পে-স্কেল’র প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে পাহাড়তলীতে রেলকর্মচারীদের কর্মবিরতি
১১-২০ গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরাম এর উদ্যোগে যমুনা অভিমুখী সরকারি কর্মচারীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর পুলিশের রাবার বুলেট, জলকামান, টিয়ারশেল নিক্ষেপের প্রতিবাদে শাটডাউন, বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ রেলওেয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
১১ থেকে ২০ তম গ্রেড সরকারী কর্মচারী ফোরাম এর সদস্য রেলওয়ে সিসিএস পাহাড়তলী দপ্তরের জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের সিসিএস পাহাড়তলী শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন এর সঞ্চালনায় নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল এর বিভিন্ন শাখা শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী ফোরাম, শাটডাউন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও কর্ম-বিরতি পালন করেছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের সকল সরকারি কর্মচারী ফোরামের সাথে শাটডাউন, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির সাথে একাত্মতা পোষণ করেন রেলওয়ে সরঞ্জাম বিভাগের ১১ থেকে ২০ তম গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরাম।
এতে বক্তব্যে কামাল হোসেন বলেন, ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম যমুনা অভিমুখী শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি প্রদানের জন্য। কিন্তু ইন্টিরিম সরকারের রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী কর্তৃক ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভুন্ডল করতে জলকামান, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আমাদের সহকর্মী ভাই ও বোনদের রক্তাক্ত করে। আমাদের সহকর্মী ভাই ও বোনেরা আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ আন্দোলনতো সরকার বিরোধী আন্দোলন নয়, এ আন্দোলন বৈষম্যমূলক একটি জাতীয় নবম পে স্কেল কমিশন এর গেজেট জারির করনের আন্দোলন। কারণ সরকার বলেছিল চাকরিজীবীদের স্বার্থে ৯ম জাতীয় পে কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং বর্তমান ইন্টেরিম সরকার প্রধান প্রফেসর ডঃ ইউনুস পে কমিশনের রুপ রেখা ও গেজেট জারি করে যাবেন। পরবর্তী সরকার এসে তা বাস্তবায়ন করবেন।
প্রিয় মিডিয়া ভাই ও বোনেরা আপনারাও ঢালাওভাবে প্রচার করেছিলেন বর্তমান ইন্টেরিম সরকারের অনেক উপদেষ্টা বলেছেন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই বাজেটের রাখা হয়েছে। তাহলে এই ধরনের মিথ্যা বানোয়াট প্রতারণামূলক পে কমিশনের কমিটি গঠন করে রাষ্ট্র ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদেরকে আপনারা মুলা ঝুলিয়ে দিবেন মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিবেন তাহলে রাষ্ট্র কিভাবে মজবুত হবে?
কামাল হোসেন আরো বলেন, আপনারা নবম জাতীয় পে স্কেল দিবেন না, তাহলে কেন রং তামাশা কমিটি করেছিলেন? যে কমিটি দ্বারা জাতীয় পে কমিশন বাস্তবায়ন হবে না এই কমিটি দ্বারা রাষ্ট্রের সময় সময় মিটিং এর নামে যত টাকা খরচ হয়েছে সব টাকা রাষ্ট্রের কষাগারে জমা দিতে হবে। কারণ এ রাষ্ট্রের সকল টাকা এদেশের সাধারণ নিরীহ কৃষক শ্রমিক ও জনগণের।
কামাল বলেন আপনারা যদি পে কমিশন বাস্তবায়ন না করতে পারেন, আপনার যদি পে কমিশন দিতে না পারেন তাহলে পে কমিশনের নামে ধাপ্পাবাজি করে কেন বাজারের সকল ধরনের নিত্য দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দিলেন? আপনারা বাজার কন্ট্রোল করেন বাজারে মনিটরিং সেল তৈরি করেন। আমাদের পে কমিশন লাগবে না, আর যে পে কমিশনের রূপরেখা দিয়েছেন তা আকাশ সমান বৈষম্য। যে বৈষম্যের জন্য দীর্ঘ সময় এদেশের কৃষক শ্রমিক জনতা ও টগবগে তরুণ মেধাবী ছাত্ররা আন্দোলন করেছিলেন বৈষম্যকে হটিয়ে একটি সোনালী স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠন করার জন্য। কিন্তু সরকারের উচ্চ মহল সেই বৈষম্যের পথে হাঁটছে অবিলম্বে একটি সুন্দর ও মার্জনীয় সহনীয় জাতীয় নবম পে স্কেল ঘোষণা করুন। অবিলম্বে জাতীয় নবম পে কমিশনের গেজেট জারি করুন। আমরা ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম এই রাষ্ট্রের চাকা সচল রাখি, আমরা আমাদের ছেলে মেয়ে, পরিবারকে সময় না দিয়ে এই দেশের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে থাকি। সুতরাং আমাদেরকে না ঠকিয়ে আমাদের উপর শাসন শোষণের মাত্রা বৈষম্যের মাত্রা না বাড়িয়ে রাষ্ট্রের মূল শিকড় মজবুত করনের লক্ষে যত দ্রুত সম্ভব একটি ন্যায়নিষ্ঠ বৈষম্যহীন পে স্কেলের গেজেট জারি করুন।
অন্যথায় আগামীতে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে পুরো বাংলাদেশের ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম এর উদ্যোগে রাজপথ, সড়ক পথ, রেলপথ, বিমানপথ, নৌপথসহ সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হবে। মনে রাখতে হবে পেটের ক্ষুধা যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখন কাউকে ছাড় নয়।
সবিশেষ কামাল হোসেন বলেন, কোন ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ যাতে তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা যারা ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম দায়িত্ব পেয়েছি এই দায়িত্ব শৃঙ্খলার সাথে পালন করবেন।
শাটডাউন বিক্ষোভ ও কর্মবতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরামের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আরো উপস্থিত ছিলেন রেল শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি আতিকুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম রানা, সৈয়দ আল রাব্বি, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মোরশেদুল আলম বাদল। মহিলা নেতৃবৃন্দদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিগার সুলতানা, নিপু রানী, রওশন সুলতানা, নুরজাহান আক্তার, নাসরিন আক্তার, মোমেনা বেগম, সারজিনা আক্তার, কামরুন্নাহার, মনিরা বেগম।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, আমজাদ হোসেন, শরীফুল ইসলাম, গোলাম রাব্বানী, মঞ্জুর মোরশেদ, জুয়েল, আনিসুর রহমান, লোকমান হাকিম, অলিউল হাসান, ফেরদাউস রহমান, ফরহাদুল ইসলাম মনির, মাজহারুল ইসলাম, পলাশ, মিহির কুমার, আব্দুল মালেক, আব্দুল মোতালেব, নাছির উদ্দিন, আতিকুর রহমান, প্রকাশ নন্দী, রুবেল, রবিউল হোসেন, মোজাহিদ হাওলাদার, কামরুল ইসলাম, সালাম মিয়া, পদ্ম মোহন সিংহ, নুর আলম, মোহাম্মদ আলী, জাহিদুল ইসলাম, তারেকুল ইসলাম, সামছু মিয়া, আব্দুল মান্নান, মাসুম মিয়া, সুমন চন্দ্র, তানভীর, নেজাম, সৈয়দ দিপু, আবুল কালাম, সোহেল মোল্লা, শাহ আলম মিয়া, নজরুল, শাহীন, মনির, কাদের, রশিদ, শহীদ, মুহিদুল, নিয়াজ, ফাহাদসহ আরো অন্যান্য ১১ থেকে ২০ তম গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরাম শ্রমিক ও কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের সদস্যবৃন্দ।
সকলের দাবি একটাই অবিলম্বে একটি সুন্দর বৈষম্যহীন জাতীয় নবম পে কমিশনের গেজেট জারি করা। কারণ, কর্মচারীরা দীর্ঘ ১০ থেকে ১১ বছর পর্যন্ত জাতীয় পে কমিশন থেকে বঞ্চিত। যেটা ৫ বছর পর পর ঘোষণা হওয়ার নিয়ম।


আপনার মতামত লিখুন