খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকে গঠন বিএনপির পক্ষে সম্ভব : তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকে গঠন বিএনপির পক্ষে সম্ভব : তারেক রহমান

বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণ ও দেশ। তাই ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকে গঠন বিএনপির পক্ষে সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এখন অনেকেই সংস্কারের কথা বলছেন। কিন্তু একমাত্র বিএনপি স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশ পুনর্গঠনের কথা বলেছে, ৩১ দফা ঘোষণা করেছে। বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে সবার আগে দেশ পুনর্গঠন করবে। জনগণের সমর্থন নেই এমন কোনো কাজ বিএনপি করে না। বিভ্রান্ত হয়ে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়া নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাই বিএনপির বিরুদ্ধে কারও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ পুনর্গঠনে দ্রুততম সময়ে স্বচ্ছ নির্বাচন দেওয়া জরুরি।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত যশোর জেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভার্চুয়ালি তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা বিগত ১৭টি বছর আন্দোলন করেছি, সেই স্বৈরাচার আজ পলাতক। তারা বিভিন্নভাবে মাথাচড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। ষড়যন্ত্রকারীরা কিন্তু বসে নেই। বিভিন্ন দাবিদাওয়ার অছিলায় বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তারা তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। তাদের এই লক্ষ্য আমরা হাসিল করতে দিতে পারি না।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষকে যদি রক্ষা করতে হয়, সর্বোপরি বাংলাদেশকে যদি রক্ষা করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে যে কোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। আমরা বসব, আলোচনা করব। এক আলোচনায় শেষ না হলে আবার আলোচনায় বসব। আলোচনার মাধ্যমেই আমরা সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করব। আমাদের অনেক কাজ। দেশকে পুনর্গঠনের কাজ। দেশের সামনে আমরা রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের ৩১ দফা রূপরেখা দিয়েছি। সেটির মধ্যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থাকে কীভাবে করব, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া আছে। এই দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও কৃষির জন্য আমরা কী কী করতে চাই, তার কথাও উল্লেখ করা আছে। সমগ্র দেশকে পুনর্গঠন করার জন্য আমরা কী করতে চাই, সেই কথাগুলো বলা আছে।

যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। উদ্বোধন করেন বিএনপি চেরায়পারসনের উপদেষ্টা আমন উল্লাহ আমান।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী টি এস আইয়ূব, আবুল হোসেন আজাদ, সাবিরা নাজমুল মুন্নী, কেশবপুর পৌর বিএনপি সভাপতি আব্দুস সামাদ বিশ্বাস, যশোর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারাজি মতিয়ার রহমান, ঝিকরগাছা পৌর বিএনপির সভাপতি রুহুল আমিন সুজন, মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু, বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি তানিয়া রহমান, চৌগাছা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম চঞ্চল, বেনাপোল পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দীন, শার্শা উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, জেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনসারুল হক রানা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পি প্রমুখ।

Feb2

প্রথমে হাটহাজারী উপজেলায় দ্রুতই ফ্যামেলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
প্রথমে হাটহাজারী উপজেলায় দ্রুতই ফ্যামেলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, প্রথমে হাটহাজারী উপজেলায় দ্রতই ফ্যামেলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া উদ্বোধনের সময় শুরু না হলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যে চট্টগ্রামে কৃষক কার্ডের কার্যক্রমও শুরু হবে।

আজ ২৩ মে বুধবার বিকেলে সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রাম আয়োজিত ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রমের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুপ, বৃক্ষরোপন, খাল খনন, নারীর জন্য গাড়ির সুফল’ বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং-এ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, কৃষির চাহিদা অনুযায়ী সারা দেশে খাল খনন শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে বামনশাহী খাল খননের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এখানকার ৫৪টি খালের মধ্যে ৬২ কিঃমিঃ খননসহ মোট ১২৮ কিঃমিঃ খাল খনন করা হবে। তিনি বলেন, ইট প্রস্তুতের জন্য মাটির উপরিভাগ কাটা হয়ে থাকে। এ বছর আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে খননকৃত খালের মাটি যেন ইটভাটায় ব্যবহার করা হয়। তাহলে এসব মাটির যেমন কার্যকর ব্যবহার হবে তেমনি কৃষিজমির টপসয়েল রক্ষা পাবে। চট্টগ্রামের ডি সি পার্কে ২০ হাজার গাছের চারা লাগানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃক্ষরোপন কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপন করা হবে।

পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, খননকৃত খালের মাটি যেন আবার সেই খালে না পড়ে সে বিষয়টি তদারক করা হবে। তাছাড়া সিএস বা আরএস জরিপ দেখে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত যেসব খাল মরে গেছে বা বিলুপ্ত হয়ে গেছে তাও খনন করা হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খননের জন্য খাল বাছাই এর ক্ষেত্রে প্রথমে কৃষির গুরুত্ব দেখা হবে। যেসব খালের দ্বারা কৃষিতে সেচ ব্যবস্থা এবং মৎস্য চাষ সহজে করা যবে-সেগুলোই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন করা হবে। তবে পর্যায়ক্রমে সব খালই খনন করা হবে।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা দুর করতে যত্রতত্র ময়লা ও আবর্জনা পলিথিন না ফেলা-প্রভৃতি বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে তিনি গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) আয়েশা ছিদ্দীকা সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড প্রচারে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রামের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।

এসময় সিদ্দীকা জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের তথ্য জনগণ বিশেষ করে প্রান্তিক জনগণের নিকট তুলে ধরতে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ১৮০ দিনের প্রচার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তর সারা দেশে ১০২১টি উঠান বৈঠক ও কমিউনিটি সভা, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১০৬০টি চলচ্চিত্র প্রামাণ্যচিত্র ও টিভিসি প্রদর্শণী, ৩২৪৮ ইউনিট সড়ক প্রচার ও মাইকিং, ২৩১৬টি অনলাইন প্রচার, ১৪টি কৃষক সমাবেশ, ২২টি ফ্যামেলি সমাবেশ, ১৪টি নৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতা এবং ৩৪০টি স্থানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন বড় পর্দায় জনবহুল স্থানে প্রদর্শণ করা হয়েছে। একই কর্মসুচির আওতায় জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রাম ৬০ ইউনিট সড়ক প্রচার, ১৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শণী, ৮টি উঠান বৈঠক, ২টি নারী সমাবেশ, ১৮০টি অনলাইন প্রচার এবং অগ্রাধিকারমূলক কর্মসুচির উদ্বোধন বড় পর্দায় ৫টি জনবহুল স্থানে দেখানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুপ, বৃক্ষরোপন ও নারীর জন্য গাড়ি বিষয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিন, মোঃ কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ, সমাজসেবা অধিদপ্তর, কৃষি অধিদপ্তর ও বন অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ প্রেস ব্রিফিং-এ উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের সন্তানরা নির্মল আনন্দে বেড়ে উঠছে না: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
আমাদের সন্তানরা নির্মল আনন্দে বেড়ে উঠছে না: ডিসি জাহিদ

“আমরা সবাই এখন নিজের সন্তানকে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ পাওয়ানোর দৌড়ে ব্যস্ত। কিন্তু আমরা কি ভাবছি—আমার সন্তানটি প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠছে কি না? আমাদের সন্তানরা নির্মল আনন্দে বেড়ে উঠছে না। পরিবার ও সমাজ থেকে মানবিক সংযোগ হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু চিকিৎসা নয়, অটিজম প্রতিরোধে সামাজিক সুস্থতাও জরুরি।”

আজ বুধবার ( ১৩ মে) চট্টগ্রামে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

“অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, প্রতিটি জীবন মূল্যবান” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ১৯৪৩ সালে ডোনাল্ড গ্রে ট্রিপলেট নামে এক শিশুকে কেন্দ্র করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. লিও কানার অটিজম নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। সেই গবেষণার মাধ্যমেই আধুনিক অটিজম ধারণার সূচনা হয়।

তিনি বলেন, “অটিজম” শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ “অটোস” থেকে, যার অর্থ নিজেকে কেন্দ্র করে থাকা। তবে আজ অটিজম শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয় নয়, এটি সামাজিক বাস্তবতারও অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা মঞ্চে যারা কথা বলি, আমরা পিছনের চিত্রটা তুলে ধরি না। দেশের ৯৮ লক্ষ অটিস্টিক শিশুদের পরিবারে যে কষ্ট, যে হাহাকার আছে, তা আড়ালেই থেকে যায়।”

তিনি বলেন, “আমরা স্টিফেন হকিংয়ের কথা শুনেছি, মাইকেল ফেলপসের কথা শুনেছি। হ্যারি পটার সিরিজের লেখক জে. কে. রাউলিংয়ের জীবনেও গভীর মানসিক সংকট ছিল। মানুষের মানসিক জগৎ, একাকিত্ব, গ্রহণ-বর্জনের প্রবণতা—এসব বিষয় নিয়েই আজকের অটিজম আলোচনার বিস্তৃতি।”

গতকাল চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে অটিজম ইউনিট পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, “সেখানে অত্যন্ত বড় একটি অটিজম ইউনিট দেখেছি। দায়িত্বশীল চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে চেয়েছি—কেন অটিস্টিক শিশুর সংখ্যা বাড়ছে?”

তিনি জানান, চিকিৎসকদের মতে আগে শনাক্তকরণের সীমাবদ্ধতা থাকলেও এখন প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে বিষয়গুলো দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ দূষণ, অল্প বয়সে মাতৃত্ব ও সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, “একসময় ‘পরিজন’ শব্দটির গভীরতা ছিল। আজ আমরা পরিবারকেন্দ্রিক হলেও মানবিক সংযোগ হারিয়ে ফেলছি। আমরা সবাই ব্যস্ততার মধ্যে ডুবে আছি। জীবনের আনন্দ যেন হারিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আজ এখানে যারা এসেছেন, তারা অনেকেই সচেতন ও সচ্ছল পরিবারের প্রতিনিধি। কিন্তু এর বাইরেও অসংখ্য পরিবার আছে, যারা নীরবে সংগ্রাম করছে। তাদের কণ্ঠ আমরা কতটা শুনছি?”

নিজেদের দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা প্রায়ই অন্যের ভুল নিয়ে কথা বলি, কিন্তু নিজের দায়িত্ব পালনের জায়গাটি ভুলে যাই। শুধু অন্যকে দোষারোপ করলে হবে না; প্রত্যেককে নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “একজন অসুস্থ মানুষ সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে পারে না। তাই আমাদের শুধু সহায়তা নয়, প্রতিরোধ নিয়েও ভাবতে হবে। আমরা কি এমন একটি সমাজ গড়ে তুলছি, যেখানে মানসিক সুস্থতা ও পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী থাকবে?”

পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ও ইউরোপ-আমেরিকার সমাজ ব্যবস্থা এক নয়। আমাদের সংস্কৃতি, পরিবার ও মূল্যবোধ আলাদা। পশ্চিমা আচরণ হুবহু অনুসরণ করলে সবসময় তা আমাদের সমাজে মানানসই হবে না।”

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ আমাদের মানুষ। প্রতিটা জীবন গুরুত্বপূর্ণ—Every Life Matters। এই জনগণকেই দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, “সূর্যের যদি তাপ না থাকে, তবে তার কোনো মূল্য নেই। সমুদ্রের যদি গর্জন না থাকে, তবে কেউ তার কাছে যাবে না। তেমনি মানুষের মধ্যে যদি মানবিকতা না থাকে, তবে সে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হওয়ার দাবি করতে পারে না।”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্ধৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “‘আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমি মানুষ।’ মানুষ হওয়ার জন্য মানবিকতা প্রয়োজন। বড়দের সম্মান করতে জানতে হবে, ছোটদের ভালোবাসতে জানতে হবে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা যদি এই মূল্যবোধ থেকে সরে যাই, তাহলে কাঙ্ক্ষিত সমাজ গঠন সম্ভব হবে না। বরং আমাদের নানা ধরনের সামাজিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ বহন করতে হবে। কাঁধে অতিরিক্ত বোঝা নিয়ে কেউ দ্রুত এগোতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের পৃথিবী প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তঃসংযুক্ত। এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আমাদের সমাজের অস্থিরতা কমাতে হবে এবং মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক। অটিজম বিষয়ে বিশেষ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ফাহমিদা ইসলাম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, প্রয়াস-এর অধ্যক্ষ লে. কর্ণেল সাঈদা তাহমিনা সিমা, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব জাফর আলম এবং অধ্যাপক ডা. বাসনা মুহুরী।

মীরসরাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান লিনার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন, উর্বশী দেওয়ান, মো. শহীদ উল্লাহসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের অ বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ থেকে প্রাপ্ত এককালীন অনুদান বিতরণ করা হয়। এসময় চট্টগ্রামের ২৬ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

অটিজম সচেতনতা বৃদ্ধিতে চট্টগ্রামের নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ করল সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ করল সরকার

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে কুরবানির পশুর দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দর ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই নতুন দর ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে চামড়া সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে সরকারি অর্থায়নে বিনামূল্যে লবণ বিতরণের বিশেষ উদ্যোগও নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এদিন সচিবালয়ে কুরবানি সম্পর্কিত বিষয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ সভা শেষে ব্রিফিংকালে এ বিষয়ে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দর ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে গরুর কাঁচা চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম ৫৭ থেকে ৬২ টাকা।

এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়ার প্রতি বর্গফুট ২৫-৩০ টাকা এবং সারা দেশে বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কুরবানির পশুর চামড়া যেন নষ্ট না হয় সেজন্য সারা দেশে সরকারি অর্থায়নে বিনামূল্যে লবণ পৌঁছানো হবে। এজন্য ইতিমধ্যে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ কেনা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) মাধ্যমে জেলা-উপজেলায় এই লবণ পৌঁছে দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সঠিক সময়ে লবণের সরবরাহ এবং চামড়ার নায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে চামড়া পাচার রোধ ও জাতীয় অর্থনীতিতে এর সুফল পাওয়া যাবে। মূলত কুরবানিকে ঘিরে চামড়া শিল্পের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুশৃঙ্খল রাখতেই প্রতি বছরের মতো এবারও আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।