খুঁজুন
সোমবার, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর অবরুদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর অবরুদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের সব বন্দর অবরুদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিক অবরোধ শুরু হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।

এর আগে মার্কিন সেনারা বলেছিল, বিশ্বের যে কোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে এ অবরোধ কার্যকর হবে। তারা জানায়, যেসব জাহাজ ইরানের বন্দরের দিকে যাবে বা আসবে তার সব জাহাজকে আটকানো হবে।

কিন্তু উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের বন্দরে গেলে অবরুদ্ধের আওতায় পড়তে হবে না।

মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, “মার্কিন সামরিক বাহিনী ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর পূর্বে আরব সাগরে অবস্থানরত সকল দেশের পতাকাবাহী জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে।”

“অনুমতি ছাড়া অবরোধকৃত এলাকায় কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে বা সেখান থেকে বের হলে সেটিকে পথিমধ্যে আটক করা, গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা অথবা জব্দ করা হতে পারে। তবে এ অবরোধ ইরান বন্দর বাদে অন্যান্য বন্দরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ অবরোধের জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়ছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। বাহিনীটির এক মুখপাত্র বলেছেন, “পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের সব বন্দরের নিরাপত্তা থাকতে হবে, নয়ত কোনো বন্দর নিরাপদ থাকবে না।”

বিপ্লবী গার্ডের এ মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ এবং ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। দেশটি জানায়, ইরানের শত্রুদের কোনো জাহাজ এই পথ দিয়ে আর চলতে পারবে না।

বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। উপসাগরীয় যত দেশ আছে তারা তাদের উৎপাদিত তেল ও গ্যাস হরমুজ দিয়ে রপ্তানি করে থাকে।

Feb2

পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

আগামীকাল ‘পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষ্যে আজ দেয়া এক বাণীতে তিনি পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ কে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তাঁর ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়।’

তিনি বলেন, বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

তিনি জানান, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি- এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে তিনি আবারও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

পয়লা বৈশাখে ডিসি হিল-সিআরবি ঘিরে যান চলাচলে সিএমপির বিশেষ নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
পয়লা বৈশাখে ডিসি হিল-সিআরবি ঘিরে যান চলাচলে সিএমপির বিশেষ নির্দেশনা

চট্টগ্রাম মহানগরীতে পয়লা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে ডিসি হিল ও সিআরবি এলাকায় যান চলাচলে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। আগামী ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈশাখের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে নজরুল স্কয়ার (ডিসি হিল) ও সিআরবি শিরিষতলা কেন্দ্রিক বিভিন্ন সড়কে রোড ব্লক বসিয়ে ডাইভারশন দেওয়া হবে।

ডিসি হিল এলাকায় লাভ লেইন (নুর আহম্মেদ সড়কের মাথা), চেরাগী পাহাড়, এনায়েত বাজার মোড় এবং বোস ব্রাদার্স (পুলিশ প্লাজা) মোড়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ফলে এসব এলাকায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল সীমিত থাকবে।

একইভাবে সিআরবি শিরিষতলা এলাকায় আটমার্সিং, ফ্রোন্সিস রোড, কাঠের বাংলো এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় মোড়ে রোড ব্লক স্থাপন করা হবে। এসব পয়েন্ট থেকে সিআরবি অভিমুখে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

পুলিশ জানায়, পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে ও নিরাপদ রাখতে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার এবং নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে প্রতি বছর পয়লা বৈশাখ ঘিরে ডিসি হিল ও সিআরবি এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম ঘটে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রাম থেকে ১৯ এপ্রিল হজ ফ্লাইট শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রাম থেকে ১৯ এপ্রিল হজ ফ্লাইট শুরু

চট্টগ্রাম থেকে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে আগামী ১৯ এপ্রিল। এদিন বিকেলে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রথম ফ্লাইট জেদ্দার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৭৭ উড়োজাহাজে ৪১৯ জন যাত্রী থাকবেন।

এ বছর চট্টগ্রাম থেকে মোট ১৬টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে—এর মধ্যে ১২টি জেদ্দায় এবং ৪টি মদিনায় যাবে। সব ফ্লাইটই পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গত বছর ১৭টি ফ্লাইট থাকলেও এবার তা কমেছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চট্টগ্রাম জেলা ব্যবস্থাপক আল মামুন ফারুক জানান, ১৯ এপ্রিলের প্রথম ফ্লাইট পরিচালনায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যাত্রীদের বোর্ডিং, ইমিগ্রেশন ও লাগেজ হ্যান্ডলিং নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হজযাত্রী এসব ফ্লাইটে সৌদি আরব যাবেন, যা গত বছরের তুলনায় কম। কোটা হ্রাসসহ বিভিন্ন কারণে যাত্রীর সংখ্যা কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

হজযাত্রীদের সুবিধায় বিমানবন্দরে আলাদা হেল্পডেস্ক, অতিরিক্ত জনবল, দ্রুত ইমিগ্রেশন এবং মেডিকেল সহায়তা রাখা হয়েছে। বয়স্কদের জন্য হুইলচেয়ার ও সহায়ক কর্মীও থাকবে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজে যাবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।