খুঁজুন
রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংস্কারের গল্প আমাদেরকে বলার দরকার নেই: আমীর খসরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
সংস্কারের গল্প আমাদেরকে বলার দরকার নেই: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সংস্কারের গল্প আমাদেরকে বলার দরকার নেই। এই গল্প যারা নতুন নতুন সংস্কার শিখেছে, তাদের মধ্যে আর আপনাদের মধ্যে রেখে দিন। ৩১ দফা সংস্কার আকাশ থেকে পড়েনি। এটি প্রণয়নের পেছনে অনেক বিতর্ক, আলোচনা ও প্রস্তাবনা এসেছে। সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতেই আমরা ৩১ দফা প্রণয়ন করেছি। বাংলাদেশের মানুষের আগামী দিনের পরিবর্তনের বার্তা এই ৩১ দফার মাধ্যমেই দেওয়া হয়েছে। এই বার্তা নিয়ে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছি এবং সংস্কারের জন্য আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তিনি শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম চত্বরে অমর একুশে বইমেলার মঞ্চে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও বই মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব প্রকাশক শাহাবুদ্দিন হাসান বাবুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ইদ্রিছ মিয়া, সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন, স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

আমীর খসরু বলেন, কোনো ব্যক্তির ভিশন বা কোনো গোষ্ঠীর মিশনের ভিত্তিতে সংস্কার হবে না। বাংলাদেশের জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই সংস্কার হবে। ৩১ দফার জন্য আমাদের জনগণের কাছে যেতে হবে। জনগণ যখন এসব দফার প্রতি সমর্থন জানিয়ে ভোট দেবে, তখন আমরা এটি বাস্তবায়ন করতে পারব।

বিএনপির ৩১ দফা ও অন্যান্য সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তিনি বলেন, এখন যারা সংস্কারের কথা বলেন, তাদের কাছে কোনো ম্যান্ডেট আছে? তাদের পক্ষে কার সমর্থন আছে? তাদেরকে কে বলেছে? হ্যাঁ, প্রণয়ন করুন, কমিশন হয়েছে, ভালো কথা। এগুলো সব আমরা আগামী সংসদে প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করবো। আপনারা কষ্ট করে করেছেন, অনেক ধন্যবাদ। এগুলো আমরা আগামী সংসদে পেশ করব। ৩১ দফা সংসদে আলোচনা হবে। আমরা বলেছি, হয়ে যাবে, তা নয়, সংসদে আলোচনা হবে। অন্য কোনো দলের যদি কোনো প্রস্তাব থাকে, সেটাও সংসদে উপস্থাপন করুক। কারণ, আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই। জনগণের চিন্তার প্রতিফলন রাষ্ট্র পরিচালনায় ও দৈনন্দিন জীবনে ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন, যে নতুন পথ তারেক রহমান দেখিয়েছেন, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, অন্যের প্রতি সহনশীলতা ও সহানুভূতি দেখানো। অন্য মত হলেও সেটি গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন আনতে হবে। শুধুমাত্র সংস্কার করলেই হবে না, রাজনৈতিক সংস্কারের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। আমার বিরুদ্ধে কেউ বললেও তাকে সম্মান জানাতে হবে, তার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে হবে। দ্বিমত পোষণ করবো, কিন্তু সম্মান দিতে হবে। আপনারা দেখেছেন, তারেক রহমানকে একটি পত্রিকায় কার্টুনের মাধ্যমে সমালোচনা করা হয়েছিল। পরে তিনি বলেছেন, এটার জন্যই তো আমরা যুদ্ধ করেছি, এ স্বাধীনতা পাওয়ার জন্য। এ স্বাধীনতা পাওয়ার জন্যই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি।

আমীর খসরু বলেন, বইমেলা জিনিসটা আমি ভুলে গিয়েছি। কারণ, বিগত দিনে বইমেলা বলতে যা বোঝানো হতো, তা হলো, একটি দলের প্রতিষ্ঠাতা, তার মেয়ে, তার পরিবার, তাদের চিন্তা ভাবনা ও দর্শন প্রতিফলিত হতো সেই বইমেলায়। এমনকি স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও তাদের পরিবারের দর্শন ও চিন্তা ভাবনা কারিকুলামের মাধ্যমে পড়তে, শিখতে বাধ্য করা হয়েছে। কোনো বিশেষ দর্শন, চিন্তা বা পরিবার যেন বাংলাদেশের মনোজগতে এককভাবে প্রবেশ করতে না পারে, সেটা আমরা আগামী দিনে নিশ্চিত করবো।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি আবার তাদের পথে চলি, তাহলে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জিয়াউর রহমান সাহেব দেখে গিয়েছেন, সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে পারবো না। শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। মানুষের চিন্তা ভাবনা, দর্শন ও সৃজনশীলতা এখন উন্মুক্ত অবস্থায় আছে। সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি করতে হবে, যাতে সবাই নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে। আমাদের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবে এসবের কথা বলা আছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হতে পারলে, আমরা যারা আন্দোলন করেছি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, যারা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, জাতীয় সরকার গঠন করে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো। বিএনপি একা নয়, আমরা যারা সম্মিলিতভাবে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছি, সবাই মিলে এটি বাস্তবায়ন করব।

ভিন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, আগের মতো দেশ পরিচালনা করা যাবে না। নতুন ভাবনায়, নতুন চিন্তায় আমরা যে বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি, সেই বাংলাদেশ হবে ভিন্ন বাংলাদেশ। অতীতের ভুল ত্রুটি মুছে দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি নতুন বাংলাদেশ গড়া হবে।

বইমেলা ও মুক্তচিন্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্মুক্ত লেখাপড়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশের লেখাগুলোকে সম্মান জানাতে হবে, সব বিষয়ে লেখকদের সমর্থন দিতে হবে। বাংলাদেশের শিক্ষিত মানুষ ও লেখকদের জন্য আমাদের জায়গা তৈরি করতে হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, শাহাদাত নিরপেক্ষভাবে চট্টগ্রাম নগরীকে সুন্দরভাবে গড়ার জন্য কাজ করুক। আপনারা তাকে সহযোগিতা করবেন। সমস্যা থাকবে, সে সব সমাধান দিতে পারবে না। আমরা দলীয়করণে বিশ্বাসী নই। সে সঠিকভাবে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুক, তাহলে বিএনপি লাভবান হবে। শেখ হাসিনার পথে হাঁটলে চলবে না।

নতুন নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জাতীয়তাবাদী চিন্তার অনুসারীদের আগামী দিনে এই স্বাধীনতার চেতনাতেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে। আমরা সংঘর্ষের রাজনীতি চাই না, প্রতিশোধের রাজনীতি চাই না। হ্যাঁ, বিচার অবশ্যই করতে হবে, যারা খুন করেছে, গুম করেছে, তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। কাউকে বিচারের বাইরে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে দেশ গঠনের প্রকল্পে বিএনপির যে চিন্তা রয়েছে, সেটিই মাথায় রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চসিক বাংলাদেশের একমাত্র সিটি কর্পোরেশন যেখানে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় ১০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমি মনে করি, এই বিপুল শিক্ষা কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে বাংলা ভাষার প্রসারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। আমরা চাই সঠিকভাবে বাংলা অনুবাদ হোক। নগরীতে বিভিন্ন ইংরেজি সাইনবোর্ড ও দিকনির্দেশনামূলক চিহ্নের বাংলা অনুবাদ করতে এবং ভাষার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

নগরীর সাইনবোর্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ইংরেজি লেখাগুলোর সঠিক বাংলা অনুবাদ নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ টিম গঠন করার ঘোষণা দিয়ে মেয়র বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরামর্শে এই উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমি আসলে উনার কথার সূত্র ধরে এটাই বলছি যে আমরা এ ধরনের একটা টিম তৈরি করতে চাই, যেটা সাইনবোর্ড গুলোর অনুবাদ করবে।

তিনি বলেন, আমাদের অনেক লেখক আছেন, কিন্তু অনেক সময় তারা তাদের লেখা ছাপাতে পারছেন না। আমরা চাই, লেখকরা তাদের সঠিক জায়গায় সুযোগ পান। আগামীতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এই সুযোগ করে দেবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সবসময় শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে আগ্রহী। এবারের অনুষ্ঠানে বাইরের কোনো শিল্পী গান করেননি, বরং নগরীর বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরাই অংশগ্রহণ করেছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে অনেক অগ্রসর। চসিকের মতো এতটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সারা বাংলাদেশের আর কোথাও গড়ে ওঠেনি। সেজন্য আমি সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে চসিকের সকল কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানাই। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে বাচ্চাদেরকে মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে অন্ধকারে রেখেছিল। তাই দেশের প্রকৃত ইতিহাস লেখকদের লেখনীর মাধ্যমে তুলে আনতে হবে।

মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বই পুস্তক থেকে সত্য ইতিহাস তুলে দেয়া হয়েছিল। শহীদ জিয়ার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। শুধু শেখ মুজিবের নাম গুন কীর্তন করা হয়েছে। তাই এখন সত্যিকারের ইতিহাস বই পুস্তকে তুলে আনতে হবে। আজকে অন্তর্বর্তীকালিন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তাদের কাজ হল, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। আমরা দেখতে পাচ্ছি, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। তাই আমরা বলতে চাই, সংস্কারের নামে নির্বাচন বিলম্বিত করা যাবে না। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দিতে হবে।

ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, চট্টগ্রামের এই বইমেলাতে সব ধরনের বই প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। যেটা গত ১৭ বছর ছিল না। তখন জাতীয়তাবাদী চেতনার কোন প্রকাশকের বই ও কবিতা প্রকাশিত হতে দেওয়া হয়নি। সব সময় একটি বিশেষ দেশকে প্রাধান্য দেওয়া হতো। এবারের বইমেলার আয়োজন দেখে অনেক স্বস্তি পেয়েছি। এখানে সব শ্রেণী পেশার মানুষকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেজন্য সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ জানাই।

আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বলেন, জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। এমনই এক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ দিনটি বাংলাদেশের মানুষের অস্তিত্বে মিশে আছে এবং থাকবে চিরদিন। প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোনো জাতি তাদের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দেয়নি।

এতে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, এডভোকেট আব্দুস সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জয়নাল আবেদীন জিয়া, আবুল হাশেম, ইস্কান্দর মির্জা, মো. সালাউদ্দিন, মো. কামরুল ইসলাম, মশিউল আলম স্বপন, জাফর আহমেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, বিভাগীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহার, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, সাধারণ সম্পাদক জেলি চৌধুরী, জাসাসের আহ্বায়ক এম এ মুসা বাবলু, সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ শিপন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন প্রমূখ।

Feb2

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (২১ জুন) সকালে দেশটির আল শাহানিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ভারতীয় এক নাগরিকও নিহত হন।

নিহত পাঁচ বাংলাদেশি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন- জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মোস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে প্রবাসীরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে আল শাহানিয়া এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহ উদ্ধার করে কাতারের একটি হাসপাতালের মর্গে রেখেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক।

তিনি বলেন, কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি তাওহীদুল ইসলাম বলেন, কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের এলাকার পাঁচজন প্রবাসীর মৃত্যুতে পুরো কানাইঘাটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রবাসী সংগঠন ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে স্বজনরা শেষবারের মতো তাদের দেখতে পারেন এবং যথাযথ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করা যায়।

এদিকে, বাংলাদেশিদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা আমাদের এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে কাতার দূতাবাসের শ্রম উইংকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে সরকার নিহতের পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।

মালয়েশিয়া পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়া পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সফরে কুয়ালালামপুর পৌঁছেছেন।

রোববার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে কুয়ালালামপুরে পৌঁছান তিনি। তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এছাড়া দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। সুসজ্জিত বাহিনীর দেওয়া গার্ড অব অনারের সময়ে দু’দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়।

বিমানবন্দরে ভিভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার সহধর্মিণী। ছোট শিশু মাইসা নুর আইশা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জুবাইদা রহমানকে।

এসময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাইকমিশনার সাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়; সফরে প্রধানমন্ত্রী, তার সহধর্মিণী ও সফর সঙ্গীরা এই হোটেলে থাকবেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শাংগ্রি লা হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটে সড়ক পথে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।

এর আগে বিকেল পৌনে তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়।

এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরে তিনি একত্রে দুটি দেশে যাবেন। ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং ২৩-২৬ জুন চীন সফর করবেন তিনি। সফর শেষে ২৬ জুন দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

সফরটিকে ঢাকা, কুয়ালালামপুর ও বেইজিংয়ের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মালয়েশিয়া সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শ্রমবাজার, বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পাবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল রয়েছে।

সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

সারওয়ার আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ২১ আগস্ট তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন।

২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন।সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত ছিলেন সারওয়ার আলম।

২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। পরে গত বছরের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি।