খুঁজুন
, ,

প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে দিনরাত মাঠে চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 6 August, 2026, 10:19 pm
প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে দিনরাত মাঠে চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চট্টগ্রাম সফর সফল করতে দিনরাত মাঠে কাজ করছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে থাকা বাঁশখালী, হাটহাজারী ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রস্তুতি নিখুঁত করতে প্রতিদিনই এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ছুটছেন তিনি।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতিটি প্রস্তুতি সরেজমিনে তদারকি করছেন জেলা প্রশাসক। কোথাও মঞ্চ ও প্যান্ডেলের নির্মাণকাজ, কোথাও পুনর্বাসন ঘরের মান, আবার কোথাও নিরাপত্তা, প্রটোকল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা—সবকিছুই খুঁটিয়ে দেখছেন তিনি।

আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরের কথা রয়েছে। সফরে তিনি সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালী ও হাটহাজারীর মানুষের খোঁজখবর নেবেন। বাঁশখালীতে বন্যায় ঘর হারানো ১০০টি পরিবারের কাছে নতুন ঘর ও চাবি হস্তান্তরের পাশাপাশি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা দেবেন। হাটহাজারীতেও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে পুনর্বাসন সহায়তা বিতরণ করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও হাটহাজারীর বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বিকেলে বিমানবন্দরে গিয়ে তিনি ভিআইপি টার্মিনাল, রানওয়েসংলগ্ন এলাকা, নিরাপত্তাচত্বর এবং প্রটোকল-সংক্রান্ত সার্বিক প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন নির্বিঘ্ন করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় প্রস্তুতিতে যাতে কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ছুটে যান হাটহাজারীতে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থান সরেজমিনে ঘুরে দেখেন তিনি।

প্রথমে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন জেলা প্রশাসক। প্রধানমন্ত্রী যেসব স্থান পরিদর্শন করবেন, সেসব স্থানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন তিনি।

পরে প্রধানমন্ত্রী যেখানে অবস্থান করবেন, জেলা পরিষদের সেই ডাকবাংলোর সংস্কারকাজ তদারকি করেন জেলা প্রশাসক। সেখানে চলমান সংস্কারকাজের অগ্রগতি, সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি।

সবশেষে হাটহাজারী সরকারি কলেজের অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেন জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এই কলেজেই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে পুনর্বাসন সহায়তা বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। জেলা প্রশাসক মঞ্চ নির্মাণ, অতিথিদের বসার ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, নিরাপত্তা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন। স্থানীয় প্রশাসনকে সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং ভিভিআইপি সফরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

এর আগের দিন বুধবারও বাঁশখালীতে দিনভর প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি তদারকি করেন জেলা প্রশাসক। বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে তিনি মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা, অতিথিদের বসার স্থান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করার পাশাপাশি অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শনের পর বৃষ্টি ও কাদা উপেক্ষা করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নির্মাণাধীন পুনর্বাসন ঘর দেখতে যান জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি একটি জরাজীর্ণ ও আংশিক ভেঙে পড়া ঘরে বসবাসরত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বর্তমান অবস্থার খোঁজ নেন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবারটি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নতুন ঘরের চাবি পাবে।

নির্মাণাধীন ঘরগুলোর কাঠামোগত স্থায়িত্ব ও কাজের মানও পরীক্ষা করেন জেলা প্রশাসক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও নির্মাণশ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি টিনের ঘরে দুটি কক্ষ থাকবে। ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। এর সঙ্গে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি সংযুক্ত শৌচাগার থাকবে।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে চট্টগ্রামে আসছেন। তাঁর সফর নির্বিঘ্ন ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পুরো দল কাজ করছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Feb2
Feb2

স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 October, 2026, 8:16 pm
স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে। তিনি বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পরেই আমরা দেখলাম, এই গুপ্ত বাহিনীর লোকজন বলল, তারা যদি আসে, থাকে, কাজ করে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। আপত্তি থাকবে কেমন করে, বরাবরই তো এরা একসঙ্গে ছিল। ৯১-তেও তারা একসঙ্গে ছিল, ৮৬ সালেও একসঙ্গে ছিল, গত নির্বাচনের সময়ও তারা একসঙ্গেই ছিল। তলে তলে কাজ করেছিল। এজন্যই তো তাদের গুপ্ত বলা হয়।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা জেল-জুলুম, হত্যা, গায়েবি মামলার শিকার হয়েছে। শুনেছেন তাদের কেউ এসবের শিকার হয়েছিল? আপনারাও তো মাঠে নেমে এসেছিলেন, হরতাল, মিছিল-মিটিং করেছিলেন, তাদের কাউকে দেখেছিলেন? তারা রাজপথে কেউ ছিল না।

তারেক রহমান বলেন, আমরা কিছুদিন যাবত খেয়াল করে দেখছি, এই দেশের কিছু সংখ্যক মানুষ একটি অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। করছে না? খেয়াল করেছেন আপনারা? কি বলে-এক দফা এক দফা। আপনারাই কিন্তু বললেন, আমরা যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছি, বর্তমান সরকার যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছে, এ কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করলে কার উপকার হবে? মানুষের উপকার হবে। সাধারণ মানুষের, খেটে খাওয়া মানুষের উপকার হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি, যারা এক দফা এক দফা বলছে অথবা যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছিল, যারা মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল-এদের কি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আছে? এদের কি খালকাটা কর্মসূচি আছে? এদের কি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আছে? এদের কি কৃষক কার্ড আছে? এদের দলের কর্মসূচির মধ্যে কি ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা আছে? এদের কি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০-এর বদলে ১৫০ বেডে করার কর্মসূচি আছে? তাহলে তারা কিসের রাজনীতি করে? মানুষের কর্মসূচি কই?

সরকার প্রধান আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন চায় ভাগ্যের পরিবর্তন। কেউ কি খারাপ অবস্থায় সবসময় থাকতে চায়? মানুষ তার অবস্থার পরিবর্তন করতে চায়। আমরা মনে করি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যদি মা-বোনদের জন্য সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি, ইমাম সাহেব মুয়াজ্জিন সাহেবসহ অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিদের মিনিমাম একটি সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে যদি কৃষক ভাইদের কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি তাহলে ধীরে ধীরে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। অর্থনৈতিকভাবে এই মানুষগুলো আস্তে আস্তে স্বচ্ছল হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বচ্ছল হয়ে উঠবে তখন বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠবে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন করতে চায়, ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের সম্মানী বাস্তবায়ন করতে চায়, বিএনপি কৃষক কার্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়, খাল খনন করতে চায়, বন্ধ মিল-কারখানা চালু করতে চায়। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের এই কর্মসূচিগুলো দেখেছেন? যদি না দেখে থাকেন তাহলে যারা আজ দেশে অরাজকতা তৈরি চেষ্টা করছে, দেশের মধ্যে একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাচ্ছে তাদের ব্যাপারে আমাদের কি সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত? মুয়াজ্জিন সাহেবরা বলেন না, তাদের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত? তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক হতে হবে। স্বাভাবিকভাবে আমাদের থেকে ধর্মের জ্ঞান আপনাদের বেশি আছে। একটু ভাই বলেন তো, নির্বাচনের আগে একটি দল বেহেশতের টিকেট বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। বলছিল না মানুষকে, আপনারাও তো শুনেছেন। দেখছেন না, দেখেছেন। বেহেশত-দোজগের মালিক কে? একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। যেটার মালিক আল্লাহ সেটার কথা কি কোনো মানুষ বলতে পারে? যেটা দেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার, সেটি যদি মানুষ বলে আমি দেব, সেটি কি শিরিকের পর্যায়ে পড়ে? যারা শিরিকি করে, আল্লাহর সঙ্গে নাফরমানি করে, তাহলে মানুষের সঙ্গে তারা কত বড় মুনাফিকি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যারা গুপ্ত রাজনীতি করে, স্বৈরাচারী রাজনীতি করে, যাদের কাছে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করার কোনো কর্মসূচি নেই, শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যারা রাজনীতি করে, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তাদের ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ এরা যদি দেশ চালানোর দায়িত্ব পায়, আর যাই করুক জনগণের জন্য কোন কর্মসূচি গ্রহণ করবে না। যদি তাদের নেওয়া জনগণের জন্য কোন কর্মসূচি থাকতো, তাহলে তারা বলতে পারতো কি কর্মসূচি তারা গ্রহণ করতে পারে। আজ পর্যন্ত জনগণের উপকার হয় এরকম কোন কর্মসূচির কথা তারা তুলে ধরতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিএনপি সরকার প্রমাণ করেছি আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে প্রমাণ করেছি বিএনপির যা বলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। আমরা আমাদের কর্মসূচি দিয়ে প্রমাণ করেছি বিএনপি সব সময় জনগণের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করে।

এর আগে সভার শুরুতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফেনী সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 October, 2026, 8:11 pm
দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদ কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেখা দেওয়া তথ্যমতে, সরকারি ভবনে স্থাপিত দেশের প্রথম এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে তিন উপজেলায় মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বা শূন্য দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। নেট মিটারিং ব্যবস্থায় এসব স্থাপনায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা পূরণে ব্যবহার হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফুলগাজী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো ও ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ আটটি সরকারি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় মোট ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের প্রতিটিতে প্রায় ২৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ভবনে স্থাপিত সিস্টেমের সক্ষমতা প্রায় ১০৩ কিলোওয়াট।

ছাগলনাইয়া উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, পৌরসভা ভবন, ডাকবাংলো ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদসহ মোট ১২টি স্থাপনায় সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। এসব স্থাপনায় মোট ৪১৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া পরশুরাম উপজেলা পরিষদ ভবন, অডিটোরিয়াম ভবন, তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোসহ মোট ছয়টি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় উৎপাদন সক্ষমতা ২৯৮ দশমিক ৫ কিলোওয়াট।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (আরইবি) দায়িত্ব দেওয়া হলেও মোট ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. নুরুল হোসাইন জানিয়েছেন, তিন উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ৫ থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী ফেনী সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর আড়াইটার দিকে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 October, 2026, 5:06 pm
মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-২ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পদত্যাগ করায় জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর আসন (মহিলা আসন-২৩) বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একই তারিখ থেকে শূন্য হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষর করেন। আসনটি শূন্য হওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে বিজ্ঞপ্তির অনুলিপিও পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৭ বিধি অনুযায়ী, কোনও সংসদ সদস্য পদত্যাগ করতে চাইলে স্পিকারকে উদ্দেশ করে নিজ স্বাক্ষরে লিখিতভাবে তা জানাতে হয়। পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পর সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ কার্যকর এবং সংশ্লিষ্ট আসন শূন্য হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাকে সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি সংসদে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।