খুঁজুন
, ,

সন্তান-স্বজন হত্যার বিচার চায় জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 4 July, 2026, 3:34 pm
সন্তান-স্বজন হত্যার বিচার চায় জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা

জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার ছাড়া কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলুপ্তি সম্ভব নয় বলে মনে করেন শহীদ জুলাই পরিবারের স্বজনরা। তারা বলছেন, বিচারের জন্য রাস্তায় আন্দোলন করেছি কিন্তু দৃশ্যমান কিছুই হয়নি। জুলাই এলেই চোখের পানি বাঁধ ভাঙে। অনেক শহীদ পরিবার একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছে। সরকারের কাছে ওইসব পরিবারকে সহায়তা করার দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যরা এসব দাবি জানিয়েছেন।

জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জাতীয় সম্মেলনে আগত শত জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা সরকার প্রধানের সামনে নিজেদের যন্ত্রণা, মনের ভাব তুলে ধরেন। এ সময় সন্তান-স্বজন হারানো এই পরিবারগুলোর চোখের পানি আর দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠে পুরো গ্যালারি।

এ সময় শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আব্দুল রব মিয়া কান্না জড়িত কণ্ঠে আর্তনাথ করে বলেন, জুলাই এলেই চোখের পানি বাঁধ ভাঙে। আগস্ট মাসের ৫ তারিখ আমার ছেলের বুকটা গুলিতে ঝাঁঝড়া করে দিয়েছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পুলিশরা। আমি এক হতভাগা বাবা এই অন্যায়ের বিচার চাই, প্রতিটি জুলাই যোদ্ধা হত্যার বিচার চাই।

চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, আমার ছেলে হারিয়ে গেছে, আর কোনো বাবা মায়ের কোল যেন খালি না হয়। এখন সরকারের কাছে দাবি, জুলাই যোদ্ধা যারা হাত পা হারিয়েছে তাদের সহায়তা করুন। তারা যেন কষ্টে না থাকে।

আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন কথা বলতে এসে কান্নায় তার গলা ভারী হয়ে আসে। তিনি বলেন, আমার ভাই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন দিয়েছে, তার অনুপ্রেরণায় অনেক ভাই জীবন দিয়েছে, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। অনেক শহীদ পরিবার একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছে। সরকারের কাছে দাবি, তাদের সহায়তা করুন। আমার ভাইয়ের হত্যার দ্রুত বিচার করুন। সারাদেশে জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণ করার দাবি করছি।

শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, আমার বড় ছেলে জাহিদ মারা যাওয়ার পরে আমার ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। আমি অসহায় অবস্থায় ওই সময় এমন কোনো দরজা নেই যে যাইনি, কিন্তু সহায়তা পাইনি। তবে আমার বিএনপি পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য আমাদের পাশে ছিলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডন থেকে আমাদের খোঁজ নিয়েছেন, সহায়তা করেছেন। এখন বিএনপি সরকারের কাছে একটাই দাবি, সব জুলাই যোদ্ধাদের হত্যার বিচার চাই। আমি যেভাবে বিএনপির কাছে সহায়তা পেয়েছি অন্য জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরাও যেন সহায়তা পায়। আমার সন্তানকে তো আর ফিরে পাবো না, তবে সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।

শহীদ আলভীর বাবা আবুল হাসান বলেন, আমার ছেলে আগস্টের ৪ তারিখ মিরপুরে মারা যায়। দুই বছর পার হলো, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার বিচারের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিচারের জন্য রাস্তায় আন্দোলন করেছি কিন্তু দৃশ্যমান কিছুই হয়নি। আমরা তখন আশায় বুক বেঁধেছিলাম, তারেক রহমান দেশে ফিরবেন, ক্ষমতায় বসবেন আমাদের সন্তান হত্যার বিচার করবেন। আমরা আশা রাখি, তিনি আমাদের চোখের পানির মূল্য দেবেন।

দুই পা হারানো জুলাই যোদ্ধা শাহীন মালু বলেন, গত ১৭ বছর জিয়া পরিবার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দেশকে ভালো রাখতে হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে থাকুন। শহীদ পরিবার যদি চান তবে তারেক রহমানকে সহায়তা করুন। এই দেশ তার কাছেই নিরাপদ। আজকে বুকটা ভরে যায় দুটা পা হারিয়েছি দুঃখ নেই, তবে জুলাই যোদ্ধাদের হত্যার বিচার যেন দেখতে পারি।

আহত জুলাই যোদ্ধা মিল্লাত হোসেন বলেন, আমি একজন আহত জুলাই যোদ্ধা। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের দাবিতে নয়াপল্টন থেকে মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাব যাওয়ার সময় আমি গুলিবিদ্ধ হই। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়, কিন্তু কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা পর্যন্ত পাইনি। প্রথমে আমার পরিবারকে বলা হয় আমি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছি। এরপর থেকে আমার বাবা অসুস্থ হয়ে শয্যাশয়ী হয়, পরে মারা যান। আমরা শুধু জুলাই যোদ্ধা নই গত ১৭ বছরের যোদ্ধা। আমি সব জুলাই যোদ্ধা হত্যার বিচার চাই।

আরেক আহত জুলাই যোদ্ধা সুজন মোল্লা বলেন, লন্ডন থেকে তারেক রহমান একদফার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই জন্যই আন্দোলন করেছিলাম। এই একদফা বাস্তবায়ন হয়েছে বলেই স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। জুলাই শহীদ পরিবার থেকে শুরু করে দেশের মানুষ নিরাপদে বাস করছে। তবে আমাদের আক্ষেপ থেকেই গেছে। শহীদ যোদ্ধাদের হত্যার বিচার এখনো হয়নি। তবে রাষ্ট্রযন্ত্র আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে, তিনি চাইলেই পারবেন দ্রুত জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম।

আহত আলামিন বলেন, জামায়াত জুলাইকে বিক্রি করে আর বিএনপি জুলাইকে ধারণ করে। আমার একটা হাত নেই, ব্যথায় মাঝেমধ্যে কাঁপতে থাকে। চিকিৎসা করতে পারি না। আমার মতো কত-শত যোদ্ধা এমন হাত পা হারিয়েছেন ঠিক নেই। আমি সরকারের কাছে দাবি করবো, আমার মতো হাত পা হারানোর যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

জুলাই যোদ্ধা মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, একটি রাজনৈতিক দল শহীদ যোদ্ধাদের নাম বিক্রি করে নিজেদের পকেট ভারী করেছে, তাদের জন্য অভিশাপ দেই। শুধুমাত্র জাতীয়তাবাদী দলের সমর্থক হওয়ার কারণে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমাদের কোনো সহায়তা করা হয়নি, বলা হতো আমরা জুলাই যোদ্ধা নই, বিএনপির লোক। আমাদের সহায়তা করবে বিএনপি।

এই সম্মেলনের মূলমন্ত্র ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। মঞ্চে ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘গর্বিত ইতিহাস, অদম্য চেতনা ৪ জুলাইয়ের এই দিনে হোক সবার অনুপ্রেরণা, যে আত্মত্যাগ ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে।’

সকাল সোয়া ১০টায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। জাতীয় সংগীত এবং জুলাই আন্দোলনের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ পরিবারের হাতে জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সময় শহীদ মিরাজের বাবা রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, জুলাই আহত আল মিরাজ, জুলাই যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্মরক গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত সবার জন্য রাখা স্মৃতি স্মারক তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেও স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে সম্মেলনে সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Feb2
Feb2

জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের ন্যায়বিচার এদেশের মাটিতেই হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 4 July, 2026, 5:53 pm
জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের ন্যায়বিচার এদেশের মাটিতেই হবে : প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের ন্যায়বিচার এদেশের মাটিতেই হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘তবে বিচারের নামে কারো প্রতি যেনো অবিচার না হয়। এ বিষয়ে অবশ্যই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। একটু বিলম্ব হোক তবুও অন্যায়কারীর যেনো সঠিক বিচার হয়। আমরা সেই চেষ্টাই করব।’

শনিবার (৪ জুলাই) আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদদের সর্বোচ্চ সম্মান ও স্বীকৃতি, আহতদের জীবনমান নিশ্চিত করতে এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

মা প্রয়াত খালেদা জিয়া ও ভাই আরাফাত রহমান কোকোর ওপর হওয়া নির্যাতনের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “এই অনুষ্ঠান চলাকালে আমি বারবার ভাবছিলাম এই মূহুর্তে যদি আমি আমার মা’কে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, আপনার ওপর যে অবিচার ও অন্যায় হয়েছে, আপনি কি চান আমি এসবের প্রতিশোধ নেই? আমার বিশ্বাস মা বলতেন, এই মূহূর্তে তোমার কাজ সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমি জানি আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করলে– তিনিও আমাকে একই উত্তর দিতেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, শহীদ হয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিলো দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন। তাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৫ আগস্ট যে অর্জন আমরা করেছি, তা একক কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। দেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন। জনতার সম্মিলিত ত্যাগের ফসল।’

জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায় না উল্লেখ করে উপস্থিত জুলাই পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই মানুষই ত্যাগ করতে পারে, যার সাহস আছে। আপনারা আপনজনকে হারিয়েছেন, কেউ কেউ অঙ্গ হারিয়েছেন। যে অঙ্গ হারিয়েছেন, তা ঠিক হয়ে যাবে? না, ঠিক হয়ে যাবে না। তবে সবাই মিলে আমরা যদি দেশকে এগিয়ে নিতে পারি, তবে একদিন গর্ব করে বলতে পারবেন– আপনার আপন জনের ত্যাগের বিনিময়ে দেশের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। তাই আসুন দেশ, মাটি এবং মানুষের কল্যাণে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।’

জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ জাতীয় সম্মেলনে যোগ দেওয়া শত জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সামনে নিজেদের দুঃখ বেদনার কথা তুলে ধরেন। এ সময় স্বজনদের দুঃখ বেদনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রীর চোখে পানি চলে আসে।

সকাল সোয়া ১০টায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত এবং জাতীয় সংগীতের পর জুলাই আন্দোলনের ওপর প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

জাতীয় এই সম্মেলনের মূলমন্ত্র ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে শহীদ মিরাজের বাবা রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, জুলাই আহত আল মিরাজ, জুলাই যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্মরক গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত সবার জন্য রাখা স্মৃতি স্মারক তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।

পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেও স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরায়রা, কওমী ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী, আয়োজক সংগঠন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, শহীদ ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সভাপতি গোলাম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল বক্তব্য রাখেন।

জুলাই বিপ্লবে শহীদ সন্তানদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন– শহীদ আবু সাইয়িদের ভাই আবু হোসেইন, শহীদ শাহরিয়ার হোসেন আলভীর বাবা আবুল হোসেন, শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরা, শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবার শফিউল আলম এবং যাত্রাবাড়ীতে শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আবদুর রব মিয়া।

জুলাই বিপ্লবে আহত শাহিন মালু, সুজন মোল্লা, মিল্লাত হোসেন, আল-আমীন, মেহেদি হাসান মিরাজ, তার আর্তির কথা তুলে ধরেন।

জুলাই জাতীয় সম্মেলনে রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন আনার তাগিদ অর্থমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 4 July, 2026, 3:16 pm
স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন আনার তাগিদ অর্থমন্ত্রীর

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, শুধু বাজেট বরাদ্দ বা বিনিয়োগ বাড়ালেই স্বাস্থ্যসেবার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হবে না। স্বাস্থ্যসেবার পুরো ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে এবং গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। চিকিৎসক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নিজেদের দায়িত্ব ও পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে- প্রয়োজনীয়তা, অগ্রাধিকার, কার্যকারিতা এবং পরিবেশগত বিবেচনা। অতীতের মতো দুর্নীতি বা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, যেসব প্রকল্প থেকে জনগণ সর্বোচ্চ উপকার পাবে, সেসব প্রকল্পেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ পুরো স্বাস্থ্যখাতেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে।

তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে এক লাখ কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে।

কারণ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর হলে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ কমবে। মানুষের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে বড় হাসপাতালগুলোর ওপরও চাপ কমে আসবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা আগের মতো চলতে থাকলে কোনো পরিবর্তন আসবে না। দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যখাতে কিছু খারাপ চর্চা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পুরো প্রক্রিয়াকে ‘রিসেট’ করতে হবে। কীভাবে গুণগত পরিবর্তন আনা যায়, সে বিষয়ে চিকিৎসক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নিজস্ব পরিকল্পনা সরকারের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত। স্বাস্থ্যখাতে এবারের মতো এত বড় বরাদ্দ অতীতে কখনও দেওয়া হয়নি। তবে সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বৈশ্বিক সেরা চর্চাগুলো অনুসরণ করে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করতে হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থ ব্যয় করলেই পরিবর্তন আসবে না; সেবার মান বাড়াতে প্রশাসনিক ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের বিভিন্ন দায়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও সরকার সাহসী বাজেট দিয়েছে। এই বাজেট বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ হলেও বিএনপি সরকার অতীতেও তা সফলভাবে করেছে এবং এবারও বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন চাহিদার বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ইতিবাচক রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন প্রমুখ।

এদিকে ডেঙ্গু প্রকোপ বাড়ার কারণে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে ৫০ বেডের ডেঙ্গু ব্লক প্রস্তুত করা হয়েছে। দুপুরে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ডেঙ্গু ব্লক উদ্বোধন করেন।

চট্টগ্রাম হবে দেশের প্রধান লজিস্টিক্যাল হাব: অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 4 July, 2026, 3:02 pm
চট্টগ্রাম হবে দেশের প্রধান লজিস্টিক্যাল হাব: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান লজিস্টিক্যাল ও অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করতে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, বন্দর, বিমানবন্দর, ফ্রি জোন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও রেল অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসছে।

দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। যে অঞ্চলের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। কারণ এখানে সমুদ্রবন্দর রয়েছে।

পাশাপাশি ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণেও চট্টগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর ওপারে প্রায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি জোন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে একাধিক বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কার্গো ও প্যাসেঞ্জার হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমে আসবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক করিডর একটি শক্তিশালী লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত হবে এবং দেশের বন্দরগুলো আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, মাতারবাড়িকেও কেন্দ্র করে বড় ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক্যাল সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই বাজেটে পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিতে এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে, এরপর সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলোকে কাজে লাগানো হবে। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে এবং বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।

বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, ক্যাপিটাল মার্কেট বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ দেশে আসছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।