মেয়েকে ধর্ষণে সহযোগিতা করা পিতা কারাগারে
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে দেনা মওকুফের বিনিময়ে নিজের কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণে সহযোগিতা করার অভিযোগে লিটন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে কামরাঙ্গীরচরের বেটরিয়া ঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় মুরগি ব্যবসায়ী আবুল হোসেনকে গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
কামরাঙ্গীরচর থানার মামলায় বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে আসামি লিটনকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তদন্ত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
কামরাঙ্গীরচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তফা আনোয়ার বলেন, এই কিশোরীর মা দেশের বাইরে থাকেন। তার বাবা আবুলকে মুরগি সরবরাহ করতেন। ব্যবসাসূত্রে বছরখানেক আগে তিনি আবুলের কাছ থেকে টাকা ধার করেন। সময়মতো দেনা শোধ না করায় লিটনের কিশোরী মেয়ের সঙ্গে শারিরীক সম্পর্ক গড়ার প্রস্তাব আবুল দিলে তিনি রাজি হন। মেয়েটি রাজি না হওয়ায় তার বাবা লিটন তাকে মারধর করত। দীর্ঘদিন ধরে এক প্রকার বন্দি করে রেখে এ সম্পর্ক চালিয়ে আসতে বাধ্য করা হচ্ছিল। সম্প্রতি নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং সর্বশেষ ১১ জানুয়ারী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর ওই কিশোরী প্রতিবেশী এক নারীর কাছে ঘটনা খুলে বললে তিনি ৯৯৯ ফোন করেন। পুলিশ ফোন পেয়ে রাতেই কিশোরীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, তারা রাতেই কিশোরী কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে তার বাবাকে গ্রেফতার করলেও মুরগি ব্যবসায়ীকে পায়নি। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
কিশোরীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
ওসিসির তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিলকিস বেগম জানান, আজই (বুধবার) কিশোরীটির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন তার কাউন্সেলিং চলছে।


আপনার মতামত লিখুন