খুঁজুন
রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বিএনপির একক আধিপত্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে বিএনপির একক আধিপত্য

চট্টগ্রামের আসনগুলোতে অনেকটা হেসে খেলেই জয় পেয়েছে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থীরা। ১৬ সংসদীয় আসনে ১৪টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। এসব আসনে বলার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীতাও করতে পারেনি প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থীরা। তবে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। আসনটিতে ধানের শীষের সঙ্গে সেয়ানে সেয়ানে লড়েছেন এলডিপির প্রার্থী ওমর ফারুক। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে বাঁশখালী আসনেও। প্রথমবারের মতো আসনটি নিজেদের করে নিয়েছে জামায়াত। আবার জামায়াতের দুর্গ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়-লোহাগাড়া) আসনে সহজ জয় পেয়েছে জামায়াত।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের আসনগুলোতে বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। তিনি ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. প্রার্থী আবু নাছের পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট। অর্থাৎ ৯৮ হাজার ৭০৪ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। ফটিকছড়ির বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরও জিতেছেন বড় ব্যবধানে। তিনি জামায়াত প্রার্থী থেকে ৭৬ হাজার ৩৮৫ ভোট বেশি পেয়েছেন।

কোন আসনে কে কত ভোট পেলেন

চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির নুরুল আমিন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট। তার সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৪ হাজার ৫৩৮ ভোট নিয়ে হেরেছেন জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর। রাতে ঘোষিত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নুরুল আমিন পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ৮৩টি ভোটকেন্দ্রের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এরমধ্যে বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা ধানের শীষ প্রতীকে ৭২ হাজার ৫৭৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আলা উদ্দীন সিকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮১৮ ভোট।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) আসনে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬০৭ ভোট পেয়েছেন। আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮১৭ ভোট। তবে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আপিল বিভাগের দায়ের করা সিপিএলএ নং ৪৪১/২০২৬ চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় এ ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারি) আসনে বড় ব্যবধানে জয় পেলেন বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৪০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির পেয়েছেন ৩২ হাজার ৭০৮ ভোট।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। এতে গিয়াস কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৫৬ ভোট। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের শাহজাহান মঞ্জু পেয়েছেন ২২ হাজার ১১৮ ভোট।

চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী। বৃহস্পতিবার রাতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান ভোটগণনার পর এই ফলাফল ঘোষণা করেন। এই আসনে মোট ৯৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বিএনপির এই প্রার্থী মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৪৫। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী এ টি এম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ নিজের বিজয় নিশ্চিত করেছেন। এই আসন তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. প্রার্থী আবু নাছের পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী বড় ব্যবধানে জিতেছেন। ধানের শীষ নিয়ে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৫০৭ ভোট।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে সব কেন্দ্রের ফলাফলে সাঈদ আল নোমান ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬৪ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট পেয়েছেন। খানে সাঈদ আল নোমান বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জিতলেন।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের সব ভোট গণনা শেষে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৮১৫ ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মো. শফিউল আলমের ভোট ৭৭ হাজার ৯১৬।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের বেসরকারি ফলাফলে ১১৩ কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে বিএনপির মো. এনামুল হক ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোমবাতি মার্কার সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ার ২৮ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। জামায়াতের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম পেয়েছেন ২১ হাজার ৭০৬ ভোট।

এদিকে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে সব কেন্দ্রের ফলাফল এসেছে। মোট ১১৯ কেন্দ্র। বিজয়ী ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯২। মোমবাতি মার্কায় ৫১ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন এস এম শাহজাহান। এখানে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩৫ হাজার ৩০ ভোট। আনোয়ারা উপজেলা সহকারী রিটানিং অফিসার তাহমিনা আক্তার ভোটের ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে আলোচিত কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রমের ছেলে ওমর ফারুককে (ছাতা মার্কা) হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপিতে নবাগত জসিম উদ্দিন আহমেদ। চট্টগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম মিয়ার দেওয়া তথ্য মতে, ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। বিজয়ী জসিম উদ্দীন আহমেদ ধানের শীষ নিয়ে পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। এখানে বিএনপি প্রার্থী মাত্র ১০২৬ ভোটের জিতেছেন।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে ১১ দলীয় জোট থেকে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছেন বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিন। এই আসনে সবগুলো কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বড় ব্যবধানে জিতেছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৮১ হাজার ২৩৮। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাশঁখালী) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের কাছে হেরেছেন ধানের শীষের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। এখানে দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রাপ্ত ভোট ৯৩ হাজার ১৬৭। ধানের শীষের প্রার্থীর ভোট ৮৩ হাজার ১০৫। বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে ভোটের থাকা ফুটবল মার্কার প্রার্থী লেয়াকত আলীর প্রাপ্ত ভোট ৫৫ হাজার ৪৯২টি। সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামশেদুল আলম এ ফলাফল ঘোষণা করেছেন।

Feb2

টেকসই উন্নয়ন ও জনভোগান্তি কমানোর ওপর জোর দেবে সিডিএ : ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
টেকসই উন্নয়ন ও জনভোগান্তি কমানোর ওপর জোর দেবে সিডিএ : ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেছেন, চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনভোগান্তি কমানো এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে সিডিএ।

রোববার (১৪ জুন) ঢাকা থেকে ফিরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, সব সেবা সংস্থার একটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত চট্টগ্রামকে আরও ভালো কিছু দেওয়া। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই নগরীর দীর্ঘদিনের সংকটগুলোর সমাধান সম্ভব নয়। চট্টগ্রাম দেশের অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড। কিন্তু জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সমন্বয়ের অভাব এই শহরের সম্ভাবনাকে ব্যাহত করছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), ওয়াসা, ওয়াপদা, গ্যাস বিভাগ, ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে সিডিএ আগামী দিনে কাজ করবে। চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনভোগান্তি কমানো এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বেলায়েত হোসেন আরও বলেন, আমরা এমন একটি চট্টগ্রাম দেখতে চাই, যেখানে নাগরিক সেবা পাওয়া সহজ হবে এবং পাহাড়-প্রকৃতি সংরক্ষণ করে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সিডিএর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমি বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, নগরকে সাজাতে হবে বৈজ্ঞানিক ও যুগোপযোগী পদ্ধতিতে। এ জন্য তিনি নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশকর্মী ও গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে চান। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে সিডিএর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন উপকারের বদলে জাতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তা আর হতে দেওয়া হবে না। এই নগরকে ভালো কিছু দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য।

দাপট দেখাল তুরস্ক, জিতল অস্ট্রেলিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ণ
দাপট দেখাল তুরস্ক, জিতল অস্ট্রেলিয়া

বল দখল থেকে আক্রমণ– সবদিক থেকেই অনেকটা একপেশে দাপট ছিল ২৪ বছর পর ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে ফেরা তুরস্কের। কিন্তু ফিনিশিং ব্যর্থতায় তাদের গোলটাই পাওয়া হয়নি। অন্যদিকে, কাউন্টার অ্যাটাকে ক্যারিশমা দেখিয়ে ২-০ গোলে ম্যাচটি জিতে নিলো অস্ট্রেলিয়া।

কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ৭২ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল তুরস্কের। আর গোলের লক্ষ্যে নেয় ৮টি শট। বিপরীতে স্রেফ ২ শট নেওয়া অস্ট্রেলিয়ান সকারুজরা কেমন চাপে ছিল তা বোঝাই যায়। কিন্তু ২০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড নেস্টরি ইরানকুন্ডা ও কনর মেটকাফের গোলে সেসব পরিসংখ্যানকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

অবশ্য তুরস্কের আক্রমণ ঠেকানোর মূল ভূমিকায় ছিলেন ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানো অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। তিনি আটটি সেভ করেন। এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার টানা ষষ্ঠ এবং সব মিলিয়ে সপ্তম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। বিপরীতে, ২০০২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পর তুরস্ক টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি। এবার প্লে-অফে কসোভোকে হারিয়ে তারা ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৭তম মিনিটে গোলের সূচনা করেন ইরানকুন্ডা। তিনজন ডিফেন্ডারের চাপের মাঝেও নিচু শটে তিনি বল জালে পাঠান। গোল উদযাপনের সময় ইরানকুন্ডা কর্নার ফ্ল্যাগে ঘুষি মেরে অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল কিংবদন্তি টিম কাহিলকে শ্রদ্ধা জানান। ২০ বছর বয়সী এই ওয়াটফোর্ড ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপে গোল করা অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়।

কয়েক মিনিট পর তুরস্কের আবদুলকেরিম বারদাকচির দূরপাল্লার জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন বিচ। কোচ টনি পপোভিচের চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে অভিজ্ঞ ম্যাথিউ রায়ানের পরিবর্তে বিচ অস্ট্রেলিয়ার গোলপোস্টের দায়িত্ব পান। তুরস্কের ২১ বছর বয়সী জুভেন্তাস খেলোয়াড় কেনান ইলদিজ শুরুর একাদশে ছিলেন না। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নামানো হয় তাকে।

ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে তুরস্ক একটি বিপজ্জনক ফ্রি-কিক পায়। রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিভাবান ২১ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আরদা গুলারের নেওয়া সেই শটও রুখে দেন বিচ। মজার বিষয়, তুরস্ক সর্বশেষ যখন বিশ্বকাপে খেলেছিল, তখন গুলারের জন্মই হয়নি। এদিকে, ৭৫তম মিনিটে ইসমাইল ইউকসেকের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনর মেটকাফ।

কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে এরপর গ্রুপ পর্বে তিউনিসিয়া ও ডেনমার্ককে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছিল তারা। সেখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেয় অস্ট্রেলিয়া।

আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বসতঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১১টার দিকে আনোয়ারার পারৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি গ্রামে এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হামলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুসন্তান। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে অভিযুক্তের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন– ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুসন্তান পিয়াস বড়ুয়াকে (৫) উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে সুজন বড়ুয়ার পরিবারে সুদের টাকাসহ অভ্যন্তরীণ ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই গতকাল রাত ১১টার দিকে বসতঘরে ঢুকে মা, মেয়ে ও শিশুর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া (৩৫)। তিনি ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।

চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করেন। এর মধ্যে এনি বড়ুয়া ও প্রিয়ন্তী বড়ুয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু পিয়াস বড়ুয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া বলেন, ‘প্রতিবেশী তেজপ্রিয় বড়ুয়ার সঙ্গে আমাদের আর্থিক লেনদেন ছিল। এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রের খোঁজে বাড়িতে এসে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার সময় আমি শহরে ছিলাম। রাতে বড় ভাইয়ের মোবাইল ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি সব শেষ হয়ে গেছে।’

আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল আহমেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ নিহত মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে জড়িত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন।