খুঁজুন
সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনগণের ক্ষমতা বাড়িয়ে সরকারের ক্ষমতা কমানোই গণতন্ত্র: আমীর খসরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
জনগণের ক্ষমতা বাড়িয়ে সরকারের ক্ষমতা কমানোই গণতন্ত্র: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রকৃত গণতন্ত্র মানেই হচ্ছে জনগণের ক্ষমতা বাড়ানো এবং সরকারের ক্ষমতা কমানো।আগামী দিনে বিএনপি রাষ্ট্র.পরিচালনায় এলে ব্যবসার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করে এমন সব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ‘ব্রোকারিজ’ প্রথা উপড়ে ফেলা হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে।

তিনি সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে হোটেল রেডিসন ব্লু’র মেজবান হলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবসায়ী ফোরামের উদ্যোগে ব্যবসা বাণিজ্য অর্থনীতি ও বিনিয়োগ নিয়ে আয়োজিত “বাণিজ্য সংলাপ” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সংলাপে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সাধারণ নাগরিক বা ব্যবসায়ীদের ফিজিক্যাল কন্টাক্ট (সরাসরি যোগাযোগ) যতো কমবে, দুর্নীতি ততোই হ্রাস পাবে। আমরা এমন এক ব্যবস্থা করতে চাই যেখানে আমদানিকৃত মালপত্র ছাড় করতে কাস্টমস অফিসারের মর্জির ওপর নির্ভর করতে হবে না। উন্নত বিশ্বের মতো স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সব পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। তিনি বিদেশে কোনো অফিসে না গিয়ে ঘরে বসেই সব সার্টিফিকেট বা অনুমোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের গ্রামের কামার কুমার বা শীতলপাটি শিল্পীদের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে হবে। অ্যামাজন বা আন্তর্জাতিক বাজারে যেন তারা পণ্য বিক্রি করতে পারে, সে জন্য ডিজাইনার সাপোর্ট ও ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং শহরমুখী মানুষের ঢল কমবে।

রেমিট্যান্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের রেমিট্যান্স ২৫ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে। কিন্তু সঠিক পলিসি এবং যুব সমাজকে আইটি সেক্টরে (কল সেন্টার, মাইক্রোসফট বা অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার উপযোগী) দক্ষ করে তুলতে পারলে এই আয় ৫০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

পুঁজিবাজার ও ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমি দেশের ভঙ্গুর পুঁজিবাজার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমির খসরু বলেন, দেশের ক্যাপিটাল মার্কেট ধ্বংস হয়ে গেছে। জিডিপির তুলনায় আমাদের মার্কেট খুবই ছোট। আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজারদের সাথে আমাদের কথা হচ্ছে, তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়। কিন্তু তার আগে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। ক্যাপিটাল মার্কেট ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ছাড়া ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন দেখা সম্ভব নয়।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসি বা বিটিআরসি’র মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পেশাদারিত্বের সাথে পরিচালনা করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমরা কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা চাই সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’। চুরির আইন দিয়ে নয়, বরং সিস্টেমের পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা অনিয়ম বন্ধ করতে চাই।

বক্তব্য শেষে তিনি উপস্থিত ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। তিনি দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে ব্যবসায়ীদের নির্ভয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, তারেক রহমান নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছেন। এটা হচ্ছে বড় সফলতা। একজন নেতা বিদেশে থেকে এতবড় ভূমিকা পালন করতে পারেন এটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। সবচেয়ে বড় কাজ বিএনপিকে শুধু ঐক্যব্ধ রাখেননি। বিএনপিকে একটি শক্তিশালী দলে পরিণত করেছেন।বিএনপির নেতাকর্মীরা জলে পুড়ে খাটি সোনায় পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে কেবল দলের নয় দেশের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীরা চাকরি হারিয়েছে, ব্যবসা হারিয়েছে, অনেকে পঙ্গু হয়েছে। আগামী দিনের যে রাজনীতি সেখানে বাংলাদেশের মানুষের যাতে রাজনীতি হয় সেটা আমাদের দেখতে হবে।

নির্বাচন পিছিয়ে যাবে কিনা সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন পেছাবে না। কেউ নিজের স্বার্থে পেছাতে চাইলে বাংলাদেশেরন মানুষ সেটা মেনে নেবে না। তবে একটা গোষ্ঠী যারা নির্বাচন চায়না তাদের সম্পর্কে তো জনগণের এই সন্দেহ আছে। নির্বাচন না হলে দেশের মানুষ দেশের মালিকানা ফিরিয়ে না পেলে নির্বাচিত সংসদ না থাকলে যারা লাভবান হবে মনে করছে তাদের সম্পর্কে জনগণের সন্দেহ রয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বানিজ্য সংলাপে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ব্যবসায়ী নেতা সরওয়ার জামান নিজাম, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম, সংলাপে অংশ নেন চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ সালাম, পিএইচপি গ্রুপের পরিচালক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ সভাপতি সেলিম রহমান, প্যাসিফিক জিন্সের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, আন্তঃ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব কপিল উদ্দিন, বিজিএপিএমইএ’র সভাপতি মো. শহীদ উল্লাহ, শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের পরিচালক আমীরুল হক, খাতুনগন্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মীর আবদুস সালাম, টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান, সেন্ট্রাল প্লাজা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তহিনুর আলম টিটু, মাদার স্টীল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাষ্টার আবুল কাশেম, বিএনও লুব্রুকেন্টের পরিচালক সালাউদ্দিন ইউছুপ, সিএনজি ফিলিং স্টেশন সমিতির যুগ্ম মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম, জুনিয়র চেম্বারের সভাপতি জোনায়েদ আহমেদ রাহাত, ফার্নিচার প্রস্তুত কারক সমিতির সভাপতি মাকসুদুর রহমান, রাঙ্গামাটি চেম্বারের সভাপতি এড. মামুনুর রশীদ, চাঁদপুর চেম্বারের পরিচালক মানিকুর রহমান, বান্দরবান চেম্বারের সদস্য জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

Feb2

সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলীয় আসন সংখ্যার অনুপাতে জোটটি মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ তালিকাটি প্রকাশ করেন।

জামায়াতের আট নারী যাচ্ছেন সংসদে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যাচ্ছেন দুজন। এ ছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন এবং জুলাই শহীদ পরিবারের একজনকে নারী আসনের সংসদ সদস্য করা হচ্ছে এই জোট থেকে।

প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন— নুরুন্নিসা সিদ্দীকা (সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), মারজিয়া বেগম (সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী (আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি), নাজমুন নাহার নীলু (প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি), অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান (কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি, সিলেট মহানগরী), সাজেদা সামাদ (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা), শামছুন্নাহার বেগম (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা), ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ (কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, নারী অধিকার আন্দোলন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মনিরা শারমিন (কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক) ও ডা. মাহমুদা আলম মিতু (কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব) এনসিপি। ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (সভাপতি, জাগপা) ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং রোকেয়া বেগম (জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে। সেই অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াত জোট ১৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি জোট ৩৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। দলের পক্ষ থেকে মনোনীত প্রার্থীদের এরই মধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো জুলাই বিপ্লবে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৬ বছর বয়সী শিশু জাবির। তার মায়ের এই মনোনয়নকে জোটের পক্ষ থেকে একটি সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় হওয়ায় আজ রাতেই সব শরিক দল চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। খাল খনন করতে পারলে বন্যার সময় মানুষ, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল রক্ষা করা যাবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে চৌকিদহ খালটা কাটলাম। এখানে যদি কোনো মুরুব্বি থাকেন- যাদের বয়স ৬০-৭০ এর বেশি, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, এই খালটা আমার আব্বা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে কেটেছিলেন। এই খালটা আমরা কাটলাম, প্রায় এক কিলোমিটার মতো লম্বা। এই খালটা কাটার ফলে বর্ষার সময় অতিবৃষ্টিতে আশেপাশে যে পানি উঠে, তা এখানে জমা হবে। আবার শুকনা মৌসুমে যখন পানি পাওয়া যায় না, তখন এই খালে পানি থাকলে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদের জন্য পানি পাবে। অর্থাৎ এলাকার মানুষের উপকার হবে।

স্থানীয়দের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলুন আমরা এই খালটা পুনঃখনন করি, পানি ফিরিয়ে আনি। খালের দুই পাশে গাছ লাগাই। খালের মধ্যে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটাও দেখা হবে- যাতে এলাকার বেকার তরুণরা কাজ পায়। মা-বোনেরাও পাশে শাকসবজি চাষ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ যেমন পানির কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। তাই খাল খনন জরুরি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। এই খাল কাটাসহ যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা যেন সফল হয়-সেজন্য দোয়া করবেন। এটা তো নিজের বাড়ি, ঘরের লোকজন। কয়েকদিন পর আবার আসবো ইনশাআল্লাহ।

এর আগে দুপুর ২টায় নিজ জন্মভূমি বাগবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বিকেল ৩টায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে পৌঁছালে খালের দুই পাড়ে অবস্থান নেওয়া হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

খাল খনন কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তাই সিরিজ হার ঠেকাতে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না স্বাগতিকদের। মিরপুরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কোনো ভুল করলেন না মেহেদী হাসান মিরাজরা। নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৯৮ রানে থেমে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। জবাবে ৮৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

১৯৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই চার হাঁকান বাংলাদেশের ওপেনার সাইফ হাসান। একই ওভারে আরও একটি চার মারেন তিনি। কিন্তু ৬ বলের বেশি খেলতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার। প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলেই সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৮ রান।

এরপর ক্রিজে আসেন সৌম্য সরকার। নিজের খেলা প্রথম বলেই দুই রান নেন সৌম্য। এরপর দেখে-শুনে খেলার ইঙ্গিত দিচ্ছিলো সৌম্যর ব্যাট। কিন্তু ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলেই হাঁকান এক দুর্দান্ত ছক্কা। একই ওভারের শেষ বলে ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন সৌম্য। তার ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ৮ রান।

তৃতীয় উইকেটে ব্যাট করতে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে নিয়েই দলীয় স্কোর বড় করতে থাকেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দুজন মিলে গড়েন ১২০ রানের জুটি। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। এই দুই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পান। তবে জয় নিয়ে ফিরতে পারেননি দুজনের কেউই।

জেইডেন লেনক্সের করা বলে কটবিহাইন্ড হওয়ার আগে ৭৬ রান করেন তিনি। মাত্র ৫৮ বলে খেলা ইনিংসটি ১০টি চার ও চারটি ছয়ে সাজানো। শান্ত অবশ্য আউট হননি। রিটায়ার্ট হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৭১ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৫০ রান করেন তিনি।

এর আগে মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয় বাংলাদেশ। দুটি উইকেটই নেন নাহিদ। অষ্টম ওভারে হেনরি নিকোলসকে ১৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশি পেসার। পরের ওভারেও প্রথম বলে তিনি উইল ইয়াংকে (৭) সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানান তিনি। পরে সৌম্য সরকার তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম লাথামের উইকেট। ৩৫ বলে ১৪ রান করেন তিনি।

৫২ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস ৫৬ রানের জুটি গড়েন। ২৭তম ওভারের শেষ বলে ফিফটি করেন কেলি। আব্বাসকে ১৯ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ। উড়ন্ত ক্যাচে তাকে ফেরান লিটন। কেলি সেঞ্চুরির বেশ কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন। শরিফুল ইসলাম তাকে ৮৩ রানে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান। কিউই ওপেনারের ১০২ বলের ইনিংসে ছিল ১৪ চার।

সেট ব্যাটার আউট হওয়ার পর ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন। জশ ক্লার্কসনকে আউট করেন রিশাদ হোসেন। আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ডিন ফক্সক্রফট ১৫ রান করে নাহিদের শিকার হন। ব্লেয়ার টিকনারকে বদলি ফিল্ডার আফিফ হোসেনের ক্যাচ বানান শরিফুল।

নিজের শেষ ওভারে নাহিদ পঞ্চম উইকেট তুলে নেন। জেইডেন লেনক্স খালি হাতে ফেরেন বাংলাদেশি পেসারের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে। ১৮৩ রানে ৯ উইকেট তোলার পর নিউজিল্যান্ডকে দুইশর মধ্যে আটকানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কাভারে নাথান স্মিথের কঠিন ক্যাচ নিতে না পারার প্রায়শ্চিত্ত কিছুক্ষণ পরই করেন তাওহীদ হৃদয়। তাসকিন আহমেদের বলে উইলিয়াম ও’রোর্কের ক্যাচ নেন তিনি। ৪৮.৪ ওভারে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।