খুঁজুন
, ,

পে-স্কেল’র প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে পাহাড়তলীতে রেলকর্মচারীদের কর্মবিরতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 8 February, 2026, 3:17 pm
পে-স্কেল’র প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে পাহাড়তলীতে রেলকর্মচারীদের কর্মবিরতি

১১-২০ গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরাম এর উদ্যোগে যমুনা অভিমুখী সরকারি কর্মচারীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর পুলিশের রাবার বুলেট, জলকামান, টিয়ারশেল নিক্ষেপের প্রতিবাদে শাটডাউন, বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ রেলওেয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

১১ থেকে ২০ তম গ্রেড সরকারী কর্মচারী ফোরাম এর সদস্য রেলওয়ে সিসিএস পাহাড়তলী দপ্তরের জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের সিসিএস পাহাড়তলী শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন এর সঞ্চালনায় নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল এর বিভিন্ন শাখা শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী ফোরাম, শাটডাউন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও কর্ম-বিরতি পালন করেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের সকল সরকারি কর্মচারী ফোরামের সাথে শাটডাউন, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির সাথে একাত্মতা পোষণ করেন রেলওয়ে সরঞ্জাম বিভাগের ১১ থেকে ২০ তম গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরাম।

এতে বক্তব্যে কামাল হোসেন বলেন, ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম যমুনা অভিমুখী শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি প্রদানের জন্য। কিন্তু ইন্টিরিম সরকারের রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী কর্তৃক ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভুন্ডল করতে জলকামান, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আমাদের সহকর্মী ভাই ও বোনদের রক্তাক্ত করে। আমাদের সহকর্মী ভাই ও বোনেরা আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ আন্দোলনতো সরকার বিরোধী আন্দোলন নয়, এ আন্দোলন বৈষম্যমূলক একটি জাতীয় নবম পে স্কেল কমিশন এর গেজেট জারির করনের আন্দোলন। কারণ সরকার বলেছিল চাকরিজীবীদের স্বার্থে ৯ম জাতীয় পে কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং বর্তমান ইন্টেরিম সরকার প্রধান প্রফেসর ডঃ ইউনুস পে কমিশনের রুপ রেখা ও গেজেট জারি করে যাবেন। পরবর্তী সরকার এসে তা বাস্তবায়ন করবেন।

প্রিয় মিডিয়া ভাই ও বোনেরা আপনারাও ঢালাওভাবে প্রচার করেছিলেন বর্তমান ইন্টেরিম সরকারের অনেক উপদেষ্টা বলেছেন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই বাজেটের রাখা হয়েছে। তাহলে এই ধরনের মিথ্যা বানোয়াট প্রতারণামূলক পে কমিশনের কমিটি গঠন করে রাষ্ট্র ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদেরকে আপনারা মুলা ঝুলিয়ে দিবেন মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিবেন তাহলে রাষ্ট্র কিভাবে মজবুত হবে?

কামাল হোসেন আরো বলেন, আপনারা নবম জাতীয় পে স্কেল দিবেন না, তাহলে কেন রং তামাশা কমিটি করেছিলেন? যে কমিটি দ্বারা জাতীয় পে কমিশন বাস্তবায়ন হবে না এই কমিটি দ্বারা রাষ্ট্রের সময় সময় মিটিং এর নামে যত টাকা খরচ হয়েছে সব টাকা রাষ্ট্রের কষাগারে জমা দিতে হবে। কারণ এ রাষ্ট্রের সকল টাকা এদেশের সাধারণ নিরীহ কৃষক শ্রমিক ও জনগণের।

কামাল বলেন আপনারা যদি পে কমিশন বাস্তবায়ন না করতে পারেন, আপনার যদি পে কমিশন দিতে না পারেন তাহলে পে কমিশনের নামে ধাপ্পাবাজি করে কেন বাজারের সকল ধরনের নিত্য দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দিলেন? আপনারা বাজার কন্ট্রোল করেন বাজারে মনিটরিং সেল তৈরি করেন। আমাদের পে কমিশন লাগবে না, আর যে পে কমিশনের রূপরেখা দিয়েছেন তা আকাশ সমান বৈষম্য। যে বৈষম্যের জন্য দীর্ঘ সময় এদেশের কৃষক শ্রমিক জনতা ও টগবগে তরুণ মেধাবী ছাত্ররা আন্দোলন করেছিলেন বৈষম্যকে হটিয়ে একটি সোনালী স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠন করার জন্য। কিন্তু সরকারের উচ্চ মহল সেই বৈষম্যের পথে হাঁটছে অবিলম্বে একটি সুন্দর ও মার্জনীয় সহনীয় জাতীয় নবম পে স্কেল ঘোষণা করুন। অবিলম্বে জাতীয় নবম পে কমিশনের গেজেট জারি করুন। আমরা ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম এই রাষ্ট্রের চাকা সচল রাখি, আমরা আমাদের ছেলে মেয়ে, পরিবারকে সময় না দিয়ে এই দেশের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে থাকি। সুতরাং আমাদেরকে না ঠকিয়ে আমাদের উপর শাসন শোষণের মাত্রা বৈষম্যের মাত্রা না বাড়িয়ে রাষ্ট্রের মূল শিকড় মজবুত করনের লক্ষে যত দ্রুত সম্ভব একটি ন্যায়নিষ্ঠ বৈষম্যহীন পে স্কেলের গেজেট জারি করুন।
অন্যথায় আগামীতে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে পুরো বাংলাদেশের ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম এর উদ্যোগে রাজপথ, সড়ক পথ, রেলপথ, বিমানপথ, নৌপথসহ সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হবে। মনে রাখতে হবে পেটের ক্ষুধা যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখন কাউকে ছাড় নয়।

সবিশেষ কামাল হোসেন বলেন, কোন ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ যাতে তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা যারা ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম দায়িত্ব পেয়েছি এই দায়িত্ব শৃঙ্খলার সাথে পালন করবেন।

শাটডাউন বিক্ষোভ ও কর্মবতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরামের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আরো উপস্থিত ছিলেন রেল শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি আতিকুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম রানা, সৈয়দ আল রাব্বি, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মোরশেদুল আলম বাদল। মহিলা নেতৃবৃন্দদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিগার সুলতানা, নিপু রানী, রওশন সুলতানা, নুরজাহান আক্তার, নাসরিন আক্তার, মোমেনা বেগম, সারজিনা আক্তার, কামরুন্নাহার, মনিরা বেগম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, আমজাদ হোসেন, শরীফুল ইসলাম, গোলাম রাব্বানী, মঞ্জুর মোরশেদ, জুয়েল, আনিসুর রহমান, লোকমান হাকিম, অলিউল হাসান, ফেরদাউস রহমান, ফরহাদুল ইসলাম মনির, মাজহারুল ইসলাম, পলাশ, মিহির কুমার, আব্দুল মালেক, আব্দুল মোতালেব, নাছির উদ্দিন, আতিকুর রহমান, প্রকাশ নন্দী, রুবেল, রবিউল হোসেন, মোজাহিদ হাওলাদার, কামরুল ইসলাম, সালাম মিয়া, পদ্ম মোহন সিংহ, নুর আলম, মোহাম্মদ আলী, জাহিদুল ইসলাম, তারেকুল ইসলাম, সামছু মিয়া, আব্দুল মান্নান, মাসুম মিয়া, সুমন চন্দ্র, তানভীর, নেজাম, সৈয়দ দিপু, আবুল কালাম, সোহেল মোল্লা, শাহ আলম মিয়া, নজরুল, শাহীন, মনির, কাদের, রশিদ, শহীদ, মুহিদুল, নিয়াজ, ফাহাদসহ আরো অন্যান্য ১১ থেকে ২০ তম গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরাম শ্রমিক ও কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

সকলের দাবি একটাই অবিলম্বে একটি সুন্দর বৈষম্যহীন জাতীয় নবম পে কমিশনের গেজেট জারি করা। কারণ, কর্মচারীরা দীর্ঘ ১০ থেকে ১১ বছর পর্যন্ত জাতীয় পে কমিশন থেকে বঞ্চিত। যেটা ৫ বছর পর পর ঘোষণা হওয়ার নিয়ম।

Feb2
Feb2

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 12:27 pm
কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া আজ ভোরে চকরিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

চকরিয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম জানা যায়নি। ভোরবেলায় মছনিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরে পাহাড়ধসে দুই শিশুসহ তাদের মা চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাদের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যদিকে বান্দারবানের লামায় আজিজনগরে একটি ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন।

মৃত পাঁচজন হলেন- মিশনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান (৫)। অপর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫) মাটিচাপা পড়ে মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে পাহাড়ধসের পর এলাকার মানুষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগরে পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:51 am
সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বাধা নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে আদালত এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। আদালতে ওই দিন রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এ নিয়ে নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।

তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এ আবেদন করেন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। তাতে বলা হয়, যদি সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। ওই আপিলের ওপর শুনানি শেষে ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।