খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বৈরাচারের বুলেটের সামনে বুক পেতেছিল ছাত্র-জনতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১০:০০ অপরাহ্ণ
স্বৈরাচারের বুলেটের সামনে বুক পেতেছিল ছাত্র-জনতা

জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও বীরত্বের কথা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (সেপ্টেম্বর ২৭) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে ভাষণ দেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূস।

ছাত্র-জনতার বিপ্লবে বাংলাদেশে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে মন্তব্য করে ড. ইউনূস বলেন, এই জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে যে যুগান্তকারী পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই আজ আমি বিশ্বসম্প্রদায়ের এ মহান সংসদে উপস্থিত হতে পেরেছি। আমাদের গণমানুষের, বিশেষ করে তরুণ সমাজের, অফুরান শক্তি আমাদের বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল রূপান্তরের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

ইউনূস বলেন, আমাদের ছাত্র ও যুব সমাজের আন্দোলন প্রথমদিকে মূলত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ছিল। পর্যায়ক্রমে তা গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এরপর সারাপৃথিবী অবাক বিস্ময়ে দেখেছে কীভাবে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ একনায়কতন্ত্র, নিপীড়ন, বৈষম্য, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজপথ এবং সামাজিক-যোগাযোগ মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল।

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এ অধ্যাপক বলেন, আমাদের ছাত্রজনতা তাদের অদম্য সংকল্প ও প্রত্যয়ের মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী ও অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি এনে দিয়েছে। তাদের এই সম্মিলিত সংকল্পের মধ্যেই আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নিহিত, যা এ দেশটিকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাঝে একটি দায়িত্বশীল জাতির মর্যাদায় উন্নীত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

ড. ইউনূস বলেন, এই গণআন্দোলন রাজনৈতিক অধিকার ও উন্নয়নের সুবিধা বঞ্চিত বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশীদারিত্ব চেয়েছিল। আমাদের জনগণ একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, যার জন্য আমাদের নতুন প্রজন্ম জীবন উৎসর্গ করেছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের এই তরুণরা যে প্রজ্ঞা, সাহস ও প্রত্যয় দেখিয়েছে তা আমাদের অভিভূত করেছে। বন্দুকের গুলি উপেক্ষা করেও, বুক পেতে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল আমাদের এই তরুণরা। অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রবলভাবে সোচ্চার হয়েছিল আমাদের তরুণীরা।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, স্কুলপড়ুয়া কিশোর-কিশোরীরা নিঃশঙ্কচিত্তে উৎসর্গ করেছিল তাদের জীবন। শত শত মানুষ চিরতরে হারিয়েছে তাদের দৃষ্টিশক্তি। আমাদের মায়েরা, দিনমজুরেরা ও শহরের অগণিত মানুষ তাদের সন্তানদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেমেছিল রাজপথে। তপ্ত রোদ, বৃষ্টি, মৃত্যুভয়কে তোয়াক্কা না করে তারা সত্য ও ন্যায়সঙ্গত আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ব্যাপী রাষ্ট্রযন্ত্রকে পরিচালনা করার অশুভ ষড়যন্ত্রকে পরাভূত করেছিল।

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে প্রাণহানির কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, জনগণের এই আন্দোলনে আমাদের জানা মতে, প্রায় আটশত-এরও বেশি জীবন আমরা হারিয়েছি স্বৈরাচারী শক্তির হাতে।

তিনি বলেন, উদারনীতি, বহুত্ববাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর মানুষের গভীর বিশ্বাস থেকেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়। ১৯৭১ সালে যে মূল্যবোধকে বুকে ধারণ করে আমাদের গণমানুষ যুদ্ধ করেছিল, সেই মূল্যবোধকে বহু বছর পরে আমাদের ‘জেনারেশন জি’ (প্রজন্ম জি) নতুনভাবে দেখতে শিখিয়েছে। এরকমটি আমরা দেখেছিলাম ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সময়েও।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের এই ‘মুনসুন অভ্যুত্থান’ আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষকে মুক্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াতে প্রেরণা যুগিয়ে যাবে।

আমাদের মুক্তি ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আমাদের নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে নতুনভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

Feb2

একযোগে ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
একযোগে ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

জামায়াতপন্থি ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (২২ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জামায়াতপন্থি আইন কর্মকর্তারা একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পদত্যাগকারী ৭ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন— ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভুঁইয়া, আসাদ উদ্দিন ও তারিকুল ইসলাম।

১০ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন—ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির ও রেজাউল ইসলাম।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ আলী বলেন, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা, সুপ্রিম কোট সচিবালয় নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল করায় এর প্রতিবাদে আমরা একযোগে পদত্যাগ করেছি।

সাড়ে তিন মাস পর হরমুজ প্রণালি পেরোল ‘বাংলার জয়যাত্রা’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
সাড়ে তিন মাস পর হরমুজ প্রণালি পেরোল ‘বাংলার জয়যাত্রা’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পারস্য উপসাগর এলাকায় আটকে থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা।

সোমবার (২২ জুন) রাত ৩টার দিকে ৩১ বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুকে নিয়ে জাহাজটি নিরাপদে প্রণালি পাড়ি দেয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমানে জাহাজটি জ্বালানি গ্রহণ (বাংকারিং) ও অন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। কাতার থেকে স্টিল কয়েল পরিবহন শেষে এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এ সময় অঞ্চলজুড়ে সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

পরে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করলেও প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজটি সেখানে আটকা পড়ে। যুদ্ধবিরতির পর গত ৮ এপ্রিল পুনরায় যাত্রা শুরু করলেও দুই দিন পর ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এরপর ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করে জাহাজটি।

সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমে আসা এবং কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে জাহাজটি অবশেষে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছে।

বিএসসি জানিয়েছে, ২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার এই বাল্ক ক্যারিয়ারের সব নাবিক ও ক্রু বর্তমানে সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন।

জর্ডানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে রইল আলজেরিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
জর্ডানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে রইল আলজেরিয়া

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তন করে জর্ডানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আলজেরিয়া। সোমবার (২৩ জুন) সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার আশা জিইয়ে রাখল উত্তর আফ্রিকার দলটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি আলজেরিয়া। উল্টো ৩৬ মিনিটে মুসা আল-তামারির অ্যাসিস্ট থেকে নিযার আল-রাশদান গোল করে জর্ডানকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক পরিবর্তন আনেন আলজেরিয়া কোচ। তার ফলও আসে দ্রুত। ৬৮ মিনিটে অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজের কর্নার থেকে নাধির বেনবুয়ালি হেডে সমতা ফেরান।

গোল শোধ করার পর আরও আক্রমণ বাড়ায় আলজেরিয়া। শেষ পর্যন্ত ৮২ মিনিটে কর্নার থেকে সৃষ্ট জটলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন আমিন গুইরি। তার গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলজেরিয়া।

শেষ মুহূর্তে জর্ডান সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও আলজেরিয়ার রক্ষণভাগে আটকে যায় তাদের আক্রমণ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াদ মাহরেজদের দল।

এই জয়ে দুই ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে নিজেদের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখল আলজেরিয়া। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে নকআউট স্বপ্ন আরও কঠিন হয়ে গেল জর্ডানের।