খুঁজুন
বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ

অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের মাধ্যমে সম্ভাব্য কারসাজির অভিযোগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিগুলো হলো রাষ্ট্রায়ত্ত শ্যামপুর সুগার মিলস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিএনআইসিএল) এবং সোনারগাঁও টেক্সটাইলস লিমিটেড।

বিএসইসির সার্ভেইলেন্স বিভাগ থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) পৃথক তিনটি চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে কমিশন।

গত মাস থেকে এসব কোম্পানির শেয়ারের দর অস্বাভাবিকভাবে বড়ছিল। বিএসইসির পর্যবেক্ষণেও কোম্পানিগুলোর শেয়ারে অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তন ও লেনদেনের আচরণ ধরা পড়েছে। এ কারণে ডিএসইকে বিস্তারিত তদন্ত করে সম্ভাব্য কারসাজি, সমন্বিত বা কৃত্রিম লেনদেন এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

তদন্তের আওতায় সমন্বিত বা অপ্রকৃত লেনদেন হয়েছে কি না, অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং সংঘটিত হয়েছে কি না, মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত বিধি ও কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার ও তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের (এআর) ভূমিকা এবং অন্য কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

শ্যামপুর সুগার মিলসের ক্ষেত্রে তদন্তে বিশেষভাবে বারাকা সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও স্মার্ট শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ভূমিকা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলো সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে কি না বা কোনোভাবে সহায়তা করেছে কি না, তাও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলারদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা এবং অনুমোদিত প্রতিনিধিদের সন্দেহজনক লেনদেন বিষয়ে সচেতনতা তৈরির নির্দেশও দিয়েছে বিএসইসি।

কমিশনের মতে, এ ধরনের লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০ এর বিধান লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।

লোকসানী সোনারগাঁও টেক্সটাইল একমাসে দ্বিগুণ দামে

এদিকে ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, লোকসানী সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ারদর এক মাসে দ্বিগুণ হয়েছে। গত ১৭ মে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৪০ টাকা ১০ পয়সা। এক মাসেরও কম সময় পর আজ মঙ্গলবার তা বেড়ে ৮৪ টাকায় পৌঁছেছে। কোম্পানিটির শেয়ারদরের কারণ জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিল ডিএসই। তবে গত ২ জুন কোম্পানিটি জানায়, সাম্প্রতিক দর বৃদ্ধি ও লেনদেনের পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই।

কোম্পানিটির আর্থিক চিত্রও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটি ৫০ লাখ টাকা লোকসান করেছে। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৯ পয়সা। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা লোকসান করে। ফলে ওই বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাত্র ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। এর আগে ২০১৯ সালে মাত্র ৩ শতাংশ এবং ২০২২ সালেও ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।

২৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে সোনারগাঁও টেক্সটাইলের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা। ১৯৯৫ সালে তালিকাভুক্ত বি ক্যাটাগরির সোনারগাঁও টেক্সটাইলের উদ্যোক্তা পরিচালকদের মালিকানায় ৪৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অধীনে ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৫১ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

বন্ধ শ্যামপুর সুগার মিলেও অস্বাভাবিক উত্থান

দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ ও জেড ক্যাটাগরির রাষ্ট্রায়ত্ত শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ারদর গত ১৭ মে ১৩৯ টাকা ২০ পয়সা ছিল। কয়েকদিনের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়ে গত ১১ জুন ২৩৮ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠে যায়। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে এদিন শেয়ারটির লেনদেনও স্থগিত করেছিল ডিএসই। যদিও আজ মঙ্গলবার লেনদেন শেষে এটি ১৯৬ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে এসেছে।

এর আগে দর বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে গত ৮ জুন চিঠি দেয় ডিএসই। ১০ জুন চিঠির জবাবে কোম্পানিটি জানায়, দর বৃদ্ধি ও লেনদেনের পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই।

দীর্ঘ বছর লোকসানে থাকা কোম্পানিটির সর্বশেষ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকেও (জানুয়ারি-মার্চ) শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১২ টাকা ৪৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই লোকসান ছিলো ১৪ টাকা ৯৬ পয়সা। ব্যাংক ঋণের সুদ ও পরিচালন ব্যয় কমে আসায় লোকসানও কিছুটা কমেছে।

ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সে মুনাফা বাড়লেও দরবৃদ্ধি অস্বাভাবিক

আরেক কোম্পানি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর গত ১৭ মে শেয়ারটির দর ছিল ৮২ টাকা ৭০ পয়সা, যা বেড়ে ৯ জুন ১১৬ টাকা ১০ পয়সায় ওঠে। পরে কিছুটা কমে গতকালের লেনদেন শেষে দাঁড়ায় ১০৮ টাকা ৩০ পয়সায়।

২০১৬ সালে তালিকাভুক্ত এ ক্যাটাগরির কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) বেড়ে ১ টাকা ৬১ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৬ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ২ টাকা ৫৯ পয়সায় উন্নীত হয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৭৮ পয়সা। এছাড়া ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা ৮৭ পয়সা।

তবে আর্থিক সূচকে উন্নতি থাকলেও বর্তমান দরবৃদ্ধি স্বাভাবিক নয় বলে মনে করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাই অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি ও লেনদেনের কারণ অনুসন্ধানে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সম্প্রতি তিন কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের বিষয়টি কমিশনের নজরে এসেছে। বিষয়গুলো আমরা তদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। স্টক এক্সচেঞ্জ এ বিষয়ে তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেবে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Feb2

মেসির হ্যাটট্রিকে উড়ন্ত সূচনা আর্জেন্টিনার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:১১ পূর্বাহ্ণ
মেসির হ্যাটট্রিকে উড়ন্ত সূচনা আর্জেন্টিনার

আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। অধিনায়ক লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলবিসেলেস্তেরা ৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্টে উড়ন্ত সূচনা করেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ মিনিটে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। গোলের পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে আর্জেন্টিনা এবং আলজেরিয়ার রক্ষণে একের পর এক চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

প্রথম গোলের পর কিছু সময় নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে আলজেরিয়া। উত্তর আফ্রিকার দলটি পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে ফেরার আভাস দিলেও আর্জেন্টিনার সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের বড় সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি। বেনতালেবের একটি প্রচেষ্টা এবং ৪২ মিনিটে ফারেস শাইবির দূরপাল্লার শট আর্জেন্টাইন রক্ষণকে সতর্ক করলেও সেগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েও আর্জেন্টিনার ডিফেন্সে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করে আলজেরিয়া। তবে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সময়োপযোগী ক্লিয়ারেন্সে বিপদ কেটে যায়। ফলে ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। এরপর ম্যাচের ৬০ ও ৭৬ মিনিটে আরও দুটি গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।

মেসির অনবদ্য পারফরম্যান্সে ৩-০ গোলের জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দারুণ সূচনা করল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

হালান্ডের জোড়া গোলে বিশ্বকাপে নরওয়ের স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ
হালান্ডের জোড়া গোলে বিশ্বকাপে নরওয়ের স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দাপট মূল মঞ্চেও ধরে রাখল নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন তারা করল ৪-১ গোলের বড় জয়ে। বিশ্বকাপে অভিষেকেও জোড়া গোল করে ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন আর্লিং হালান্ড।

গোল পাল্টা গোলের ম্যাচে জমজমাট হয়েছিল নরওয়ে ও ইরাকের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রথমার্ধের খেলা। হাফটাইমের আগেই হয় তিন গোল। দুটি করে নরওয়ে, একটি ইরাক।

২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে নরওয়ে আধঘণ্টার মাথায় লিড নেয়। আর্লিং হালান্ড স্লাইড করে জাল কাঁপান ২৯ মিনিটে। ১০ মিনিট পর আয়মেন হুসেইন ইরাককে সমতায় ফেরান দারুণ এক হেডে। বিরতির দুই মিনিট আগে হালান্ড আবার লিড এনে দেন নরওয়েকে। ২৯ থেকে ৪৩ মিনিট পর্যন্ত তিনবার জালে বল জড়িয়েছে।

ইনজুরি টাইমে গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন আলি আল হামাদি। শট নেওয়ার শেষ মুহূর্তে তাকে প্রতিহত করেন নরওয়ের ডিফেন্ডার। পরবর্তীকে কর্নার থেকে নেওয়া শট তারা বিপদমুক্ত করতে চাইলেও বক্সের বাইরে থেকে আকাম হাশিমের বাঁ পায়ের শট গোলবারের ওপর দিয়ে যায়।

তাতে ম্যাচ ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে নরওয়ে। বিরতির পর ইরাক নিশ্চিতভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর পণ করেছিল। কিন্তু নরওয়ে আরও শক্তিশালী রূপে ফিরে আসে। ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ইরাকের জালে আরও দুইবার বল পাঠায় তারা।

হাফ-টাইমের পর ইরাক সমতায় ফেরার জন্য বেশ চাপ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু আয়মেনের একটি হেড পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায় এবং হুসেইন আলী বল বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন। ঠিক তখনই ম্যাচের ৭৬ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের চমৎকার একটি কর্নার কিক থেকে লাফিয়ে উঠে জোরালো হেডে গোল করেন লিও ওস্টিগার্ড। এই গোলে নরওয়ের জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়।

ম্যাচের শেষ দিকে হাল্যান্ড তার হ্যাটট্রিক করার একটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ইরাকি গোলরক্ষক জালাল হাসান একদম কাছ থেকে দারুণ এক সেভ করে তাকে বঞ্চিত করেন। তবে ইনজুরি টাইমে নরওয়ের চতুর্থ গোলটি আটকানোর কোনো উপায় ছিল না হাসানের কাছে। কারণ আয়মেন নিজেই বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন।

এমবাপের রেকর্ড গোলে সেনেগালকে হারাল ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ
এমবাপের রেকর্ড গোলে সেনেগালকে হারাল ফ্রান্স

২০০২ সালের বিশ্বকাপে সেনেগালের কাছে অঘটনের শিকার হয়েছিল ফ্রান্স। ২৪ বছর আগের সেই দুঃসহ স্মৃতি তারা মুছে ফেলল কিলিয়ান এমবাপের জাদুকরী পারফরম্যান্সে।

প্রথম ৪৫ মিনিট ফরাসিদের ওপর সেনেগাল ছড়ি ঘুরালেও বিরতির পর দৃশ্যপট পাল্টে যায়। এমবাপে জোড়া গোল করেন, বদলি নামার মিনিটখানেক পর বার্কোলা মাঝে একটি গোল করেন। তাতে ৩-১ গোলে জিতে বিশ্বকাপ শুরু করেছে গতবারের রানার্সআপরা। অথচ প্রথমার্ধে ফ্রান্সকে দেখা গেছে ভিন্ন চেহারায়। তাদের খেলা ছিল এলোমেলো ও মন্থর। প্রতিপক্ষের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করতে পারেনি তারা।

প্রথমার্ধে সেনেগালই গোল করার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলো পেয়েছিল। দুর্ভাগ্য যে এগিয়ে যেতে পারেনি। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর গোলশূন্য। নিকোলাস জ্যাকসন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তার শট পোস্টে গিয়ে আঘাত করে। এছাড়া প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে ইসমাইলা সার-ও গোল করার একটি বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করেন। অন্যদিকে ফ্রান্সকে বেশ ক্লান্ত দেখা গেছে। সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করেছে।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে সবকিছু পুরোপুরি বদলে যায়। বিশেষ করে মাইকেল অলিসে এই সময়ে সেনেগালের ডি বক্সের আশেপাশে ত্রাস ছড়ান। ৫৪ মিনিটে সেনেগালের গোলকিপার তাকে কোনোমতে রুখে দেন। পাঁচ মিনিট পর ডি বক্সে সাদিও মানে স্লাইড করে এমবাপেকে ফেলে দেওয়ার পর ফ্রান্স পেনাল্টির দাবি জানায়। রেফারি ভিএআর চেক করে পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। এরপর থেকেই ফ্রান্স ম্যাচে নিজেদের গুছিয়ে নিতে শুরু করে।

রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকার সেই ভুলের খেসারত দিতে একদমই সময় লাগেনি। অলিসের একটি চমৎকার থ্রু বলের লাইনে দৌড়ে এগিয়ে যান তিনি। তারপর এদুয়ার মেন্দির মাথার ওপর দিয়ে বল তুলে দিয়ে জাল কাঁপান। ৬৬ মিনিটে ফ্রান্স লিড নেয়। কিছুক্ষণ পরই জ্যাকসন ফ্রান্সের জালে বল ঠেলেছিলেন, কিন্তু অফসাইডের বাঁশি বাজে। এরপর বেঞ্চ থেকে মাঠে নামার দুই মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে গোল করে ৮২ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। তিন মিনিট পর এমবাপের দ্বিতীয় শট ঠেকান মেন্দি।

ম্যাচের শেষ দিকে ইব্রাহিম এমবায়ের গোলে সেনেগাল একটি গোল শোধ করলেও তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর ভাবনার সুযোগটুকুই দেয়নি ফ্রান্স। এর আগেই বক্সের বাইরে থেকে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে এক দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন এমবাপে।

দলকে জেতানোর পাশাপাশি ফ্রান্সের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা হয়েছেন এমবাপে। ৫৮ গোল করে অলিভার জিরুদকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা জাস্ট ফন্টেইনকে (১৩) ছাপিয়ে গেছেন। ১৪তম গোল করে এখন তিনি কেবল ব্রাজিলের রোনালদো (১৫) ও জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার (১৬) পেছনে। ১৩ গোল নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপেকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

আই গ্রুপে ফ্রান্স তাদের পরের ম্যাচ খেলবে ইরাকের বিপক্ষে। আর সেনেগাল মুখোমুখি হবে নরওয়ের।