খুঁজুন
শুক্রবার, ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পে-স্কেল’র প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে পাহাড়তলীতে রেলকর্মচারীদের কর্মবিরতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৭ অপরাহ্ণ
পে-স্কেল’র প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে পাহাড়তলীতে রেলকর্মচারীদের কর্মবিরতি

১১-২০ গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরাম এর উদ্যোগে যমুনা অভিমুখী সরকারি কর্মচারীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর পুলিশের রাবার বুলেট, জলকামান, টিয়ারশেল নিক্ষেপের প্রতিবাদে শাটডাউন, বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ রেলওেয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

১১ থেকে ২০ তম গ্রেড সরকারী কর্মচারী ফোরাম এর সদস্য রেলওয়ে সিসিএস পাহাড়তলী দপ্তরের জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের সিসিএস পাহাড়তলী শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন এর সঞ্চালনায় নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল এর বিভিন্ন শাখা শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী ফোরাম, শাটডাউন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও কর্ম-বিরতি পালন করেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের সকল সরকারি কর্মচারী ফোরামের সাথে শাটডাউন, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির সাথে একাত্মতা পোষণ করেন রেলওয়ে সরঞ্জাম বিভাগের ১১ থেকে ২০ তম গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরাম।

এতে বক্তব্যে কামাল হোসেন বলেন, ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম যমুনা অভিমুখী শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি প্রদানের জন্য। কিন্তু ইন্টিরিম সরকারের রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী কর্তৃক ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভুন্ডল করতে জলকামান, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আমাদের সহকর্মী ভাই ও বোনদের রক্তাক্ত করে। আমাদের সহকর্মী ভাই ও বোনেরা আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ আন্দোলনতো সরকার বিরোধী আন্দোলন নয়, এ আন্দোলন বৈষম্যমূলক একটি জাতীয় নবম পে স্কেল কমিশন এর গেজেট জারির করনের আন্দোলন। কারণ সরকার বলেছিল চাকরিজীবীদের স্বার্থে ৯ম জাতীয় পে কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং বর্তমান ইন্টেরিম সরকার প্রধান প্রফেসর ডঃ ইউনুস পে কমিশনের রুপ রেখা ও গেজেট জারি করে যাবেন। পরবর্তী সরকার এসে তা বাস্তবায়ন করবেন।

প্রিয় মিডিয়া ভাই ও বোনেরা আপনারাও ঢালাওভাবে প্রচার করেছিলেন বর্তমান ইন্টেরিম সরকারের অনেক উপদেষ্টা বলেছেন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই বাজেটের রাখা হয়েছে। তাহলে এই ধরনের মিথ্যা বানোয়াট প্রতারণামূলক পে কমিশনের কমিটি গঠন করে রাষ্ট্র ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদেরকে আপনারা মুলা ঝুলিয়ে দিবেন মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিবেন তাহলে রাষ্ট্র কিভাবে মজবুত হবে?

কামাল হোসেন আরো বলেন, আপনারা নবম জাতীয় পে স্কেল দিবেন না, তাহলে কেন রং তামাশা কমিটি করেছিলেন? যে কমিটি দ্বারা জাতীয় পে কমিশন বাস্তবায়ন হবে না এই কমিটি দ্বারা রাষ্ট্রের সময় সময় মিটিং এর নামে যত টাকা খরচ হয়েছে সব টাকা রাষ্ট্রের কষাগারে জমা দিতে হবে। কারণ এ রাষ্ট্রের সকল টাকা এদেশের সাধারণ নিরীহ কৃষক শ্রমিক ও জনগণের।

কামাল বলেন আপনারা যদি পে কমিশন বাস্তবায়ন না করতে পারেন, আপনার যদি পে কমিশন দিতে না পারেন তাহলে পে কমিশনের নামে ধাপ্পাবাজি করে কেন বাজারের সকল ধরনের নিত্য দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দিলেন? আপনারা বাজার কন্ট্রোল করেন বাজারে মনিটরিং সেল তৈরি করেন। আমাদের পে কমিশন লাগবে না, আর যে পে কমিশনের রূপরেখা দিয়েছেন তা আকাশ সমান বৈষম্য। যে বৈষম্যের জন্য দীর্ঘ সময় এদেশের কৃষক শ্রমিক জনতা ও টগবগে তরুণ মেধাবী ছাত্ররা আন্দোলন করেছিলেন বৈষম্যকে হটিয়ে একটি সোনালী স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠন করার জন্য। কিন্তু সরকারের উচ্চ মহল সেই বৈষম্যের পথে হাঁটছে অবিলম্বে একটি সুন্দর ও মার্জনীয় সহনীয় জাতীয় নবম পে স্কেল ঘোষণা করুন। অবিলম্বে জাতীয় নবম পে কমিশনের গেজেট জারি করুন। আমরা ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম এই রাষ্ট্রের চাকা সচল রাখি, আমরা আমাদের ছেলে মেয়ে, পরিবারকে সময় না দিয়ে এই দেশের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে থাকি। সুতরাং আমাদেরকে না ঠকিয়ে আমাদের উপর শাসন শোষণের মাত্রা বৈষম্যের মাত্রা না বাড়িয়ে রাষ্ট্রের মূল শিকড় মজবুত করনের লক্ষে যত দ্রুত সম্ভব একটি ন্যায়নিষ্ঠ বৈষম্যহীন পে স্কেলের গেজেট জারি করুন।
অন্যথায় আগামীতে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে পুরো বাংলাদেশের ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম এর উদ্যোগে রাজপথ, সড়ক পথ, রেলপথ, বিমানপথ, নৌপথসহ সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হবে। মনে রাখতে হবে পেটের ক্ষুধা যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখন কাউকে ছাড় নয়।

সবিশেষ কামাল হোসেন বলেন, কোন ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ যাতে তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা যারা ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম দায়িত্ব পেয়েছি এই দায়িত্ব শৃঙ্খলার সাথে পালন করবেন।

শাটডাউন বিক্ষোভ ও কর্মবতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরামের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আরো উপস্থিত ছিলেন রেল শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি আতিকুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম রানা, সৈয়দ আল রাব্বি, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মোরশেদুল আলম বাদল। মহিলা নেতৃবৃন্দদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিগার সুলতানা, নিপু রানী, রওশন সুলতানা, নুরজাহান আক্তার, নাসরিন আক্তার, মোমেনা বেগম, সারজিনা আক্তার, কামরুন্নাহার, মনিরা বেগম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, আমজাদ হোসেন, শরীফুল ইসলাম, গোলাম রাব্বানী, মঞ্জুর মোরশেদ, জুয়েল, আনিসুর রহমান, লোকমান হাকিম, অলিউল হাসান, ফেরদাউস রহমান, ফরহাদুল ইসলাম মনির, মাজহারুল ইসলাম, পলাশ, মিহির কুমার, আব্দুল মালেক, আব্দুল মোতালেব, নাছির উদ্দিন, আতিকুর রহমান, প্রকাশ নন্দী, রুবেল, রবিউল হোসেন, মোজাহিদ হাওলাদার, কামরুল ইসলাম, সালাম মিয়া, পদ্ম মোহন সিংহ, নুর আলম, মোহাম্মদ আলী, জাহিদুল ইসলাম, তারেকুল ইসলাম, সামছু মিয়া, আব্দুল মান্নান, মাসুম মিয়া, সুমন চন্দ্র, তানভীর, নেজাম, সৈয়দ দিপু, আবুল কালাম, সোহেল মোল্লা, শাহ আলম মিয়া, নজরুল, শাহীন, মনির, কাদের, রশিদ, শহীদ, মুহিদুল, নিয়াজ, ফাহাদসহ আরো অন্যান্য ১১ থেকে ২০ তম গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরাম শ্রমিক ও কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

সকলের দাবি একটাই অবিলম্বে একটি সুন্দর বৈষম্যহীন জাতীয় নবম পে কমিশনের গেজেট জারি করা। কারণ, কর্মচারীরা দীর্ঘ ১০ থেকে ১১ বছর পর্যন্ত জাতীয় পে কমিশন থেকে বঞ্চিত। যেটা ৫ বছর পর পর ঘোষণা হওয়ার নিয়ম।

Feb2

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে এবং পরে সংসদ সদস্যরা তা নিয়ে আলোচনা করবেন।

এটি ২০২৬ সালেরও প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন।

এর আগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।

অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালী নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও এজেন্ডা নির্ধারণ করা হবে।

প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান কাজ হবে সরকার যেসব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদকালে মোট ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়।

প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ অধিবেশন আহ্বান করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়।

১৩তম জাতীয় সংসদে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এরইমধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় প্রথম অধিবেশনে একজন জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা সভাপতিত্ব করবেন বলে সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হওয়ার পরপরই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করাবেন।

তাদের নির্বাচনের পর শপথগ্রহণের জন্য অধিবেশন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হতে পারে।

এরপর নবনির্বাচিত স্পিকার অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।

প্রথম বৈঠকেই নতুন সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে, যার প্রধান থাকবেন নতুন স্পিকার।

এই কমিটিই উদ্বোধনী অধিবেশনের মেয়াদ এবং সংসদের অন্যান্য কার্যসূচি নির্ধারণ করবেন।

এ অধিবেশনেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠন করা হতে পারে।

প্রথম বৈঠকে সংসদে শোক প্রস্তাবও গৃহীত হবে।

বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে, যার মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন।

সব আন্দোলনে প্রেরণার উৎস নজরুল: চট্টগ্রামের ডিসি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
সব আন্দোলনে প্রেরণার উৎস নজরুল: চট্টগ্রামের ডিসি

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে তাদের সামনে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা তুলে ধরতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, কবি নজরুলকে তাঁর প্রাপ্য সম্মানের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

আজ বুধবার ( ১১ শে মার্চ) নগরীর ডিসি হিলে জাতীয় কবির নামে নির্মিত “নজরুল স্কয়ার” সংস্কার শেষে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা চাই নতুন প্রজন্ম জানুক—কার গান গেয়ে তারা উদ্দীপ্ত হয়, কার লেখনী তাদের আন্দোলিত করে এবং কার চেতনা তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শক্তি দেয়। সেই লক্ষ্যেই নজরুল স্কয়ারকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।”

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সমাজে কোনো অন্যায় বা অবিচার দেখা দিলে তরুণ প্রজন্ম আবারও নজরুলের চেতনাকে সামনে রেখেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই ডিসি হিলের নজরুল স্কয়ারকে নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান অসামান্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, এমনকি ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও
তাঁর চেতনা মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। “বিদ্রোহী” কবিতার মাধ্যমে তিনি যে প্রতিবাদের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলেন, প্রায় এক শতাব্দী পরও সেই চেতনা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ১৯২৫ সালে রচিত ‘নারী’ কবিতাও আজকের সমাজে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আবার রমজান মাস এলেই যে গান গেয়ে মানুষ ঈদের আনন্দ উদ্‌যাপন করে—“…. রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ”—সেটিও জাতীয় কবির সৃষ্টি।

তিনি বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য ও গণজাগরণের কবি নজরুলের সাহিত্যকর্ম যুগে যুগে তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। বাংলাদেশের নানা অর্জনের পেছনেও তাঁর চিন্তা ও চেতনার গভীর প্রভাব রয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, ডিসি হিলের এই এলাকাটি মূলত একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে ২০০৫ সালে “নজরুল স্কয়ার” স্থাপন করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে আশপাশের সড়কের উচ্চতা বাড়ার ফলে স্কয়ারের মনুমেন্টটি তুলনামূলক নিচু হয়ে পড়ে এবং স্থানটি ধীরে ধীরে অন্ধকারাচ্ছন্ন ও জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় চলে যায়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে : নাহিদ ইসলাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংসদে সরকারি দল বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ ও পুরনো রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে রংপুর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে জাতীয় নাগরিক পার্টির রংপুর বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আগামী দিন থেকে শুরু হবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের যাত্রা। সরকারি দল সংবিধান সংস্কারের শপথ নিতে সম্মত হবে বলে আশা করছি। যদি এর ব্যতয় ঘটে, তাহলে দেশের মানুষ জানে কারা এর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে। সেই ‘হ্যাঁ’ ভোটকে কার্যকর করা সংসদ সদস্যদের অন্যতম দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের জন্য আমরা সংসদে যাচ্ছি। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত করার জন্য সংসদে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধ চলছে। আমাদের দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। এই সময় ঐক্য না থাকলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। সরকার একাই দেশ পরিচালনা করতে পারবে না। জাতীয় ঐক্যে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। দেশে শিশু হত্যা, নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় অপরাধীদের বিচার করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশে স্বৈরতন্ত্রের উদ্ভব হয়েছিল। যে সকল জায়গায় মা-বোনদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে সেখানে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী কাজ করবে। বিরোধী দলকে কথা বলতে দিতে হবে। গণভোটের অঙ্গীকার জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধীদলকে মিলে বাস্তবায়ন করতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সাদিয়া ফারজানা দিনাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এদিকে, বিভাগীয় এই ইফতার মাহফিলে খাবার সামগ্রী ও বসার আসন না পাওয়া নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একাংশকে হট্টগোল করতে দেখা যায়। তবে সেখানে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এছাড়াও আমন্ত্রিত গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে ইফতারের আগ মুহূর্তে পানি ও খাবার না দেওয়ায় শতাধিকের বেশি সাংবাদিক অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। তারা এ ধরনের আয়োজনে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান।