খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কারাগারে বন্দীদের সাক্ষাৎে ওয়ান-টু-ওয়ান ইন্টারকম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
কারাগারে বন্দীদের সাক্ষাৎে ওয়ান-টু-ওয়ান ইন্টারকম

বন্দী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নির্বিঘ্নে, স্বচ্ছভাবে কথা বলার সুযোগ করে দিতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত এই জেলা প্রশাসকের আগ্রহেই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আজ থেকে চালু হয়েছে ওয়ান-টু-ওয়ান ইন্টারকম টেলিফোন ব্যবস্থা—যার ফলে গ্রিলের দুই পাশে দাঁড়িয়ে আর চিৎকার করে কথা বলতে হচ্ছে না স্বজনদের।

এতদিন কারাগারের গ্রিলের এপাশে মা, ওপাশে ছেলে—মাঝখানে লোহার ফাঁক আর অসহনীয় শব্দ। কে কী বলছে বোঝা যেত না। চিৎকার, কান পেতে শোনা, আর অপূর্ণ থেকে যাওয়া অসংখ্য কথা ছিল নিত্যদিনের দৃশ্য। নতুন ব্যবস্থায় সেই দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হলো।

কারা সংশ্লিষ্টদের ভাষায়, এটি একটি ব্যতিক্রম ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দেশের কারাগারগুলোতে ইন্টারকম চালুর এটি দ্বিতীয় উদ্যোগ হলেও, একসঙ্গে ৩২টি বুথ স্থাপন—এত বড় পরিসরে—প্রথমবার বাস্তবায়িত হলো চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে।
স্বস্তির কথা বললেন স্বজনেরা

হত্যা মামলায় প্রায় এক বছর ধরে বন্দী খুলশির আমবাগান এলাকার দেলোয়ার হোসেন বাবুলের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তাঁর স্ত্রী রুমা আক্তার, ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা।

সাক্ষাৎ শেষে বাবুলের বন্ধু মো. সাইফুল হোসেন বলেন,
“আগে কিছুই বুঝতাম না। আমরা কী বলছি, ভেতর থেকে কী বলছে—সব শব্দের মধ্যে হারিয়ে যেত। আজ ইন্টারকমে খুব স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বললাম।”

চোখ ভেজা কণ্ঠে রুমা আক্তার বলেন,
“ছেলেটা আজ বাবার সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতে পেরেছে। এইটুকুই আমাদের জন্য অনেক।”

রাজনৈতিক মামলায় বন্দী হালিশহরের মো. শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে এসে তাঁর ভাই মো. আব্বাস উদ্দিন বলেন, “এতদিন গলা ফাটিয়ে কথা বলতে হতো। আজ শান্তিতে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি।”

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে সেবাটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, বর্তমানে এই কারাগারে ৬ হাজার ৪৫৫ জন বন্দী রয়েছেন। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক স্বজন সাক্ষাতে আসেন। ভিড় ও শব্দের কারণে এতদিন অনেকেই ঠিকমতো কথা বলতে পারতেন না।

জেলা প্রশাসক বলেন,“আমি নিজেও কথা বলে দেখেছি—একটি ছোট শিশু তার বাবার সঙ্গে কথা বলছে। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার আদালত করবে। কিন্তু বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা তো অপরাধী নন। কারাগারে অবস্থানকালে আমরা যতটুকু সম্ভব মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই।”

কারা অধিদপ্তরের অনুমোদনে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে নিচতলায় দুই পাশে ১৬টি করে মোট ৩২টি ইন্টারকম স্থাপন করা হয়েছে—এর মধ্যে ১২টি পুরুষ ও ৪টি মহিলা বন্দীদের জন্য বরাদ্দ। পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় তলাতেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন,“এখন আর চিৎকার করে কথা বলতে হবে না। সারাদেশের কারাগারের মধ্যে চট্টগ্রাম কারাগারেই প্রথম এত বড় পরিসরে এই ব্যবস্থা চালু হলো।”

ভবিষ্যতের কথা বলতে গিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন,“প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে একসময় হয়তো অনলাইনে সাক্ষাৎ বা ভিডিও কলে দেখেও কথা বলার ব্যবস্থা হবে।”

কারাগার মানেই শুধু শাস্তির পরিসর নয়—মানবিক ব্যবস্থাপনারও একটি ক্ষেত্র। গ্রিলের দুই পাশে আজ যারা স্বচ্ছ কণ্ঠে কথা বললেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা বলছে—প্রশাসনের একটি মানবিক সিদ্ধান্ত কখনও কখনও অনেক দূরত্ব কমিয়ে দিতে পারে।

Feb2

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দলীয়করণের সুযোগ রাখা হয়নি : অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দলীয়করণের সুযোগ রাখা হয়নি : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে এই নির্বাচনী ওয়াদা বাস্তবায়ন করে প্রমাণ করেছে যে, নেতৃত্ব ঠিক থাকলে সব সম্ভব। ফ্যামিলি কার্ড একটি স্মার্ট কার্ড। ভবিষ্যতে জাতীয় সব সুযোগ-সুবিধা এই কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে। এছাড়া কৃষকদের কল্যাণে ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি কার্ডের মতো আরও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এয়ারপোর্ট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম নগরের ৫ হাজার ৫৭৫ জন নারীর হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে।

আমির খসরু বলেন, আমাদের সীমিত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আমরা এই ঝুঁকি নিয়েছি। এই কার্ড বিতরণে কোনো দলীয়করণের সুযোগ রাখা হয়নি। সরকারি কর্মকর্তারা নির্দ্বিধায় ও স্বাধীনভাবে কাজ করে হতদরিদ্রদের খুঁজে বের করেছেন।

তিনি বলেন, পরিবারের নারী প্রধানকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী না করলে আগামীর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মহিলারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিবারের সব দায়িত্ব পালন করলেও তাদের এই সেবার যথাযথ মূল্যায়ন আগে কখনো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান ঘোষিত এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোকে মূল্যায়নের জন্য গৃহকর্তীদের বেছে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা পৌঁছে যাচ্ছে, যা তাদের হাতে একটি অর্থনৈতিক শক্তি তৈরি করবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন।

তেলের প্রধান ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
তেলের প্রধান ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ

জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) এক বার্তায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, জ্বালানি তেল বিপণনে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন ডিপো হতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিলারদের আকস্মিক বর্ধিত চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা যায়। ফলে জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গায় প্রধান স্থাপনাসহ প্রধান প্রধান ডিপোগুলোতে অর্থাৎ খুলনা জেলার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানি সূত্রে জানা যায়।

দেশের জ্বালানি তেলের ডিপোগুলো কেপিআইভুক্ত স্থাপনা হওয়ায় জরুরিভিত্তিতে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিপণন কোম্পানিগুলোর উল্লিখিত স্থাপনার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন।

এমতাবস্থায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপণন কোম্পানিগুলোর চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গার প্রধান স্থাপনা, খুলনা জেলার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

পোশাকের গায়ে ডাবল স্টিকার, জেন্টেল পার্ককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
পোশাকের গায়ে ডাবল স্টিকার, জেন্টেল পার্ককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেটে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর

সোমবার (৯ মার্চ) পরিচালিত এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ।

অভিযানে দেখা যায়, পোশাকের গায়ে ডাবল স্টিকার লাগিয়ে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার অভিযোগে ‘জেন্টেল পার্ক’কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি পোশাক নিজেদের উৎপাদিত বলে বিক্রি করায় ‘শৈল্পিক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিষিদ্ধ ও অননুমোদিত প্রসাধনী বিক্রির দায়ে ‘ইন্টার লিঙ্ক কসমেটিক’কে ৫ হাজার টাকা এবং একই অপরাধে ‘আর বি কালেকশন’কে আরও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের সময় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন। জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।