খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বিএনপির একক আধিপত্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে বিএনপির একক আধিপত্য

চট্টগ্রামের আসনগুলোতে অনেকটা হেসে খেলেই জয় পেয়েছে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থীরা। ১৬ সংসদীয় আসনে ১৪টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। এসব আসনে বলার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীতাও করতে পারেনি প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থীরা। তবে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। আসনটিতে ধানের শীষের সঙ্গে সেয়ানে সেয়ানে লড়েছেন এলডিপির প্রার্থী ওমর ফারুক। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে বাঁশখালী আসনেও। প্রথমবারের মতো আসনটি নিজেদের করে নিয়েছে জামায়াত। আবার জামায়াতের দুর্গ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়-লোহাগাড়া) আসনে সহজ জয় পেয়েছে জামায়াত।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের আসনগুলোতে বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। তিনি ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. প্রার্থী আবু নাছের পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট। অর্থাৎ ৯৮ হাজার ৭০৪ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। ফটিকছড়ির বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরও জিতেছেন বড় ব্যবধানে। তিনি জামায়াত প্রার্থী থেকে ৭৬ হাজার ৩৮৫ ভোট বেশি পেয়েছেন।

কোন আসনে কে কত ভোট পেলেন

চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির নুরুল আমিন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট। তার সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৪ হাজার ৫৩৮ ভোট নিয়ে হেরেছেন জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর। রাতে ঘোষিত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নুরুল আমিন পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ৮৩টি ভোটকেন্দ্রের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এরমধ্যে বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা ধানের শীষ প্রতীকে ৭২ হাজার ৫৭৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আলা উদ্দীন সিকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮১৮ ভোট।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) আসনে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬০৭ ভোট পেয়েছেন। আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮১৭ ভোট। তবে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আপিল বিভাগের দায়ের করা সিপিএলএ নং ৪৪১/২০২৬ চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় এ ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারি) আসনে বড় ব্যবধানে জয় পেলেন বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৪০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির পেয়েছেন ৩২ হাজার ৭০৮ ভোট।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। এতে গিয়াস কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৫৬ ভোট। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের শাহজাহান মঞ্জু পেয়েছেন ২২ হাজার ১১৮ ভোট।

চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী। বৃহস্পতিবার রাতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান ভোটগণনার পর এই ফলাফল ঘোষণা করেন। এই আসনে মোট ৯৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বিএনপির এই প্রার্থী মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৪৫। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী এ টি এম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ নিজের বিজয় নিশ্চিত করেছেন। এই আসন তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. প্রার্থী আবু নাছের পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী বড় ব্যবধানে জিতেছেন। ধানের শীষ নিয়ে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৫০৭ ভোট।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে সব কেন্দ্রের ফলাফলে সাঈদ আল নোমান ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬৪ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট পেয়েছেন। খানে সাঈদ আল নোমান বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জিতলেন।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের সব ভোট গণনা শেষে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৮১৫ ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মো. শফিউল আলমের ভোট ৭৭ হাজার ৯১৬।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের বেসরকারি ফলাফলে ১১৩ কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে বিএনপির মো. এনামুল হক ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোমবাতি মার্কার সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ার ২৮ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। জামায়াতের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম পেয়েছেন ২১ হাজার ৭০৬ ভোট।

এদিকে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে সব কেন্দ্রের ফলাফল এসেছে। মোট ১১৯ কেন্দ্র। বিজয়ী ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯২। মোমবাতি মার্কায় ৫১ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন এস এম শাহজাহান। এখানে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩৫ হাজার ৩০ ভোট। আনোয়ারা উপজেলা সহকারী রিটানিং অফিসার তাহমিনা আক্তার ভোটের ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে আলোচিত কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রমের ছেলে ওমর ফারুককে (ছাতা মার্কা) হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপিতে নবাগত জসিম উদ্দিন আহমেদ। চট্টগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম মিয়ার দেওয়া তথ্য মতে, ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। বিজয়ী জসিম উদ্দীন আহমেদ ধানের শীষ নিয়ে পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। এখানে বিএনপি প্রার্থী মাত্র ১০২৬ ভোটের জিতেছেন।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে ১১ দলীয় জোট থেকে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছেন বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিন। এই আসনে সবগুলো কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বড় ব্যবধানে জিতেছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৮১ হাজার ২৩৮। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাশঁখালী) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের কাছে হেরেছেন ধানের শীষের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। এখানে দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রাপ্ত ভোট ৯৩ হাজার ১৬৭। ধানের শীষের প্রার্থীর ভোট ৮৩ হাজার ১০৫। বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে ভোটের থাকা ফুটবল মার্কার প্রার্থী লেয়াকত আলীর প্রাপ্ত ভোট ৫৫ হাজার ৪৯২টি। সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামশেদুল আলম এ ফলাফল ঘোষণা করেছেন।

Feb2

সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলীয় আসন সংখ্যার অনুপাতে জোটটি মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ তালিকাটি প্রকাশ করেন।

জামায়াতের আট নারী যাচ্ছেন সংসদে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যাচ্ছেন দুজন। এ ছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন এবং জুলাই শহীদ পরিবারের একজনকে নারী আসনের সংসদ সদস্য করা হচ্ছে এই জোট থেকে।

প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন— নুরুন্নিসা সিদ্দীকা (সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), মারজিয়া বেগম (সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী (আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি), নাজমুন নাহার নীলু (প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি), অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান (কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি, সিলেট মহানগরী), সাজেদা সামাদ (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা), শামছুন্নাহার বেগম (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা), ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ (কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, নারী অধিকার আন্দোলন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মনিরা শারমিন (কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক) ও ডা. মাহমুদা আলম মিতু (কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব) এনসিপি। ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (সভাপতি, জাগপা) ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং রোকেয়া বেগম (জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে। সেই অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াত জোট ১৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি জোট ৩৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। দলের পক্ষ থেকে মনোনীত প্রার্থীদের এরই মধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো জুলাই বিপ্লবে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৬ বছর বয়সী শিশু জাবির। তার মায়ের এই মনোনয়নকে জোটের পক্ষ থেকে একটি সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় হওয়ায় আজ রাতেই সব শরিক দল চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। খাল খনন করতে পারলে বন্যার সময় মানুষ, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল রক্ষা করা যাবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে চৌকিদহ খালটা কাটলাম। এখানে যদি কোনো মুরুব্বি থাকেন- যাদের বয়স ৬০-৭০ এর বেশি, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, এই খালটা আমার আব্বা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে কেটেছিলেন। এই খালটা আমরা কাটলাম, প্রায় এক কিলোমিটার মতো লম্বা। এই খালটা কাটার ফলে বর্ষার সময় অতিবৃষ্টিতে আশেপাশে যে পানি উঠে, তা এখানে জমা হবে। আবার শুকনা মৌসুমে যখন পানি পাওয়া যায় না, তখন এই খালে পানি থাকলে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদের জন্য পানি পাবে। অর্থাৎ এলাকার মানুষের উপকার হবে।

স্থানীয়দের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলুন আমরা এই খালটা পুনঃখনন করি, পানি ফিরিয়ে আনি। খালের দুই পাশে গাছ লাগাই। খালের মধ্যে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটাও দেখা হবে- যাতে এলাকার বেকার তরুণরা কাজ পায়। মা-বোনেরাও পাশে শাকসবজি চাষ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ যেমন পানির কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। তাই খাল খনন জরুরি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। এই খাল কাটাসহ যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা যেন সফল হয়-সেজন্য দোয়া করবেন। এটা তো নিজের বাড়ি, ঘরের লোকজন। কয়েকদিন পর আবার আসবো ইনশাআল্লাহ।

এর আগে দুপুর ২টায় নিজ জন্মভূমি বাগবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বিকেল ৩টায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে পৌঁছালে খালের দুই পাড়ে অবস্থান নেওয়া হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

খাল খনন কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তাই সিরিজ হার ঠেকাতে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না স্বাগতিকদের। মিরপুরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কোনো ভুল করলেন না মেহেদী হাসান মিরাজরা। নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৯৮ রানে থেমে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। জবাবে ৮৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

১৯৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই চার হাঁকান বাংলাদেশের ওপেনার সাইফ হাসান। একই ওভারে আরও একটি চার মারেন তিনি। কিন্তু ৬ বলের বেশি খেলতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার। প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলেই সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৮ রান।

এরপর ক্রিজে আসেন সৌম্য সরকার। নিজের খেলা প্রথম বলেই দুই রান নেন সৌম্য। এরপর দেখে-শুনে খেলার ইঙ্গিত দিচ্ছিলো সৌম্যর ব্যাট। কিন্তু ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলেই হাঁকান এক দুর্দান্ত ছক্কা। একই ওভারের শেষ বলে ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন সৌম্য। তার ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ৮ রান।

তৃতীয় উইকেটে ব্যাট করতে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে নিয়েই দলীয় স্কোর বড় করতে থাকেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দুজন মিলে গড়েন ১২০ রানের জুটি। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। এই দুই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পান। তবে জয় নিয়ে ফিরতে পারেননি দুজনের কেউই।

জেইডেন লেনক্সের করা বলে কটবিহাইন্ড হওয়ার আগে ৭৬ রান করেন তিনি। মাত্র ৫৮ বলে খেলা ইনিংসটি ১০টি চার ও চারটি ছয়ে সাজানো। শান্ত অবশ্য আউট হননি। রিটায়ার্ট হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৭১ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৫০ রান করেন তিনি।

এর আগে মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয় বাংলাদেশ। দুটি উইকেটই নেন নাহিদ। অষ্টম ওভারে হেনরি নিকোলসকে ১৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশি পেসার। পরের ওভারেও প্রথম বলে তিনি উইল ইয়াংকে (৭) সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানান তিনি। পরে সৌম্য সরকার তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম লাথামের উইকেট। ৩৫ বলে ১৪ রান করেন তিনি।

৫২ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস ৫৬ রানের জুটি গড়েন। ২৭তম ওভারের শেষ বলে ফিফটি করেন কেলি। আব্বাসকে ১৯ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ। উড়ন্ত ক্যাচে তাকে ফেরান লিটন। কেলি সেঞ্চুরির বেশ কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন। শরিফুল ইসলাম তাকে ৮৩ রানে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান। কিউই ওপেনারের ১০২ বলের ইনিংসে ছিল ১৪ চার।

সেট ব্যাটার আউট হওয়ার পর ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন। জশ ক্লার্কসনকে আউট করেন রিশাদ হোসেন। আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ডিন ফক্সক্রফট ১৫ রান করে নাহিদের শিকার হন। ব্লেয়ার টিকনারকে বদলি ফিল্ডার আফিফ হোসেনের ক্যাচ বানান শরিফুল।

নিজের শেষ ওভারে নাহিদ পঞ্চম উইকেট তুলে নেন। জেইডেন লেনক্স খালি হাতে ফেরেন বাংলাদেশি পেসারের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে। ১৮৩ রানে ৯ উইকেট তোলার পর নিউজিল্যান্ডকে দুইশর মধ্যে আটকানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কাভারে নাথান স্মিথের কঠিন ক্যাচ নিতে না পারার প্রায়শ্চিত্ত কিছুক্ষণ পরই করেন তাওহীদ হৃদয়। তাসকিন আহমেদের বলে উইলিয়াম ও’রোর্কের ক্যাচ নেন তিনি। ৪৮.৪ ওভারে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।