খুঁজুন
, ,

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 12 May, 2026, 3:11 pm
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান

শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা এবং উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈশ্বিক মান বজায় রাখতে পারছে কিনা? এমন একটি প্রশ্ন অনেকের আলোচনা ফুটে উঠেছে। দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছুতে পারেনি।’

মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ : রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, র‍্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবন এই বিষয়গুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায়? এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদরা নিশ্চই আরও চিন্তা-ভাবনা করবেন। শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা এবং উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে পা দিয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চলমান এই সময়ে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডাটা, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, ন্যানো টেকনোলজি, পঞ্চম প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তি, এইসব উন্নততর প্রযুক্তি একদিকে আমাদের আমাদের চিন্তার জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে। অপরদিকে শাসন করছে মানুষের কর্মক্ষেত্র বা কর্মসংস্থান। এর ফলে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার একদিকে প্রথাগত চাকরির বাজারে বেকারত্ব বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি করছে নিত্য নতুন কর্মসংস্থান।’

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মসংস্থানের নতুন বাজারে প্রবেশ করতে হলে আমাদের মুখস্থ বিদ্যা এবং সার্টিফিকেটে নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। কারণ, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। কারিকুলাম প্রণয়নে শিল্পখাতের চাহিদাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মসংস্থানের নতুন বাজারে প্রবেশ করতে হলে আমাদের মুখস্ত বিদ্যা এবং সার্টিফিকেটে নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। কারণ, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। কারিকুলাম প্রণয়নে শিল্পখাতের চাহিদাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিশ্ববাসীর সামনে যে বার্তাটি স্পষ্ট করেছে, সেটি হলো শিক্ষা কেবল স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে জ্ঞানের চর্চা কেবল একটি নির্দিষ্ট বিষয়েই আবদ্ধ নয়। বরং আমরা দেখি, ডাটা সায়েন্সের সঙ্গে বায়োলজি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে হয়তো সমাজবিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটছে। এই সংযোগের ফলে জ্ঞানের সীমানা প্রতিনিয়ত প্রসারিত ও গতিশীল হচ্ছে। এই পরিবর্তনের গতি প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক থাকা জরুরি।’

শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিবছর প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চ শিক্ষা নিয়েও অনেককে বেকার থাকতে হয়। অর্থাৎ বেকারত্বের সংখ্যা উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেশি। এর কারণ সম্পর্কে নানামত রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে অনেকেই একমত, একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই শিক্ষিত মধ্যে বেকারত্বের হার বেশির অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মনে করে, প্রাথমিক সিলেবাসে থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয়। সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ শুরু করেছে।

বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর জন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন করে এই কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি হাতে কলমে শিক্ষা লাভ করে শিক্ষার্থী অবস্থাতেই কর্মদক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ফলে শিক্ষা জীবন শেষে তাকে আর বেকার থাকতে হবে না।

‘কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট দেওয়া উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করা। ফলে এই উদ্যোক্তারা নতুন এবং সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কর্মদক্ষতা অর্জনের ফলে এমনও হতে পারে একজন শিক্ষার্থী চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আরও কয়েকজনের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন। এসব উদ্যোগ ছাড়াও সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনষ্টিটিউট’, ‘সায়েন্স পার্ক’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার, প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ারসহ এ ধরনের শিক্ষা ও দক্ষতা বিষয়ক আয়োজনকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। শুধু উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই সরকার শিক্ষা কারিকুলামে কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ লেখক টম উইনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আজকের এই কর্মশালার বিষয়বস্তুর সঙ্গে ব্রিটিশ লেখক টম উইন, যিনি বিশেষ করে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে বিজনেস স্ট্র্যাটেজিস্ট অ্যান্ড এনালিস্ট হিসেবে স্বনামধন্য, তার একটি বিখ্যাত মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে। তিনি বলছেন, ‘বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত ট্যাক্সি কোম্পানি উবারের নিজের কোনো ট্যাক্সি নেই। বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক নিজে কনটেন্ট তৈরি করে না। বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইনে বিজনেস প্ল্যাটফর্ম আলিবাবার কোনো মজুদ পণ্য নেই। বিশ্বের সবচেয়ে বড় আবাসন প্রোভাইডার এয়ার বিএনবির নিজেদের কোনো রিয়েল এস্টেট নেই।’

অর্থাৎ ইনোভেটিভ আইডিয়া দিয়ে তারা যার যার ক্ষেত্রে বিশ্ব শাসন করছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত : এক একটি ‘স্মার্ট ইন্টারফেস’। তারা সেবা দিচ্ছে না, বরং যারা সেবা দিতে চায় এবং যারা সেবা নিতে চায়, তাদের এক জায়গায় নিয়ে আসছে। এটিই প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান।

‘শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন কিংবা গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি জানি, ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশেই যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই তাদের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গবেষণা এবং উদ্ভাবন’ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে বলে থাকেন, “শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।”

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে যারা দেশে বিদেশে জ্ঞানে বিজ্ঞানে অর্থ-বিত্তে প্রতিষ্ঠিত সেইসব অ্যালামনাইদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই।

মেধাভিত্তিক দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সামর্থ্য সীমাহীন না হলেও সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অবশ্যই আমাদের পক্ষেও নতুন কিছু করা সম্ভব। আমি বিশ্বাস করি, আমাদেরও প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন যারা সুযোগ বা সুবিধা পেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়। মেধা পাচার রোধ করে মেধার বিকাশ ও মেধার লালন করে আমরা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাই।

ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমাদের তারুণ্য বারবার রাজপথে নেমে এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণ বারবার অধিকার আদায়ের মিছিলে শামিল হয়েছে। এভাবেই দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর হাজারও প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়তে চায়।

তিনি বলেন, জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যা আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকেও আলোকিত করবে। সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বার্থে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকতাকে আমরা অবশ্যই আলিঙ্গন করবো।

‘তবে আমরা যেন আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে না ফেলি, আমি এ ব্যাপারে শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী তথা সব শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ক্রেস্ট উপহার দেন কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এই কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসির সচিব ফখরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

Feb2
Feb2

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতায় প্রস্তুত সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 11 August, 2026, 3:57 pm
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতায় প্রস্তুত সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে, আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত- বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান। অ্যামচেম বাংলাদেশের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল আট সদস্যের এই প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন। অ্যামচেম প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, প্রায় দুই মাস আগে সংগঠনটির নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

নতুন কমিটি বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

ইউপি সদস্যের বিবাহিত বোন পান বিধবা ভাতা, বাবা-ছেলে-ভাতিজা প্রতিবন্ধী ভাতা শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 11 August, 2026, 12:52 pm
ইউপি সদস্যের বিবাহিত বোন পান বিধবা ভাতা, বাবা-ছেলে-ভাতিজা প্রতিবন্ধী ভাতা শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

নিজস্ব সংবাদদাতা:: গত ৮, ৯ ও ১০ আগস্ট কিছু পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে ও “ইউপি সদস্যের বিবাহিত বোন পান বিধবা ভাতা, বাবা, ছেলে, ভাতিজা প্রতিবন্ধী ভাতা শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমি ইউপি সদস্য মুনির উদ্দিনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদের বিস্তারিত পড়ে আমি অবাক ও হতভম্ব হই। সব চেয়ে বড় অবাক হওয়ার বিষয় হলো সব পত্রিকার শিরোনাম একই। সংবাদে আমার বিরুদ্ধে উদ্যেশ্য প্রণোদিত ভাবে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনেছে।

আমি এহেন উদ্যেশ্য প্রণোদিত, অসত্য ও বানোয়াট সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এহেন উদ্যেশ্য প্রণোদিত সংবাদ প্রকাশে নিবৃত থাকার দাবি জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যমকে।
‎২০২২ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আমি আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী সকল প্রার্থীর যোগ ফলের অধিক ভোট পেয়ে বিপুল ভোটে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হই। আমার এই জনপ্রিয়তাকে মেনে নিতে পারছে না এলাকার কিছু চাটুকার ও কুচক্রী মহল। তারাই নানা ভাবে আমার সুনাম ক্ষুন্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে। যারফলে মনগড়া কাহিনী সাজিয়ে সত্যকে গোপন করে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে এহেন অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

প্রকৃত সত্য হচ্ছে। আমার বোন সাবরিনা ইয়াছমিন পারিবারিক মামলা নং ৪৪৩/২০ মুলে তালাক প্রাপ্ত হয়। ফলে সেই বিধবা ভাতার আওতায় আসে। পরে তার পূণরায় বিবাহ হলেও তার নাম তালিকা থেকে বাদ যায়নি। তালিকা থেকে কারো নাম বাদ দেওয়া বা সংযোজন করা কোনটার এখতিয়ার আমার নেই। তবে বিয়ের পর থেকে আমার বোনের ভাতার সম্পূর্ন টাকা একটি মাদ্রাসায় দিয়ে দেওয়া হয়।

‎আমার বাবার প্রতিবন্ধী ভাতা ও মায়ের বয়স্ক ভাতার তালিকা হয় ২০১৮ সালে । আমি মেম্বার নির্বাচিত হই ২০২২ সালে । সুতরাং তাদের ভাতার তালিকার বিষয়ে আমাকে জড়িয়ে মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করা  ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

সংবাদে আরো উল্লেখ করা হয়, আমার ভাতিজা হাচ্ছান বীন আলম সাজিদ ও আমার ছেলে আবরার বীন মুনির সাআদ। উভয়ের সমাজ সেবা কর্তৃক প্রতিবন্ধী আইডি কার্ড রয়েছে। যার আইডি নং যথাক্রমে আবরার-আইডি নং -২০১৫১৫১০৪৯৫১১০২১৩১-০২ ও হাচ্ছান-আইডি নং -২০১০১৫১০৪৯৫১২২৫১৬। ২০২২ সালে উপজেলা প্রশাসন থেকে ২০ জনের প্রতিবন্ধী তালিকা দেওয়ার নির্দেশ দিলে প্রতিবন্ধী না পাওয়াতে ১৬ জনের তালিকা জমা দেওয়া হয় ।

‎সংবাদে  সেলিনা আক্তার জন্মগতভাবে বাকপ্রতিবন্ধী। আমার বাঁধায় তালিকা ভুক্ত হয়নি কথাটা ডাহা মিথ্যা ও বানোয়াট। যেখানে ২০ জনের চাহিদা ছিলো সেখানে ১৭ জনের তালিকা দেওয়া কি এমন বিষয় ছিলো ? এছাড়া তারা চেয়ারম্যানের কাছেও যেতে পারতো।

“দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস” পত্রিকায় ইউপি সদস্যের বিবাহিত বোন পান বিধবা ভাতা, বাবা-ছেলে-ভাতিজা প্রতিবন্ধী ভাতা শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি উদ্যেশ্য প্রণোদিত, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্র মূলক। আমি এহেন সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এহেন সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপি’র নেতৃত্বে মুন্না-মানিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 11 August, 2026, 11:38 am
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপি’র নেতৃত্বে মুন্না-মানিক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে লায়ন এ.এম মুন্না চৌধুরীকে এবং সদস্য সচিব হয়েছেন বেসরকারি কারা পরিদর্শক জোবাইরুল আলম মানিক।

রবিবার(১০ আগস্ট) এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং মুখ্য সংগঠক(দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি কমিটি অনুমোদন করেন।

আগামী ছয় (০৬) মাসের জন্য নিম্নোক্ত ৬৮ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়:

আহ্বায়ক: লায়ন এ.এম মুন্না চৌধুরী

সিনিয়র-যুগ্ম আহ্বায়ক: বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাস্টার ও শামসুল আলম।

যুগ্ম আহ্বায়ক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আরিফুল ইসলাম, জয়নুল আবেদীন কায়সার, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাসুদ, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ কাইয়ুম।

সদস্যসচিব: জোবাইরুল আলম মানিক

সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব: মোঃ মুশফিকুর রহমান চৌধুরী মিশকাত

যুগ্ম সদস্যসচিব: মাওলানা আনাস মাহমুদ, মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, ফরিদুল আলম, মীর মনসুরুল ইসলাম, জহির উদ্দিন, রোকজিনা আক্তার (তানিয়া আমিন), জিয়াউর করিম, মোহাম্মদ আরজু, মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, মোঃ নুরুল আমীন, মঈনুদ্দিন সাকিব, মোঃ রিদওয়ানুল করিম হৃদয়, তারেকুল ইসলাম মিনহাজ।

সাংগঠনিক সম্পাদক: মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, সিফাত চৌধুরী।

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মোঃ আকাশ নূর, মোঃ হাসিন ইশরাক চৌধুরী, লায়ন মোহাম্মদ উল্লাহ মাহমুদ, শহিদুল ইসলাম সাহেদ, এ.কে.এম মোর্শেদ, তৌহিদুল ইসলাম মাসুম, সাকিবুল ইসলাম, ইয়াসিনুর রহমান, হারুনুর রশিদ, সাইফুর রহমান আরিফ, ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর, দেলোয়ার মাহমুদ, মোহাম্মদ নাইমুল হাসান, আবদুল মান্নান, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম কাদেরী।

দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক: ইরফান মাহমুদ আল সাঈদ

সহ-সম্পাদক: জহির উদ্দিন চৌধুরী হিমেল

আইন বিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট আরমান উদ্দিন আজাদ

উপ-সম্পাদক: এ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান, এ্যাডভোকেট মুহিবুল্লাহ মুহিব।

প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক: ইমরান হোসেন তারা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক: মোহাম্মদ শাহেদুল আলম, জাফর ইসলাম চৌধুরী, রিয়াজ মোহাম্মদ সাকিব তালুকদার, শাহেদুল আলম শিকদার।

কোষাধ্যক্ষ: মোঃ সাইফুল ইসলাম (রাব্বি)

সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক: শেখ বদিউল আলম নোমান

তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক: সৈয়দ মোঃ শাহরিয়ার ইমন।

শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক: মোসলেম উদ্দিন শাকিল

সহ-সম্পাদক: মোঃ এমরানুল ইসলাম

নারী বিষয়ক সম্পাদক: ডালিয়া বড়ুয়া

সহ-সম্পাদক: জুবাইদা হক তানজু, মরিয়ম বেগম।

সদস্য: আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ সায়েমুল হক, হাফেজ মিজানুর রহমান কাদেরী, আবরার হাবিব, রাশেদুল আলম সৌরভ, হায়দার আলী, এস. এম. মোজাম্মেল ইসলাম, সুমাইয়া সুলতানা নাহিন,আরফাতুর রহমান, নাঈম উদ্দিন।