো বেইনসাফি না হয়। তারপরও আমরা মানুষ, ফেরেশতা নই। ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ তাই দরকার।

ক্ষমতার পালাবদল যত দ্রুতই ঘটুক, প্রতিষ্ঠান বদলায় ধীরে। মানুষের চরিত্র বদলাতে কয়েক প্রজন্ম লেগে যেতে পারে। তা ছাড়া পুরোনোরা রয়ে গেছে ডালে ডালে, লতায়-পাতায়। তাই সামনে এগিয়ে দিতে হবে তরুণদেরই। কেননা, তারাই পরীক্ষিত শক্তি। তারা স্বৈরাচার ঠেকিয়েছে, নৈরাজ্য-ডাকাত ঠেকিয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা করেছে। তারাই কপাট খুলেছে বলে দেড় দশকের অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্তি পেয়েছে সমাজ। এই সজাগ জনতার সমাজ সহজে কাউকে ছাড় দেবে না। দেশের দরকারে আবার জমায়েত হতে দ্বিধাও থাকবে না তাদের।

এখন আস্থা ফেরানোর সময়। সরকারের ওপর আস্থা ফেরানোর কাজ সরকারকেই করতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভরসা জাগিয়ে রাখতে হবে। গত দেড় দশকের বিরাজনীতিকীকরণের দোষ কাটাতে নতুন রাজনৈতিক ভঙ্গি আর পরিষ্কার ইমেজ নিয়ে দাঁড়াতে হবে দলগুলোকে।

সবার আগে রাজনীতিবিদদেরই মতবাদ আর বৈদেশিক আনুগত্যের পন্থা থেকে বের হতে হবে। আমরা দেখেছি ভারতপন্থি ব্লক, আগে দেখেছি পাকিস্তানপন্থি ব্লক। মার্কিনপন্থি ও চীনপন্থি রাজনীতিও বাংলাদেশে অচেনা না। আরও কত কিসিমের মতবাদ ও পন্থায় জর্জরিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি। কিন্তু কোথায় বাংলাদেশপন্থা?

এই ছাত্র-তরুণরা সেই পন্থা হাজির করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামী আত্মবিশ্বাস তাদের পুঁজি। কিন্তু তাদের মুক্তিযুদ্ধ অতীতচারী না, ব্যক্তিপূজারি না। তারা আধুনিক, গণতান্ত্রিক, উৎপাদনশীল ও মর্যাদাবান বাংলাদেশ চায়। আর নিজের দেশের সকল মানুষকে সমান না ভেবে, বাংলাদেশের মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, আদিবাসী ও মান্দি-সাঁওতাল-জনজাতি সবাইকে মুক্ত না করে দেশ কীভাবে মুক্ত হবে? এক জাতি এক সম্প্রদায়ের রাজনীতি করে কোনো দেশ কি সুখে আছে, দেখান? বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান ঠিকঠাক কাজে লাগালে শক্তিশালী গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসতে এক দশকও লাগবে না। মোটামুটি একটা দশক যদি আমরা শান্তিতে কাটাতে পারি, কেউ আর আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। কারও বিরুদ্ধে না গিয়ে নিজের স্বার্থ বুঝে নেওয়ার এই বাংলাদেশপন্থাই আমাদের সহায়। এই সরল সত্যে পৌঁছানোর জন্য যেন আমাদের আর রক্তক্ষয়, দিনক্ষয়, লোকক্ষয় করতে না হয়।

Feb2

চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

মাসুদ আলম বিসিএস পুলিশের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তার বাড়ি বগুড়া জেলায়। রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা কারণে আলোচনায় আসেন এবং কর্মদক্ষতার জন্য সুনাম অর্জন করেন।

বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যমুনা, সচিবালয়, হাইকোর্ট ও টিএসসি এলাকায় বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে হওয়া আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়।

রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে যোগদানের আগে মাসুদ আলম পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৬) ঝিনাইদহ ক্যাম্পেও কর্মরত ছিলেন।

স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ‘স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তাবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অনেক মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। তিনি উল্লেখ করেন, মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে দিতে হয়। ফলে অসুস্থতা এখনো দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

ঢাকা-১৭ এলাকার মানুষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, কড়াইল, ভাষানটেক, সাততলার মানুষ এই শহরকে সচল রাখে। পোশাকশিল্প, নির্মাণ… সবখানে তাদের শ্রম। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের লক্ষ্য এসব এলাকার মানুষ যাতে আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।

তিনি আরও বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের বড় একটি অংশ প্রায় ৪২.৬ শতাংশ মানুষ প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খুঁজতে স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তারা অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পায় না কারণ অসুস্থতা মানেই আয় বন্ধ।

ডা. জুবাইদা বলেন, আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা সবাইকে অবহিত করবেন এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাচাঁতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান আশা প্রকাশ করেন, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘মতিঝিলের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।’

মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি জানান, নিহতদের পরিবারের বক্তব্য এবং সকল হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। হেফাজতে ইসলামের যে প্রোগ্রামটা তারা আগে থেকেই প্রতিবাদ করে জানিয়ে আসছিলেন এবং তারা ঢাকায় এসে সেখানে অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল- সেই প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিল, কোনোভাবে তাদের সেখানে অবস্থান নিলে মোকাবিলা করতে হবে। তা না পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল- এটিকে তিনি সিস্টেমেটিক, ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক এবং টার্গেটেড কিলিং হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, প্রত্যেক নিহতের পরিবারের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন এবং যেসব হেফাজতে ইসলামের সদস্য নিহত হয়েছেন, প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অতএব প্রত্যেক নিহত হওয়ার পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।