খুঁজুন
, ,

নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন জারি রাখুন: সালাউদ্দীন আহমেদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 17 September, 2024, 8:29 pm
নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন জারি রাখুন: সালাউদ্দীন আহমেদ

নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন জারি রাখার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দীন আহমেদ।

বিশ্ব গনতন্ত্র দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর আলমাস মোড়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপি আয়োজিত কেন্দ্র ঘোষিত গণতন্ত্রের শোভাযাত্রা পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

সালাউদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি আলমাস হয়ে কাজীর দেউরী, লাভ লেইন, জুবলী রোড়, নিউ মার্কেট, কোতোয়ালী হয়ে লালদিঘি পাড়ে এসে শেষ হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, জয়নাল আবেদীন ফারুক, গোলাম আকবর খোন্দকার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিভাগীয় শোভাযাত্রার সমন্বয়কারী মাহবুবের রহমান শামীম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন।

এসময় সালাউদ্দীন আহমেদ বলেন, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রবর্তন আমরা করেছিলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। সেই কেয়ারটেকার সরকার বিলুপ্ত করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে নতুনভাবে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদি শাসনের প্রবর্তন করে। অন্তঃহীন সংগ্রাম, ত্যাগ তিতিক্ষা, রক্ত শ্রম এবং প্রাণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ পুনরায় স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এই স্বাধীনতা, এই গণতন্ত্রের জন্য যারা যুদ্ধ করেছে, বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য যারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশে প্রথম শহিদ রংপুরের সাঈদ, দ্বিতীয় শহিদ চকরিয়া পেকুয়ার সন্তান, আমার সন্তান ওয়াসিম। সমস্ত গণতান্ত্রিক সংগ্রামে, আন্দোলনে, যুদ্ধে চট্টগ্রাম সবসময় নেতৃত্ব দিয়েছে।

কিন্তু আপনারা যদি মনে করেন, সবকিছু এমনি এমনি এসেছে, তাহলে এটা ভুল কথা। মোট ৪৮৫ জন শহিদের মধ্যে এ গণঅভ্যুত্থানে, এ গণবিপ্লবে ৪২২ জন শহিদ বিএনপির নেতাকর্মী। ১১৩ জনের বেশি ছাত্রদলের নেতাকর্মী। এ আন্দোলন সংগ্রামে সাতশ’র বেশি মানুষ গুম-খুনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৪২৩ জন শুধু বিএনপির নেতাকর্মী। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে প্রায় ২৭০০ মানুষ বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, বিচার বর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, তার মধ্যে শত, শত মানুষ বিএনপির নেতাকর্মী।

তিনি বলেন, এত রক্ত, এত ঘাম, এত প্রাণ, এত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি বাংলাদেশে নতুন স্বাধীনতা দিবস, বাংলাদেশের নতুন গণতন্ত্র দিবস। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রকে ছিনিয়ে নিয়ে এসেছে। কিন্তু গণতন্ত্র, এই নতুন স্বাধীনতা, এই বিজয়কে যদি আপনারা অর্থবহ করতে চান, তাহলে ধৈর্য্য ধরতে হবে। আন্দোলন জারি রাখতে হবে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করতে হবে। সুতরাং চলমান এ আন্দোলন, যদি সত্যিকারভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হবে, ততদিন চালু রাখতে হবে। প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যতদিন পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত না হবে, সংসদ প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা রাজপথে এ আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।
বাংলাদেশে গণহত্যাকারীর আর কোনোদিন জায়গা হবে না। শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের, গণহত্যাকারীদের কোনো রাজনীতি চলবে না। যদি গণহত্যাকারীদের রাজনীতি চলে, তাহলে বাংলাদেশ আবার পরাধীন হবে। কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের এখানে তাঁবেদারি চলবে না। যদি সত্যিকারভাবে স্বাধীন, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, যদি সাম্যভিত্তিক একটি রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চান, যদি আইনের শাসনের রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চান, তাহলে শহিদের রক্তের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমাদের পরস্পরের অধিকারের প্রতি স্বীকৃতি দিতে হবে। কেউ আইনের চেয়ে বড় নন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাই ধৈর্য্য ধরুন। সবাই সুশৃঙ্খল থাকুন। গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রাম জারি রাখুন। যতদিন পর্যন্ত এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাবার ঘোষণা না দেয়, ততদিন এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টাবৃন্দদের আহ্বান জানাই, যতদ্রুত সম্ভব নির্বাচনমুখী সংস্কার সাধন করুন এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ আপনারা ঘোষণা করুন। তাহলে এদেশের মানুষ আশ্বস্ত হবে যে, বাংলাদেশ সত্যিই প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, বিগত সতেরো বছর নির্যাতনের পরও বিএনপিকে স্তব্ধ করতে পারেনি। আগামী ১৭ বছর চেষ্টা করলেও পারবেনা। রাত যত গভীর হয় ভোর তত নিকটে আসে। আওয়ামী লীগ মনে করেছিল ভোর বুঝি আর হবেনা। কিন্তু সকাল ঠিকই হয়েছে। শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। শেখ হাসিনা মাবোনদের জন্য কলঙ্ক।হাসিনার মত স্বৈরশাসক ইতিহাসেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে তাই বলে আমাদের নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের কেউ যেন আশ্রয় না পায়। আওয়ামী লীগের নেতাদের অনেক টাকা। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

আবুল খায়ের ভূইয়া বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশকে ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে জবরদস্তির শাসন কায়েম করেছিল। জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিতদের শাসন ফিরিয়ে আনাই হবে রাষ্ট্রের বড় সংস্কার।

জয়নাল আবেদীন ফারুক বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর গণতন্ত্রের পথে নতুন করে অভিযাত্রা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রের অতি জরুরি কিছু সংস্কার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জন প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ ও সরকার গঠন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। উন্নয়ন যেমন গণতন্ত্রের বিকল্প নয়, তেমনি সংস্কারও ভোটের বিকল্প নয়।

গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনও ফ্যাসিবাদ মুক্ত হতে পারেনি। সাম্প্রতিক পোশাক শিল্পে অস্থিরতার জন্য ফ্যাসিবাদের দোসররা দায়ী। ছাত্র জনতার আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছে বিএনপির নেতাকর্মী। বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের তুলনা করা যায় না। গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার বিচার এদেশের মাটিতে হবেই।

শোভাযাত্রার সমন্বয়কারী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, বর্তমান সরকার হচ্ছে গণঅভ্যুত্থানের পর বিপ্লবের মধ্যদিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাদের প্রধান কাজ হচ্ছে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করে জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়া। তবে আওয়ামী লীগ সরকার যে জঞ্জাল সৃষ্টি করে গেছে, সেটাকে দূর করে একটি সঠিক সুন্দর নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে দুর্বল করে দিয়েছে। তার শাসনামলে এই জাতিকে সে ১৮ লাখ কোটি টাকার ঋণে আবদ্ধ করে গেছে। পাচার হয়ে গেছে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। দুঃশাসনে সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে দিয়েছে। বর্তমান সরকার হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আমরা আশা করবো, তারা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে তুলে দিবে।

সভাপতির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে। দেশ আজকে একটি নবতর স্বাধীনতা পেয়েছে। একবার আমরা ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস পেয়েছি। আর এবার সত্যিকার অর্থে ৫ই আগস্ট নতুন প্রজন্ম দেখতে পেলো, স্বাধীনতা কাকে বলে। মানবাধিকার ছিল না। এক ব্যক্তির শাসন ছিল সেখান থেকে আজ আমরা মুক্ত হয়েছি। গণতন্ত্রের যাত্রা পথের মুক্তিকে আমাদেরকে সমুন্নত রাখতে হবে।

এতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি হারুনুর রশীদ, ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ গ্রাম সরকার সম্পাদক বেলাল আহমেদ, সদস্য সাচিং প্রু জেরী, জালাল উদ্দীন মজুমদার, মশিউর রহমান বিপ্লব, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দিপেন তালুকদার দিপু, উত্তর জেলা বিএনপির সি. যুগ্ম আহবায়ক এম এ হালিম, ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড. শামীম আরা স্বপ্না, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড. আবদুর রহমান, বান্দরবান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা। উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি গাজী শাহজাহান জুয়েল, সরওয়ার জামাল নিজাম, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন।

Feb2
Feb2

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 July, 2026, 12:11 am
সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের পাঠানো এক বিবৃতিতে এটি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর মিন্টু রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত ঘটনার বিষয়ে আলোচনা হয়। দলের সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নং ধারা অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

একই সঙ্গে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অবহেলায় কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না:শামীম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 11:19 pm
অবহেলায় কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না:শামীম

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতাল ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় হাসপাতালটিকে দেশের একটি মডেল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে হাসপাতাল বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট ও জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে হাসপাতালটি আবারও কার্যক্রমে গতি পেয়েছে। এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে কাটিয়ে উন্নত সেবার পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটিকে দেশের অন্যতম মডেল মাতৃসদন হাসপাতালে পরিণত করা হবে। এ জন্য পরিচালনা কমিটি, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, কোনো চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীর অবহেলার কারণে যেন কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি না হয়। মানুষ সুস্থ হওয়ার আশায় হাসপাতালে আসে। তাই রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। একজন নার্সের আন্তরিক সেবাও অনেক সময় রোগীর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চিকিৎসক থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মীর দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে শামীম বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় তারা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিরলস কাজ করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একই ধরনের নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে হাসপাতালের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার একটি বড় অর্জন। এর ফলে হাসপাতালের আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেবার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির ঘোষণা দিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন তিনি হাসপাতালে এসে চিকিৎসক, কর্মকর্তা এবং পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। হাসপাতালের সমস্যা, প্রয়োজন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাসপাতালকে কীভাবে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করা যায়, সে বিষয়ে সবাইকে নিয়ে কাজ করা হবে। সবার সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালকে দেশের একটি আদর্শ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।

জেমিসন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির ভাইস চেয়ারপার্সন মো.আছিফ চৌধুরী সভাপতিত্বে ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো.জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির জাহাঙ্গীর আলম বাবর, রায়হানুল আনোয়ার রাহী, ডা: তাসলিম চৌধুরী, জেমিসন হাসপাতালের চীফ মেডিকেল অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: নাজ সোহানী সুলতানা, নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মর্জিনা আক্তার, ডা. মিছবাহ উদ্দিন ও ইউনিট লেভেল অফিসার জিয়াউল হক জিয়াসহ প্রমুখ

এক কক্ষে মানুষের আর্তনাদ, মানবিক ডিসির গণশুনানিতে ফিরল আশার আলো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 11:02 pm
এক কক্ষে মানুষের আর্তনাদ, মানবিক ডিসির গণশুনানিতে ফিরল আশার আলো

একজন নারী কথা বলতে বলতে বারবার চোখের পানি মুছছিলেন। প্রায় এক বছর আগে ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন তাঁর স্বামী। তিনি জানেন না, স্বামী বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। ঘরে অপেক্ষায় দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান। নিজেও স্ট্রোকে আক্রান্ত। চিকিৎসা ও সন্তানদের খাবারের খরচ জোগাতে তাঁকে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হচ্ছে।

তাঁর কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক যুবক। সাম্প্রতিক বন্যায় তাঁদের কাঁচা বসতঘর ভেঙে গেছে, নষ্ট হয়েছে ফসল। স্ট্রোকে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে অক্ষম বাবা এখন অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আরেক পাশে অপেক্ষা করছিলেন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা এক বিধবা মা। কারও প্রয়োজন কিডনির চিকিৎসা, কারও জরুরি অস্ত্রোপচার। এক কলেজছাত্রী বই ও কলেজ ড্রেস কিনতে না পেরে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কায়; আরেকজনের কাছে দিনাজপুরে ফিরে যাওয়ার গাড়িভাড়াটুকুও নেই।

জীবনের এমন ভিন্ন ভিন্ন সংকট নিয়ে বুধবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়েছিলেন অসহায় মানুষেরা। তাঁদের কথা ধৈর্য ও মনোযোগের সঙ্গে শোনেন মানবিক জেলা প্রশাসক হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১৮ জন সেবাপ্রত্যাশী তাঁদের আবেদন, অভাব-অনটন ও অভিযোগ তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক প্রতিটি বিষয় শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। কয়েকটি আবেদন ও অভিযোগের বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে ফলাফল আবেদনকারীদের জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।

গণশুনানিতে সাতজন অসহায় ব্যক্তি ও একজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২১ জনকে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, মরিচ, হলুদ ও ধনিয়াগুঁড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়।

মোসাম্মৎ মাইনা খাতুনের স্বামী আজাদ ট্রলারে মাছ ধরার কাজ করতেন। প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিখোঁজ। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর দুই ছোট সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন মাইনা। নিজেও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই তাঁর।

জেলা প্রশাসকের কাছে তিনি সন্তানদের খাবার, ভরণ-পোষণ ও নিজের চিকিৎসার জন্য সহায়তার পাশাপাশি নিখোঁজ স্বামীর সন্ধানে প্রশাসনিক সহযোগিতা চান। তাঁর দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক আর্থিক সহায়তা দেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বাঁশখালীর ইলশা গ্রামের রেয়াজুল জান্নাত রাহাতের বাড়িতে সাম্প্রতিক বন্যায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট পানি ওঠে। এতে তাঁদের কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত এবং ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়।

রাহাতের বাবা রেয়াজ আহামদ দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে অক্ষম। ঘর হারিয়ে পরিবারটি অস্থায়ীভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাবার জন্য বসতঘর নির্মাণ ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সহায়তার আবেদন করেন রাহাত। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসনের বিষয়টি দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বোয়ালখালীর পশ্চিম শাকপুরার মো. শাহাজাহান কিডনি জটিলতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ একাধিক রোগে ভুগছেন। নিয়মিত চিকিৎসা, পরীক্ষা ও ওষুধের খরচ বহন করা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। পরিবারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় তাঁর আবেদন মানবিক বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

বাঁশখালীর মিনজিরিতলার মিফতাহুল জান্নাত রিয়া সরকারি সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন। তাঁর এক ভাই ফাজিল প্রথম বর্ষে এবং এক বোন দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

২০১৬ সালের ১৯ জুলাই বাবার মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে। বসতভিটার চার শতক জমি ছাড়া তাঁদের কোনো স্থায়ী সম্পদ বা আয়ের উৎস নেই। সাম্প্রতিক বন্যায় ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থের অভাবে বই, কলেজ ড্রেস ও শিক্ষা উপকরণ কিনতে না পারায় রিয়ার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। জেলা প্রশাসক তাঁকে বিশেষ আর্থিক অনুদান দেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আরএম শাখার অফিস সহায়ক নিলুফার ইয়াসমিন কয়েক বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন কন্যা ও এক পুত্রের দায়িত্ব তাঁর ওপর।

তিনি চট্টগ্রামের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. বাসকর চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। নিয়মিত কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও ব্যয়বহুল ওষুধের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় গিয়ে পিইটি স্ক্যান করাতে হবে। চিকিৎসা সম্পন্ন করতে আরও প্রায় তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। তাঁর আবেদন বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক আর্থিক সহায়তা দেন।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ মোহাম্মদ আবু কাউছারের ডান পায়ের গোড়ালির হাড় সড়ক দুর্ঘটনায় ভেঙে যায়। চিকিৎসায় সঞ্চিত অর্থ শেষ হয়ে গেছে। জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছিল না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মো. শফিকুল ইসলাম জীবিকার সন্ধানে চট্টগ্রামে এসে কোনো কাজ পাননি। একপর্যায়ে তাঁর কাছে দৈনন্দিন খরচ কিংবা বাড়ি ফেরার অর্থও ছিল না। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে তাঁকে দিনাজপুরে ফেরার প্রয়োজনীয় গাড়িভাড়া দেওয়া হয়।

একই দিন জেলা প্রশাসক প্রবাসীদের অভিযোগ নিয়ে অনলাইন গণশুনানিও করেন। এতে এক প্রবাসী পারিবারিক জমিজমার বিরোধ ও সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ তুলে ধরেন। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি এখন শুধু আবেদন গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নেই। সমস্যা সরাসরি শোনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়া এবং সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এটি অসহায় মানুষের নির্ভরতার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

কেউ ফিরেছেন চিকিৎসার অর্থ নিয়ে, কেউ পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সাহস নিয়ে, কেউ ঘর পুনর্নির্মাণের আশা নিয়ে, আবার কেউ বাড়ি ফেরার ভাড়া হাতে নিয়ে। সহায়তার অঙ্ক হয়তো তাঁদের সব সংকট দূর করবে না; তবে মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ তাঁদের মনে এই বিশ্বাস ফিরিয়েছে—রাষ্ট্রের দরজা এখনো তাঁদের জন্য খোলা।