খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমলা না ট্রাম্প, রায় আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৪, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
কমলা না ট্রাম্প, রায় আজ

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনায় আমেরিকা। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস, না রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প? কে যাবেন সাদা বাড়িতে, সেদিকেই নজর পুরো বিশ্বের। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা সেই নির্বাচনে আজ চূড়ান্ত রায় দেবেন মার্কিনীরা। যদিও গত অক্টোবর থেকেই শুরু হয়েছে আগাম ভোটদান। রোববার পর্যন্ত সাড়ে ৭ কোটি ভোট পড়েছে। বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ আমেরিকায় ভোট গ্রহণ শুরু হবে।

বিভিন্ন সমীক্ষায় একে অপরকে পিছনে ফেলছেন ৬০ বছর বয়সী কমলা ও ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্প। তবে তাদের দুই জনেরই ভাগ্য নির্ধারণ হবে সাতটি অনিশ্চিত বা দোদুল্যমান রাজ্যের ফলাফলের ভিত্তিতে। পাশাপাশি আজ ভোট গ্রহণ হবে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের ৩৪ আসনে এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের সব কটিতে।

উত্তেজনাপূর্ণ এই নির্বাচনে জায়গা করে নিয়েছে বাংলা ভাষাও। এদিকে এবারের নির্বাচন নানা দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইউক্রেন থেকে গাজা ও লেবাননের যুদ্ধ পরিস্থিতি, চীন, রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিশ্বের সামরিক শক্তির নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক বিষয়ের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নির্ভর করবে এই নির্বাচনের ফলাফলে। দেশটিতে ২৪ কোটি ৪০ লাখ নাগরিক ভোটদানের যোগ্য, নিবন্ধিত ভোটার ১৬ কোটির মতো। ইলেকটোরাল কলেজের মোট ভোটার সংখ্যা ৫৩৮। মেইন এবং নেব্রাস্কা এই দুটি রাজ্য বাদে বাকি সবগুলোর ইলেকটোরাল ভোট যোগ করলে যে প্রার্থী ২৭০টি পাবেন তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। সেই প্রার্থীর রানিংমেট হয়ে যাবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। কমলার রানিংমেট টিম ওয়ালজ এবং ট্রাম্পের রানিংমেট জেডি ভ্যান্স।

আছেন আরও চার প্রার্থী

কমলা ও ট্রাম্প ছাড়াও আরও চার প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দেবেন ভোটাররা। তারা হলেন গ্রিন পার্টির জিল স্টেইন, গ্রিন পার্টি থেকে জিল স্টেইন ছাড়াও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন কর্নেল ওয়েস্ট। লিবার্টারিয়ান পার্টি চেজ অলিভার। এছাড়া আছেন রবার্ট কেনেডি জুনিয়র। তার পক্ষে এবারের নির্বাচনে ৫-৭ শতাংশ সমর্থন ছিল। কিন্তু গত আগস্টে তিনি ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তবে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য তার নাম ব্যালট থেকে সরাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ভোটদানের পদ্ধতি

যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যেক অঙ্গরাজ্যেই ভোটের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই তা পরস্পরের থেকে আলাদা। মোটের ওপর ভোটাররা তিনটি প্রাথমিক পদ্ধতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রথমত, হ্যান্ডমার্ক করা কাগজের ব্যালট :সবচেয়ে প্রচলিত এবং সহজ পদ্ধতিতে প্রায় ৭০ শতাংশ কাগজের ব্যালট ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ হয়। দ্বিতীয়ত, ব্যালট মার্কিং ডিভাইস (বিএমডি) :২৫ শতাংশেরও বেশি ভোটার ব্যবহার করেন এই কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ভোটদান পদ্ধতি। ভোটারদের একটি স্ক্রিনে বিকল্প নির্বাচন করতে দেয় এবং তারপর তাদের পছন্দ নিশ্চিত করতে একটি কাগজের ব্যালট প্রিন্ট করা হয় এই ব্যবস্থায়। ‘হেল্প আমেরিকা ভোট অ্যাক্ট’ মেনে চালু করা এই পদ্ধতিতে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ পদ্ধতিও রয়েছে। তৃতীয়ত, ডাইরেক্ট রেকর্ডিং ইলেকট্রনিক (ডিআরই) :এই পদ্ধতি অনেকটা ইভিএমের মতো। কাগজ ছাড়া ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় জনতার রায় দেওয়া হয়। লুইজিয়ানা এবং নেভাদায় চালু হওয়া পদ্ধতিতে মোটের ওপর ৫ শতাংশ ভোটার আস্থাশীল।

ভোট গণনা হয় যেভাবে

কাগজের ব্যালট এবং বিএমডিতে দেওয়া ভোটগুলো সাধারণত ‘অপটিক্যাল স্ক্যানার’ ব্যবহার করে স্ক্যান করা হয়। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফলাফল নথিভুক্ত করা যায়। এই প্রক্রিয়াটি একটি প্রাদেশিক স্তরের নির্বাচন কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করেন। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে গণনার পাশাপাশি প্রয়োজনে হাতে ভোট গণনারও ব্যবস্থা আছে। এছাড়া আগাম ভোটের ক্ষেত্রে চালু ‘মেইল ইন ব্যালট’ ব্যবস্থায় দেওয়া ভোটের বৈধতা যাচাই এবং গণনার প্রক্রিয়াও রয়েছে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে। অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করতে হয়।

সবার নজর দোদুল্যমান রাজ্যের দিকে

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে সব কটি অঙ্গরাজ্যকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা হয়—রেড স্টেটস (রিপাবলিকান) ব্লু স্টেটস (ডেমোক্র্যাটস) ও সুইং স্টেটস (দোদুল্যমান রাজ্য)। ১৯৮০ সাল থেকে রেড স্টেটসগুলোতে জয়ী হচ্ছেন রিপাবলিকান প্রার্থী। ১৯৯২ থেকে ব্লু স্টেটসগুলো ডেমোক্র্যাটদের দখলে। অন্যদিকে সাতটি দোদুল্যমান রাজ্য হচ্ছে—অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, মিশিগান, নেভাদা, নর্থ ক্যারোলিনা, পেনসিলভেনিয়া এবং উইসকনসিন। রেড ও ব্লু স্টেটগুলোর ফলাফল আগে অনুমান করা গেলেও স্বাভাবিকভাবেই এ রাজ্যেগুলোতে সম্ভব হয় না। যে কোনো সময় সব সমীক্ষা উলটে দিতে পারে এ সাত অঙ্গরাজ্য। ইতিহাস বলছে, এগুলো খুব কম ব্যবধানে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।

নির্বাচনের নিয়ম অনুসারে, গত অক্টোবর মাস থেকেই ৪৭টি রাজ্যে ভোটগ্রহণের সূচনা হয়েছে। আজকের ভোটে সবার নজর দোদুল্যমান রাজ্যের ফলাফলে। এসব রাজ্যে সর্বশেষ দুদিন ধরে সমীক্ষা করেছে বিভিন্ন সংস্থা। রিপোর্টে দেখা যায়, দেশ জুড়ে জনমত জরিপে কমলা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও দোদুল্যমান রাজ্যে ট্রাম্পের পাল্লা ভারী। ৪৯ শতাংশ ভোটের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে রিপাবলিকানরা এগিয়ে মাত্র ১.৮ শতাংশের ব্যবধানে। অ্যারিজোনায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশের ব্যবধানে কমলার চেয়ে এগিয়ে ট্রাম্প। নেভাদায় রিপাবলিকান নেতার পক্ষে পড়েছে ৫১.৪ শতাংশ ভোট। কমলাকে পছন্দ করেছেন ৪৫.১ শতাংশ ভোটার। নর্থ ক্যারোলিনায় কমলাকে পেছনে ফেলেছেন ট্রাম্প।

বাংলা ভাষায়ও ব্যালট আছে

২০১৩ সালে প্রথম বার বাংলা ভাষায় ব্যালট ছাপা হয় মার্কিন নির্বাচনে। তবে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে নয়, নির্দিষ্ট ৬০টি নির্বাচনি কেন্দ্রের ব্যালটে বাংলা ভাষা ছাপা হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে। কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই নিউ ইয়র্কে। উল্লেখ্য, আমেরিকায় বসবাস করেন লক্ষাধিক বাঙালি। তাদের মধ্যে রয়েছেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরাও। বেশির ভাগ বাঙালিই নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা। ব্রুকলিন, কুইন্স এবং ব্রঙ্কস—এ তিন এলাকায় মূলত বসবাস করেন বাঙালিরা।

শেষ সময়ের প্রচারে কমলা-ট্রাম্প যা বললেন

ইস্ট কোস্টের তিনটি দোদুল্যমান রাজ্যে (পেনসিলভেনিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা ও জর্জিয়া) রবিবার ট্রাম্প প্রচার চালান। হ্যারিস ব্যস্ত ছিলেন মিশিগানে। কমলা বলেছেন, ‘ঈশ্বর আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন, তাকে বাস্তবে রূপায়ন করতে গেলে আমাদের কাজ করে দেখাতে হবে। আমরা যেন সেই পরিকল্পনামতো কাজ করি। গণতন্ত্রের জন্য, আমাদের সম্প্রদায়ের জন্য ও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জন্য কাজ করি।’ ডেমোক্র্যাটদের দানবের সঙ্গে তুলনা করেছেন ট্রাম্প। হ্যারিস বলেছেন, ‘ঈশ্বরের পরিকল্পনায় এ বিভাজন রোধ করার যথেষ্ট শক্তি রয়েছে।’ তিনি বলেছেন, ‘মঙ্গলবার যে নির্বাচন হবে, তাতে বিশৃঙ্খলা, ভয় ও ঘৃণাকে রোধ করার একটা সুযোগ আছে।’ হ্যারিস সামাজিকমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি মেইল ইন বা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। তার সেই ব্যালট এখন ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে যাচ্ছে। পেনসিলভেনিয়ায় ট্রাম্প বলেছেন, তিনি একটি ডেমোক্রেটিক পার্টি নামক একটি দুর্নীতিগ্রস্ত মেশিনের বিরুদ্ধে লড়ছেন। যদি নির্বাচিত হতে পারেন, তাহলে তিনি পুরো ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবেন। ট্রাম্প বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি দেশকে নতুন স্বর্ণযুগে নিয়ে যাবেন। আবারও তার অভিযোগ, গত বার ওরা চুরি করে নির্বাচনে জিতেছিল।

Feb2

চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

মাসুদ আলম বিসিএস পুলিশের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তার বাড়ি বগুড়া জেলায়। রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা কারণে আলোচনায় আসেন এবং কর্মদক্ষতার জন্য সুনাম অর্জন করেন।

বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যমুনা, সচিবালয়, হাইকোর্ট ও টিএসসি এলাকায় বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে হওয়া আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়।

রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে যোগদানের আগে মাসুদ আলম পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৬) ঝিনাইদহ ক্যাম্পেও কর্মরত ছিলেন।

স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ‘স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তাবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অনেক মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। তিনি উল্লেখ করেন, মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে দিতে হয়। ফলে অসুস্থতা এখনো দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

ঢাকা-১৭ এলাকার মানুষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, কড়াইল, ভাষানটেক, সাততলার মানুষ এই শহরকে সচল রাখে। পোশাকশিল্প, নির্মাণ… সবখানে তাদের শ্রম। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের লক্ষ্য এসব এলাকার মানুষ যাতে আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।

তিনি আরও বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের বড় একটি অংশ প্রায় ৪২.৬ শতাংশ মানুষ প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খুঁজতে স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তারা অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পায় না কারণ অসুস্থতা মানেই আয় বন্ধ।

ডা. জুবাইদা বলেন, আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা সবাইকে অবহিত করবেন এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাচাঁতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান আশা প্রকাশ করেন, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘মতিঝিলের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।’

মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি জানান, নিহতদের পরিবারের বক্তব্য এবং সকল হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। হেফাজতে ইসলামের যে প্রোগ্রামটা তারা আগে থেকেই প্রতিবাদ করে জানিয়ে আসছিলেন এবং তারা ঢাকায় এসে সেখানে অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল- সেই প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিল, কোনোভাবে তাদের সেখানে অবস্থান নিলে মোকাবিলা করতে হবে। তা না পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল- এটিকে তিনি সিস্টেমেটিক, ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক এবং টার্গেটেড কিলিং হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, প্রত্যেক নিহতের পরিবারের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন এবং যেসব হেফাজতে ইসলামের সদস্য নিহত হয়েছেন, প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অতএব প্রত্যেক নিহত হওয়ার পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।