খুঁজুন
শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতের জনগণকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশের ১৪৫ নাগরিকের বিবৃতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
ভারতের জনগণকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশের ১৪৫ নাগরিকের বিবৃতি

দেশের ১৪৫ জন নাগরিক এক বিবৃতিতে ভারতের জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘সাধারণ জনগণের জীবনের সংকট বিচার করলে দুই দেশের মধ্যে মূলত কোনো পার্থক্য নেই। আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক প্রবণতা আর শক্তির বিরুদ্ধে আমরা লড়ব, আপনারাও আপনাদের দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন।’

‘ভারতের জনগণের কাছে আমাদের আবেদন’ শিরোনামে আজ (শুক্রবার) এক বিবৃতিতে দেশের ১৪৫ জন নাগরিক এসব কথা বলেন।

বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ৷

ভারতের জনগণের উদ্দেশে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা এমন এক সংকটপূর্ণ সময়ে অবস্থান করছি, যখন ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক শোচনীয় অবস্থায় এবং কিছু ভারতীয় উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির ক্রমাগত উসকানি এ অঞ্চলের জনগণের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে চিড় ধরাতে চাইছে। ভারতের জনগণ ও ভারত সরকারকে আমরা কখনোই এক করে দেখি না। আমরা জানি, ভারতের জনগণও হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়ছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন লড়াই করে তার পতন ঘটিয়েছি। জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের সময় আপনারা আমাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মসূচি পালন করেছেন। আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আপনাদের আর আপনাদের আন্দোলনে আমাদের সংহতি প্রকাশের ধারাবাহিকতা অনেক দিনের।’

সাম্প্রদায়িকতাকে ভারতীয় উপমহাদেশের বড় সমস্যা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রদায়িকতা মানুষে মানুষে বিভাজন ঘটায়, ধর্মের ভিত্তিতে তৈরি করে বিভেদ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজের অধিকার, নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং জনজীবনের আরও অনেক জলজ্যান্ত সমস্যা আড়াল করার জন্য উপমহাদেশের প্রত্যেক শাসকগোষ্ঠীই সাম্প্রদায়িকতার হাতিয়ার কাজে লাগিয়েছে। তারা এই কৌশল খাটিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু উভয় জনগোষ্ঠীর ভোট পাওয়াটা নিশ্চিত করতে চায়। বিশেষত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় সংখ্যালঘু জনগণের ওপর হামলার ঘটনা বারবার ঘটতে দেখা যায়।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সারা বাংলাদেশে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, জমি দখল, মন্দির ভাঙচুর ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর সারা দেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, গণ-অভ্যুত্থানের প্রেরণায় অনেক রাজনৈতিক দল হিন্দু ঘরবাড়ি ও মন্দিরা পাহারায় এগিয়ে আসে এবং সম্প্রীতির নতুন নতুন নজির স্থাপন করে। এ ছাড়া ভারতের জাতীয় পতাকা মাড়ানোর ঘটনায়ও এ দেশের গণতন্ত্রমনা মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু ভারতের অনেকগুলো সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ সম্পর্কে আসল তথ্য প্রচার করেনি, এখনও করছে না। ভারতের এক সংবাদমাধ্যম ঢাকা-আগরতলা-ঢাকা রুটে একটি দুর্ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা বলে প্রচার করে। সেই প্রচারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে আক্রমণ হয়, বাংলাদেশের পতাকা নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয়।

সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় ভারত সরকার দুঃখ প্রকাশ করলেও মিথ্যা প্রচারণা বন্ধের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা চাই, বাংলাদেশের প্রকৃত ঘটনা যথাযথভাবে দেখানো হোক। এ ধরনের প্রচারণা থেকে যেকোনো দেশেই লাভবান হয় সাম্প্রদায়িক শক্তি, লাভবান হয় শাসকগোষ্ঠী।’

সম্প্রতি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গ্রেপ্তার হওয়ার পর ভারত সরকার যে ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে, তাতে অবাক হয়েছেন বলে নাগরিকদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, ‘চিন্ময় কৃষ্ণের বিচার পাওয়ার অধিকারকে আমরা সমর্থন করি, সেটা সবারই আছে। কিন্তু ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেভাবে তড়িঘড়ি তার পক্ষে বিবৃতি দিল, তা বিস্ময়কর। তাকে আদালতে উপস্থিত করার দিন ব্যাপক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়। এ দেশের জনমানুষের সম্মিলিত চেষ্টায় এই ঘটনার অজুহাতে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের হিন্দু জনগোষ্ঠী বরাবরই অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে। এ দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এবং সব ধরনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হিন্দু জনগোষ্ঠীর ভূমিকা উজ্জ্বল। জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানেও হিন্দু জনসাধারণের অনেকেই লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন, প্রাণ দিয়েছেন৷

শেষে ভারতের জনগণের উদ্দেশে বাংলাদেশের ১৪৫ নাগরিক বলেছেন, ‘আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক প্রবণতা ও শক্তির বিরুদ্ধে আমরা লড়ব, আপনারাও আপনাদের দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন। আপনাদের দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে আপনারা এই চক্রান্ত প্রতিহত করবেন। এ লড়াই ভারতের বৃহৎ পুঁজির শোষণ-লুণ্ঠন আর নিপীড়ন-নির্যাতন-আধিপত্যের বিরুদ্ধে উভয় দেশের জনগণের নিরন্তর লড়াই; বিভেদ, বিদ্বেষ ও ধর্মকেন্দ্রিক স্বার্থান্বেষী চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই। এই লড়াইয়ে আমরা শেষ পর্যন্ত জয়ী হব।’

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন- আনু মুহাম্মদ, সলিমুল্লাহ খান, সাঈদ ফেরদৌস, হারুন-অর-রশীদ, স্বাধীন সেন, গীতি আরা নাসরীন, ফাহমিদুল হক, কামরুল হাসান মামুন, তুহিন ওয়াদুদ, সামিনা লুৎফা, মোশরেফা মিশু, সীমা দত্ত, আলতাফ পারভেজ, কল্লোল মোস্তফা, আশরাফ কায়সার, মাহা মীর্জা, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, মানজুর-আল-মতিন, সায়ান, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, কামার আহমাদ সাইমন, প্রীতম দাশ, সারোয়ার তুষার, সালমান সিদ্দিকী, মেঘমল্লার বসু প্রমুখ।

Feb2

হাদি হত্যার তদন্তে রোববার জাতিসংঘে চিঠি দেবে সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
হাদি হত্যার তদন্তে রোববার জাতিসংঘে চিঠি দেবে সরকার

শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত পরিচালনার জন্য জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠাবে অন্তর্বর্তী সরকার। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে আগামী রোববার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছেন। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক এরইমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।

হাদি সমর্থকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
হাদি সমর্থকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা করতে গিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে শরিফ ওসমান হাদি সমর্থকরা নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে নগরের দুই নম্বর গেট মোড়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

আন্দোলনের কারণে মুরাদপুর থেকে জিইসি যাওয়ার পথে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুই নম্বর গেইট থেকে মেডিকেল সড়ক, বায়েজিদ সংযোগ সড়কেও যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’, ‘জাবের ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীদের হাতে ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’ লেখা ব্যানার দেখা গেছে।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল করিম বলেন, আন্দোলনকারীরা অবস্থান নিয়েছে। আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক আছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রামে ছাত্রশিবিরের বর্ণাঢ্য র‍্যালি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রামে ছাত্রশিবিরের বর্ণাঢ্য র‍্যালি

৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‍্যালি করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে নগরের আগ্রাবাদ থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত এই র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন। বক্তব্যে তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের শাসনামলে হত্যাকাণ্ডের শিকার ছাত্রশিবিরের চারজন নেতাকর্মী ইমরান খান রাজীব, আবিদ বিন ইসলাম, সাকিবুল ইসলাম এবং ফয়সাল আহমেদ শান্তকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় সংগঠনের ওপর দমন-পীড়ন ও নির্যাতন চালানো হলেও ছাত্রশিবির তার আদর্শিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়নি। শিবির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের ছাত্রসমাজের নৈতিকতা, আদর্শিক উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। একটি আদর্শিক, সুশৃঙ্খল ও মানবিক সমাজ গঠনে ছাত্রসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি অতীতের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সংগঠনের টিকে থাকা ও কার্যক্রম পরিচালনার ধারাবাহিকতার ইতিহাস তুলে ধরেন এবং শহীদদের আত্মত্যাগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সামনে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন। বক্তব্যে তিনি তরুণ প্রজন্মকে দেশ, জাতি ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

র‍্যালিতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চট্টগ্রাম-১০ সংসদীয় আসনের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালি, মহানগর দক্ষিণ শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি কেফায়েত উল্লাহ ও মু. শহীদুল ইসলাম এবং সাবেক সেক্রেটারি মোহাম্মাদ ইকবাল।