খুঁজুন
, ,

বিশ্বকাপ থেকে এক কিংবদন্তির বিদায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 3 July, 2026, 12:01 pm
বিশ্বকাপ থেকে এক কিংবদন্তির বিদায়

দুই তারকা একসঙ্গে নামল বিদায়ের মঞ্চে, যেখানে একজনের জন্য সাজানো ছিল বিদায়ের আয়োজন। যার শেষ হলো নাটকীয়ভাবে। শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার সমতাসূচক গোল বাতিল হওয়ায় লুকা মদ্রিচের বিশ্বকাপ শেষ হলো নাটকীয় ও আবেগঘন। আর অন্তত আরেকটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেন আরেক তারকা ও পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থকে নিয়ে সিআরসেভেন বলেন, ‘আমি লুকার সাথে অনেক বছর খেলেছি। ও ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি, এখনও। আমি তাকে বহুবার এই কথা বলেছি। সবকিছুর জন্য তোমাকে অভিনন্দন। তোমার ক্যারিয়ারের আগামী বছরগুলোর জন্য আমার অনেক অনেক শুভকামনা রইল।’ ম্যাচ শেষ হতেই সৌজন্যতা বিনিময়ের সময় মদ্রিচকে জড়িয়ে ধরেন রোনালদো। তারপর মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন। শেষ করেন আবার দুজন দুজনকে আলিঙ্গন করেন।

হেরে যাওয়া ম্যাচে ৪০ বছর বয়সেও নিজের জাত চেনালেন মদ্রিচ। ৬৬ বার বলে পা ছুঁয়েছেন, তিনটি ট্যাকেল সম্পন্ন করেছেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের অর্ধে দুটি বিপজ্জনক ক্রস দিয়েছেন। জোসকো জিভারদিওলের গোল বাতিল হওয়ার পর ম্যাচ শেষের বাঁশি যখন বাজল, বিমর্ষ মদ্রিচ হাঁটুতে হাত দিয়ে ঝুঁকলেন। হতাশার সমাপ্তির পর আবেগ লুকাতে পারেননি।

তবে এটাই কি শেষ? ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্লাতকো দালিচ আশা রাখলেন। তার মতে, ‘হয়তো’ এটাই মদ্রিচের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। তিনি যোগ করলেন, ‘কেবল ঈশ্বর জানেন, পরের চার বছর কী হবে। দেখা যাক, আমরা ক্রোয়েশিয়ায় গিয়ে এনিয়ে কথা বলব।’

মদ্রিচের প্রশংসা করে কোচ বললেন, ‘লুকা খুব ভালো খেলেছিল। আবারও সে ছিল আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আমি খুব দুঃখিত যে তার শেষটা এভাবে হলো। সে আবারও তার দৃঢ়তা ও সামর্থ্য দেখাল। শেষ পর্যন্ত সে ক্রোয়েশিয়াকে নেতৃত্ব দিয়েছে।’

মদ্রিচের নেতৃত্বে ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া রানার্সআপ ও তৃতীয় হয়েছিল। এটি ছিল তার পঞ্চম বিশ্বকাপ। চলতি আসরে চার ম্যাচের সবগুলোতে শুরু থেকে ছিলেন তিনি।

২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে তুলে ব্যালন ডি’অর জেতেন মদ্রিচ। মাদ্রিদে তিনি ছয়টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও চারটি লা লিগা জেতেন। রিয়ালসহ ক্লাব ক্যারিয়ারে সব মিলিয়ে ২৩ মৌসুম খেলেছেন তিনি ডায়নামো জাগবের ও টটেনহাম হটস্পারে। গত মৌসুমে ছিলেন এসি মিলানে।

মদ্রিচ শেষ বিশ্বকাপ খেলার পর প্রতিপক্ষ কোচের প্রশংসাও পেলেন। পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ বললেন, ‘আপনি এমন একজন খেলোয়াড়ের কথা বলছেন, যে লম্বা ক্যারিয়ার পার করেছে এবং এখনও চিন্তা করার ক্ষমতা সম্পন্ন একজন তরুণের মতো খেলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খেলার চিন্তাভাবনার দিকটা নিয়ে খুব কমই কথা বলা হয়। সবকিছুই কৌশল, কারিগরি দিক আর শারীরিক দিককে কেন্দ্র করে কথা হয়। এমন খেলোয়াড়ের কথা খুব কমই বলা হয়, যে বল পায়ে রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমার মনে হয়, মদ্রিচ এর একটি চমৎকার উদাহরণ। খেলার গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে সে নিজের ছন্দ খুঁজে নেয় এবং সঠিক সিদ্ধান্তটি নেয়।’

Feb2
Feb2

৮৮ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে জিতল সুইজারল্যান্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 3 July, 2026, 11:41 am
৮৮ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে জিতল সুইজারল্যান্ড

আলজেরিয়াকে শেষ ৩২-এ থামিয়ে দিলো সুইজারল্যান্ড। টানা চতুর্থবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে খেলা নিশ্চিত করল তারা, তবে নকআউটে তাদের জয় এলো ৮৮ বছর পর।

১০ মিনিটে ব্রিল এম্বোলো সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। অবশ্য সব কৃতিত্ব জোহান মানজাম্বির। এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আলজেরিয়ার অর্ধ থেকে বল টেনে নেন। তারপর বল নিয়ন্ত্রণে রেখে বক্সে ঢোকেন। ছয় গজ বক্সের মধ্যে এম্বোলোর জন্য সহজ বল বানিয়ে দেন। লিড নেয় সুইজারল্যান্ড।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে মাত্র ৪৮ সেকেন্ড লেগেছে সুইজারল্যান্ডের ব্যবধান দ্বিগুণ করতে। আলজেরিয়া বল বিপদমুক্ত করতে চাইলেও পারেনি। ড্যান এনডোয়ে বক্সের প্রান্তে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দূরের কোণা দিয়ে জাল কাঁপান।

৮১ মিনিটে সহজ একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করে সুইজারল্যান্ড। দূরের পোস্টে দাঁড়িয়ে থাকা রেইডার গোড়ালির শটে ফাঁকা জালে বল না জড়িয়ে গোলরক্ষকের হাতে তুলে দেন।

১৯৩৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে জিতল সুইজারল্যান্ড। ওইবার তারা শেষ ষোলো পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল। জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ আটে হাঙ্গেরির কাছে ২-০ গোলে হারে তারা।

শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড খেলবে কলম্বিয়া বা ঘানার বিপক্ষে। দুই দল শেষ ৩২ এর মুখোমুখি হবে আজ।

শেষের নাটকীয়তার পর শেষ ষোলোর টিকিট পেল পর্তুগাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 3 July, 2026, 7:23 am
শেষের নাটকীয়তার পর শেষ ষোলোর টিকিট পেল পর্তুগাল

নাটকীয়তার শেষ ছিল না টরন্টো স্টেডিয়ামে। গনসালো রামোসের ৯৪ মিনিটের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি পর্তুগাল। যোগ করা সময়ের ১০ মিনিট পেরিয়ে গেলে সমতাসূচক গোল পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। গোল হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন লুকা মদরিচরা। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। অফসাইডে সেই গোল বাতিল হয়। নাটকীয় শেষ মুহূর্তের পর ২–১ ব্যবধানে জেতে পর্তুগাল।

ম্যাচে প্রথমে ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। এরপর ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে রাফায়েল লিয়াওয়ের ক্রস থেকে গনসালো রামোসের হেডে আসে জয়সূচক গোল।

৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। দ্রুত নেওয়া এক থ্রো-ইন থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে ইয়োসিপ স্তানিশিচের বাড়ানো বল পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন অভিজ্ঞ এই উইঙ্গার।

তবে ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৬০ মিনিটে একবার বল জালে পাঠিয়েও অফসাইডের কারণে গোলবঞ্চিত হয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য স্কোরশিটে নাম তুলতে ভুল করেননি।

এরপর রামোসের শেষ মুহূর্তের গোলে ২–১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে পর্তুগাল।

অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় স্পেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 3 July, 2026, 6:51 am
অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় স্পেন

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের সামর্থ্যের আরও এক ঝলক দেখাল স্পেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩–০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্প্যানিশদের দখলে। বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণের ধার এবং সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে অস্ট্রিয়ার চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিল তারা। প্রথমার্ধে একাধিকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩৬ মিনিট পর্যন্ত।

এর আগে কর্নার থেকে আসা বলে মার্ক কুকুরেয়ার জোরালো শট জালে জড়ালেও গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। কর্নারের সময় স্পেনের এক খেলোয়াড় অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগারের ওপর ফাউল করেছিলেন বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

তবে স্পেনকে বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়নি। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে কুকুরেয়ার পাস থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল স্পেন, কিন্তু শ্লাগারের দুর্দান্ত গোলরক্ষণ এবং একবার পোস্ট তাদের ব্যবধান বাড়াতে দেয়নি।

বিরতির পরও আক্রমণের গতি কমায়নি স্পেন। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। বাঁ প্রান্ত থেকে আলেক্স বায়েনার নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে পাঠান এই ডিফেন্ডার।

দুই গোলের লিড পাওয়ার পরও আক্রমণ চালিয়ে যায় স্পেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৮৯ মিনিটে আসে তৃতীয় গোল। দলীয় আক্রমণ থেকে আবারও অ্যাসিস্ট করেন কুকুরেয়া। তার বাড়ানো বল বক্সের ভেতরে পেয়ে সহজেই জালে জড়ান ওইয়ারসাবাল। বিশ্বকাপে এটি স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের চতুর্থ গোল।

দাপুটে এই জয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করল ইউরোপের পরাশক্তিরা, একই সঙ্গে বিশ্বকাপ শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও জোরালো করল তারা।