খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পে-স্কেল’র প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে পাহাড়তলীতে রেলকর্মচারীদের কর্মবিরতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৭ অপরাহ্ণ
পে-স্কেল’র প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে পাহাড়তলীতে রেলকর্মচারীদের কর্মবিরতি

১১-২০ গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরাম এর উদ্যোগে যমুনা অভিমুখী সরকারি কর্মচারীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর পুলিশের রাবার বুলেট, জলকামান, টিয়ারশেল নিক্ষেপের প্রতিবাদে শাটডাউন, বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ রেলওেয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

১১ থেকে ২০ তম গ্রেড সরকারী কর্মচারী ফোরাম এর সদস্য রেলওয়ে সিসিএস পাহাড়তলী দপ্তরের জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের সিসিএস পাহাড়তলী শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন এর সঞ্চালনায় নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল এর বিভিন্ন শাখা শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী ফোরাম, শাটডাউন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও কর্ম-বিরতি পালন করেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের সকল সরকারি কর্মচারী ফোরামের সাথে শাটডাউন, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির সাথে একাত্মতা পোষণ করেন রেলওয়ে সরঞ্জাম বিভাগের ১১ থেকে ২০ তম গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরাম।

এতে বক্তব্যে কামাল হোসেন বলেন, ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম যমুনা অভিমুখী শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি প্রদানের জন্য। কিন্তু ইন্টিরিম সরকারের রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী কর্তৃক ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভুন্ডল করতে জলকামান, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আমাদের সহকর্মী ভাই ও বোনদের রক্তাক্ত করে। আমাদের সহকর্মী ভাই ও বোনেরা আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ আন্দোলনতো সরকার বিরোধী আন্দোলন নয়, এ আন্দোলন বৈষম্যমূলক একটি জাতীয় নবম পে স্কেল কমিশন এর গেজেট জারির করনের আন্দোলন। কারণ সরকার বলেছিল চাকরিজীবীদের স্বার্থে ৯ম জাতীয় পে কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং বর্তমান ইন্টেরিম সরকার প্রধান প্রফেসর ডঃ ইউনুস পে কমিশনের রুপ রেখা ও গেজেট জারি করে যাবেন। পরবর্তী সরকার এসে তা বাস্তবায়ন করবেন।

প্রিয় মিডিয়া ভাই ও বোনেরা আপনারাও ঢালাওভাবে প্রচার করেছিলেন বর্তমান ইন্টেরিম সরকারের অনেক উপদেষ্টা বলেছেন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই বাজেটের রাখা হয়েছে। তাহলে এই ধরনের মিথ্যা বানোয়াট প্রতারণামূলক পে কমিশনের কমিটি গঠন করে রাষ্ট্র ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদেরকে আপনারা মুলা ঝুলিয়ে দিবেন মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিবেন তাহলে রাষ্ট্র কিভাবে মজবুত হবে?

কামাল হোসেন আরো বলেন, আপনারা নবম জাতীয় পে স্কেল দিবেন না, তাহলে কেন রং তামাশা কমিটি করেছিলেন? যে কমিটি দ্বারা জাতীয় পে কমিশন বাস্তবায়ন হবে না এই কমিটি দ্বারা রাষ্ট্রের সময় সময় মিটিং এর নামে যত টাকা খরচ হয়েছে সব টাকা রাষ্ট্রের কষাগারে জমা দিতে হবে। কারণ এ রাষ্ট্রের সকল টাকা এদেশের সাধারণ নিরীহ কৃষক শ্রমিক ও জনগণের।

কামাল বলেন আপনারা যদি পে কমিশন বাস্তবায়ন না করতে পারেন, আপনার যদি পে কমিশন দিতে না পারেন তাহলে পে কমিশনের নামে ধাপ্পাবাজি করে কেন বাজারের সকল ধরনের নিত্য দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দিলেন? আপনারা বাজার কন্ট্রোল করেন বাজারে মনিটরিং সেল তৈরি করেন। আমাদের পে কমিশন লাগবে না, আর যে পে কমিশনের রূপরেখা দিয়েছেন তা আকাশ সমান বৈষম্য। যে বৈষম্যের জন্য দীর্ঘ সময় এদেশের কৃষক শ্রমিক জনতা ও টগবগে তরুণ মেধাবী ছাত্ররা আন্দোলন করেছিলেন বৈষম্যকে হটিয়ে একটি সোনালী স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠন করার জন্য। কিন্তু সরকারের উচ্চ মহল সেই বৈষম্যের পথে হাঁটছে অবিলম্বে একটি সুন্দর ও মার্জনীয় সহনীয় জাতীয় নবম পে স্কেল ঘোষণা করুন। অবিলম্বে জাতীয় নবম পে কমিশনের গেজেট জারি করুন। আমরা ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম এই রাষ্ট্রের চাকা সচল রাখি, আমরা আমাদের ছেলে মেয়ে, পরিবারকে সময় না দিয়ে এই দেশের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে থাকি। সুতরাং আমাদেরকে না ঠকিয়ে আমাদের উপর শাসন শোষণের মাত্রা বৈষম্যের মাত্রা না বাড়িয়ে রাষ্ট্রের মূল শিকড় মজবুত করনের লক্ষে যত দ্রুত সম্ভব একটি ন্যায়নিষ্ঠ বৈষম্যহীন পে স্কেলের গেজেট জারি করুন।
অন্যথায় আগামীতে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে পুরো বাংলাদেশের ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম এর উদ্যোগে রাজপথ, সড়ক পথ, রেলপথ, বিমানপথ, নৌপথসহ সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হবে। মনে রাখতে হবে পেটের ক্ষুধা যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখন কাউকে ছাড় নয়।

সবিশেষ কামাল হোসেন বলেন, কোন ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ যাতে তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা যারা ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম দায়িত্ব পেয়েছি এই দায়িত্ব শৃঙ্খলার সাথে পালন করবেন।

শাটডাউন বিক্ষোভ ও কর্মবতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরামের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আরো উপস্থিত ছিলেন রেল শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি আতিকুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম রানা, সৈয়দ আল রাব্বি, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মোরশেদুল আলম বাদল। মহিলা নেতৃবৃন্দদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিগার সুলতানা, নিপু রানী, রওশন সুলতানা, নুরজাহান আক্তার, নাসরিন আক্তার, মোমেনা বেগম, সারজিনা আক্তার, কামরুন্নাহার, মনিরা বেগম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, আমজাদ হোসেন, শরীফুল ইসলাম, গোলাম রাব্বানী, মঞ্জুর মোরশেদ, জুয়েল, আনিসুর রহমান, লোকমান হাকিম, অলিউল হাসান, ফেরদাউস রহমান, ফরহাদুল ইসলাম মনির, মাজহারুল ইসলাম, পলাশ, মিহির কুমার, আব্দুল মালেক, আব্দুল মোতালেব, নাছির উদ্দিন, আতিকুর রহমান, প্রকাশ নন্দী, রুবেল, রবিউল হোসেন, মোজাহিদ হাওলাদার, কামরুল ইসলাম, সালাম মিয়া, পদ্ম মোহন সিংহ, নুর আলম, মোহাম্মদ আলী, জাহিদুল ইসলাম, তারেকুল ইসলাম, সামছু মিয়া, আব্দুল মান্নান, মাসুম মিয়া, সুমন চন্দ্র, তানভীর, নেজাম, সৈয়দ দিপু, আবুল কালাম, সোহেল মোল্লা, শাহ আলম মিয়া, নজরুল, শাহীন, মনির, কাদের, রশিদ, শহীদ, মুহিদুল, নিয়াজ, ফাহাদসহ আরো অন্যান্য ১১ থেকে ২০ তম গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরাম শ্রমিক ও কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

সকলের দাবি একটাই অবিলম্বে একটি সুন্দর বৈষম্যহীন জাতীয় নবম পে কমিশনের গেজেট জারি করা। কারণ, কর্মচারীরা দীর্ঘ ১০ থেকে ১১ বছর পর্যন্ত জাতীয় পে কমিশন থেকে বঞ্চিত। যেটা ৫ বছর পর পর ঘোষণা হওয়ার নিয়ম।

Feb2

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (২৫ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরা করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় মেয়র পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা এরইমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। কোরবানির চামড়া যেন যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।’

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, সেই সেরা তিনটি ওয়ার্ডকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তবে দ্রুততার নামে যেন পরিচ্ছন্নতায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

ঈদের দিন নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের খাবারের মান বজায় রাখতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ক্রেতা-বিক্রেতার দর কাষাকষিতে জমে উঠছে নগরের পশুর হাটগুলো। শেষ সময়ে নিজেদের পছন্দের পশু কিনতে অনেকে যাচ্ছেন হাটে।

তবে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। হাটগুলোতে যখন ক্রেতা-বিক্রেতার হাক ডাকে জমজমাট, তখন এগ্রো ফার্মগুলোতে বেচাবিক্রি প্রায় শেষ।

নগরজীবনের ব্যস্ততা, হাটের ভিড় ও ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে নগরবাসীর বড় একটি অংশ সরাসরি এগ্রো ফার্মে গিয়ে গরু কিনছেন।

বিভিন্ন এগ্রো ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, অনেক ফার্মেই হাতেগোনা কয়েকটি গরু অবশিষ্ট রয়েছে।

খামারিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ক্রেতারা বেশ আগেভাগেই গরু কিনে নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে যোগাযোগ করলেও অধিকাংশ ক্রেতাই শেষ পর্যন্ত ফার্মে এসে সরাসরি গরু দেখে কিনছেন।

এগ্রো ফার্মগুলোর মালিকরা বলছেন, তারা অনলাইনে প্রচারণা চালালেও মূলত বিক্রি করছেন অফলাইনে। তাদের মতে, অনলাইনে গরু দেখতে এক রকম লাগলেও বাস্তবে আকার, গঠন কিংবা ওজনের পার্থক্য নিয়ে অনেক সময় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে বেশিরভাগ ফার্মই ক্রেতাদের সরাসরি এসে গরু দেখে কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া মানুষ এখন বাজারে দালাল কিংবা অতিরিক্ত ভিড়ের ঝামেলা এড়াতে পরিচিত ফার্ম থেকে গরু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গিয়ে পছন্দ করে গরু কেনার প্রবণতা ফার্মমুখী করছে ক্রেতাদের। অনেক ফার্ম আবার নির্দিষ্ট টাকার মধ্যে প্যাকেজ সুবিধা, বাসায় পৌঁছে দেওয়া সুবিধাও দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের অন্যতম বড় খামার নাহার এগ্রো কোরবানিকে সামনে রেখে প্রায় পাঁচশতাধিক গরু প্রস্তুত করেছিল। বর্তমানে তাদের ফার্মে অবিক্রীত রয়েছে মাত্র ১২টি গরু। বাকি সময়ে তাদের সব গরু বিক্রি হয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে সারাহ এগ্রোতে সাড়ে পাঁচশ গরুর বিপরীতে অবিক্রীত আছে মাত্র ১৭টি। এশিয়ান এগ্রোতেও একই চিত্র। প্রতিষ্ঠানটি কোরবানির জন্য ২৫০টি গরু প্রস্তুত করলেও কোরবানির তিনদিন আগে এসে প্রায় ৯৯ শতাংশ গরুই বিক্রি হয়ে গেছে।

সারাহ এগ্রো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হালিশ চৌধুরী বলেন, গরু মোটাতাজাকরণে এবার আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, শ্রমিক সংকট ছিল, আবার পরিবহন ব্যয়ও আগের তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও আমরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু লালন-পালনের চেষ্টা করেছি।

এশিয়ান এগ্রো’র ম্যানেজার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, এবার গরু বিক্রিতে আমরা অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। ক্রেতারা আগের চেয়ে এখন বেশি সচেতন। তারা ফার্মে এসে গরুর খাবার, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেখে কিনছেন। কোরবানির এখনও কয়েকদিন বাকি থাকলেও প্রায় সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

গরু বিক্রির একই চিত্র অন্যান্য এগ্রো ফার্মগুলোতেও। সিটি এগ্রো ফার্ম নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে ১৫০টি গরু মোটাতাজা করেছিল। এর মধ্যে ১৩৮টি বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মালিক। চাটগাঁ এগ্রো ৬০টি গরু প্রস্তুত করলেও বর্তমানে খামারটিতে অবশিষ্ট আছে মাত্র ১৫টি গরু। স্টার এগ্রো নামের প্রতিষ্ঠানে সবকটি গরুই ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি এগ্রো’র মালিক এনামুল হক জানান, গো-খাদ্যের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ভুসি, খড়, ভুট্টাসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যের দাম বেশি ছিল। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে গরু দিতে।

স্টার এগ্রো’র মালিক মো. জায়েদ হাসান বলেন, আমাদের বেশিরভাগ গ্রাহক ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের। তারা সাধারণত সময় বাঁচাতে এবং ঝামেলা এড়াতে ফার্ম থেকে গরু কিনে থাকেন। অনেক পুরোনো গ্রাহকও প্রতিবছর আমাদের কাছ থেকে গরু নেন।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনে স্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারাও। নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. ফোরকান। তিনি গত কয়েক বছর ধরে গরু কেনেন এগ্রো ফার্ম থেকে। তিনি বলেন, আমি মূলত সময় ও ঝামেলা এড়াতেই এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনি। পশুর হাটে গেলে অনেক ভিড় থাকে, দরদাম নিয়েও ঝামেলা হয়। আবার ভালো গরু চিনতেও সমস্যা হয়। কিন্তু এগ্রো ফার্মে এসে শান্ত পরিবেশে গরু দেখা যায়, পরিচর্যার বিষয়টাও বোঝা যায়। তাই কয়েক বছর ধরেই আমি ফার্ম থেকেই কোরবানির গরু কিনছি।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কেনা আজিজুল হক নামের এক ব্যবসায়ী জানান, আগে প্রতি বছর পশুর হাটে গিয়ে গরু কিনতাম। কিন্তু এখন হাটে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট ও সময়ের চাপের কারণে এগ্রো ফার্ম থেকেই গরু কিনছি। এখানে গরুর খাবার, পরিচর্যার ধরন সরাসরি দেখা যায়। দরদামও তুলনামূলক স্বচ্ছ থাকে, তাই পরিবার নিয়েই ফার্মে এসে গরু পছন্দ করেছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এগ্রো ফার্ম থেকে গরু সংগ্রহের প্রবণতা বাড়লেও কোরবানির পশুর হাটের আবেদন এখনো অনেক বেশি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের বড় একটি অংশ এখনো হাট থেকেই গরু কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অন্যদিকে এগ্রো ফার্মের ক্রেতাদের বড় অংশই উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী কিংবা এমন মানুষ, যারা কোরবানির গরু কেনার ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে চান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য স্থানীয়ভাবে মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, ছাগল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি, মহিষ ৪৭ হাজার ৮৩৪টি এবং ভেড়া ৪১ হাজার ৪২৩টি। জেলায় মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি পশু।