খুঁজুন
রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। সেই কাজটি আপনাদের ভূমিকার ওপরই অনেকখানি নির্ভর করে।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি জনমুখী প্রশাসন চায়, যেখানে সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ সম্মানের সাথে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পাবে। এ বিষয়টি আপনাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ত্রৈমৈত্রী’ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ মানুষ যখন আপনাদের অফিসে আসেন কিংবা সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন তাঁদের বিষয়গুলো আইনগত উপায়ে সমাধানের পাশাপাশি তাঁদের প্রতি মানবিক আচরণও জরুরি। সেবাগ্রহীতার প্রতি আপনাদের আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল ব্যবহার তাঁদের মনে রাষ্ট্র এবং সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। হয়তো এই বিষয়গুলো ছোট, কিন্তু জনমনে এর প্রভাব অনেক বেশি বলেই আমি মনে করি। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ের প্রতি আরও মনোযোগী এবং যত্নবান থাকার জন্য আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। সরকার এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনমনে এই বিশ্বাস গড়ে ওঠে। এই ব্যাপারেও আপনারা যত্নবান থাকবেন বলে আমি আশা করি। আমাদের মনে রাখা দরকার, প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়; এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম।

তিনি বলেন, দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আমরা দলীয়ভাবে যেসকল ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলাম, সেই ইশতেহারের পক্ষে দেশের জনগণ সমর্থন জানিয়েছে। সুতরাং, এটি এখন আর বিএনপির দলীয় ইশতেহার নয়; এটি এখন দেশের জনগণের ইশতেহার। এটি এখন জনগণের জন্য সরকারের ইশতেহার। সুতরাং, এখন ইশতেহার বাস্তবায়নের পালা।

তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া আমাদের অঙ্গীকারগুলো এই মুহূর্তে আপনাদের সামনে আমি পুনরায় বিস্তারিত তুলে ধরতে চাই না। শুধু এটুকু বলবো, জনস্বার্থে নেওয়া সরকারের কাজগুলো বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের ওপর বর্তায়। সুতরাং, সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের সাফল্যই শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই আমি বলি, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকগণ হচ্ছেন মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক ‘অ্যাম্বাসেডর’।

বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সকল যৌক্তিক প্রত্যাশা সাধ্যমতো পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। এটি জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। আমরা কথায় কথায় বলি, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক।

তিনি বলেন, জনগণ যদি মালিক হয়, তাহলে এই মালিক অর্থাৎ সেবাগ্রহীতারা যখন অফিস-আদালতে তাঁদের সমস্যা নিয়ে যান, তাঁরা যেন আপনাদের সেবায় কিছুটা হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন; সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব বলেই আমি মনে করি।

একজন সাধারণ মানুষ যখন কোনো সরকারি অফিসে যান, তখন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট অফিস ব্যবস্থাপনার মধ্যেই পুরো সরকার ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করেন। ধরা যাক, একজন সাধারণ নাগরিক কিংবা একজন দিনমজুর যখন জন্মনিবন্ধন সনদ সংশোধন করার জন্য আপনাদের অফিসে যান, তিনি হয়তো জানেন না কোন টেবিলে যেতে হবে কিংবা কোন কর্মকর্তাকে কী বলতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে সেবাগ্রহীতা যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আন্তরিক ব্যবহার পান, তবে এটি রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি করে। আর যদি হয়রানির শিকার হন, তবে তিনি শুধু একটি সেবা থেকেই বঞ্চিত হলেন না, বরং রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়। সুতরাং, রাষ্ট্র এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে আপনাদের কার্যক্রম মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো সবার সবকিছু সমাধান করে দেওয়া সম্ভব নয়; কিন্তু ভুক্তভোগীর মনে অন্তত এই ধারণা জন্মানো জরুরি যে, আপনি কিংবা আপনার অফিস তাঁর সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আন্তরিক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের সমস্যা অসংখ্য হলেও সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। আমাদের দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর সুযোগ নিয়ে আমরা যদি তরুণ এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি, তবে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের ‘জনসম্পদ’। এরাই বদলে দিতে পারবে আমাদের বাংলাদেশ।

যথাসম্ভব মানুষের উপকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। রাষ্ট্র এবং সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে জাগিয়ে রাখতে আমাদের সম্ভাব্য সকল উপায় বের করতে হবে। আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে। আমাদের মনে করা দরকার, একটি রাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ইউনিট হলো একটি পরিবার। একইভাবে অনেকগুলো পরিবারের সম্মিলনই হলো আমাদের রাষ্ট্র। সুতরাং, পরিবারগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত থাকলে রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধও সুসংহত হয়।

দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আপনারা নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। সরকার আপনাদের যেকোনো আইনগত এবং মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।

Feb2

তিউনিসিয়ার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে ইতিহাস গড়ে জিতল জাপান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ণ
তিউনিসিয়ার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে ইতিহাস গড়ে জিতল জাপান

ম্যাচটাই ছিল বড় মাইলফলকের। বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে নেমে ইতিহাসগড়া জয় পেয়েছে জাপান। সর্বোচ্চ এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবার এত বড় (৪-০) ব্যবধানে জিতে তারা তিউনিসিয়ার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে ৪টি গোল করল সামুরাই ব্লুরা।

এর আগে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ২-২ গোলের ড্র দিয়ে জাপান এবারের আসর শুরু করেছিল। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে বড় জয় তাদের টানা চতুর্থবারের মতো নকআউট পর্বের দিকে একধাপ এগিয়ে দিলো। এর আগে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এত বেশি গোল করতে পারেনি জাপান। গতিময় আক্রমণাত্মক ফুটবলে সহজ জয় পেল তারা। আর উদ্বোধনী ম্যাচের পর কোচ বরখাস্ত করার নজির গড়া তিউনিসিয়া কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি।

জাপানের হয়ে জোড়া গোল করেন আয়াসে উয়েদা। এ ছাড়া দাইচি কামাদা ও জুনিয়া ইতো একটি করে গোল করেন। এই জয়ে জাপান চার পয়েন্ট নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সমান অবস্থানে রয়েছে। তবে দুই ম্যাচে এক গোল বেশি করায় গোল ব্যবধানে এগিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আছে ডাচরা। সমান ম্যাচ খেলে সুইডেন ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে অবস্থান করছে।

মেক্সিকোর এস্তাদিও মন্টেরেইয়ে অনুষ্ঠিত ১০০০তম ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে এগিয়ে যায় জাপান। যা বিশ্বকাপে তাদের ইতিহাসের দ্রুততম গোল। কেইতো নাকামুরার ক্রসে দাইচি কামাদা নিকটদূরত্ব থেকে বল জালে পাঠান। যা চলমান আসরে তার দ্বিতীয় গোল। ৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আয়াসে উয়েদা। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড দূর থেকে বাঁকানো শটে জালের কাঁপান।

উয়েদা ক্লাব পর্যায়েও দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন। ফেইনুর্দের হয়ে ২৪ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতা এই ফুটবলার আজও দ্বিতীয়বার স্কোরশিটে নাম তোলেন ৮৩ মিনিটে। তার নিখুঁত লুপিং হেডে আসে জাপানের ঐতিহাসিক চতুর্থ গোল। এর আগে ৬৯ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেন জুনিয়া ইতো। উয়েদার চমৎকার ফ্লিক থেকে বল পেয়ে তিনি তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক আইমেন দাহমেনকে ঠান্ডা মাথায় ফাঁকি দিয়েছেন।

প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে লজ্জাজনক হারের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে দু’বারের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জয়ী কোচ হার্ভে রেনার্দকে দায়িত্ব দিয়েছিল তিউনিসিয়া। কিন্তু উত্তর আফ্রিকার দলটি জাপানের দ্রুতগতির আক্রমণ ঠেকাতে পারেনি, আবার নিজেরাও উল্লেখযোগ্য কোনো গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডে ইরানের প্রতিনিধি দল, যাচ্ছেন ভ্যান্স-শাহবাজ-মুনিরও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
সুইজারল্যান্ডে ইরানের প্রতিনিধি দল, যাচ্ছেন ভ্যান্স-শাহবাজ-মুনিরও

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে ওয়াশিংটন ছেড়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও। একই আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসীম মুনির।

রোববার (২১ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে দেশটির প্রতিনিধি দলটি এরই মধ্যে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছে।

ইরানি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) যাতে সব পক্ষ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে, তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

এদিকে ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে শনিবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনা নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে এই আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জেডি ভ্যান্স বলেন, ইরানি প্রতিপক্ষের সঙ্গে অন্তত এক বা দুইদিন জোরালো আলোচনা হতে পারে। লেবাননে যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং চুক্তিটি কার্যকর করতে করণীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি ইরানের পরমাণু অস্ত্রের আকাঙ্ক্ষা নসাৎ করার দিকেও ওয়াশিংটন মনোনিবেশ করবে। তবে ইরানের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি এর আওতাভুক্ত নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তিনি আরও বলেন, সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে নির্ধারিত ৬০ দিনের মেয়াদে উভয় পক্ষ ঠিক কী অর্জন করতে চায়, তা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরার প্রথম সুযোগ এটি।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসীম মুনির বুর্গেনস্টকের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন। এই আলোচনায় কাতারও অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নে পাকিস্তান তার সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

চট্টগ্রামে তিন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা

চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রমে তিনটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিভিন্ন অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনা এবং নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের দায়ে এ জরিমানা করা হয়।

শনিবার (২০ জুন) চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম মহানগরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা।

অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার আদেশ দেন।

অভিযানে আবুল খায়ের ফুড অ্যান্ড বেভারেজে খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণে বিষাক্ত প্লাস্টিকজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি, চানাচুর, চিড়া ও বুট উৎপাদনে পোড়াতেল ব্যবহার, প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় বর্জ্য পদার্থ সংরক্ষণ, খাদ্যপণ্যের মোড়কীকরণে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ না করা, বিভ্রান্তিকর তথ্য সংযোজন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ম্যাংগো ফ্রুট পাল্প সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ এবং খাদ্য কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ বিভিন্ন অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে মধুবন সুইটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, বিভিন্ন পোকামাকড়ের অবাধ বিচরণ, নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদন, বর্জ্য পদার্থ খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহার, খাদ্য স্পর্শক হিসেবে খোলা কাগজ ও খবরের কাগজ ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোড়কীকরণ না করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অপরদিকে ময়মনসিংহ অ্যাগ্রোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণসহ বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রামের নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম বলেন, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে আবুল খায়ের ফুড অ্যান্ড বেভারেজকে ১৬ লাখ টাকা, মধুবন সুইটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ১৫ লাখ টাকা এবং ময়মনসিংহ অ্যাগ্রোকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।